Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টেস্ট দলে কি আর ফিরবেন না মহম্মদ সামি? ভারতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এল বড় আপডেট

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করা এবং নিজের ফিটনেস নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দাবি জানালেও ভারতীয় টেস্ট দলের পরিকল্পনায় মহম্মদ সামিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফলে তাঁর ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

৩৭ উইকেট নিয়েও টেস্ট দলে নেই মহম্মদ সামি! ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে কি বাদ অভিজ্ঞ পেসার?

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের ভারতীয় দল ঘোষণা করেছে ভারতের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা BCCI। নতুন সিরিজের জন্য ঘোষিত এই দলকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে একটি নামের অনুপস্থিতি নিয়ে। সেই নাম মহম্মদ সামি। দীর্ঘদিন ভারতীয় দলের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ এই ডানহাতি পেসারকে শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলে জায়গা দেওয়া হয়নি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স, দীর্ঘ স্পেল বল করার সক্ষমতা এবং নিজের ফিটনেস সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী দাবি—সবকিছুর পরও সামিকে উপেক্ষা করায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত কি শুধুই একটি নির্দিষ্ট সিরিজকে কেন্দ্র করে? নাকি ভারতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকেই ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিজ্ঞ পেসারকে?

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় নির্বাচকরা এখন তরুণ পেসারদের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন। পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র এবং ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুনভাবে পেস বিভাগ সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হতে পারে জশপ্রীত বুমরাকে। তাঁর সঙ্গে একাধিক তরুণ পেসারকে তৈরি করার লক্ষ্যেই সামির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে আপাতত নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত এত সহজে মেনে নিতে পারছেন না সামির সমর্থকরা। তাঁদের প্রশ্ন, ঘরোয়া ক্রিকেটে একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক পেসার যদি ৩৭টি উইকেট নিয়েও জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ না পান, তবে নির্বাচনের প্রকৃত মানদণ্ড কী? শুধু বয়স এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাই কি নির্বাচনের ভিত্তি হবে, নাকি বর্তমান পারফরম্যান্সকেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে?

শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলে নেই সামি

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাব, বিদেশের মাটিতে দলের ভারসাম্য এবং নতুন ক্রিকেটারদের পরীক্ষা—সব দিক থেকেই এই সিরিজের গুরুত্ব রয়েছে। তাই দল ঘোষণার সময় অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

কিন্তু ১৫ সদস্যের দলে মহম্মদ সামির নাম না থাকায় নির্বাচকদের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সামি শুধুমাত্র একজন অভিজ্ঞ পেসার নন, তিনি বহু বছর ধরে ভারতের টেস্ট বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দেশে এবং বিদেশে নতুন বল হাতে উইকেট তোলা, পুরনো বলে রিভার্স সুইং করানো এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের মাঝের সারিতে চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বহুবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শ্রীলঙ্কার পিচ সাধারণত স্পিন সহায়ক হলেও নতুন বলে দক্ষ পেসারের গুরুত্ব সেখানে অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে উইকেট তুলে নেওয়া এবং পুরনো বল দিয়ে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলার ক্ষমতা সামির রয়েছে। তাই তাঁর অনুপস্থিতিকে শুধুমাত্র পিচ বা দলের সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন না অনেক বিশেষজ্ঞ।

বরং দলের ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং নির্বাচকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে বলেই জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ৩৭ উইকেট নিয়েও সুযোগ নেই

জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর মহম্মদ সামির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স প্রমাণ করা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যান। রঞ্জি ট্রফিতে নিয়মিত ম্যাচ খেলেন এবং বল হাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘরোয়া মরসুমে সামি মোট ৩৭টি উইকেট নিয়েছেন। শুধু উইকেটের সংখ্যাই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করে তিনি নিজের ম্যাচ ফিটনেসও প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। একজন পেসারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ স্পেল বল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে দিনে একাধিক স্পেলে বল করতে হয় এবং কখনও কখনও টানা বেশ কয়েক ওভার আক্রমণ ধরে রাখতে হয়।

সামির ঘরোয়া পারফরম্যান্সের পর মনে করা হয়েছিল, তাঁকে অন্তত শ্রীলঙ্কা সফরের টেস্ট দলে বিবেচনা করা হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও নির্বাচনের পক্ষে কথা বলছিল। কিন্তু নির্বাচকরা শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে রাখেননি।

এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের জন্য একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে আর ঠিক কী করতে হবে? ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলা এবং ফিটনেস প্রমাণ করার পরও যদি সুযোগ না আসে, তবে ক্রিকেটারদের কাছে কী বার্তা যাচ্ছে?

অবশ্য নির্বাচকদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে। তাঁরা হয়তো শুধুমাত্র উইকেটের সংখ্যা দেখছেন না। সামির বয়স, চোটের ইতিহাস, ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা এবং দলের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন—সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

তবুও ৩৭ উইকেট নেওয়া একজন অভিজ্ঞ পেসারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থামছে না।

news image
আরও খবর

নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কি নেই সামি?

স্পোর্টস্টারের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আর মহম্মদ সামির নাম নেই। যদিও BCCI বা নির্বাচক কমিটির পক্ষ থেকে সরাসরি এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক দল নির্বাচন সেই জল্পনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সামিকে যদি শুধুমাত্র বিশ্রাম দেওয়া হতো অথবা তাঁর ফিটনেস নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট উদ্বেগ থাকত, তবে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যেত। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ম্যাচ খেলার পরও তাঁর সুযোগ না পাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নির্বাচকরা হয়তো অন্য পথে এগোতে চাইছেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে অতীতেও দেখা গিয়েছে, বড় প্রতিযোগিতা বা নতুন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের আগে নির্বাচকরা ধীরে ধীরে দল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী দল তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।

সামির ক্ষেত্রেও কি একই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে? তাঁর পরিবর্তে কম বয়সি পেসারদের বেশি সুযোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি করতে চাইছেন নির্বাচকরা? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলে তাঁর অনুপস্থিতি ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে সামির বয়স এবং সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাস নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। একজন পেস বোলারের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্কলোড পরিচালনা কঠিন হয়ে ওঠে। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ স্পেল, এক দিনের ক্রিকেটের চাপ এবং একাধিক সিরিজের ব্যস্ত সূচি সামলানোও সহজ নয়।

তাই নির্বাচকরা হয়তো এমন পেসারদের দিকে তাকাচ্ছেন, যাঁরা আগামী চার-পাঁচ বছর নিয়মিতভাবে সব ধরনের ক্রিকেটে দলকে পরিষেবা দিতে পারবেন।

তরুণ পেসারদের উপর ভরসা রাখতে চাইছে ভারত

ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমানে একাধিক প্রতিভাবান তরুণ পেসার উঠে আসছেন। ঘরোয়া ক্রিকেট, ভারত ‘এ’ দল এবং IPL-এর মতো প্রতিযোগিতায় তাঁরা নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। নির্বাচকদের লক্ষ্য হতে পারে এই পেসারদের পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়া।

নতুন পেসারদের তৈরি করতে হলে তাঁদের নিয়মিত ম্যাচ খেলাতে হবে। শুধু দলে রেখে নয়, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজেও সুযোগ দিতে হবে। সেই কারণেই হয়তো নির্বাচকরা অভিজ্ঞদের পরিবর্তে তরুণদের বেছে নিচ্ছেন।

তবে তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি দলের পেস আক্রমণে তারুণ্যের পাশাপাশি অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে কঠিন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ বোলাররা তরুণদের পথ দেখাতে পারেন।

সামির মতো একজন বোলার নতুন বলের ব্যবহার, সিম পজিশন, রিভার্স সুইং এবং ব্যাটারের দুর্বলতা বুঝে বল করার ক্ষেত্রে তরুণদের সাহায্য করতে পারতেন। তাই তাঁকে অন্তত নির্দিষ্ট সিরিজে বা পরিবর্ত ক্রিকেটার হিসেবে রাখা যেত কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

ভারতীয় নির্বাচকরা অবশ্য হয়তো মনে করছেন, দলের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া যত দ্রুত শুরু করা যাবে, ততই ভবিষ্যতের জন্য ভালো হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণ পেসারদের ভুল করার সুযোগ দিতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে তাঁদের তৈরি করতে হবে।

২০২৭ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই কি সিদ্ধান্ত?

আগামী দিনের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ একটি বড় লক্ষ্য হতে পারে। যদিও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঘোষিত দলটি টেস্ট সিরিজের জন্য, তবুও ভারতীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিকল্পনায় বিশ্বকাপের প্রভাব থাকা স্বাভাবিক।

এক দিনের বিশ্বকাপের জন্য পেস বোলারদের একটি নির্দিষ্ট দল আগে থেকেই তৈরি করতে হয়। তাঁদের ফিটনেস, ওয়ার্কলোড এবং বিভিন্ন পরিবেশে বল করার দক্ষতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নির্বাচকরা যদি মনে করেন যে সামিকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে তাঁরা এখন থেকেই বিকল্প পেসারদের তৈরি করতে চাইবেন।

 

 

Preview image