Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

যুবভারতী ইভেন্ট বিতর্কে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি, প্রকাশ্যে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

যুবভারতীতে মেসির ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ক্রমাগত ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছেন টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।রাজ চক্রবর্তীর পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে মুখ খুললেন শুভশ্রী স্বয়ং। তিনি বলেছেন, আমাকে নিয়ে বলেছিলেন প্রতিবাদ জানায়নি, কিন্তু আমার ছোট্ট ছেলেমেয়ে কী করল? তাদের মেরে ফেলার হুমকি কেন দিচ্ছেন? মা হয়ে এরপরে আর চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই গতকাল পুলিশে এফআইআর ও জানিয়েছেন রাজ।

যুবভারতীতে মেসির ইভেন্ট ঘিরে বিতর্ক

ট্রোলিং, হুমকি ও প্রতিবাদের মুখে টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে ঘিরে আয়োজিত ইভেন্ট ঘিরে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন আর শুধুমাত্র একটি ব্যর্থ বা বিশৃঙ্খল অনুষ্ঠান নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। সেই ঘটনার রেশ গিয়ে পড়েছে টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত ট্রোলিং, কটূক্তি এবং এমনকি খুনের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন অভিনেত্রী নিজেই।

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁকে ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক একসময় এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে তাঁর ছোট্ট সন্তানদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর একজন মা হিসেবে এই পরিস্থিতিতে আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।
 

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তাঁকে নিয়ে সমালোচনা বা মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে তাঁর ছোট্ট ছেলেমেয়েদের টার্গেট করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাকে নিয়ে বলেছিলেন আমি প্রতিবাদ জানাইনি। ঠিক আছে, আমাকে নিয়ে বলুন। কিন্তু আমার ছোট্ট ছেলেমেয়ে কী করল? তাদের মেরে ফেলার হুমকি কেন দিচ্ছেন? একজন মা হয়ে এর পরে আর চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়।” শুভশ্রীর কণ্ঠে ছিল ক্ষোভের পাশাপাশি এক মায়ের অসহায়তা ও যন্ত্রণা।

মেসির ইভেন্ট ঘিরে বিতর্কের পর থেকেই শুভশ্রী ও তাঁর স্বামী রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। অনেকেই দাবি করেন, ঘটনার সময় তাঁরা প্রকাশ্যে কোনও প্রতিবাদ জানাননি। সেই অভিযোগ থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হয় ট্রোলিং, যা ক্রমশ ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিকর মন্তব্যে পরিণত হয়। কিন্তু বিষয়টি যখন পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্নে পৌঁছে যায়, তখন তা আর নিছক ট্রোলিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

শুভশ্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু মন্তব্য এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে তা সরাসরি খুনের হুমকির পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিশুদের নাম জড়িয়ে এই ধরনের হুমকি দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি তিনি যে একজন মা, সেই পরিচয়টাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনার পরই আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় শুভশ্রীর পরিবার। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই গতকাল রাজ চক্রবর্তী এই বিষয়ে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় খুনের হুমকি দেওয়া গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

শুভশ্রীর ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর টলিউড ও সমাজের একাংশ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই এই ধরনের ট্রোলিং ও হুমকির তীব্র নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে পরিবার বা শিশুদের টার্গেট করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর অপরাধের সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুবভারতীর মেসি ইভেন্ট ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন এক গভীর সামাজিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করছে। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের এই প্রতিবাদ শুধু একজন অভিনেত্রীর বক্তব্য নয়, বরং একজন মায়ের আর্তি, যিনি তাঁর সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য আর নীরব থাকতে চান না।


বিতর্কের সূত্রপাত কোথা থেকে

লিওনেল মেসির কলকাতা সফর এবং যুবভারতীতে আয়োজিত ইভেন্টকে ঘিরে প্রথম থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আয়োজনে বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ, দর্শকদের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে ইভেন্টটি নিয়ে একাধিক সমালোচনা সামনে আসে। এই ঘটনার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ।

এই ক্ষোভের কেন্দ্রে চলে আসেন কয়েকজন পরিচিত মুখ—যাঁদের মধ্যে টলিউড অভিনেতা ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় অন্যতম। অভিযোগ ওঠে, ঘটনার সময় তাঁরা প্রকাশ্যে কোনও প্রতিবাদ জানাননি বা সংগঠকদের বিরুদ্ধে কোনও অবস্থান নেননি।

এরপর থেকেই শুভশ্রীকে লক্ষ্য করে শুরু হয় একের পর এক ট্রোল পোস্ট, কটূক্তি, অপমানজনক মন্তব্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ট্রোলিং যে মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে, তা হয়তো কেউই কল্পনা করেননি।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভশ্রীর ভিডিও বার্তা

এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে মুখ খুললেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, যন্ত্রণা এবং এক মায়ের অসহায়তা।

ভিডিওতে শুভশ্রী বলেন—

“আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়েছে। বলা হয়েছে আমি প্রতিবাদ করিনি। ঠিক আছে, আমাকে নিয়ে বলুন। কিন্তু আমার ছোট্ট ছেলেমেয়ে কী করল? তাদের মেরে ফেলার হুমকি কেন দিচ্ছেন? একজন মা হয়ে এর পরে আর চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়।”

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই শুভশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে এই ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা করেন।


সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

শুভশ্রীর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নাড়া দিয়েছে মানুষকে, তা হল শিশুদের নিরাপত্তা। অভিনেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন মন্তব্য করা হয়েছে যেখানে তাঁর সন্তানদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি শুভশ্রী একজন মা—এই পরিচয়টাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায় স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সমালোচনা আর পরিবারকে টার্গেট করা—এই দুয়ের মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য রয়েছে।

শুভশ্রী বলেন, সমালোচনা বা মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই কারণে শিশুদের হুমকি দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

news image
আরও খবর

রাজ চক্রবর্তীর আইনি পদক্ষেপ

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই শুভশ্রীর স্বামী, অভিনেতা ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানা গেছে, গতকালই তিনি এই বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করেছেন।

আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে বিষয়টিকে আর হালকাভাবে নিতে রাজি নন শুভশ্রী বা তাঁর পরিবার। পরিবার ও সন্তানদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না—এই বার্তাই যেন দেওয়া হয়েছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে হুমকি দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।


ট্রোলিং সংস্কৃতি ও তার ভয়াবহ দিক

এই ঘটনা ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভয়ংকর দিক—ট্রোলিং কালচার। প্রথমে সমালোচনা, তারপর কটূক্তি, এরপর ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং শেষ পর্যন্ত হুমকি—এই ধাপে ধাপে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ এই ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে নিজেদের পরিচয় আড়াল করে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা বাস্তব জীবনে কখনও করার সাহস পান না। কিন্তু এর প্রভাব পড়ে বাস্তব মানুষের জীবনে, মানসিক স্বাস্থ্যে এবং নিরাপত্তায়।


টলিউডে প্রতিক্রিয়া

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিডিও সামনে আসার পর টলিউডের একাংশ শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে এই ধরনের হুমকির নিন্দা করেছেন এবং শিশুদের জড়িয়ে এই ধরনের মন্তব্যকে “অমানবিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তাঁদের মতে, কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যুতে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তা কখনওই পরিবার বা শিশুদের উপর আক্রমণের পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়।


জনমত কী বলছে

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে শুভশ্রীকে সমর্থন করে বহু মানুষ বলছেন, একজন মায়ের এই প্রতিবাদ একেবারেই যৌক্তিক। অন্যদিকে কিছু মানুষ এখনও ইভেন্ট ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তবে অনেকেই স্বীকার করছেন যে হুমকি দেওয়া কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

একাংশ নেটিজেনের মতে, এই ঘটনা একটি সীমারেখা টেনে দিয়েছে—সমালোচনা আর অপরাধের মধ্যে পার্থক্য কোথায় হওয়া উচিত, তা বোঝার সময় এসেছে।


আইন কী বলে

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে খুনের হুমকি দেওয়া ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। আইটি অ্যাক্ট ও আইপিসির একাধিক ধারায় এর বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।


শুভশ্রীর বার্তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিডিও বার্তা শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়। এটি আসলে একটি বড় সামাজিক বার্তা—সেলিব্রিটিও একজন মানুষ, তাঁরও পরিবার আছে, সন্তান আছে, অনুভূতি আছে।

এই ভিডিওর মাধ্যমে শুভশ্রী যেন একটি সীমা টেনে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের বিরুদ্ধে কথা বললেও তিনি সহ্য করতে পারেন, কিন্তু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়।


যুবভারতী ইভেন্টের ছায়া কতদূর

মেসিকে ঘিরে যুবভারতীর সেই ইভেন্ট যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। একটি ব্যর্থ বা বিতর্কিত আয়োজন কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত হানতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন—যাতে ক্ষোভ ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ না নেয়।


উপসংহার

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুবভারতীতে মেসির ইভেন্টকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন একেবারে অন্য স্তরে পৌঁছে গেছে। ট্রোলিং থেকে হুমকি—এই ঘটনা সমাজের একটি অস্বস্তিকর চেহারা সামনে এনেছে।

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ একজন মায়ের কণ্ঠস্বর, যে তার সন্তানদের রক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে প্রকাশ্যে কথা বলতে। রাজ চক্রবর্তীর এফআইআর সেই প্রতিবাদের আইনি রূপ।

এই ঘটনা শুধু টলিউড নয়, গোটা সমাজের জন্য একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে—মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে আমরা কতদূর যেতে পারি, আর কোথায় আমাদের থামা উচিত?

Preview image