পঁচিশে মে বিশ ছাব্বিশ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী এবং তিলোত্তমা মহানগরী কলকাতার ফুটপাতগুলো আজ আক্ষরিক অর্থেই বিলুপ্তির পথে হকারদের বেআইনি দখলদারি অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে শহরের প্রায় নব্বই শতাংশ ফুটপাত সাধারণ পথচারীদের হাঁটার সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে মূল রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং প্রতিদিন ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কলকাতার এই ভয়াবহ নাগরিক সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে
কলকাতা পঁচিশে মে বিশ ছাব্বিশ
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী এবং ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মহানগরী কলকাতা আজ এক চরম নাগরিক এবং কাঠামোগত সংকটের সম্মুখীন তিলোত্তমা কলকাতার রাস্তাঘাট এবং যানজট নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই বহু আলোচনা এবং সমালোচনা রয়েছে কিন্তু বর্তমানে শহরের সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ সমস্যাটি হলো শহরের ফুটপাত বা পদচারণা পথগুলোর সম্পূর্ণ বিলুপ্তি কলকাতার ফুটপাত প্রায় নেই বললেই চলে এই বাক্যটি আজ কেবল কোনো আক্ষেপের কথা নয় এটি হলো শহরের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক অত্যন্ত রূঢ় এবং মর্মান্তিক বাস্তব একটি আধুনিক এবং সুপরিকল্পিত শহরের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সেই শহরের সাধারণ পথচারীদের হাঁটার অধিকার বা ফুটপাতের অবস্থা কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো কলকাতার প্রায় নব্বই শতাংশ ফুটপাত আজ সাধারণ পথচারীদের হাঁটার সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে শহরের ব্যস্ততম মোড় থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই ফুটপাতগুলো সম্পূর্ণভাবে বেদখল হয়ে গেছে বেআইনি দোকানপাট অস্থায়ী বাজার এবং নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে এক চরম নরক যন্ত্রণায় পরিণত করেছে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আক্ষরিক অর্থেই পঙ্গু করে দিয়েছে
ফুটপাত বা পদচারণা পথ হলো একটি শহরের ধমনীর মতো যার ওপর নির্ভর করে শহরের লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন নিজেদের গন্তব্যে যাতায়াত করেন স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ কর্মব্যস্ত চাকরিজীবী এবং সাধারণ নাগরিক প্রত্যেকেই নিজেদের দৈনন্দিন কাজের জন্য এই ফুটপাতের ওপর নির্ভরশীল কিন্তু কলকাতার বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মতলা নিউ মার্কেট গড়িয়াহাট হাতিবাগান শ্যামবাজার শিয়ালদহ এবং যাদবপুরের মতো শহরের প্রধান এবং ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে ফুটপাত বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই রাস্তার দুপাশে বাঁশ কাঠ ত্রিপল এবং প্লাস্টিক দিয়ে গড়ে উঠেছে সারি সারি বেআইনি দোকান চায়ের স্টল ফাস্ট ফুডের দোকান জামাকাপড়ের পসরা থেকে শুরু করে সবজি এবং মাছের বাজার সবকিছুই সরকারি জায়গা দখল করে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেক স্থায়ী দোকানদারও নিজেদের দোকানের সামনের ফুটপাত দখল করে নিজেদের মালপত্র সাজিয়ে রাখছেন এর ফলে ফুটপাতের ওপর দিয়ে হাঁটার জন্য এক ইঞ্চি জায়গাও আর অবশিষ্ট নেই বাধ্য হয়ে সাধারণ পথচারীদের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মূল রাস্তার ওপর দিয়ে গাড়ির ভিড়ে হাঁটতে হচ্ছে যার ফলে প্রতিদিন অসংখ্য ছোট বড় এবং মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা ঘটছে
দ্রুতগতিতে ছুটে আসা বাস লরি বা প্রাইভেট গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে অনেক সাধারণ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে কেবল ফুটপাত না থাকার কারণে প্রতিদিন সকালে যখন অফিস যাত্রীরা বা স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য রাস্তায় নামেন তখন তাদের মনে এক চরম আতঙ্ক কাজ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে কখন কোনো বাস বা অটো এসে ধাক্কা মারবে সেই ভয়ে সাধারণ মানুষকে সবসময় সজাগ থাকতে হয় সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন বয়স্ক মানুষ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীরা যাদের পক্ষে গাড়ির ভিড়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটা একপ্রকার অসম্ভব একটি সভ্য সমাজে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ফুটপাতে বিশেষ র্যাম্প এবং অন্ধদের জন্য ট্যাকটাইল পেভিং থাকার কথা কিন্তু কলকাতায় ফুটপাতই যেখানে নেই সেখানে এই সমস্ত আধুনিক সুবিধার কথা চিন্তা করাও এক বিলাসিতা অনেক বয়স্ক মানুষ কেবল রাস্তায় হাঁটার ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দিয়েছেন যা তাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর এক বিশাল নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে শিশুদের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক স্কুল ছুটির পর যখন অসংখ্য শিশু একসাথে রাস্তায় বেরিয়ে আসে তখন ফুটপাত না থাকার কারণে তারা সরাসরি মূল রাস্তায় চলে আসে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে
এই বেআইনি জবরদখলের কারণে কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেম আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে ফুটপাতের নিচে শহরের মূল নিকাশি নালাগুলো অবস্থিত কিন্তু ফুটপাতের ওপর স্থায়ীভাবে দোকান তৈরি করে ফেলার কারণে কলকাতা পুরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে সেই ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না দোকানের বর্জ্য প্লাস্টিক এবং ময়লা সরাসরি ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনগুলো সম্পূর্ণভাবে ভরাট হয়ে গেছে যার পরিণতি হিসেবে বর্ষাকালে সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ে নোংরা জল রাস্তায় উপচে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম নরক যন্ত্রণায় পরিণত করে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এই শহরে প্রতি বছর এক চরম আকার ধারণ করে সাধারণ মানুষ বারবার এই অবরুদ্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে পুরসভা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালেও দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের মদতে প্রশাসন এই জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি
কলকাতার এই ফুটপাত দখলের পেছনে এক বিশাল এবং জটিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ কাজ করে আমাদের সমাজে হাজার হাজার মানুষ আছেন যারা প্রথাগত শিক্ষা বা সরকারি চাকরি পাননি তারা কোনো রকমে সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে এই সরকারি জায়গাগুলো দখল করে ছোট ব্যবসা করেই নিজেদের জীবন ধারণ করেন এই ছোট ছোট দোকানগুলো কেবল তাদের রোজগারের পথ নয় এগুলো শহরের অর্থনীতির এক বিশাল বড় চালিকাশক্তি এই হকাররা অত্যন্ত সস্তায় সাধারণ মানুষকে রোজকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং খাবার সরবরাহ করেন যা অনেক গরিব এবং মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক তাই এই হকারদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা এক বিশাল মানবিক এবং অর্থনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে কিন্তু এই বেকারত্ব এবং দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে শহরের বুকে গড়ে উঠেছে এক বিশাল এবং শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা তোলাবাজ চক্র অভিযোগ রয়েছে যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশের একাংশের মদতে এই সিন্ডিকেটগুলো হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করে ফুটপাতের এক একটি জায়গা বিক্রি হয় কয়েক লক্ষ টাকায় এবং হকাররা বাধ্য হয়ে সেই টাকা সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেন কারণ সেই টাকা না দিলে তাদের ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এই বিশাল কালো টাকার অর্থনীতির কারণেই প্রশাসন এবং পুলিশ জেনে শুনেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে না
আইনি এবং সাংবিধানিক দিক থেকে বিচার করলে মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশিকায় পথচারীদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শহরের রাস্তার প্রথম এবং প্রধান অধিকার হলো একজন পথচারীর তারপর আসে সাইকেল আরোহী এবং সবশেষে আসে ইঞ্জিন চালিত যান কিন্তু আমাদের দেশে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ উল্টে দেওয়া হয়েছে ২০১৪ সালের স্ট্রিট ভেন্ডরস অ্যাক্ট বা হকার সুরক্ষা আইনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে শহরের হকারদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোন বা হকার্স মার্কেট তৈরি করে পুনর্বাসন দিতে হবে এই আইনে পরিষ্কার বলা আছে যে হকারদের একটি সঠিক সার্ভে বা সমীক্ষা করে টাউন ভেন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তাদের ব্যবসা করার নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দিতে হবে কিন্তু কলকাতা শহরে এই আইনের কোনো রকম প্রয়োগ আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি প্রশাসন কেবল ভোটের আগে হকারদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় এবং ভোট মিটে গেলে তাদের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যায় কোনো রকম বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়াই মাঝে মাঝে হঠাৎ করে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালায় যা হকারদের জীবনে এক চরম অনিশ্চয়তা এবং হাহাকার ডেকে আনে আবার কয়েক দিন পরেই সেই উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় নতুন করে দোকান গজিয়ে ওঠে এই ইঁদুর বিড়াল খেলা কলকাতার মানুষের কাছে এক অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য
ফুটপাত দখলের কারণে শহরের সৌন্দর্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধর্মতলা বা নিউ মার্কেটের মতো ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলো আজ আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে হকারদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের শেড এবং ত্রিপলের কারণে শহরের ঐতিহাসিক ভবনগুলো আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে যে কলকাতা একসময় তার সুন্দর রাস্তা এবং স্থাপত্যের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল আজ সেই কলকাতা জঞ্জাল এবং জবরদখলের শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে বিদেশি পর্যটকরা যখন এই শহরে আসেন তখন তারা ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে না পেরে অত্যন্ত বিরক্ত হন যা রাজ্যের পর্যটন শিল্পের ওপর এক বিশাল নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এছাড়া ফুটপাতে যত্রতত্র আবর্জনা এবং উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে রাখার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইঁদুর এবং রাস্তার কুকুরের উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এক বিশাল বড় হুমকি
এই সমস্যার সমাধানের জন্য আধুনিক নগর পরিকল্পনাবিদরা বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত এবং মানবিক মডেলের কথা প্রস্তাব করেছেন সিঙ্গাপুর হংকং বা ব্যাংককের মতো আধুনিক শহরগুলোতেও অসংখ্য স্ট্রিট ভেন্ডর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছেন কিন্তু সেই দেশের সরকার তাদের ফুটপাত দখল করে বসতে দেয়নি বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আধুনিক এবং স্বাস্থ্যকর হকার্স সেন্টার বা স্ট্রিট ফুড জোন তৈরি করে তাদের পুনর্বাসন দিয়েছে কলকাতার ক্ষেত্রেও প্রশাসনকে এই ধরনের মডেল অনুসরণ করতে হবে শহরের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু খালি জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে বহুতল হকার্স মার্কেট বা আধুনিক ভেন্ডিং জোন তৈরি করা যেতে পারে যেখানে এই হকাররা অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এর ফলে শহরের সৌন্দর্যও বজায় থাকবে সাধারণ পথচারীরা হাঁটার জায়গা ফিরে পাবেন এবং গরিব মানুষগুলোর রুটিরুজিও বেঁচে যাবে হকারদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে যাতে নতুন করে কেউ ফুটপাত দখল করতে না পারে পুলিশ এবং পুরসভাকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো রকম রাজনৈতিক চাপ বা সিন্ডিকেটের কাছে মাথা নত করা চলবে না
সাধারণ নাগরিকদেরও এই বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং দায়িত্বশীল হতে হবে প্রশাসন একা কোনো শহরকে সুন্দর রাখতে পারে না যদি না সেই শহরের মানুষ নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ মানুষের উচিত ফুটপাত দখল করে বসা বেআইনি দোকানগুলো থেকে কেনাকাটা করা বন্ধ করা কারণ মানুষের চাহিদা আছে বলেই এই বেআইনি বাজারগুলো টিকে আছে আমরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে নির্দিষ্ট বাজার বা হকার্স জোন থেকে কেনাকাটা করি তবে এই হকাররাও নিজেদের ব্যবসা সেই নির্দিষ্ট জায়গায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন এছাড়া শহরের নাগরিক সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মকে এই নাগরিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে একটি শহরের ফুটপাত যদি সুন্দর এবং সুরক্ষিত থাকে তবে মানুষ গাড়ির বদলে হেঁটে যাতায়াত করতে বেশি উৎসাহী হবেন যার ফলে শহরের বায়ুদূষণ অনেকটাই কমবে এবং মানুষের শারীরিক সুস্থতা বৃদ্ধি পাবে
কলকাতার ফুটপাত উদ্ধার করার এই লড়াই কেবল রাস্তা চওড়া করার লড়াই নয় এটি হলো একটি শহরের আত্মা ফিরিয়ে আনার লড়াই যে শহর আমাদের এত কিছু দিয়েছে আমাদেরও দায়িত্ব সেই শহরকে তার হৃতগৌরব ফিরিয়ে দেওয়া প্রশাসন রাজনৈতিক দল পুলিশ এবং সাধারণ নাগরিক সবাইকে একজোট হয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে হকারদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে এবং পথচারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি কলকাতার ফুটপাতগুলো যেন আবার সাধারণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে শিশুরা যেন নির্ভয়ে হাঁটতে পারে এবং বয়স্করা যেন শান্তিতে সান্ধ্যভ্রমণ করতে পারেন এটাই আজ শহরের প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র প্রার্থনা আগামী দিনে কলকাতা পুরসভা এবং রাজ্য সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয় তিলোত্তমা কলকাতা তার ফুটপাত ফিরে পাক এই আশাতেই দিন গুনছেন লক্ষ লক্ষ শহরবাসী