Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেসির গোলসংখ্যা ৯২২ বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল, রোনাল্ডোকে ধাওয়া করে ১০০০ এর পথে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

চলতি মেজর লিগ সকারে ১৩তম গোল করে সোনার বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন লিওনেল মেসি। শীর্ষে রয়েছেন পিটার মুসা, তবে মরসুমে এখনও অনেক ম্যাচ বাকি।

ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির নামের পাশে আরও একটি স্মরণীয় সংখ্যা—৯২২। বয়স ৩৯-এর কাছাকাছি পৌঁছলেও গোলের প্রতি তাঁর ক্ষুধা যেন এতটুকু কমেনি। মেজর লিগ সকারে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে গোল করে নিজের পেশাদার কেরিয়ারের গোলসংখ্যা ৯২২-এ নিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। আর সেই সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে আরও জোরালো হয়ে উঠল একটি প্রশ্ন—মেসি কি শেষ পর্যন্ত কেরিয়ারে ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন?

সংখ্যার হিসাবে লক্ষ্যটি এখন আর অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। ৯২২ গোল থেকে ১০০০-এ পৌঁছতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ৭৮টি গোল। তবে এই গোলটির গুরুত্ব শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময় পার করে মাঠে ফিরে বাবার মৃত্যুর পর এটিই ছিল মেসির প্রথম গোল। তাই ফিলাডেলফিয়ার জালে বল জড়ানোর পর তাঁর আবেগও ছিল অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি।

২০ আগস্টের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের ২৬ মিনিটের মাথায় বাঁ-পায়ের নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন মেসি। সেটি ছিল তাঁর কেরিয়ারের ৯২২তম গোল এবং চলতি MLS মরসুমের ১৩তম গোল। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র হয়।

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে ফের মেসি-ম্যাজিক

ম্যাচের শুরু থেকেই ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন ও ইন্টার মায়ামির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। মায়ামির আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাভাবিক ভাবেই ছিলেন মেসি। প্রতিপক্ষের রক্ষণ তাঁকে যতটা সম্ভব জায়গা না দেওয়ার চেষ্টা করলেও সুযোগ তৈরি করতে খুব বেশি সময় নেননি আর্জেন্টাইন তারকা।

প্রথমার্ধের ২৬ মিনিটে সুযোগ পেতেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ বাঁ পায়ে বল জালে পাঠান মেসি। গোলটি ছিল তাঁর পরিচিত ফুটবলীয় দক্ষতার আরও একটি নিদর্শন—সঠিক জায়গায় থাকা, মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করার নিখুঁত ক্ষমতা।

শুধু গোলই নয়, ম্যাচে একটি অ্যাসিস্টও করেন মেসি। অর্থাৎ ইন্টার মায়ামির দু'টি গোলেই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল তাঁর। তা সত্ত্বেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মায়ামি। ফিলাডেলফিয়া শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরে আসে এবং খেলা শেষ হয় ২-২ ব্যবধানে।

তবে ম্যাচের ফলের থেকেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন মেসিই। কারণ এই গোলটি তাঁর জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন একটি অধ্যায়ের পর এসেছে।

বাবাকে হারানোর পর প্রথম গোল

২০২৬ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন মেসির বাবা জর্জ মেসি। আর্জেন্টিনার রোসারিওতে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মেসির ফুটবল জীবনে জর্জের ভূমিকা ছিল অসামান্য। তিনি শুধু বাবা ছিলেন না, দীর্ঘ সময় ছেলের প্রতিনিধি এবং কেরিয়ার পরিচালনার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিও ছিলেন।

শৈশব থেকেই মেসির ফুটবল প্রতিভাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রোসারিও থেকে বার্সেলোনায় মেসির যাত্রা, ফুটবল কেরিয়ারের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং পেশাদার জীবনের বহু ক্ষেত্রেই জর্জ পাশে ছিলেন।

ফলে তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ভাবেই মেসির জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

বাবাকে হারানোর পর কিছুদিনের জন্য ফুটবল থেকে দূরে ছিলেন মেসি। পরে অবশ্য দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামলেও ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বাবার মৃত্যুর পর গোল পাননি তিনি।

অবশেষে সেই অপেক্ষা শেষ হল।

বল জালে যাওয়ার পর মেসির মুখে যে আবেগ দেখা যায়, সেটি বুঝিয়ে দিচ্ছিল এই গোল তাঁর কাছে শুধুমাত্র আর পাঁচটা গোলের মতো নয়। সতীর্থরাও এগিয়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। ব্যক্তিগত শোককে সঙ্গে নিয়েই পেশাদার ফুটবলে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া মেসির এই মুহূর্ত ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ হয়ে থাকবে।

কেরিয়ারে ৯২২ গোল—১০০০ কি এবার বাস্তব লক্ষ্য?

মেসির কেরিয়ার ইতিমধ্যেই অসংখ্য রেকর্ড ও মাইলফলকে পূর্ণ। কিন্তু ৯২২ গোলের পর এখন তাঁর সামনে যে সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হবে, সেটি নিঃসন্দেহে ১০০০

হাজার গোল—বিশ্ব ফুটবলে এমন একটি সংখ্যা যার আলাদা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে গোলের পর মেসির পেশাদার কেরিয়ারের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২২। অর্থাৎ ১০০০-এর মাইলফলক ছুঁতে প্রয়োজন আরও ৭৮ গোল।

প্রশ্ন হল, মেসির হাতে কি সেই সময় রয়েছে?

তাঁর বয়স এবং কেরিয়ারের বর্তমান পর্যায়ের কথা মাথায় রাখলে ৭৮ গোল নিঃসন্দেহে বড় লক্ষ্য। কিন্তু মেসি এখনও যে নিয়মিত গোল করছেন, সেটিই তাঁর সমর্থকদের আশাবাদী করছে।

বিশেষ করে MLS-এ তিনি শুধু নামমাত্র খেলছেন না, এখনও দলের প্রধান গোলদাতা, সুযোগ সৃষ্টিকারী এবং আক্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন।

মেসি যদি আরও কয়েক মরসুম খেলা চালিয়ে যান এবং গোল করার বর্তমান ধারার কাছাকাছি থাকতে পারেন, তাহলে হাজার গোলের স্বপ্ন একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে বিষয়টি নির্ভর করবে তাঁর ফিটনেস, ম্যাচের সংখ্যা, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভবিষ্যৎ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তিনি কতদিন পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যেতে চান তার উপর।

চলতি MLS মরসুমে ১৩ গোল

বয়স যেন সত্যিই মেসির ক্ষেত্রে শুধুই একটি সংখ্যা।

চলতি মেজর লিগ সকার মরসুমে ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে গোলটি ছিল তাঁর ১৩তম গোল। এর ফলে MLS Golden Boot-এর লড়াইয়েও তিনি সামনের সারিতে রয়েছেন।

এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন FC Dallas-এর Petar Musa। MLS-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মুসার গোল করার ধারাবাহিকতা এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাঁর অবস্থান বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরসুমের এখনও অনেকটা পথ বাকি। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ছবিটা আরও কয়েকবার বদলে যেতে পারে।

মেসির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—তিনি শুধু একজন গোলস্কোরার নন।

নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করা, মাঝমাঠে নেমে খেলা পরিচালনা করা, ডিফেন্স ভেঙে পাস দেওয়া এবং সেট-পিসে বিপদ তৈরি করা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব রয়েছে।

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধেও সেই ছবিটাই দেখা গিয়েছে। তিনি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছেন।

গোল করেও জয় পেল না ইন্টার মায়ামি

মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নজরকাড়া হলেও দল হিসেবে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারল না ইন্টার মায়ামি।

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ ব্যবধানে।

মায়ামির জন্য এই ম্যাচে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মেসির গোলের পর তারা এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি দল।

তবে সাম্প্রতিক খারাপ ফলের পর এই ড্র কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফলের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামির টানা তিন ম্যাচের হারের ধারাও থামে।

মেসির মতো ফুটবলারকে দলে পাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু শুধুমাত্র একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উপর নির্ভর করে ধারাবাহিক ভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।

মায়ামির রক্ষণ এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লিড ধরে রাখার ক্ষমতা আগামী ম্যাচগুলিতে বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।

রোনাল্ডোর সঙ্গে ঐতিহাসিক গোলের লড়াই

মেসির নামের সঙ্গে কেরিয়ারের প্রায় প্রতিটি বড় আলোচনায় আর একটি নাম অবধারিত ভাবে চলে আসে—ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

দুই কিংবদন্তির মধ্যে কে সর্বকালের সেরা, সেই বিতর্কের হয়তো কখনও শেষ হবে না। ব্যালন ডি'অর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, আন্তর্জাতিক ট্রফি, গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা ব্যক্তিগত পুরস্কার—প্রায় দুই দশক ধরে তাঁদের তুলনা চলে আসছে।

কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও সেই তুলনা থামেনি।

রোনাল্ডো কেরিয়ার গোলের হিসাবে মেসির থেকে এগিয়ে রয়েছেন এবং তিনিও হাজার গোলের ঐতিহাসিক লক্ষ্যের দিকে ছুটছেন। অন্যদিকে মেসিও একের পর এক গোল করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন।

তবে দু'জনের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।

রোনাল্ডো তাঁর কেরিয়ারের বড় অংশে অসাধারণ গোলস্কোরিং দক্ষতার জন্য বিখ্যাত। মেসি আবার একই সঙ্গে গোলস্কোরার, প্লেমেকার এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণকারী ফুটবলার হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন।

তাই শুধুমাত্র গোলের সংখ্যার ভিত্তিতে তাঁদের পুরো কেরিয়ার বিচার করা কঠিন।

তারপরও সংখ্যার আকর্ষণ অস্বীকার করার উপায় নেই।

মেসি যখন ৯২২-এ পৌঁছেছেন, তখন ফুটবলবিশ্বের আগ্রহ স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে—তিনি শেষ পর্যন্ত কতদূর যেতে পারেন?

৩৯-এর কাছাকাছি বয়সেও একই ক্ষুধা

মেসির দীর্ঘ কেরিয়ারের সবচেয়ে আশ্চর্য দিকগুলির একটি হল তাঁর ধারাবাহিকতা।

কিশোর বয়সে বার্সেলোনার জার্সিতে যে মেসিকে দেখা গিয়েছিল, সেই বিস্ফোরক গতি এখন স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা কমেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজের খেলার ধরন বদলে নিয়েছেন তিনি।

এখন আগের মতো প্রতিটি আক্রমণে একাধিক ফুটবলারকে ড্রিবল করে পেরিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জানেন কখন গতি বাড়াতে হবে, কোথায় জায়গা তৈরি হবে এবং কখন একটি পাস গোটা রক্ষণকে ভেঙে দিতে পারে।

এটাই একজন মহান ফুটবলারের বৈশিষ্ট্য।

শারীরিক ক্ষমতা বয়সের সঙ্গে পরিবর্তিত হলেও ফুটবলীয় বুদ্ধি, পজিশনিং এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তাঁকে এখনও বিপজ্জনক করে রেখেছে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গোল করার ইচ্ছা এখনও অটুট।

বার্সেলোনা থেকে মায়ামি—অসাধারণ এক যাত্রা

মেসির ৯২২ গোলের গল্প আসলে কয়েক দশকের এক অবিশ্বাস্য ফুটবল যাত্রার ফল।

বার্সেলোনার লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারে পরিণত হওয়া, ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য ট্রফি জেতা, তারপর প্যারিস সাঁ জারমাঁ এবং শেষে ইন্টার মায়ামি—প্রতিটি অধ্যায়ই আলাদা গল্প।

বার্সেলোনায় তিনি নিজের কেরিয়ারের সেরা সময় কাটিয়েছেন। সেখানে গোল, অ্যাসিস্ট, লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যক্তিগত পুরস্কারের যে ইতিহাস তৈরি করেছেন, তা তাঁকে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় স্থায়ী জায়গা দিয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতেও দীর্ঘ অপেক্ষার পর এসেছে সাফল্য।

একসময় জাতীয় দলের হয়ে বড় ট্রফি জিততে না পারার কারণে মেসিকে সমালোচনা শুনতে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোপা আমেরিকা এবং বিশ্বকাপ জিতে সেই অপূর্ণতাও দূর করেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনাল পর্যন্ত নেতৃত্ব দেন মেসি, যদিও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে রানার্স-আপ হতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

এত দীর্ঘ কেরিয়ারের পরেও যখন তিনি MLS-এর মাঠে গোল করেন, তখন বোঝা যায় তাঁর প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা এখনও কতটা প্রবল।

news image
আরও খবর

জর্জ মেসি—ছেলের কেরিয়ারের নেপথ্যের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ

এই ম্যাচের প্রসঙ্গে জর্জ মেসির কথা আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয়।

লিওনেল মেসির বিশ্বজয়ের গল্পের সামনে সবসময় ছেলেকেই দেখা গিয়েছে। কিন্তু সেই সাফল্যের নেপথ্যে বাবা জর্জের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মেসির ফুটবল প্রতিভা ছোটবেলাতেই পরিবারের নজরে এসেছিল। তাঁর শারীরিক বৃদ্ধিজনিত চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ ফুটবল কেরিয়ার নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা ছিল, তখন পরিবারের সমর্থন ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তীতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসির স্পেনে যাওয়া এবং বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার সময়ও জর্জ ছেলের পাশে ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মেসির প্রতিনিধি হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেন।

তাই ৮ আগস্ট বাবাকে হারানো মেসির কাছে শুধুমাত্র পরিবারের একজন সদস্যকে হারানো ছিল না—তিনি হারিয়েছেন নিজের ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শককে। জর্জের মৃত্যুর পর বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন শোকপ্রকাশ করে।

আবেগের মধ্যেও পেশাদার মেসি

ব্যক্তিগত শোকের পর একজন খেলোয়াড় কত দ্রুত মাঠে ফিরবেন, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

মেসিও বাবার মৃত্যুর পর কিছু সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন। পরে ফের ইন্টার মায়ামির সঙ্গে যোগ দেন।

মাঠে ফেরার পর তাঁর মানসিক অবস্থার বিষয়ে ইন্টার মায়ামির কোচও কথা বলেছেন। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগত দুঃসময় সত্ত্বেও মেসি দলের সঙ্গে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে গোল যেন সেই প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত।

একজন ফুটবলারের কেরিয়ারে গোলের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু গোল সংখ্যার থেকেও অনেক বড় হয়ে ওঠে।

এই গোল সম্ভবত মেসির কাছে তেমনই একটি গোল।

১০০০ গোল ছোঁয়া কতটা সম্ভব?

৯২২ থেকে ১০০০—কাগজে কলমে পার্থক্য ৭৮।

কিন্তু একজন ৩৯ বছর বয়সি ফুটবলারের কাছে ৭৮ গোল মানে একাধিক মরসুমের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।

ধরা যাক, মেসি প্রতি মরসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ গোল করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আরও প্রায় তিনটি পূর্ণ মরসুম প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে তিনি যদি ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে দেন বা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে লক্ষ্যটি আরও কঠিন হয়ে যাবে।

আবার ফুটবলের ইতিহাসে মেসি বারবার এমন কাজ করেছেন যা একসময় অসম্ভব মনে হয়েছিল।

তাই তাঁর ক্ষেত্রে আগাম কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

একটি বিষয় পরিষ্কার—যতদিন তিনি খেলবেন, তাঁর প্রতিটি গোলের সঙ্গে ১০০০-এর কাউন্টডাউন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

৯২৩, ৯২৪, ৯২৫… এভাবেই হয়তো একদিন ফুটবলবিশ্ব অপেক্ষা করবে ৯৯৯-এর পর সেই ঐতিহাসিক একটি গোলের জন্য।

MLS-এর জন্যও মেসি এখনও সবচেয়ে বড় আকর্ষণ

ইন্টার মায়ামিতে মেসির আগমনের পর থেকেই মার্কিন ফুটবলের জনপ্রিয়তা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, দর্শক আগ্রহ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর এবং MLS-এর বিশ্বব্যাপী পরিচিতি—সব ক্ষেত্রেই মেসির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

আর তিনি যখন নিয়মিত গোল করছেন এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন, তখন সেই আগ্রহ আরও বাড়ছে।

অনেক কিংবদন্তি ফুটবলার কেরিয়ারের শেষ দিকে অপেক্ষাকৃত কম প্রতিযোগিতামূলক ভূমিকায় চলে যান। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে এখনও প্রতিটি ম্যাচেই ফলাফলের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে এক গোল এবং এক অ্যাসিস্ট তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।

Golden Boot-এর লড়াই আরও জমবে

MLS-এর চলতি মরসুমে গোল্ডেন বুটের দৌড়ও বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

Petar Musa দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। অন্যদিকে মেসিও তাঁর খুব কাছাকাছি থেকে চাপ তৈরি করছেন। MLS-এর নিজস্ব প্রতিবেদনে মুসার গোলস্কোরিং ফর্মকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মরসুমের বাকি ম্যাচগুলিতে তাই শুধু ইন্টার মায়ামির ফলাফল নয়, মেসির ব্যক্তিগত গোলসংখ্যার উপরেও নজর থাকবে।

তিনি কি গোল্ডেন বুট জিততে পারবেন?

নাকি মুসা ব্যবধান বাড়িয়ে দেবেন?

এই লড়াই MLS-এর বাকি মরসুমে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করবে।

মেসির সামনে এখন কী?

এই মুহূর্তে মেসির সামনে একসঙ্গে কয়েকটি লক্ষ্য।

প্রথমত, ইন্টার মায়ামিকে আরও ভাল অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।

দ্বিতীয়ত, নিজের ফিটনেস ধরে রাখা।

তৃতীয়ত, MLS Golden Boot-এর লড়াইয়ে থাকা।

আর সবকিছুর উপরে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে তাঁর কেরিয়ারের গোলসংখ্যার দিকে।

৯২২ ইতিমধ্যেই অবিশ্বাস্য একটি সংখ্যা।

৯৫০ পেরোতে পারলে হাজার গোলের আলোচনা আরও বাস্তব হয়ে উঠবে। আর যদি একদিন ১০০০ ছুঁতে পারেন, তাহলে তাঁর কিংবদন্তি কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ে যুক্ত হবে আরও একটি বিরল ইতিহাস।

সংখ্যার চেয়েও বড় এই গোল

ফিলাডেলফিয়ার বিরুদ্ধে মেসির গোলকে কেবল তাঁর ৯২২তম গোল হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা যাবে না।

একদিকে ব্যক্তিগত শোক।

অন্যদিকে পেশাদার ফুটবলের চাপ।

তার সঙ্গে বয়স, প্রত্যাশা এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হওয়ার ভার।

সবকিছুর মধ্যেও তিনি মাঠে ফিরেছেন, গোল করেছেন এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বাবা জর্জ মেসির মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে করা এই গোল তাই মেসির কেরিয়ারের আবেগঘন মুহূর্তগুলির একটি হয়ে থাকতে পারে।

শেষ কথা

লিওনেল মেসির কেরিয়ারে ট্রফি, রেকর্ড, ব্যক্তিগত পুরস্কার বা ঐতিহাসিক মুহূর্তের অভাব নেই। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, প্রতিটি নতুন গোল যেন আরও মূল্যবান হয়ে উঠছে।

ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গোল করে তিনি পৌঁছে গেলেন ৯২২-এ

১০০০ থেকে দূরত্ব এখন ৭৮ গোল

চলতি MLS মরসুমেও তাঁর গোলের সংখ্যা বাড়ছে এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি রয়েছেন সামনের সারিতে।

কিন্তু এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প হয়তো রেকর্ড নয়।

সবচেয়ে বড় গল্প—বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়েও আবার মাঠে ফিরে গোল করা।

গোলের পর সতীর্থদের আলিঙ্গনের মধ্যে আবেগ ধরে রাখতে চেষ্টা করা।

আর সেই মুহূর্তেই যেন আরও একবার বোঝানো—সময় যতই এগোক, ফুটবলের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক এখনও একই রকম গভীর।

এখন ফুটবলবিশ্বের অপেক্ষা—৯২২-এর পর কতদূর যাবেন লিওনেল মেসি?

১০০০ কি সত্যিই সম্ভব?

উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। তবে মেসির অতীত আমাদের অন্তত এটুকু শিখিয়েছে—তাঁর ক্ষেত্রে কোনও মাইলফলককে খুব তাড়াতাড়ি অসম্ভব বলে দেওয়া ঠিক নয়।

Preview image