দুই আইনজীবীর যুক্তি-পালটা যুক্তিতে টানটান উত্তেজনা, ‘পিংক’-এর কথা মনে করিয়ে দেয় সানা-যতীনের লড়াই।
যে কোনও নারীর মুখে উচ্চারিত ‘না’ শব্দটির অর্থ ‘না’ই—তার মধ্যে অন্য কোনও ইঙ্গিত খোঁজার সুযোগ নেই। সম্মতি ও অসম্মতির এই মৌলিক প্রশ্নই একসময় তীব্রভাবে সামনে এনেছিল অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর ছবি **‘পিংক’**। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষের সম্পর্ক, সম্মতি, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নারীর চরিত্র নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করেছিল সেই ছবি।
নবজ্যোৎ গুলাতি ও বিপাশা অরবিন্দ পরিচালিত **‘পূজা মেরি জান’**-ও অনেকটা সেই একই সামাজিক বাস্তবতার দিকে আঙুল তোলে। তবে এই ছবির গল্পে ‘না’ বলার পরিণতি, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীকেই দায়ী করে দেখার প্রবণতা উঠে আসে অন্য এক প্রেক্ষাপটে। পূজা (ম্রুণাল ঠাকুর) এবং অঙ্কিত (বিক্রম চৌহান)-এর সম্পর্কের গল্প ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় আদালতের দরজায়। সেখানেই শুরু হয় যুক্তি-পালটা যুক্তির এক টানটান লড়াই।
## ‘না’ শুনেও থামেনি অঙ্কিত
গল্পের কেন্দ্রে পূজা ও অঙ্কিত। দু’জনেই একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত। নাটকের মহড়া ও অভিনয়ের সূত্রে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ‘রোমিও জুলিয়েট’ নাটকে অভিনয় করার সময় মঞ্চেই পূজার কাছে নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে অঙ্কিত।
কিন্তু অঙ্কিতের প্রেমের প্রস্তাবে পূজার উত্তর ছিল স্পষ্ট—‘না’।
শুধু মঞ্চেই নয়, পরেও সাজঘরে গিয়ে ফের পূজাকে নিজের মনের কথা জানায় অঙ্কিত। কিন্তু সেখানেও পূজার উত্তর বদলায় না। তাঁর কাছে অঙ্কিত একজন বন্ধু, তার বেশি কিছু নয়। এই প্রত্যাখ্যান অঙ্কিতকে গভীরভাবে আঘাত করে।
বাড়ি ফিরে অঙ্কিত আত্মহত্যা করে।
এরপরই গল্পে আসে বড় মোড়। অঙ্কিতের আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে পূজার বিরুদ্ধে। যে নারী নিজের ইচ্ছা ও অনিচ্ছার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, তাকেই এবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়।
## আদালতে শুরু হয় যুক্তির লড়াই
অঙ্কিতের মৃত্যুর পর শুরু হয় আইনি লড়াই। আর এই জায়গাতেই ‘পিংক’-এর সঙ্গে ছবিটির মিল সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
আদালতের একদিকে পূজার হয়ে লড়ছেন তার বান্ধবী সানা। পেশায় তিনি একজন কর্পোরেট আইনজীবী। অন্যদিকে যতীন। দুই আইনজীবীর তর্ক, পালটা যুক্তি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অতীতের নানা ঘটনা ধীরে ধীরে সামনে আনতে থাকে পূজা ও অঙ্কিতের সম্পর্কের আসল ছবি।
সানা শুধু আইনের যুক্তিতেই লড়াই করেন না। তিনি চেষ্টা করেন বোঝাতে যে, কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকা মানেই তাকে প্রেমিক হিসেবে গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না।
একজন নারী কারও সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে পারেন, ঘনিষ্ঠ হতে পারেন, হাসি-ঠাট্টা করতে পারেন—তাতে তাঁর সম্মতির অর্থ বদলে যায় না। কোনও নির্দিষ্ট সম্পর্কের জন্য সম্মতি না থাকলে সেই ‘না’-কে ‘না’ হিসেবেই গ্রহণ করতে হয়।
## বন্ধুত্ব আর প্রেম কি একই?
ছবিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানেই।
পূজা এবং অঙ্কিতের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও ছিল। অতীতের বিভিন্ন মুহূর্তে তাঁদের সম্পর্কের নানা দিক দেখা যায়। কিন্তু পূজার কাছে সেই সম্পর্ক বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
অঙ্কিত সেই সীমারেখা মেনে নিতে পারেনি।
পূজার প্রতি তাঁর আবেগ ক্রমশ এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, বন্ধুত্বের প্রতিটি মুহূর্তকেই সে নিজের প্রেমের প্রমাণ হিসেবে দেখতে শুরু করে। পূজার স্বাভাবিক আচরণ, বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার কিংবা কোনও মুহূর্তের ঘনিষ্ঠতাকে অঙ্কিত নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করে নেয়।
এখানেই ছবিটি প্রশ্ন তোলে—একজন নারী যদি বন্ধুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মেশেন, তাহলে কি তার অর্থ এই যে তিনি প্রেমের প্রস্তাবেও সম্মতি দেবেন?
উত্তর অবশ্যই ‘না’।
## ‘টক্সিক পুরুষত্ব’-এর প্রশ্ন
অঙ্কিতের চরিত্রকে শুধুমাত্র প্রেমে ব্যর্থ এক যুবকের চরিত্র হিসেবে দেখেনি ছবিটি। তার মানসিকতার মধ্যে থাকা অধিকারবোধ এবং প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পারার প্রবণতাকেও সামনে আনা হয়েছে।
একজন পুরুষ কোনও নারীকে ভালোবাসলেই সেই নারীকে তাঁর ভালোবাসার জবাব দিতে হবে—এই ধারণাই আসলে সমস্যার জায়গা।
পূজার সঙ্গে অন্য পুরুষ বন্ধুদেরও স্বাভাবিক বন্ধুত্ব ছিল। তাঁদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, কথাবার্তা বা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণকে পূজা কখনও অস্বাভাবিক বলে মনে করেনি। কিন্তু অঙ্কিত সেই আচরণকে নিজের প্রতি বিশেষ ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে শুরু করেছিল।
পূজার কোনও মুহূর্তের আচরণকে সে নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু পূজার সামগ্রিক অবস্থান ছিল ভিন্ন।
ছবিটি এই জায়গায় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার একটি পরিচিত প্রবণতাকে সামনে আনে—নারীর আচরণকে নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করা এবং প্রত্যাখ্যানের দায়ও শেষ পর্যন্ত সেই নারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া।
## পূজার চরিত্রও কি পুরোপুরি সাদা-কালো?
ছবিটির আর একটি আকর্ষণীয় দিক হল, পূজার চরিত্রকে একেবারে নিখুঁত করে দেখানো হয়নি।
গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে পূজার অতীতের বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসে। প্রায় চার বছর ধরে চলা নাট্যজগতের নানা ঘটনা, সম্পর্ক এবং পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাঁর চরিত্রের কিছু স্বার্থপর কিংবা কৌশলী দিকও প্রকাশ পায়।
কিছু জায়গায় পূজার আচরণ দর্শকের মনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। অঙ্কিতের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার শুধুই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল, নাকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেই আচরণ বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়েছিল—এই প্রশ্নও মাথায় আসতে পারে।
এখানেই ছবিটি দর্শককে সরাসরি কোনও সহজ উত্তর দেয় না।
বরং প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
যদি কোনও নারী কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেশেন, বন্ধুত্ব করেন, এমনকি কোনও কোনও সময় এমন আচরণ করেন যা অন্যজন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন—তাহলেও কি তাঁর ‘না’ বলার অধিকার শেষ হয়ে যায়?
ছবির বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর অবশ্যই না।
## সানার লড়াইয়ে বদলে যায় ছবির গতি
পূজাকে নির্দোষ প্রমাণ করার দায়িত্ব নেন সানা। আদালতে একের পর এক যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি পূজা ও অঙ্কিতের অতীত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সামনে আনেন।
সাক্ষী, তথ্য এবং অতীতের ঘটনাগুলিকে একত্রিত করে সানা দেখানোর চেষ্টা করেন—অঙ্কিতের সঙ্গে পূজার বন্ধুত্ব থাকলেও পূজা তাঁকে প্রেমিক হিসেবে গ্রহণ করেননি।
অন্যদিকে, বিপক্ষের যুক্তিতে উঠে আসে পূজার আচরণের নানা দিক। সেই যুক্তির মধ্য দিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়—পূজা কি অঙ্কিতকে কোনওভাবে এমন প্রত্যাশা তৈরি করেছিলেন, যার ফলে অঙ্কিতের মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে?
এই তর্ক-পালটা তর্কই ছবির দ্বিতীয়ার্ধকে টানটান করে তোলে।
## সানা বনাম যতীন—আইনি দ্বন্দ্ব ছবির অন্যতম আকর্ষণ
‘পিংক’-এর মতোই ‘পূজা মেরি জান’-এর আদালতের দৃশ্যগুলির অন্যতম বড় শক্তি দুই আইনজীবীর মুখোমুখি লড়াই।
সানা ও যতীনের যুক্তি, পালটা যুক্তি এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাঁদের কথোপকথনের মধ্য দিয়েই দর্শকের সামনে খুলতে থাকে পূজা ও অঙ্কিতের সম্পর্কের নানা স্তর।
হুমা কুরেশি অভিনীত সানা চরিত্রটি শুধু একজন আইনজীবী নয়, একই সঙ্গে পূজার বন্ধু। ফলে তাঁর লড়াইয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত আবেগও রয়েছে। বন্ধুকে রক্ষা করার চেষ্টা এবং পেশাগত দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার কাজটি চরিত্রটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
অন্যদিকে বিজয় রাজের যতীন চরিত্রটি আদালতে সানার যুক্তির বিপরীতে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। তাঁর অভিনয়ে আদালতের বিতর্কের দৃশ্যগুলি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
## চিত্রনাট্যের বড় সাফল্য কোথায়?
পরিচালক নবজ্যোৎ গুলাতি ও বিপাশা অরবিন্দ ধীরে ধীরে দর্শকের সামনে পূজার চরিত্র ও অঙ্কিতের মানসিকতার বিভিন্ন দিক খুলে দেন।
শুরুতেই সবকিছু পরিষ্কার করে দেওয়া হয়নি। বরং গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অতীতের ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে দর্শক কখনও পূজার প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছেন, আবার কখনও তাঁর আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
একইভাবে অঙ্কিতকেও শুধু খলনায়ক হিসেবে দেখানো হয়নি। তাঁর মানসিক অবস্থারও একটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।
তবে ব্যাখ্যা এবং оправание এক জিনিস নয়। অঙ্কিতের মানসিক যন্ত্রণা বোঝা গেলেও, তার অর্থ এই নয় যে পূজার ‘না’ বলার অধিকার অস্বীকার করা যায়।
এই সূক্ষ্ম জায়গাটিই ছবির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
## উত্তেজনা ধরে রাখে আদালতের পর্ব
চিত্রনাট্যের সবচেয়ে সফল অংশগুলির একটি হল আদালতের দৃশ্যগুলি। অতীতের ঘটনা, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আইনজীবীদের প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে গল্প ক্রমশ এগিয়ে যায়।
দর্শকও জানতে চান—আসলে পূজা ও অঙ্কিতের মধ্যে কী হয়েছিল?
পূজার আচরণ কি সত্যিই এমন ছিল, যা অঙ্কিতকে ভুল বার্তা দিয়েছিল?
নাকি অঙ্কিত নিজের প্রত্যাশা ও আবেগের ভিত্তিতেই পূজার স্বাভাবিক আচরণকে প্রেমের ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিয়েছিল?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই গল্প এগোয়।
## ম্রুণাল ঠাকুরের অভিনয়
পূজার চরিত্রে ম্রুণাল ঠাকুর ছবিটির অন্যতম প্রধান শক্তি।
রোমান্টিক দৃশ্য থেকে শুরু করে আদালতের চাপ, অস্থিরতা এবং সামাজিক বিচারের ভয়—বিভিন্ন আবেগকে তিনি স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরেছেন।
চরিত্রটির সবচেয়ে কঠিন জায়গা ছিল তার দ্বৈততা। একদিকে পূজা নিজের অবস্থানে দৃঢ়, অন্যদিকে তাঁর অতীত আচরণের কিছু অংশ দর্শকের মনে প্রশ্ন তৈরি করে।
ম্রুণালের অভিনয় সেই দ্বন্দ্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
## হুমা কুরেশির অন্য রকম উপস্থিতি
সানা চরিত্রে হুমা কুরেশিও নজর কেড়েছেন। একজন কর্পোরেট আইনজীবী হিসেবে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং বন্ধুর জন্য লড়াই করার আবেগ—দুই দিকই অভিনয়ে ধরা পড়েছে।
আদালতের দৃশ্যগুলিতে তাঁর সংলাপ বলার ধরন এবং যুক্তি সাজানোর ভঙ্গি ছবির গতি ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
দীর্ঘদিন পর এমন একটি চরিত্রে হুমাকে স্বাভাবিক ও সংযত অভিনয়ে দেখা যায়, যা ছবির ইতিবাচক দিকগুলির মধ্যে অন্যতম।
## বিজয় রাজের যতীন
বিজয় রাজ বরাবরই চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
যতীন চরিত্রে তিনি একদিকে দৃঢ়, অন্যদিকে যুক্তিনির্ভর। সানার বক্তব্যের বিরুদ্ধে পালটা প্রশ্ন তোলার সময় তাঁর অভিনয় আদালতের দৃশ্যগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
সানা ও যতীনের মুখোমুখি দৃশ্যগুলিই ছবির অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে উঠতে পারে।
## সিনেমাটোগ্রাফি ও আবহসংগীত
অভিনয়ের পাশাপাশি ছবির ভিজ্যুয়াল এবং সাউন্ড ডিজাইনও উল্লেখযোগ্য।
জিষ্ণু ভট্টাচার্যের সিনেমাটোগ্রাফি গল্পের আবহকে ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। চরিত্রগুলির মানসিক অবস্থার সঙ্গে দৃশ্যের পরিবেশের যোগ তৈরি হয়েছে।
বিশাল মিশ্রর আবহসংগীতও ছবির গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে আবহ ছবির নাটকীয়তা বাড়িয়েছে।
## প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
ছবিটি শেষ হওয়ার পরও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কোনও নারী কোনও পুরুষকে প্রত্যাখ্যান করলে কেন তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে?
কেন তাঁর পোশাক, ব্যবহার, বন্ধুত্ব, হাসি-ঠাট্টা বা অতীত সম্পর্ক খুঁটিয়ে দেখা হয়?
কেন একজন পুরুষের প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে না পারা, আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়ও কখনও কখনও নারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়?
একজন নারী কারও সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেই কি তাঁকে সেই সম্পর্ককে প্রেমে পরিণত করতে হবে?
কাউকে ভালো না বাসার অধিকার কি একজন নারীর নেই?
‘পূজা মেরি জান’ মূলত এই প্রশ্নগুলিই সামনে আনে।
## শুধু আইন বদলালেই কি মানসিকতা বদলাবে?
নারীর অধিকার রক্ষায় আইন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আইন থাকা আর সমাজের মানসিকতা বদলে যাওয়া এক বিষয় নয়।
‘না’ মানে ‘না’—এই কথাটি শুধু আদালতের যুক্তি নয়, সামাজিক শিক্ষার অংশ হওয়া প্রয়োজন।
একজন নারীর সম্মতি ছাড়া কোনও সম্পর্কের দাবি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বন্ধুত্ব, পোশাক, হাসি, কথা বলা বা অতীতের কোনও আচরণকে সম্মতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
এই সচেতনতা তৈরি না হলে একই ধরনের প্রশ্ন বারবার ফিরে আসবে।
## ‘পূজা মেরি জান’ যে প্রশ্ন রেখে যায়
‘পূজা মেরি জান’ নিছক একটি আদালতকেন্দ্রিক গল্প নয়। বরং নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, প্রেম, প্রত্যাখ্যান এবং সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি একটি সামাজিক প্রশ্নের ছবি।
পূজার চরিত্রকে ঘিরে দর্শকের নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। অঙ্কিতের আচরণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এমনকি সানা ও যতীনের আইনি লড়াইয়ের যুক্তি নিয়েও মতভেদ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
কিন্তু ছবির মূল বক্তব্যটি স্পষ্ট—একজন নারী ‘না’ বললে সেই ‘না’-কে সম্মান করতেই হবে।
তারপরও যদি কোনও সম্পর্কের পরিণতি খারাপ হয়, তার দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নারীর উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
সবশেষে তাই প্রশ্নটা থেকে যায়—**পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে কারণে-অকারণে নারীকেই দোষারোপ করার প্রবণতা কি
সত্যিই কমবে?**
পরিবর্তন শুধু আইনে নয়, প্রয়োজন মানুষের চেতনায়। প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। আর সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হয়তো খুব সহজ একটি কথাকে সত্যি করে গ্রহণ করা—**‘না’ মানে না।**