এবার দুর্গাপুজোয় অন্যরকম চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে লোয়ার বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। রাজস্থানী গ্রামের আদলে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে শহরের ইতিহাস ও বদলে যাওয়ার গল্প। রাজস্থানী স্থাপত্য, লোকজ সাজসজ্জা এবং দুর্গাপ্রতিমার বিশেষ উপস্থাপনায় দর্শকদের নজর কাড়ার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে উৎসব, আবেগ এবং শিল্পের এক অনন্য মেলবন্ধন। পুজো যত এগিয়ে আসে, ততই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে যায় মণ্ডপ তৈরির ব্যস্ততা। কোথাও পুরাণ, কোথাও ইতিহাস, কোথাও আবার লোকসংস্কৃতি—বিভিন্ন ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় একের পর এক থিম। দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দেওয়ার প্রতিযোগিতাও থাকে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে।
এবার সেই থিমের দৌড়ে নজর কাড়তে প্রস্তুত লোয়ার বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। তাঁদের এবারের ভাবনা ‘শহরের ইতিকথা’। তবে সেই ভাবনাকে সরাসরি আধুনিক শহরের রূপে তুলে না ধরে মণ্ডপকে সাজানো হচ্ছে রাজস্থানী গ্রামের আদলে।
অর্থাৎ, পুজো দেখতে গিয়ে দর্শকদের মনে হতে পারে তাঁরা যেন বাংলার কোনও পুজোমণ্ডপে নয়, বরং রাজস্থানের কোনও ঐতিহ্যবাহী গ্রামে এসে পৌঁছেছেন।
রাজস্থানের গ্রামবাংলার নিজস্ব স্থাপত্য ও লোকজ সংস্কৃতি বরাবরই মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। মাটির রঙের বাড়ি, অলংকৃত দেওয়াল, খিলান, ছোট ছোট জানালা, রাজস্থানী নকশা এবং লোকশিল্পের ব্যবহার সেই পরিবেশকে আলাদা করে তোলে।
লোয়ার বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীনের মণ্ডপে সেই আবহকেই তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মণ্ডপের সাজসজ্জায় রাজস্থানী স্থাপত্যের নানা বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মাটির কাছাকাছি রঙের ব্যবহার, লোকজ অলংকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী নকশার মাধ্যমে তৈরি করা হবে একটি গ্রামীণ পরিবেশ।
ফলে মণ্ডপে প্রবেশ করার পর দর্শকদের সামনে খুলে যেতে পারে এক সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ।
থিমের নাম ‘শহরের ইতিকথা’। নামের মধ্যেই রয়েছে অতীতের গল্প। শহর কীভাবে তৈরি হয়েছে, সময়ের সঙ্গে তার চরিত্র কীভাবে বদলেছে এবং পুরনো ঐতিহ্য কীভাবে আধুনিকতার সঙ্গে মিশে গিয়েছে—এই ভাবনারই প্রতিফলন ঘটতে পারে মণ্ডপসজ্জায়।
রাজস্থানী গ্রামের আবহকে ব্যবহার করে শহরের ইতিহাসের গল্প বলার মধ্যে রয়েছে একটি অভিনব ভাবনা।
একদিকে থাকছে ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের স্থাপত্য ও সংস্কৃতি, অন্যদিকে সেই পরিবেশের মধ্য দিয়ে উঠে আসবে শহর ও সভ্যতার বিবর্তনের গল্প।
এমন থিম দর্শকদের শুধু সৌন্দর্য দেখাবে না, বরং ভাবতেও বাধ্য করবে।
মানুষের বসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস আসলে গ্রাম থেকেই শুরু। সময়ের সঙ্গে ছোট ছোট বসতি বড় হয়েছে, তৈরি হয়েছে বাজার, রাস্তা, প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং শেষ পর্যন্ত আধুনিক শহর।
‘শহরের ইতিকথা’ থিমের মধ্যে সেই বিবর্তনের ভাবনা তুলে ধরা যেতে পারে।
একটি গ্রামীণ পরিবেশকে সামনে রেখে শহরের পরিবর্তনের গল্প বললে দর্শকরা সহজেই বুঝতে পারবেন কীভাবে মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে।
একসময় যেখানে ছিল মাটির বাড়ি, কাঁচা রাস্তা এবং স্থানীয় বাজার, সেখানেই পরবর্তী সময়ে তৈরি হয়েছে পাকা রাস্তা, বড় বড় বাড়ি, বাজার, অফিস এবং আধুনিক নগরজীবন।
এই পরিবর্তনের গল্পই হতে পারে মণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
রাজস্থানী স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর অলংকরণ। খিলান, ঝরোখা, গম্বুজ, ছোট জানালা এবং সূক্ষ্ম নকশার ব্যবহার স্থাপত্যকে আলাদা মাত্রা দেয়।
মণ্ডপসজ্জায় এই বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যবহার করা হলে দর্শকদের সামনে তৈরি হতে পারে রাজস্থানের গ্রামীণ পরিবেশের একটি প্রতিরূপ।
দেওয়ালের নকশা থেকে দরজা-জানালা, প্রবেশপথ থেকে মণ্ডপের অভ্যন্তর—সবকিছুর মধ্যেই সেই ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা থাকতে পারে।
আলো জ্বলে উঠলে সেই সাজ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
রাজস্থানের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ধরনের হস্তশিল্প ও লোকশিল্প। রঙিন কাপড়, পুতুল, দেওয়ালচিত্র, অলংকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী নকশা সেই সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মণ্ডপসজ্জায় এই ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হলে রাজস্থানী গ্রামের আবহ আরও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠতে পারে।
তবে এর পাশাপাশি থিমের মূল ভাবনা ‘শহরের ইতিকথা’কে ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ রাজস্থানী সাজ শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মণ্ডপের পাশাপাশি দুর্গাপ্রতিমাও পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। একটি থিমভিত্তিক পুজোয় প্রতিমার সঙ্গে মণ্ডপের সামঞ্জস্য রাখা হলে পুরো আয়োজন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
রাজস্থানী পরিবেশের মধ্যে দেবী দুর্গার প্রতিমাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও দর্শকদের আগ্রহের বিষয় হতে পারে।
ঐতিহ্যবাহী সাজের সঙ্গে রাজস্থানী অলংকার বা পোশাকের নকশার কোনও ছোঁয়া থাকলে প্রতিমার উপস্থাপনায় নতুনত্ব আসতে পারে।
তবে দেবীর মূল ঐতিহ্যবাহী রূপ বজায় রেখেই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করাই হবে সবচেয়ে বড় বিষয়।
লোয়ার বাগডোগরা উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানকার দুর্গাপুজোয় স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প ও স্থাপত্যের প্রভাবও দেখা যায়।
রাজস্থানী গ্রামের আদলে মণ্ডপ তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের পুজো পরিক্রমায় সেটি নিঃসন্দেহে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে যাঁরা প্রতিবছর নতুন থিমের পুজো দেখতে পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এই মণ্ডপটি আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
পুজোর সময় মানুষ শুধু প্রতিমা দেখতে বের হন না। তাঁরা নতুন কিছু দেখতে চান, ছবি তুলতে চান এবং পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান।
একটি মণ্ডপ যদি দর্শকদের কয়েক মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ অন্য পরিবেশে নিয়ে যেতে পারে, তাহলে সেই অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন মনে থাকে।
রাজস্থানী গ্রামের আদলে সাজানো মণ্ডপ সেই ধরনের অভিজ্ঞতাই তৈরি করতে পারে।
মণ্ডপে ঢোকার পর রাজস্থানী বাড়িঘর, গ্রামীণ রাস্তা, লোকজ উপকরণ এবং আলোকসজ্জা—সব মিলিয়ে দর্শকদের সামনে একটি গল্পের মতো দৃশ্য তৈরি হতে পারে।
বর্তমান সময়ে পুজোর মণ্ডপের সঙ্গে ফটোগ্রাফির বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অভিনব মণ্ডপ দেখলেই দর্শকরা ছবি তোলেন, ভিডিও করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে তা শেয়ার করেন।
রাজস্থানী গ্রামভিত্তিক মণ্ডপে ছবি তোলার জন্য একাধিক আকর্ষণীয় জায়গা তৈরি হতে পারে।
ঐতিহ্যবাহী দরজা, রঙিন দেওয়াল, খিলান, লোকশিল্প এবং আলোকসজ্জার সামনে ছবি তোলার সুযোগ থাকলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও মণ্ডপটির জনপ্রিয়তা বাড়তে পারে।
‘শহরের ইতিকথা’ নামটি আসলে অতীত ও বর্তমানের সম্পর্কের কথাই বলে। একটি শহর কখনও একদিনে তৈরি হয় না। তার পিছনে থাকে বহু বছরের ইতিহাস, মানুষের জীবনযাপন এবং পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা।
রাজস্থানী গ্রামের পরিবেশকে সামনে রেখে সেই ইতিহাসের গল্প বলা হলে মণ্ডপে একটি সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ হয়।
দর্শক একদিকে রাজস্থানী স্থাপত্যের সৌন্দর্য দেখতে পারবেন, অন্যদিকে শহর ও সভ্যতার পরিবর্তনের কথাও জানতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে থিম পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল দর্শকদের কিছু শেখানোর চেষ্টা। শুধু চোখ ধাঁধানো মণ্ডপ তৈরি নয়, বরং কোনও একটি বিষয়কে সহজ ভাষায় তুলে ধরাও অনেক পুজো কমিটির লক্ষ্য।
‘শহরের ইতিকথা’ সেই দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শিশুরা মণ্ডপে গিয়ে যদি শহরের বিকাশ, পুরনো স্থাপত্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন সম্পর্কে কিছু জানতে পারে, তাহলে পুজোর অভিজ্ঞতা আরও অর্থবহ হবে।
একটি বড় থিমের মণ্ডপ তৈরি করতে বহু শিল্পী ও কারিগরের প্রয়োজন হয়। কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে রং, নকশা, মূর্তি, আলোকসজ্জা—প্রতিটি কাজের পিছনে থাকে বহু মানুষের শ্রম।
রাজস্থানী গ্রামের আদলে মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রেও দক্ষ কারিগরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
লোকশিল্পের বিভিন্ন নকশা এবং স্থাপত্যের সূক্ষ্ম অংশগুলি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে অভিজ্ঞ শিল্পীদের প্রয়োজন হয়।
পুজোর প্রস্তুতির মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়।
পুজোর সময় যত এগিয়ে আসে, মণ্ডপ তৈরির কাজ ততই দ্রুত হয়। দিনের পর দিন কাজ করে শিল্পীরা একটি সাধারণ কাঠামোকে ধীরে ধীরে একটি সম্পূর্ণ থিমে রূপ দেন।
প্রথমে কাঠামো তৈরি, তারপর দেওয়াল, দরজা-জানালা, অলংকরণ, রং এবং শেষে আলো—একাধিক ধাপে মণ্ডপের কাজ সম্পূর্ণ হয়।
রাজস্থানী গ্রামের মতো একটি মণ্ডপ তৈরি করতে প্রতিটি ধাপেই বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়।
মণ্ডপের সৌন্দর্যকে সম্পূর্ণ করে আলোকসজ্জা। দিনের আলোয় মণ্ডপের স্থাপত্য যতটা স্পষ্ট দেখা যায়, রাতে আলোর ব্যবহারে তার সম্পূর্ণ অন্য রূপ তৈরি হয়।
রাজস্থানী স্থাপত্যের খিলান, ঝরোখা এবং অলংকরণে সঠিকভাবে আলো ফেললে সেগুলি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
আলো ও ছায়ার ব্যবহার করে পুরনো শহরের পরিবেশও তৈরি করা সম্ভব।
ফলে সন্ধ্যার পর মণ্ডপটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও। পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকেন মণ্ডপশিল্পী, প্রতিমাশিল্পী, আলোকশিল্পী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহণকর্মী এবং নানা ধরনের ছোট ব্যবসায়ী।
বড় থিমের পুজোয় কাজের পরিমাণও বেশি হয়। ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপের আশপাশে খাবারের দোকান, ছোট ব্যবসা এবং বিভিন্ন পরিষেবার চাহিদাও বাড়তে পারে।
বাগডোগরা বিমানবন্দরের কারণে এই অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের যাতায়াত রয়েছে। ফলে অভিনব পুজোর থিম স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি বাইরের মানুষের কাছেও আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
রাজস্থানী গ্রামের আদলে তৈরি মণ্ডপ উত্তরবঙ্গের দুর্গাপুজোয় একটি আলাদা বৈচিত্র্য যোগ করবে।
যাঁরা বিভিন্ন এলাকার পুজো ঘুরে দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের তালিকায় এই পুজোও জায়গা করে নিতে পারে।
পুজোর থিমে অন্য রাজ্যের সংস্কৃতি তুলে ধরা নতুন বিষয় নয়। তবে তার সঙ্গে স্থানীয় শহরের ইতিহাসকে যুক্ত করার ভাবনা থিমটিকে আলাদা করে তুলতে পারে।
রাজস্থানী গ্রাম এখানে শুধু একটি দৃশ্যপট নয়। এর মাধ্যমে দর্শকদের অতীতের জীবনযাত্রা, স্থাপত্য এবং সমাজের পরিবর্তনের দিকে তাকানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ, মণ্ডপের সৌন্দর্যের পাশাপাশি একটি গল্পও থাকবে।
শেষ পর্যন্ত কোনও থিম কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করে দর্শকের প্রতিক্রিয়ার উপর। মণ্ডপ কতটা সুন্দর হয়েছে, থিমটি কতটা স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে এবং দর্শক কতটা নতুন অভিজ্ঞতা পেলেন—সবকিছু মিলিয়েই সাফল্য নির্ধারিত হয়।
লোয়ার বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীনের ক্ষেত্রে রাজস্থানী গ্রামের আবহ এবং শহরের ইতিহাসের মেলবন্ধন কতটা সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে, সেটিই হবে দেখার বিষয়।
দর্শকদের চোখে যদি সেই গল্প জীবন্ত হয়ে ওঠে, তাহলে পুজোর অন্যতম আলোচিত মণ্ডপ হয়ে উঠতে পারে এটি।
থিমের কথা সামনে আসার পর থেকেই পুজোপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজস্থানী গ্রাম দেখতে কেমন হবে, কীভাবে দুর্গাপ্রতিমাকে উপস্থাপন করা হবে এবং ‘শহরের ইতিকথা’ কীভাবে মণ্ডপের মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হবে—এসব নিয়েই এখন আগ্রহ।
পুজোর দিন মণ্ডপ সম্পূর্ণ সাজলে সেই কৌতূহলের উত্তর মিলবে।
সব মিলিয়ে লোয়ার বাগডোগরা হাটখোলা সর্বজনীনের এবারের আয়োজন যে অন্যরকম হতে চলেছে, তা বলাই যায়। রাজস্থানী গ্রামের আবহ, লোকজ শিল্প, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং শহরের ইতিহাস—সবকিছুর মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপ।
দুর্গাপুজোর ভিড়ে এই পুজো কতটা আলাদা করে জায়গা করে নেয়, এখন সেটাই দেখার।