Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

‘হয়তো ভারতের হয়ে আর খেলতেই পারতাম না’, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে শতরানের পর কোহলির আবেগঘন মন্তব্য, ভাঙলেন সচিনের রেকর্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শতরান করে বিরাট কোহলি জানালেন, একটা সময় হয়তো ভারতের হয়ে আর খেলতেই পারতেন না। তাঁর এই ইনিংসেই ভেঙে গেল সচিন তেন্ডুলকরের একটি রেকর্ড। ম্যাচের পর কোহলির মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে আবারও নিজের জাত চেনালেন বিরাট কোহলি। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক মাইলফলক স্পর্শ করা ভারতীয় তারকা আরও একটি স্মরণীয় ইনিংস খেললেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল দুরন্ত শতরান। সেই ইনিংসের সৌজন্যে একদিকে যেমন দলের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ হল, তেমনই ব্যক্তিগত রেকর্ডের তালিকাতেও আরও একটি বড় সংযোজন হল কোহলির। সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়, এই ইনিংসের পর তাঁর মুখে উঠে এসেছে নিজের ক্রিকেটজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা। কোহলি জানিয়েছেন, একটা পর্যায়ে হয়তো তিনি ভারতের হয়ে আর খেলতেই পারতেন না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে কোহলির শতরান তাই শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়। এই ইনিংসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটযাত্রা, কঠিন সময় পেরিয়ে ফিরে আসার গল্প এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষমতা। একই সঙ্গে সচিন তেন্ডুলকরের একটি রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক তৈরি করাও এই ইনিংসকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

কোহলির ক্রিকেটজীবন শুরু থেকেই রেকর্ডে ভরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগ্রাসী ব্যাটিং, রান তাড়া করার দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেছেন। সময়ের সঙ্গে তাঁর ব্যাটিংয়ে এসেছে পরিবর্তন, কিন্তু বড় মঞ্চে রান করার ক্ষুধা এখনও একই রকম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এই শতরান সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ।

ম্যাচের শুরু থেকেই কোহলির ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা যায়। পরিস্থিতি বুঝে তিনি ইনিংস গড়ে তোলেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শট খেলেন। শুরুতে ধৈর্য ধরে ব্যাট করার পর ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়ান। তাঁর ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং, দুর্দান্ত টাইমিং এবং অভিজ্ঞতার পরিচয়। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে সামলে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান তিনি।

শতরান পূর্ণ করার মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই নজর ছিল কোহলির দিকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রতিটি শতরানই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এই শতরানের সঙ্গে রেকর্ডের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় ম্যাচের পর আলোচনা আরও বেড়ে যায়। সচিন তেন্ডুলকরের মতো কিংবদন্তির রেকর্ডের সঙ্গে কোহলির নাম বারবার তুলনা করা হয়।

ভারতীয় ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরের জায়গা অনন্য। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তৈরি হয়েছে অসংখ্য রেকর্ড। বহু বছর ধরে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মানদণ্ড হিসেবে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে। সেই তালিকায় কোহলির প্রবেশ ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে শতরানের পর আরও একটি পরিসংখ্যানে সচিনকে ছাপিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোহলির কেরিয়ারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

তবে রেকর্ড ভাঙার থেকেও ম্যাচের পর কোহলির মন্তব্য অনেকের নজর কেড়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এমন একটা সময় এসেছিল যখন হয়তো ভারতের হয়ে আর খেলতেই পারতেন না। এই বক্তব্য তাঁর ক্রিকেটজীবনের কঠিন সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের কেরিয়ারে উত্থান-পতন থাকেই। কোহলির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

একসময় তাঁর ব্যাট থেকে নিয়মিত বড় রান আসত। শতরান যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ফর্ম ধরে রাখা সহজ নয়। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরও কোহলি নিজের খেলা নিয়ে কাজ করে গিয়েছেন। সেই পরিশ্রমের ফল হিসেবে আবারও বড় ইনিংস খেলেছেন তিনি।

কোহলির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ক্রিকেটজীবনের একটি পর্যায়ে পরিস্থিতি তাঁর জন্য যথেষ্ট কঠিন ছিল। একজন ক্রিকেটার যখন দীর্ঘ সময় প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে পারেন না, তখন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কোহলিও সেই চাপের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু তিনি মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর শতরান সেই অর্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার ক্ষমতা এখনও তাঁর অন্যতম বড় শক্তি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন ক্রিকেটারের খেলার ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু কোহলির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মানসিকতা এখনও স্পষ্ট।

এই ম্যাচে কোহলির ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা। প্রতিটি বলকে একইভাবে খেলেননি তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্রাইক রোটেট করেছেন, আবার সুযোগ পেলে বাউন্ডারিও মেরেছেন। এই ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাটিং তাঁকে শতরানের দিকে এগিয়ে দেয়।

একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের কাছে শতরান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী বড় রান করা ম্যাচের ফলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কোহলির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর কাছ থেকে ভারতীয় সমর্থকদের প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি থাকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর শতরানের পর সামাজিক মাধ্যমেও স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাঁর ইনিংস, রেকর্ড এবং ম্যাচ-পরবর্তী মন্তব্য নিয়ে কথা বলছেন। বিশেষ করে সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি দুই প্রজন্মের ভারতীয় ক্রিকেটের তুলনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সচিন এবং কোহলি—দু’জনেই ভারতীয় ক্রিকেটের দুই ভিন্ন যুগের প্রতিনিধিত্ব করেন। সচিনের সময়ে ক্রিকেটের পরিবেশ, সূচি এবং খেলার ধরন ছিল অন্যরকম। কোহলির যুগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আরও বেশি ব্যস্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশ্লেষণনির্ভর হয়েছে। তাই শুধুমাত্র সংখ্যার ভিত্তিতে দুই ক্রিকেটারের কেরিয়ারকে একেবারে সরাসরি তুলনা করা সহজ নয়।

তবু রেকর্ডের বইয়ে যখন একের পর এক জায়গায় কোহলির নাম সচিনের পাশে উঠে আসে, তখন তা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এই শতরান সেই ধারাবাহিকতারই একটি নতুন অধ্যায়।

কোহলির ক্রিকেটজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তাঁর রান করার ধারাবাহিকতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে পারফর্ম করা অত্যন্ত কঠিন। বিভিন্ন প্রজন্মের বোলার, ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশন এবং পরিবর্তিত ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে রান করতে হয়। কোহলি সেই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।

এই শতরানের পর তাঁর মন্তব্য তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। তিনি যদি বলেন যে একটা সময়ে হয়তো ভারতের হয়ে আর খেলতে পারতেন না, তাহলে তা তাঁর কেরিয়ারের কঠিন সময়ের স্মৃতিকে সামনে আনে। একই সঙ্গে এই মন্তব্য দেখায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখার লড়াই কতটা কঠিন হতে পারে।

news image
আরও খবর

ক্রিকেটারদের কেরিয়ারে সমর্থন এবং সমালোচনা—দুই-ই থাকে। ভালো পারফরম্যান্স করলে প্রশংসা আসে, আবার খারাপ সময় গেলে প্রশ্নও ওঠে। কোহলিও সেই চক্রের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আবারও দেখাচ্ছে যে অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার কীভাবে কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের ব্যাটিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর ইনিংসে আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে—দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব নেওয়া। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছ থেকে দল সাধারণত এই ধরনের ইনিংসই প্রত্যাশা করে। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানো, ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনের সময় গতি বাড়ানো—এই দায়িত্বও কোহলির ব্যাটিংয়ের অংশ।

শতরানের পরে তাঁর উদযাপনও ছিল নজরকাড়া। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শতরান উদযাপনের নানা মুহূর্ত দেখা গিয়েছে তাঁর। প্রতিটি শতরানের পিছনে রয়েছে আলাদা গল্প। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এই শতরানের পিছনেও রয়েছে কঠিন সময় পেরিয়ে ফিরে আসার আবেগ।

রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ রয়েছে। সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে বিশেষ মর্যাদা বহন করেছে। কোহলি সেই রেকর্ডের তালিকায় নিজের নাম যোগ করায় দুই তারকার কেরিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে কোহলির বক্তব্যকে শুধুমাত্র রেকর্ডের প্রসঙ্গে দেখলে তাঁর কথার পুরো তাৎপর্য ধরা পড়বে না। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে ক্রিকেটজীবনের অনিশ্চয়তা এবং একজন খেলোয়াড়ের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে খেলা মানেই প্রত্যাশা, চাপ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরীক্ষা।

কোহলি সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বহু বছর ধরে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। শুরুর দিকের আগ্রাসী কোহলি থেকে অভিজ্ঞ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করা কোহলি—এই পরিবর্তন তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারেরই অংশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে শতরান তাঁর কেরিয়ারে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়র ক্রিকেটারদের বড় ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। তরুণ ক্রিকেটাররাও অভিজ্ঞ তারকাদের কাছ থেকে ম্যাচ পরিস্থিতি সামলানোর শিক্ষা পান।

এই ইনিংসের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কোহলি আরও কতগুলি মাইলফলক স্পর্শ করবেন। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়ার বদলে তাঁর বর্তমান পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বড় বিষয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর শতরান দেখিয়েছে, সুযোগ পেলে এখনও তিনি বড় ইনিংস খেলতে সক্ষম।

সচিনের রেকর্ড ভাঙার প্রসঙ্গও এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে রেকর্ডের মূল্য শুধু সংখ্যায় নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সময় এবং প্রেক্ষাপট। সচিন যে সময় রেকর্ড তৈরি করেছিলেন এবং কোহলি যে সময় সেগুলির কিছু অতিক্রম করছেন, দুই সময়ের ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে প্রতিটি রেকর্ডকে তার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন।

তবু ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে এই মুহূর্ত নিঃসন্দেহে আবেগের। এক প্রজন্মের কিংবদন্তির রেকর্ড যখন পরের প্রজন্মের তারকা ভাঙেন, তখন ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সচিনের পর কোহলির মতো একজন ব্যাটারের উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যাটিং ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এই শতরান তাই একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান। দ্বিতীয়ত, কোহলির ব্যক্তিগত মাইলফলক। তৃতীয়ত, সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভাঙার ঘটনা। এবং চতুর্থত, ম্যাচের পরে কোহলির নিজের কেরিয়ার নিয়ে করা আবেগঘন মন্তব্য।

একজন ক্রিকেটারের কেরিয়ারকে শুধু শতরান বা রেকর্ড দিয়ে বিচার করা যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পারফর্ম করা এবং দলের প্রয়োজনে অবদান রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোহলির ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়ই তাঁর কেরিয়ারের সঙ্গে জড়িত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর শতরান আবারও সেই আলোচনাকে সামনে নিয়ে এসেছে। কঠিন সময়ের পর কীভাবে একজন ক্রিকেটার নিজের সেরা ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারেন, কোহলির কেরিয়ার তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তবে তাঁর নিজের বক্তব্যই এই মুহূর্তকে আরও ব্যক্তিগত করে তুলেছে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় আগ্রহ হল, এই শতরানের পর কোহলির ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচই নতুন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ বদলায়, পরিবেশ বদলায়, পিচ বদলায়, কিন্তু বড় রান করার প্রত্যাশা একই থাকে।

কোহলি অবশ্য বহুবার দেখিয়েছেন যে তিনি এই প্রত্যাশার চাপ সামলাতে অভ্যস্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তাঁর নতুন শতরান সেই দীর্ঘ যাত্রারই আরেকটি মাইলফলক। রেকর্ডের পাতা তাঁর নাম আরও একবার লিখে রাখল, আর ম্যাচ-পরবর্তী মন্তব্য তাঁর ক্রিকেটজীবনের অন্য একটি দিক সামনে আনল।

সব মিলিয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির শতরান ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি আলোচিত মুহূর্ত। ব্যাট হাতে বড় রান, রেকর্ড ভাঙা এবং ম্যাচের পরে নিজের কেরিয়ার নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য—সব মিলিয়ে এই ইনিংস ঘিরে আগ্রহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড অতিক্রম করার পাশাপাশি কোহলি আবারও মনে করিয়ে দিলেন, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে প্রতিটি মাইলফলকের পিছনে থাকে কঠিন পরিশ্রম, চাপ এবং প্রত্যাবর্তনের গল্প।

এই শতরান ভবিষ্যতে কোহলির কেরিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচ নতুন গল্প লেখে। তাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সত্য হল—ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলি আবারও ব্যাট হাতে নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন এবং রেকর্ডের বইয়ে নিজের নাম আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন।

Preview image