Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হ্যাটট্রিক করেই বিশ্বকাপে ক্লোজেকে ছুঁলেন মেসি টেক্কা দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও

হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন লিয়োনেল মেসি। গোলের রেকর্ডে মিরোস্লাভ ক্লোজেকে ছুঁয়ে ফেলার পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও পিছনে ফেলে নতুন নজির গড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও জাদু দেখালেন লিয়োনেল মেসি। বয়স শুধু একটি সংখ্যা এই কথাটাই যেন নতুন করে প্রমাণ করলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে মেসি শুধু দলকে দারুণ জয় এনে দেননি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন। এই হ্যাটট্রিকের সুবাদে তিনি বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের সর্বকালের গোলরেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার নজির গড়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও পিছনে ফেললেন মেসি।

আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া ম্যাচটি শুরু থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের নজরে ছিল। কারণ, এটি শুধু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর ম্যাচ ছিল না, একই সঙ্গে মেসির জন্যও ছিল এক বিশেষ মঞ্চ। নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তিনি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, বহু অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় আসরে হ্যাটট্রিক করে ক্লোজের রেকর্ড স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় হয়ে থাকবে। ম্যাচের শুরু থেকেই মেসিকে দেখা যায় দুর্দান্ত ছন্দে। বল পায়ে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা এবং গোলের সামনে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং সবকিছুতেই ছিল পুরনো মেসির ছাপ। বয়স ৩৮ হলেও মাঠে তাঁর উপস্থিতি যেন এখনও তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা দেয়। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বারবার আলজেরিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত সেই চাপই রূপ নেয় গোলের উৎসবে।

মেসির প্রথম গোল আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে এগিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত করেন। আর তৃতীয় গোলটি শুধু ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, ইতিহাসের পাতাতেও নতুন অধ্যায় লিখে দিয়েছে। এই তিন গোলের পর মেসি বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোলের মালিক হন, যা এতদিন মিরোস্লাভ ক্লোজের নামে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড হিসেবে ছিল। ক্লোজে ২০০২ থেকে ২০১৪ বিশ্বকাপের মধ্যে ১৬ গোল করেছিলেন। মেসি সেই রেকর্ড ছুঁয়ে বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর। এই হ্যাটট্রিকের আরও একটি বড় তাৎপর্য রয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার নজির গড়েছিলেন। এবার মেসি সেই রেকর্ডও টপকে গেলেন। ফলে মেসি-রোনাল্ডো দ্বৈরথে আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হল। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন এই দুই মহাতারকা। ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁদের তুলনা হয়েছে। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এই হ্যাটট্রিক সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিল।

আর্জেন্টিনার জন্য এই জয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের শুরুতে বড় জয় দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। বিশেষ করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল অনেক বেশি। সেই চাপ সামলে মেসির নেতৃত্বে দল যেভাবে ম্যাচ জিতল, তা সমর্থকদের মনে নতুন আশা জাগাবে। আক্রমণ, মাঝমাঠ এবং রক্ষণ তিন বিভাগেই আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। তবে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন মেসি। মেসির এই পারফরম্যান্স শুধু সংখ্যার দিক থেকে বড় নয়, আবেগের দিক থেকেও বিশেষ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তিনি বহুবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একসময় প্রশ্ন উঠেছিল, ক্লাব ফুটবলের মতো তিনি কি দেশের জার্সিতে সফল হতে পারবেন  সেই প্রশ্নের জবাব তিনি আগেই কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জিতে দিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করে তিনি আরও একবার প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে বড় মুহূর্ত তৈরি করার ক্ষমতা তাঁর এখনও অটুট।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসি মানেই শিল্প, বুদ্ধিমত্তা এবং নিখুঁততা। তিনি শুধু গোল করেন না, ম্যাচের ছন্দও নিয়ন্ত্রণ করেন। কখন বল ধরে রাখতে হবে, কখন পাস দিতে হবে, কখন নিজে শট নিতে হবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেও সেটাই দেখা গেল। প্রতিপক্ষের রক্ষণ যতই চেষ্টা করুক, মেসির গতি, কৌশল এবং অভিজ্ঞতার সামনে তারা বারবার সমস্যায় পড়েছে। বিশ্বকাপে ক্লোজের রেকর্ড ছোঁয়া মেসির কেরিয়ারের এক ঐতিহাসিক মাইলস্টোন। এখন সামনে সুযোগ রয়েছে সেই রেকর্ড ভেঙে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। আর্জেন্টিনা যদি টুর্নামেন্টে আরও এগোয়, তাহলে মেসির সামনে আরও গোল করার সুযোগ থাকবে। সমর্থকরা এখন তাকিয়ে থাকবেন পরের ম্যাচগুলির দিকে মেসি কি ক্লোজেকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারবেন সব মিলিয়ে, আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির হ্যাটট্রিক ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে। ক্লোজের রেকর্ড ছোঁয়া, রোনাল্ডোকে পিছনে ফেলা এবং আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়া এক ম্যাচেই সবকিছু করে দেখালেন তিনি। বয়স বাড়লেও মেসির জাদু যে ফুরোয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে উঠেছে, সেটাই এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বার্তা। ফুটবল বিশ্বে লিয়োনেল মেসি এমন এক নাম, যিনি শুধু গোল করার জন্য বিখ্যাত নন, বরং পুরো ম্যাচকে নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতার জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর পায়ে বল মানেই যেন শিল্পের ছোঁয়া, বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত প্রয়োগ এবং মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার সামর্থ্য। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির হ্যাটট্রিক সেই কথাই আবার প্রমাণ করল। বয়স বাড়লেও তাঁর ফুটবল বুদ্ধি, বল কন্ট্রোল, পাসিং সেন্স এবং গোলের সামনে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং এখনও একই রকম ধারালো।

news image
আরও খবর

এই ম্যাচে শুরু থেকেই মেসিকে দেখা যায় আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে। তিনি শুধু নিজে গোলের সুযোগ তৈরি করেননি, সতীর্থদের জন্যও বারবার জায়গা বানিয়ে দিয়েছেন। কখন বল ধরে রাখতে হবে, কখন দ্রুত পাস বাড়াতে হবে, কখন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে সামনে এগোতে হবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা করে তুলেছে। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ বারবার তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলেও মেসির অভিজ্ঞতা, গতি এবং কৌশলের সামনে তারা বেশ অসহায় হয়ে পড়ে। মেসির হ্যাটট্রিক শুধু একটি ম্যাচ জেতানোর ঘটনা নয়, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক বিরাট মুহূর্ত। এই তিন গোলের মাধ্যমে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোজের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন। ক্লোজে বহু বছর ধরে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। সেই জায়গায় মেসির পৌঁছে যাওয়া তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়। ক্লাব ফুটবল, কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ সব মঞ্চেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার পর এবার বিশ্বকাপের গোলরেকর্ডেও নিজের নাম আরও শক্তভাবে লিখে দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এই পারফরম্যান্সের আরও একটি বড় দিক হল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনার জায়গা। বহু বছর ধরে মেসি ও রোনাল্ডোকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক চলে আসছে। কে সেরা, কে বড় ম্যাচে বেশি প্রভাব ফেলেছেন, কে দেশের জার্সিতে বেশি সফল এই সব প্রশ্ন বহুবার উঠেছে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির এই হ্যাটট্রিক সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিল। বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স করে তিনি দেখিয়ে দিলেন, বড় মুহূর্তে এখনও তিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। আর্জেন্টিনার জন্য এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস অর্জন করা খুব জরুরি। মেসির নেতৃত্বে দল যেভাবে খেলল, তাতে সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আক্রমণভাগে গতি, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়েছে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলো অবশ্যই মেসির ওপরেই ছিল।

মেসির খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হল তাঁর সহজাত ফুটবল বুদ্ধি। তিনি কখনও অযথা বল ধরে রাখেন না, আবার প্রয়োজন হলে একাই ম্যাচের গতি কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কোথায় ফাঁক রাখছে, কোন সতীর্থ কোথায় দৌড় শুরু করেছেন, গোলরক্ষক কোন দিকে ঝুঁকছেন সবকিছু যেন তিনি মুহূর্তের মধ্যে বুঝে ফেলেন। এই কারণেই মেসি শুধু একজন গোলদাতা নন, তিনি একজন সম্পূর্ণ ফুটবল শিল্পী। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর তিনটি গোল ছিল আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের উদাহরণ। প্রতিটি গোলেই বোঝা গিয়েছে, মেসির মধ্যে এখনও সেই ক্ষুধা আছে। তিনি এখনও গোল করতে চান, দলকে এগিয়ে নিতে চান এবং ফুটবল ইতিহাসে নতুন নতুন অধ্যায় লিখতে চান। বয়স বাড়লেও তাঁর মধ্যে যে লড়াই করার মানসিকতা কমেনি, সেটাই এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় বার্তা।

বিশ্বকাপে ক্লোজের রেকর্ড ছোঁয়ার পর এখন সবার চোখ থাকবে মেসির পরবর্তী ম্যাচগুলির দিকে। আর্জেন্টিনা যদি টুর্নামেন্টে আরও এগিয়ে যায়, তাহলে মেসির সামনে সুযোগ থাকবে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। এই সম্ভাবনাই এখন ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ এখন শুধু দলের জন্য নয়, মেসির ব্যক্তিগত ইতিহাসের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সব মিলিয়ে, আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির হ্যাটট্রিক বিশ্ব ফুটবলের এক স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে। ক্লোজের রেকর্ড ছোঁয়া, রোনাল্ডোকে পিছনে ফেলা এবং আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়া এক ম্যাচেই সবকিছু করে দেখালেন তিনি। এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিল, মেসির জাদু এখনও শেষ হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে তাঁর খেলার মূল্য আরও বেড়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসি আজও আবেগ, বিস্ময় এবং অনুপ্রেরণার আরেক নাম।

 

Preview image