Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভেন্টিলেশনে বাবা বোনকে সঙ্গে নিয়ে সকাল সকাল হাসপাতালে পৌঁছলেন সলমন খান

মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে অবস্থার অবনতি সেলিম খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর উদ্বিগ্ন সলমন খানকে বাইরে দেখা যায়

শোক আর দুশ্চিন্তায় ক্রমশ ভারী হয়ে উঠেছে বলিউডের আবহ। পরিবারের পাশাপাশি গোটা ইন্ডাস্ট্রির নজর এখন হাসপাতালের দিকেই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সেলিম খান। সূত্রের খবর আপাতত তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল নিরন্তর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তাঁকে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে বলে জানা যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে মুম্বইয়ের নামী চিকিৎসাকেন্দ্র লীলাবতী হাসপাতাল এ নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁকে ভর্তি করে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করেন।

চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে যে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং সেখান থেকেই এই সঙ্কটজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বয়সজনিত ঝুঁকিও এক বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে একাধিক বিভাগকে যুক্ত করে সমন্বিত চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।

এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর দিনভর হাসপাতালের বাইরে চিন্তিত মুখে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে সলমন খানকে। তাঁর সঙ্গে ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা। বারবার তিনি হাসপাতালের ভেতরে বাইরে যাতায়াত করেছেন। কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মুখে ক্লান্তি আর উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট ছিল। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই মুহূর্তগুলি যা দেখে অনুরাগীদের মন আরও ভারী হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে লীলাবতী হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা যায় সলমন খানকে। রাতের নীরবতার মধ্যেই অভিনেতা তাঁর গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই পাপারাজ্জিরা গাড়ির চারপাশে জড়ো হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। তবে সেই পরিস্থিতিতেও সলমন খানকে সম্পূর্ণ শান্ত এবং সংযত থাকতে দেখা গিয়েছে। যদিও তাঁর মুখভঙ্গিতে স্পষ্ট ছিল গভীর দুশ্চিন্তা এবং সামান্য বিরক্তির ছাপ। গাড়ির ভিতরে বসে তিনি চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ নীরবে বসে ছিলেন। অনেকের মতে সেই মুহূর্তে তিনি নীরবে প্রার্থনাই করছিলেন।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায় যে ডা জলিল পার্কারের অধীনে সেলিম খানকে লীলাবতী হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের পারিবারিক ডাক্তার সন্দীপ চোপড়া প্রথমে তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত একাধিক বিশেষজ্ঞকে ডাকা হয়। নিউরোলজিস্ট ডা বিনয় চবন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা অজিত মেনন নিউরোসার্জন ডা নীতিন ডাঙ্গে এবং ডা বিনীত আহলুওয়ালিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রতিটি মুহূর্তে সেলিম খানের শারীরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বলিউডের বহু তারকা এই খবরে ছুটে এসেছেন হাসপাতালে। সেলিম খান দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত একজন সম্মানিত মানুষ। তাঁর অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার ও কবি জাভেদ আখতার। এছাড়াও সলমনের ঘনিষ্ঠ ও আলোচিত বন্ধু ইউলিয়া ভন্তুরকেও হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। একের পর এক পরিচিত মুখের উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয় সেলিম খানের প্রতি ইন্ডাস্ট্রির কতটা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে।

সেলিম খান শুধুমাত্র একজন তারকার বাবা নন তিনি নিজেই বলিউডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু জনপ্রিয় ছবির সঙ্গে যুক্ত তাঁর নাম। তাঁর লেখনী ও চিন্তাধারা এক সময় হিন্দি ছবির ধারাকে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। তাই তাঁর অসুস্থতার খবর শুধু একটি পরিবারের দুঃখ নয় বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্যই এক গভীর উদ্বেগের বিষয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে যে আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বয়সজনিত জটিলতা এবং মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তাঁরা আশাবাদী যে সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

এই কঠিন সময়ে সলমন খান বারবার তাঁর বাবার পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। কাজের সব ব্যস্ততা আপাতত তিনি স্থগিত রেখেছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন। তাঁর অনুরাগীরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থনা ও শুভকামনায় ভরিয়ে দিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ সেলিম খানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।

বলিউডে এমন ঘটনা নতুন নয় তবু প্রতিবারই তা সবাইকে নাড়া দেয়। তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালে যে তারাও সাধারণ মানুষের মতোই পরিবারকে ঘিরে ভয় দুশ্চিন্তা আর অসহায়তার মধ্যে দিয়ে যান এই ঘটনা আবারও তা মনে করিয়ে দিল। হাসপাতালের করিডোরে অপেক্ষা করা একটি পরিবারের নীরব উৎকণ্ঠা আজ যেন গোটা দেশের অনুভূতিতে পরিণত হয়েছে।

পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন চিকিৎসকরা এবং পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন শীঘ্রই ভাল খবর মিলবে। আপাতত প্রার্থনা আর অপেক্ষাই একমাত্র ভরসা।

news image
আরও খবর

 

এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের পরিবেশও যেন থমথমে হয়ে উঠেছে। আইসিইউর বাইরে অপেক্ষমাণ পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা স্পষ্ট। প্রতিটি মিনিট যেন ঘন্টার মতো কাটছে। চিকিৎসকদের যাতায়াত নার্সদের ব্যস্ত পদচারণা আর মাঝেমধ্যে আসা আপডেটের খবরে সকলেই দমবন্ধ করে অপেক্ষা করছেন। বয়সের ভার শরীরে জমা হওয়ার কারণে সেলিম খানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেশি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। তাই কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সাবধানে নেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসক সূত্রে জানা যাচ্ছে যে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই ধরনের সমস্যায় সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা না গেলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই প্রথম থেকেই তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে যাতে শ্বাসপ্রশ্বাস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায়। পাশাপাশি নিয়মিত স্ক্যান এবং অন্যান্য পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন দ্রুত ধরা পড়ে।

সলমন খান এই সময়ে কার্যত হাসপাতালেই দিনরাত কাটাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে বাইরে বেরিয়ে ফোনে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। অনুরাগীদের অনুরোধ কিংবা মিডিয়ার প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছেন বাবার চিকিৎসার দিকেই। কাছের মানুষদের সঙ্গে খুব অল্প কথাবার্তা বলছেন। পরিবারের সদস্যদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তি স্পষ্ট হলেও নিজেকে শক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি।

বোন আলভীরার উপস্থিতিও পরিবারের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। ভাইবোন একসঙ্গে বাবার জন্য দোয়া করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিয়ম করে হাসপাতালে আসছেন। কেউ কেউ আইসিইউর বাইরে বসে নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন থাকছেন। এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন।

বলিউডের বহু তারকা ফোনে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। কেউ কেউ সরাসরি হাসপাতালে এসে পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে ইন্ডাস্ট্রির একাত্মতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবকিছু ভুলে সবাই এক হয়ে সেলিম খানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রার্থনার বার্তা দিচ্ছেন।

সেলিম খান দীর্ঘ জীবনে বহু উত্থান পতন দেখেছেন। কঠিন সময় পার করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁর জীবনকাহিনি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। সেই মানুষটি আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন এই খবর অনেকের মন ভারী করে দিয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর যে কখনও কখনও হাল ছেড়ে দেয় এই বাস্তব সত্য আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই চিকিৎসা নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে কোনওভাবে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত না ঘটে। পাপারাজ্জিদের ভিড় সামলাতেও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলিকে সম্মান জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে সকলকে।

চিকিৎসকদের মতে আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই বোঝা যাবে চিকিৎসার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও সবাই আশাবাদী মনোভাব রাখার চেষ্টা করছেন।

এই কঠিন সময়ে সলমন খানকে যে দৃঢ়তা দেখাতে হচ্ছে তা সহজ নয়। একদিকে বাবার অসুস্থতা অন্যদিকে চারদিকের নজর সব মিলিয়ে মানসিক চাপ অত্যন্ত বেশি। তবু তিনি নিজেকে সংযত রেখেছেন। বাইরে কোনও মন্তব্য না করে নীরবে সব কিছু সহ্য করছেন। অনেকেই মনে করছেন এই নীরবতাই তাঁর শক্তি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই এখন একটাই আশায় বুক বাঁধছেন। সেলিম খান যেন দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেন। পরিবার আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। বলিউড আবারও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। আপাতত প্রার্থনা আর অপেক্ষাই সকলের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Preview image