Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মদ্যপানের আসক্তি কাটাতে ২৬ দিন রিহ্যাবে চাহাল! ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়ে মুখ খুললেন ভারতীয় স্পিনার

ধনশ্রী ভার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মাঝে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ভারতীয় স্পিনার। ২৬ দিন রিহ্যাব সেন্টারে কাটানোর খবর ঘিরে তাঁকে নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

বিবাহবিচ্ছেদের পর কঠিন সময়, ২৬ দিন রিহ্যাবে চাহাল! আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে ব্যক্তিগত জীবনের অজানা অধ্যায়

ভারতীয় ক্রিকেট মাঠে হাসিখুশি মেজাজ, মজার মন্তব্য এবং লেগ স্পিনের জাদুতে বরাবরই পরিচিত যুজবেন্দ্র চাহাল। কিন্তু মাঠের বাইরের জীবন সবসময় এতটা সহজ ছিল না এই তারকা ক্রিকেটারের। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক চাপ এবং মদ্যপানের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। সেই কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ্যে এনে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় লেগ স্পিনার।

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চাহাল। সেখানে তিনি জানান, মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ২৬ দিন একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে কাটিয়েছিলেন তিনি। জীবনের সেই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক ভারসাম্য এবং ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন স্পিনার।

চাহালের এই স্বীকারোক্তি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মাঠে যাঁকে সবসময় প্রাণবন্ত দেখা যায়, সেই খেলোয়াড়ের জীবনেও যে গভীর ব্যক্তিগত সংকট থাকতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তা সামনে এনেছে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে থাকা তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা এবং সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য কতটা চাপ তৈরি করতে পারে, সেই বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

বিবাহবিচ্ছেদের পর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যুজবেন্দ্র চাহাল

ধনশ্রী ভার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের কথা জানিয়েছেন চাহাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় মানসিকভাবে ভালো ছিলেন না তিনি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের আলোচনা, নানা মন্তব্য এবং জনসমক্ষে নিজের পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমাগত চর্চা তাঁকে প্রভাবিত করেছিল।

সেলিব্রিটিদের জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন—সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়। কিন্তু সেই আগ্রহ যখন ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণে পরিণত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর চাপ তৈরি হতে পারে।

চাহাল জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা মন্তব্য তাঁকে আঘাত করেছিল। পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল এবং উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

তবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে শুধুমাত্র বিবাহবিচ্ছেদের ফল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, মানসিক চাপ, অভ্যাস এবং পেশাগত জীবনের নানা বিষয় একসঙ্গে একজন মানুষের সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। চাহালের বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই জটিল সময়েরই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল

আকাশ চোপড়ার সঙ্গে কথোপকথনে চাহাল স্বীকার করেছেন, একটা সময়ে তাঁর মদ্যপানের অভ্যাস মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনের চাপের সঙ্গে লড়াই করার সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি উপলব্ধি করেন, এভাবে চলতে থাকলে তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়—ক্রিকেট—ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চাহালের কথায়, মদ্যপানের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর তিনি পেশাদার সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ভর্তি হন এবং সেখানে ২৬ দিন কাটান।

এই অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সেই সময় তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। নিজের আবেগ সামলানো, ব্যক্তিগত পরিস্থিতিকে পরিণতভাবে দেখা এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনি উপকার পেয়েছেন বলে জানান।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আসক্তি কোনও ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি জটিল সমস্যা, যার জন্য পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। চাহালের নিজের অভিজ্ঞতা সেই সাহায্য নেওয়ার গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।

কেন রিহ্যাব সেন্টারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন স্পিনার?

চাহালের বক্তব্য অনুযায়ী, মদ্যপানের অভ্যাস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করছিল। পাশাপাশি নিজের ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তিনি বুঝতে পারেন, এই অভ্যাস চলতে থাকলে যে খেলাকে ভালোবেসে এতদূর এসেছেন, সেই ক্রিকেটই বিপদের মুখে পড়তে পারে।

সেই উপলব্ধি থেকেই পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রিহ্যাবে কাটানো ২৬ দিন ছিল নিজের অভ্যাস, আবেগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

চাহাল জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে এবং কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে আরও পরিণত হয়েছেন বলে তাঁর উপলব্ধি।

পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া মানে দুর্বলতা নয়। বরং কোনও সমস্যা যখন নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে হয়, তখন সাহায্য চাওয়া পরিস্থিতি বদলানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। চাহালের অভিজ্ঞতা থেকে এই বার্তাটিও উঠে আসে।

উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের অভিজ্ঞতা

চাহালের সাক্ষাৎকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উদ্বেগ এবং প্যানিক অ্যাটাক নিয়ে তাঁর বক্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, কঠিন সময়ের মধ্যে এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপনকে প্রভাবিত করেছিল।

তাঁর বর্ণনায়, প্যানিক অ্যাটাকের সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত এবং কথা বলতেও অসুবিধা হতো। কখনও মুখের অভিব্যক্তি ও ঠোঁটের পরিবর্তন দেখে অন্যরাও বুঝতে পারতেন যে তাঁর কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে।

মানসিক চাপের অভিজ্ঞতা প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে একরকম হয় না। উদ্বেগ বা প্যানিকের লক্ষণও ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। চাহাল নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তবে সেটিকে সবার ক্ষেত্রে একই রকম হবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবন বাইরে থেকে যতই আকর্ষণীয় মনে হোক, তাঁদেরও ব্যক্তিগত উদ্বেগ, সম্পর্কের সমস্যা এবং মানসিক চাপ থাকতে পারে। চাহালের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের চাপ

চাহাল মনে করেন, জনপরিচিত ব্যক্তি হওয়ার কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষ মতামত দেন। কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, কী খাচ্ছেন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কে কী ঘটছে—সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়।

সামাজিক মাধ্যমের যুগে এই চর্চা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কোনও খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা, অনুমান এবং মন্তব্য সামনে আসে। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে জানা হওয়ার আগেই নানা মতামত তৈরি হয়ে যায়।

news image
আরও খবর

চাহালের বক্তব্যে বোঝা যায়, নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই ধরনের আলোচনা তাঁর উপর চাপ তৈরি করেছিল। জনসমক্ষে থাকা মানুষদের জন্য ব্যক্তিগত সীমানা বজায় রাখা যে কতটা কঠিন হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ।

তবে সামাজিক মাধ্যমের প্রতিটি মন্তব্যকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। চাহালও শেষ পর্যন্ত অতীতের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নিজের জীবন ও ক্রিকেটে মনোযোগ ফেরানোই হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মানসিক অবস্থার কারণে ক্রিকেট থেকেও বিরতি

চাহাল জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ মরশুমে ক্রিকেটে তাঁর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। হরিয়ানার হয়ে মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পর মানসিক অবস্থা ভালো না থাকায় আর মাঠে নামেননি তিনি। নিজের পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্পিনার।

একজন পেশাদার ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুধু শারীরিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করে না। মনোযোগ, আত্মবিশ্বাস, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত সমস্যার প্রভাব যদি খেলায় পড়ে, তাহলে বিরতি নিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর প্রয়োজন হতে পারে।

চাহালের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় তিনি নিজের মানসিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ক্রিকেটের মতো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তাঁর অভিজ্ঞতা আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, খেলোয়াড়দের সুস্থতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স দেখলে চলে না। তাঁদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার।

পরিবার ও বন্ধুদের পাশে পাওয়া

কঠিন সময় পেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন চাহাল। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত সংকটের সময়ে কাছের মানুষের উপস্থিতি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে সহানুভূতিশীল পরিবেশ অনেকের জন্যই সহায়ক হতে পারে। বিচার না করে কথা শোনা, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা এবং পেশাদার সাহায্য নিতে উৎসাহ দেওয়া—এই বিষয়গুলি সংকট সামলানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা। শুধু পরিবার বা বন্ধুদের সমর্থনই সব সমস্যার সমাধান নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক, মনোবিদ বা আসক্তি পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞের সাহায্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

চাহালের ক্ষেত্রে রিহ্যাবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এবং নিজের পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা তাঁর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কীভাবে ফিরছে ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ?

চাহালের বক্তব্য অনুযায়ী, পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা তাঁর আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত জীবনকে আরও পরিণতভাবে দেখার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে। তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে শারীরিক প্রশিক্ষণ, জিম এবং ফিল্ডিং অনুশীলনের ক্ষেত্রেও নিজেকে আগের তুলনায় ভালো অবস্থায় অনুভব করেছেন।

ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে সাফল্য ধরে রাখতে শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্থিতি জরুরি। বিশেষ করে লেগ স্পিনারদের জন্য ধারাবাহিক অনুশীলন, নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

চাহালের কেরিয়ারে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পাশাপাশি নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার মধ্যে আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

তবে তাঁর ভবিষ্যৎ ক্রিকেট কেরিয়ার কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করবে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত, ফিটনেস, দল নির্বাচনের পরিস্থিতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের উপর।

চাহালের অভিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?

চাহালের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। প্রথমত, বাইরে থেকে কাউকে হাসিখুশি বা সফল দেখালেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পূর্ণ সমস্যামুক্ত, এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত, মানসিক চাপ বা আসক্তির সমস্যা তৈরি হলে তা অস্বীকার না করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, জনপরিচিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করার সময় দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন। কোনও ব্যক্তির বিবাহবিচ্ছেদ বা মানসিক সমস্যাকে নিয়ে অনুমান, বিদ্রূপ কিংবা অযাচিত মন্তব্য তাঁর পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

চতুর্থত, পুনর্বাসন বা পেশাদার সাহায্য নেওয়া জীবনে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ হতে পারে। চাহাল নিজেই জানিয়েছেন, ২৬ দিন রিহ্যাবে কাটানোর সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে।

এই অভিজ্ঞতা অন্য কারও সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে, এমন নয়। তবে সমস্যার সময়ে সাহায্য নেওয়া এবং নিজের সুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ।

কঠিন সময় পেরিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা

যুজবেন্দ্র চাহালের ক্রিকেট কেরিয়ার তাঁকে দেশের অন্যতম পরিচিত সাদা বলের স্পিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি দেখিয়েছে, মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।

বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক চাপ, মদ্যপানের সমস্যা, উদ্বেগ এবং ক্রিকেট থেকে বিরতি—সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন তিনি। সেই পরিস্থিতি সামলাতে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ২৬ দিন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। এখন নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে তিনি জানিয়েছেন, সেই পদক্ষেপ তাঁর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

চাহালের এই বক্তব্য তাই শুধু একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবনের খবর নয়। এটি মানসিক সুস্থতা, আসক্তির সমস্যা এবং প্রয়োজনের সময় সাহায্য নেওয়ার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে। অতীতের কঠিন সময় পেরিয়ে নিজের জীবন ও ক্রিকেটের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ভারতীয় স্পিনার। তাঁর আগামী দিনের পথচলা কেমন হয়, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

Preview image