Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

নানারূপে দেবীর মহিমা, মহালয়ায় জি বাংলায় ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’; মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অঙ্কিতা

অশুভকে বিনাশ করে শুভের প্রতিষ্ঠা—দেবীর সেই চিরন্তন মহিমাই এবার ফুটে উঠবে জি বাংলার মহালয়া বিশেষ নিবেদন ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-তে। মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অঙ্কিতা মল্লিক, মহাদেবের চরিত্রে রুবেল দাস। রাম-সীতার ভূমিকায় অভিষেক বসু ও ইশা সাহা। পাশাপাশি পার্বতী, স্কন্দমাতা ও ভদ্রকালীর বিভিন্ন রূপে থাকছেন শ্বেতা ভট্টাচার্য, পল্লবী শর্মা ও আরাত্রিকা মাইতি। মহিষাসুরের চরিত্রে দেখা যাবে নাইজেলকে।

নানারূপে দেবীর মহিমা, মহালয়ায় জি বাংলায় ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’; মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অঙ্কিতা
বিনোদন

অশুভের বিনাশ করে শুভের প্রতিষ্ঠা—দেবীর মহিমার এই চিরন্তন বার্তাই ভারতীয় সংস্কৃতি ও পুরাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কখনও তিনি শক্তিস্বরূপিনী, কখনও তিনি ভক্তের আশ্রয়, আবার কখনও অসুরনাশিনী রূপে পৃথিবীকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেন। দেবীর সেই বহুরূপী মহিমাকেই এবার ছোটপর্দায় নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরতে চলেছে জি বাংলা। মহালয়া উপলক্ষে চ্যানেলের বিশেষ নিবেদন ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে দর্শকদের আগ্রহ।

মহালয়া মানেই বাঙালির কাছে অন্যরকম আবেগ। ভোরের অন্ধকার কাটিয়ে যখন আকাশে আলো ফুটতে শুরু করে, তখন চারদিকে বেজে ওঠে দেবীপক্ষের আহ্বান। মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্র, শঙ্খধ্বনি, চণ্ডীপাঠ এবং দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষা—সব মিলিয়ে মহালয়া যেন বাঙালির দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করে।

এই বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল দর্শকদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান ও মহালয়া নিবেদন নিয়ে হাজির হয়। সেই ধারাতেই এবার জি বাংলার পর্দায় আসছে ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’। দেবীর বিভিন্ন রূপ, তাঁর শক্তি, অশুভের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই এবং শুভ প্রতিষ্ঠার বার্তাকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে এই বিশেষ নিবেদন।

এই আয়োজনে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই তারকাখচিত কাস্ট। মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন অঙ্কিতা মল্লিক। মহাদেবের চরিত্রে থাকছেন রুবেল দাস। রাম ও সীতার ভূমিকায় দেখা যাবে অভিষেক বসু এবং ইশা সাহাকে। পাশাপাশি দেবীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রূপে দর্শকদের সামনে আসবেন একাধিক পরিচিত মুখ।

পার্বতীরূপে থাকছেন শ্বেতা ভট্টাচার্য। স্কন্দমাতা হিসাবে দেখা যাবে পল্লবী শর্মাকে। অন্যদিকে ভদ্রকালীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন আরাত্রিকা মাইতি। আর অশুভ শক্তির অন্যতম প্রতীক মহিষাসুরের চরিত্রে দেখা যাবে নাইজেলকে।

অর্থাৎ, দেবীর নানা রূপ ও পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ আয়োজন।


দেবীর নানা রূপ, একটাই শক্তি

দেবীকে একক কোনও রূপে সীমাবদ্ধ করা যায় না। হিন্দু পুরাণ ও শাক্ত ভাবনায় তিনি একই সঙ্গে সৃষ্টি, শক্তি, রক্ষা এবং সংহারের প্রতীক। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর রূপ পরিবর্তিত হয়। কখনও তিনি কোমল, মমতাময়ী; কখনও ভয়ংকর; কখনও আবার অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যোদ্ধা।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-র ভাবনাতেও উঠে আসছে সেই বহুরূপী দেবীসত্তা।

দেবীর তৃতীয় নয়ন শুধু একটি পৌরাণিক বৈশিষ্ট্য নয়, এটি শক্তি, জ্ঞান এবং অশুভকে চিহ্নিত করার প্রতীক হিসাবেও বিবেচিত হয়। দেবীর ত্রিনয়নী রূপ তাই শুধু সৌন্দর্যের নয়, শক্তিরও প্রতীক।

অশুভ যখন সমাজ ও পৃথিবীকে গ্রাস করতে চায়, তখন শুভশক্তির প্রয়োজন হয়। সেই শুভশক্তির প্রতীক হিসাবেই দেবীর আবির্ভাব ঘটে। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধ সেই চিরন্তন শুভ-অশুভের সংঘাতের অন্যতম পরিচিত কাহিনি।

জি বাংলার এই বিশেষ নিবেদনে সেই কাহিনিই নতুনভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।


মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অঙ্কিতা মল্লিক

এই বিশেষ আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ অঙ্কিতা মল্লিক। মহিষাসুরমর্দিনীর চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে।

মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেবী দুর্গা হলেন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভের চূড়ান্ত প্রতিরোধের প্রতীক। মহিষাসুরের অত্যাচারে যখন দেবতা ও সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত, তখন দেবীর আবির্ভাব এবং তাঁর সঙ্গে অসুরের যুদ্ধ পুরাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য অভিনেত্রীর সামনে থাকে একদিকে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে দেবীর চরিত্রের মর্যাদা বজায় রাখার দায়িত্ব।

দেবীর চরিত্রকে শুধু শক্তিশালী দেখালেই হয় না। তাঁর মধ্যে একই সঙ্গে থাকতে হয় মমতা, স্থিরতা, সাহস এবং ভয়ংকর শক্তির প্রকাশ। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দৃশ্যে সেই শক্তির প্রকাশ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দেবীর অন্যান্য রূপে তাঁর শান্ত ও মাতৃসুলভ দিকও তুলে ধরা জরুরি।

অঙ্কিতা মল্লিককে মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় নির্বাচন তাই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।


মহাদেবের ভূমিকায় রুবেল দাস

দেবীর কাহিনিতে মহাদেবের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিব ও শক্তির সম্পর্ক ভারতীয় পুরাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা। শক্তি ছাড়া শিব যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনই শিব ও শক্তির সম্পর্ককে ঘিরে রয়েছে বহু পৌরাণিক কাহিনি।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-তে মহাদেবের চরিত্রে দেখা যাবে রুবেল দাসকে।

মহাদেবের চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে যেমন গাম্ভীর্য প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন এক ধরনের আধ্যাত্মিক উপস্থিতি। তাঁর সঙ্গে দেবীর সম্পর্ক, পার্বতীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং পুরাণের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে তাঁর ভূমিকা—সবকিছু মিলিয়ে এই চরিত্র বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

রুবেল দাসের অভিনয়ে সেই চরিত্র দর্শকদের সামনে কীভাবে ফুটে ওঠে, তা এই বিশেষ নিবেদনের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে।


রাম ও সীতার চরিত্রেও পরিচিত মুখ

শুধু দুর্গা ও মহিষাসুরের কাহিনির মধ্যে এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। দেবীর বহুরূপী মহিমার সঙ্গে পুরাণের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে যুক্ত করা হয়েছে।

রামের ভূমিকায় থাকছেন অভিষেক বসু, আর সীতার চরিত্রে দেখা যাবে ইশা সাহাকে।

রাম ও সীতার কাহিনি ভারতীয় পুরাণ ও সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত অধ্যায়। তাঁদের চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্ম, ন্যায়, কর্তব্য, ত্যাগ এবং আদর্শের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা।

অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়—এই বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গে রাম-সীতার কাহিনিরও একটি যোগ রয়েছে। তাই দেবীর নানা রূপের সঙ্গে এই চরিত্রগুলির উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও বিস্তৃত পৌরাণিক পরিসর দিচ্ছে।


পার্বতীরূপে শ্বেতা ভট্টাচার্য

দেবীর শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলেন পার্বতী। মহাদেবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, তাঁর তপস্যা, তাঁর মাতৃসত্তা এবং বিভিন্ন পৌরাণিক রূপ ভারতীয় পুরাণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-তে পার্বতীরূপে অভিনয় করছেন শ্বেতা ভট্টাচার্য।

পার্বতী চরিত্রের মধ্যে দেবীর কোমল ও মমতাময়ী সত্তার পাশাপাশি রয়েছে অদম্য শক্তি। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই শক্তিই আবার অন্য রূপ ধারণ করে।

তাই পার্বতীর চরিত্রকে কেবল একজন নারী চরিত্র হিসেবে দেখলে এর পূর্ণতা ধরা পড়ে না। তিনি একই সঙ্গে স্ত্রী, মা এবং শক্তির প্রতীক।

শ্বেতা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এই চরিত্রটি অনুষ্ঠানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করছে।


স্কন্দমাতার ভূমিকায় পল্লবী শর্মা

দেবীর বিভিন্ন রূপের মধ্যে স্কন্দমাতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নাম থেকেই বোঝা যায়, এই রূপের সঙ্গে মাতৃত্বের সম্পর্ক গভীর।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-তে স্কন্দমাতার ভূমিকায় অভিনয় করছেন পল্লবী শর্মা।

দেবীর এই রূপে মাতৃত্ব ও শক্তি একই সঙ্গে প্রকাশ পায়। সন্তানকে আগলে রাখার মমতা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতা।

দেবীর বহুরূপী চরিত্রকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে স্কন্দমাতার উপস্থিতি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ভদ্রকালীর রূপে আরাত্রিকা মাইতি

দেবীর আরও এক গুরুত্বপূর্ণ রূপ ভদ্রকালী। নামের মধ্যেই রয়েছে শুভ ও শক্তির ভাবনা। দেবীর বিভিন্ন রূপের মধ্যে কালীসত্তা সাধারণত শক্তি, সংহার এবং অশুভের বিনাশের সঙ্গে যুক্ত।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-তে ভদ্রকালীর ভূমিকায় থাকছেন আরাত্রিকা মাইতি।

এই চরিত্রের মাধ্যমে দেবীর শক্তির অন্য একটি দিক সামনে আসবে। দেবী শুধু মমতাময়ী মা নন; প্রয়োজনে তিনি অশুভের বিরুদ্ধে কঠোরতম রূপ ধারণ করতে পারেন।

ভদ্রকালীর চরিত্র সেই শক্তিরই প্রতিফলন।


মহিষাসুরের ভূমিকায় নাইজেল

শুভ ও অশুভের সংঘাতের গল্পে অশুভ শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে মহিষাসুর। দেবীর সঙ্গে তাঁর যুদ্ধই মহিষাসুরমর্দিনী কাহিনির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

এই বিশেষ আয়োজনে মহিষাসুরের ভূমিকায় দেখা যাবে নাইজেলকে।

মহিষাসুর চরিত্রটি অভিনয়ের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেবীর শক্তিকে বোঝানোর জন্য তাঁর বিপরীতে অশুভ শক্তির উপস্থিতিও যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

মহিষাসুরের অহংকার, ক্ষমতার লালসা এবং অশুভ শক্তির প্রতীকী উপস্থিতির বিপরীতে দেবীর শক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই দ্বন্দ্বই অনুষ্ঠানের অন্যতম নাটকীয় অংশ হতে পারে।


মহালয়া ও বাঙালির আবেগ

বাঙালির কাছে মহালয়া শুধু ক্যালেন্ডারের একটি দিন নয়। এটি দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা।

শরতের আকাশ, কাশফুল, শিউলির গন্ধ আর ভোরের মহিষাসুরমর্দিনীর আবৃত্তি—এই সবকিছু মিলিয়ে মহালয়ার সঙ্গে বাঙালির আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই বহু মানুষ মহালয়ার সকালে দেবীর আগমনী শুনে আসছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ঐতিহ্য চলে এসেছে।

বর্তমানে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যম সেই আবেগকে নতুনভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। বিভিন্ন চ্যানেল নিজেদের মতো করে দেবীর কাহিনি এবং মহিষাসুরমর্দিনীর গল্পকে তুলে ধরছে।

জি বাংলার ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ সেই ধারারই একটি বিশেষ আয়োজন।


কেন আলাদা ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’?

এই বিশেষ নিবেদনের নামের মধ্যেই রয়েছে অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা।

‘অশুভনাশিনী’ অর্থাৎ যিনি অশুভের বিনাশ করেন। আর ‘ত্রিনয়নী’ দেবীর এক বিশেষ শক্তিময় পরিচয়।

দুটি শব্দ মিলিয়ে তৈরি নামটি সরাসরি ইঙ্গিত দেয় দেবীর শক্তি ও অশুভবিনাশী রূপের দিকে।

তবে অনুষ্ঠানটি কেবল একটি পৌরাণিক যুদ্ধের গল্প নয়। এর মধ্যে দেবীর নানা রূপকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।

একদিকে মহিষাসুরমর্দিনী, অন্যদিকে পার্বতী, স্কন্দমাতা এবং ভদ্রকালী—দেবীর একাধিক রূপের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে তাঁর বহুমাত্রিক সত্তা।


দেবী কখনও মা, কখনও শক্তি

দেবীর চরিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল তাঁর বহুরূপী সত্তা।

ভক্ত যখন তাঁকে মা হিসেবে ডাকেন, তিনি মমতাময়ী। যখন পৃথিবী অশুভ শক্তির কবলে পড়ে, তখন তিনি হয়ে ওঠেন শক্তিস্বরূপিনী। আবার সন্তানকে রক্ষা করতে তিনি ধারণ করেন মাতৃরূপ।

এই বহুমাত্রিকতা দেবীকে শুধু একটি পৌরাণিক চরিত্রের মধ্যে আটকে রাখে না। তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বাসের প্রতীক।

বাঙালির দুর্গাপুজোতেও দেবীকে কন্যা ও মা—দুই ভাবেই দেখা হয়। একদিকে তিনি কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসা উমা, অন্যদিকে তিনি মহিষাসুরমর্দিনী।

এই দুই সত্তার মিলনই দুর্গাপুজোর আবেগকে আরও গভীর করে।


অশুভের বিরুদ্ধে শুভের লড়াই

দেবীর কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে শুভ ও অশুভের সংঘাত।

মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর যুদ্ধ আসলে শুধু একজন অসুর ও একজন দেবীর যুদ্ধ নয়। এটি ন্যায় ও অন্যায়, সত্য ও মিথ্যা, শুভ ও অশুভের প্রতীকী লড়াই।

অশুভ যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত শুভের জয় হবে—এই বিশ্বাসই দেবীর কাহিনির অন্যতম প্রধান বার্তা।

মহালয়ার সময় সেই বার্তাই নতুন করে সামনে আসে।

দেবীপক্ষের সূচনা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, অন্ধকারের পর আলো আসে। অন্যায়ের পর ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। অশুভের পর শুভের জয় হয়।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ সেই ভাবনাকেই কেন্দ্র করে তৈরি।


তারকাখচিত আয়োজন

জি বাংলার এই বিশেষ নিবেদনে একাধিক পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীর উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

অঙ্কিতা মল্লিক থেকে রুবেল দাস, অভিষেক বসু থেকে ইশা সাহা, শ্বেতা ভট্টাচার্য থেকে পল্লবী শর্মা, আরাত্রিকা মাইতি থেকে নাইজেল—বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে পরিচিত মুখ।

news image
আরও খবর

প্রতিটি চরিত্রের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

মহিষাসুরমর্দিনীর চরিত্রে অঙ্কিতা দেবীর শক্তির প্রতীক হয়ে উঠবেন। রুবেল দাসের মহাদেব চরিত্র দেবী ও শিবের পৌরাণিক সম্পর্ককে সামনে আনবে। অভিষেক ও ইশার রাম-সীতা চরিত্র অনুষ্ঠানকে আরও বিস্তৃত পৌরাণিক পরিসর দেবে।

অন্যদিকে পার্বতী, স্কন্দমাতা এবং ভদ্রকালীর চরিত্র দেবীর বিভিন্ন দিককে তুলে ধরবে।


দেবীর রূপের সঙ্গে নারীর শক্তির বার্তা

দেবীর কাহিনির সঙ্গে নারীর শক্তির ধারণাও গভীরভাবে যুক্ত।

মহিষাসুরকে পরাজিত করার জন্য দেবীর আবির্ভাব আসলে এই বার্তাই দেয় যে শক্তির কোনও লিঙ্গভিত্তিক সীমা নেই। নারীই প্রয়োজনে অশুভের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হয়ে উঠতে পারেন।

দেবীর হাতে অস্ত্র, তাঁর তেজ, তাঁর সাহস এবং তাঁর নেতৃত্ব এই শক্তির প্রতীক।

আবার একই দেবী যখন সন্তানকে কোলে ধারণ করেন, তখন তাঁর মধ্যে দেখা যায় মায়ের মমতা।

এই বৈপরীত্যই দেবীর চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করে।


ছোটপর্দায় পুরাণের নতুন উপস্থাপনা

পুরাণভিত্তিক অনুষ্ঠান বরাবরই ভারতীয় টেলিভিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সময়ের সঙ্গে দর্শকদের চাহিদা বদলেছে। এখন দর্শক শুধু গল্প শুনতে চান না; তাঁরা গল্পকে দৃশ্যের মাধ্যমে দেখতে চান।

পোশাক, সেট, মেকআপ, আলো, অভিনয় এবং ভিএফএক্স—সব মিলিয়ে একটি পৌরাণিক জগত তৈরি করতে হয়।

বিশেষ করে দেবীর চরিত্রে দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। দেবীর আবির্ভাব, অস্ত্র ধারণ, অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ এবং বিভিন্ন রূপের দৃশ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য নির্মাতাদের সামনে থাকে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-তেও সেই প্রত্যাশা থাকবে।


মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

দুর্গাপুজোর আগে মহালয়ার অনুষ্ঠানগুলি কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি করে দেয়।

পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই দর্শকরা নতুন পোশাক, নতুন প্রতিমা, মণ্ডপ এবং আলোকসজ্জার অপেক্ষায় থাকেন। তার আগেই মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান তাঁদের মনে দেবীর আগমনের অনুভূতি তৈরি করে।

বিশেষ করে বাংলা টেলিভিশনে মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন চ্যানেলের আয়োজনকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ থাকে।

কে দেবীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন, কে মহাদেব, কে মহিষাসুর—এসব নিয়ে পুজোর আগেই শুরু হয় আলোচনা।

জি বাংলার এই বছরের নিবেদনও সেই প্রতিযোগিতার অংশ।


দর্শকদের প্রত্যাশা

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ ঘোষণার পর থেকেই দর্শকদের কৌতূহলের অন্যতম কারণ হল দেবীর নানা রূপ।

অঙ্কিতা মল্লিককে মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় কেমন দেখাবে, রুবেল দাসের মহাদেব চরিত্র কতটা মানানসই হবে, রাম-সীতার ভূমিকায় অভিষেক বসু ও ইশা সাহাকে কেমন লাগবে—এসব নিয়েই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

একইভাবে শ্বেতা ভট্টাচার্যের পার্বতী, পল্লবী শর্মার স্কন্দমাতা এবং আরাত্রিকা মাইতির ভদ্রকালী রূপও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।

নাইজেলের মহিষাসুর চরিত্রও গল্পের নাটকীয়তা বাড়াবে।


দেবীর আগমন, উৎসবের সূচনা

মহালয়া শেষ হলেই বাঙালির মন কার্যত পুজোর দিকে চলে যায়।

শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় শুরু হয় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে কাজ বাড়ে, প্রতিমায় শেষ রঙের প্রলেপ পড়ে, আলোকশিল্পীরা রাতদিন কাজ করেন, বাজারে বাড়ে কেনাকাটার ভিড়।

এই পুরো উৎসবের আবহের আগে মহালয়া যেন প্রথম বড় সংকেত।

আর সেই মহালয়ায় দেবীর কাহিনি নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান দর্শকদের আবেগকে আরও তীব্র করে।


অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী—নামের মধ্যেই বার্তা

অনুষ্ঠানের নামটি শুধু আকর্ষণীয় নয়, এর মধ্যে একটি বার্তাও রয়েছে।

অশুভ শক্তি যতই বড় হোক, তা চিরস্থায়ী নয়। শুভের শক্তি শেষ পর্যন্ত অশুভকে পরাজিত করে।

দেবীর তৃতীয় নয়ন সেই জাগ্রত চেতনার প্রতীক, যা অশুভকে চিনতে পারে এবং প্রয়োজন হলে তাকে ধ্বংস করতে পারে।

এই কারণেই ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ নামটি অনুষ্ঠানের ভাবনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


এক অনুষ্ঠানে দেবীর একাধিক রূপ

দেবীর নানা রূপকে একসঙ্গে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেবী যোদ্ধা।

পার্বতীরূপে তিনি মমতাময়ী।

স্কন্দমাতারূপে তিনি মা।

ভদ্রকালীরূপে তিনি শক্তি ও সংহারের প্রতীক।

এই সমস্ত রূপ আসলে একই শক্তির বিভিন্ন প্রকাশ।

একজন দর্শক যখন এই চরিত্রগুলি একসঙ্গে দেখবেন, তখন দেবীর বহুমাত্রিক সত্তার একটি বৃহত্তর ছবি তাঁর সামনে তৈরি হবে।


পুজোর আবেগের সঙ্গে টেলিভিশনের যোগ

বাঙালির পুজো এখন শুধু প্যান্ডেল বা ঠাকুরদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমও উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পুজোর আগে নতুন অনুষ্ঠান, মহালয়ার বিশেষ আয়োজন, ধারাবাহিকের বিশেষ পর্ব—সবকিছু নিয়েই দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ থাকে।

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ সেই আবেগকে কাজে লাগিয়ে দর্শকদের দেবীর কাহিনির সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।


অশুভের বিনাশ, শুভের প্রতিষ্ঠা

শেষ পর্যন্ত দেবীর সমস্ত কাহিনির মূল বার্তাটি একটাই—অন্যায় যতই শক্তিশালী হোক, তা চিরস্থায়ী নয়।

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রয়োজন সাহস, শক্তি এবং ন্যায়বোধ।

দেবী সেই শক্তির প্রতীক।

তাই মহিষাসুরমর্দিনীর কাহিনি শুধু একটি পুরাণের গল্প নয়। এটি এমন একটি বার্তা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মধ্যে সাহস ও আশার সঞ্চার করেছে।

মহালয়ার সময় সেই গল্পই আবার নতুন করে ফিরে আসে।


ছোটপর্দায় দেবীর মহিমা কতটা আকর্ষণ তৈরি করে, নজর সেদিকেই

দেবীর বিভিন্ন রূপকে কেন্দ্র করে সাজানো এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পৌরাণিক চরিত্রে দেখা যাওয়ায় অনুষ্ঠানটির প্রতি কৌতূহল আরও বেড়েছে।

অঙ্কিতা মল্লিকের মহিষাসুরমর্দিনী রূপ, রুবেল দাসের মহাদেব, অভিষেক বসুর রাম, ইশা সাহার সীতা, শ্বেতা ভট্টাচার্যের পার্বতী, পল্লবী শর্মার স্কন্দমাতা, আরাত্রিকা মাইতির ভদ্রকালী এবং নাইজেলের মহিষাসুর—প্রতিটি চরিত্রই আলাদা করে দর্শকদের নজর কাড়তে পারে।


মহালয়ার সকাল থেকে পুজোর আবহ

মহালয়ার সকাল থেকেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় দেবীপক্ষের অনুভূতি। অনেকের কাছে এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শৈশবের স্মৃতি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা, তারপর পুজোর কেনাকাটা, মণ্ডপের কাজ দেখতে যাওয়া—সব মিলিয়ে মহালয়া যেন পুজোর প্রথম অধ্যায়।

এবার সেই আবহে জি বাংলার বিশেষ নিবেদন ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ যোগ করতে চলেছে নতুন মাত্রা।

দেবীর নানা রূপের গল্প, পুরাণের পরিচিত চরিত্র এবং পরিচিত মুখের অভিনয়—সব মিলিয়ে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা যথেষ্ট।


দেবী শুধু প্রতিমায় নন, গল্পেও

দুর্গাপুজোয় আমরা দেবীকে প্রতিমার মধ্যে দেখি। কিন্তু দেবীর মাহাত্ম্য শুধু প্রতিমায় সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য গল্প, পুরাণ, বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি।

দেবীর প্রতিটি রূপ একটি করে বার্তা বহন করে।

মহিষাসুরমর্দিনী আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।

পার্বতী শেখান ধৈর্য ও তপস্যার কথা।

স্কন্দমাতা তুলে ধরেন মাতৃত্বের শক্তি।

ভদ্রকালী প্রকাশ করেন অশুভের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ।

এই সবকটি রূপ মিলেই দেবীর পূর্ণতা।


মহালয়ার বিশেষ নিবেদনে সেই গল্পই

‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’ সেই নানা রূপের গল্পকে কেন্দ্র করেই তৈরি। ফলে এটি শুধু একটি চরিত্রকে ঘিরে তৈরি অনুষ্ঠান নয়; বরং দেবীর বহুরূপী সত্তার একটি বিস্তৃত উপস্থাপনা।

দর্শক এখানে দেবীকে একাধিক রূপে দেখতে পাবেন। পাশাপাশি পুরাণের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রও থাকবে।

এই কারণে অনুষ্ঠানটির কাহিনি এবং চরিত্র বিন্যাস দুটিই দর্শকদের জন্য আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।


শেষ কথা

দুর্গাপুজোর আগে মহালয়া মানেই দেবীর আগমনের অপেক্ষা। আর সেই বিশেষ সময়েই জি বাংলার পর্দায় আসছে ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’।

অশুভকে বিনাশ করে শুভের প্রতিষ্ঠা—দেবীর এই চিরন্তন বার্তাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে বিশেষ আয়োজন। মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অঙ্কিতা মল্লিক, মহাদেবের ভূমিকায় রুবেল দাস, রাম ও সীতার ভূমিকায় অভিষেক বসু ও ইশা সাহা থাকছেন।

পাশাপাশি পার্বতীরূপে শ্বেতা ভট্টাচার্য, স্কন্দমাতা হিসাবে পল্লবী শর্মা এবং ভদ্রকালীর ভূমিকায় আরাত্রিকা মাইতি দর্শকদের সামনে আসবেন। মহিষাসুরের চরিত্রে দেখা যাবে নাইজেলকে।

দেবীর একাধিক রূপ, পুরাণের বিভিন্ন কাহিনি এবং পরিচিত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়—সব মিলিয়ে মহালয়ার এই বিশেষ নিবেদনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।

বাঙালির কাছে মহালয়া শুধু দেবীপক্ষের সূচনা নয়, এটি আবেগেরও নাম। আর সেই আবেগকে পর্দায় আরও একবার জাগিয়ে তুলতেই আসছে ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’।

অশুভের বিনাশ হবে, শুভের প্রতিষ্ঠা হবে—দেবীর সেই চিরন্তন শক্তির কাহিনিই এবার নতুন রূপে দেখবেন দর্শক।

Preview image