Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পেট্রোল লাগবেই না ১০০% ইথানলেই ছুটবে গাড়ি খরচ লিটারে ২৫ টাকা ঘোষণা নিতিন গডকড়ীর

১০০% ইথানলে চলতে সক্ষম গাড়ি নিয়ে আশার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী তাঁর দাবি এমন গাড়ি চালানোর খরচ লিটারপ্রতি ২৫ টাকার পেট্রোলে গাড়ি চালানোর সমতুল্য হতে পারে অক্টোবরে টয়োটার একটি ফ্লেক্স ফুয়েল ইনোভা আসার কথাও জানিয়েছেন তিনি

পেট্রোলের বিকল্প জ্বালানি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর মন্তব্যে। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ ইথানলে চলতে সক্ষম একটি গাড়ির চালানোর খরচ লিটারপ্রতি প্রায় ২৫ টাকার পেট্রোলে গাড়ি চালানোর সমতুল্য হতে পারে। অক্টোবর মাসে টয়োটার একটি ফ্লেক্স ফুয়েল ইনোভা উদ্বোধনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গাড়িটি বাজারে এলে পেট্রোলের উপর নির্ভরতা কমানোর আরও একটি পথ খুলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ২৫ টাকার অঙ্কটি বুঝতে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। গডকড়ী ইথানল পাম্পে লিটারপ্রতি ২৫ টাকায় বিক্রি হবে বলে ঘোষণা করেননি। তিনি একটি তুলনামূলক চালানোর খরচের কথা বলেছেন। গাড়ি কেনার বা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তবে ইথানলের দাম, গাড়ির মাইলেজ এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা জানতে হবে। ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট পরিসরের পেট্রোল ইথানল মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়। কোনও গাড়ি সম্পূর্ণ ইথানলে চলতে সক্ষম হলে উপযুক্ত জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে সেটি পেট্রোল ছাড়াও চালানো সম্ভব। কিন্তু এই প্রযুক্তি সাধারণ পেট্রোলচালিত সব গাড়িতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়। কোন গাড়িতে কত শতাংশ ইথানল ব্যবহার করা যাবে, তা নির্মাতার নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান ও নির্দেশনার উপর নির্ভর করে। টয়োটার ইনোভা মডেলের ভিত্তিতে ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে আগেও কাজ হয়েছে। গডকড়ীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাই অক্টোবরের সম্ভাব্য উদ্বোধন ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে। তবে গাড়িটির চূড়ান্ত দাম, বাজারে বিক্রি শুরুর তারিখ, অনুমোদিত জ্বালানির ধরন এবং মাইলেজ সম্পর্কে নির্মাতার আনুষ্ঠানিক তথ্যই ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ভারতে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে গডকড়ী দীর্ঘদিন ধরেই কথা বলছেন। তাঁর মতে  দেশীয় উৎস থেকে তৈরি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে আমদানি করা পেট্রোলিয়ামের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। কৃষিভিত্তিক উৎপাদনের সঙ্গে ইথানল শিল্পের যোগ থাকায় কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে বলে তাঁর দাবি। তবে একটি নতুন জ্বালানির সুবিধা শুধু গাড়ির ইঞ্জিনের উপর নির্ভর করে না। কাছাকাছি কোথায় সেই জ্বালানি মিলবে, নিয়মিত সরবরাহ থাকবে কি না এবং প্রতি কিলোমিটারে প্রকৃত খরচ কত দাঁড়াবে এই প্রশ্নগুলির উত্তরও প্রয়োজন। একই দামে এক লিটার পেট্রোল ও এক লিটার ইথানলে গাড়ি সমান দূরত্ব যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ফলে ভবিষ্যতে গাড়িটি বাজারে এলে তার পরীক্ষিত মাইলেজ ও বাস্তব ব্যবহার খরচ দেখেই সাশ্রয়ের হিসাব করতে হবে। গডকড়ীর বক্তব্য বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে। সম্পূর্ণ ইথানলে চলতে সক্ষম গাড়ি সাধারণ ক্রেতাদের হাতে কবে পৌঁছবে এবং তা ব্যবহার কতটা সুবিধাজনক হবে, সেটি স্পষ্ট হবে নির্মাতার ঘোষণা ও বাজারে গাড়ি আসার পর। আপাতত লিটারপ্রতি ২৫ টাকার বিষয়টিকে নিশ্চিত জ্বালানির দাম হিসেবে নয় মন্ত্রীর দেওয়া একটি সম্ভাব্য খরচের তুলনা হিসেবেই দেখা উচিত।

প্রথমেই জানতে হবে, গাড়িটি ঠিক কোন ধরনের জ্বালানিতে চলার অনুমোদন পেয়েছে। ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ি বিভিন্ন মাত্রার পেট্রোল ইথানল মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু সব গাড়ির সক্ষমতা এক নয়। তাই কোনও নতুন মডেল বাজারে এলে নির্মাতার দেওয়া তথ্য দেখে তার জ্বালানি সংক্রান্ত নির্দেশনা বোঝা জরুরি। এর পরের প্রশ্ন জ্বালানির প্রাপ্যতা। গাড়ি ইথানলে চলতে পারলেও চালকের নিয়মিত যাতায়াতের পথে উপযুক্ত জ্বালানি না মিললে সেই সুবিধা কাজে লাগানো কঠিন হবে। বাড়ির কাছের পাম্প, কর্মস্থলে যাওয়ার রাস্তা বা দূরপাল্লার যাত্রাপথে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা গাড়ি ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখবে। শুধু একটি গাড়ি বাজারে আসাই যথেষ্ট নয় তার সঙ্গে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ। খরচের হিসাবেও সতর্ক থাকা দরকার। লিটারপ্রতি জ্বালানির দাম কম হলেই প্রতি কিলোমিটারে খরচ কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এক লিটার পেট্রোল এবং এক লিটার ইথানলে গাড়ি সমান দূরত্ব যাবে এমন ধরে হিসাব করলে ভুল হতে পারে। প্রকৃত সাশ্রয় বুঝতে গাড়িটির পরীক্ষিত মাইলেজের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের মাইলেজ, স্থানীয় জ্বালানির দাম এবং প্রতি কিলোমিটারের খরচ একসঙ্গে দেখতে হবে।

news image
আরও খবর

এই কারণেই গডকড়ীর উল্লেখ করা ২৫ টাকা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানো প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ইথানলচালিত গাড়ির চালানোর খরচ লিটারপ্রতি প্রায় ২৫ টাকার পেট্রোলে গাড়ি চালানোর সমতুল্য হতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ইথানল সব পাম্পে ২৫ টাকা লিটারে বিক্রি হবে। এটি একটি সম্ভাব্য খরচের তুলনা ক্রেতাদের জন্য নিশ্চিত বাজারদর বা নিশ্চিত সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি নয়। অক্টোবরে টয়োটার ফ্লেক্স ফুয়েল ইনোভা নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি বাজারে এলে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। গাড়িটির দাম কত হবে কোন জ্বালানিতে চালানো যাবে, মাইলেজ কেমন এবং কোথা থেকে জ্বালানি পাওয়া যাবে এই তথ্যগুলি প্রকাশিত হলে সাধারণ ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নির্মাতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বাস্তব ব্যবহারের তথ্যই তখন সবচেয়ে কার্যকর হবে। বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ হতে পারে। তবে তার সাফল্য নির্ভর করবে গাড়ির প্রযুক্তি, জ্বালানির সরবরাহ এবং ক্রেতার প্রকৃত খরচ এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে কতটা সুবিধাজনক হচ্ছে তার উপর। তাই ইথানল গাড়ি নিয়ে আগ্রহের পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক হিসাবও প্রয়োজন। গাড়িটি বাজারে আসার পর সেই হিসাবই স্পষ্ট করবে, গডকড়ীর বলা সাশ্রয় সাধারণ চালকের দৈনন্দিন যাতায়াতে কতটা মিলছে। ইথানলচালিত গাড়ির সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সেটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা সুবিধা দিতে পারছে তার উপর। নতুন প্রযুক্তির গাড়ি বাজারে আসা অবশ্যই আগ্রহের বিষয়। কিন্তু গাড়িটি কেনার পর নিয়মিত ব্যবহার করা কতটা সহজ হবে, সেটিই ক্রেতাদের কাছে বড় প্রশ্ন।

প্রথমে দেখতে হবে গাড়ির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে, ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করবে এবং নির্মাতা গাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে কী নির্দেশ দিচ্ছে এসব তথ্য জানা প্রয়োজন। ফ্লেক্স ফুয়েল নাম শুনেই সব ধরনের ইথানল মিশ্রণ সব গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। নির্দিষ্ট মডেলের জন্য নির্মাতার দেওয়া নির্দেশনাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিষয় জ্বালানির সরবরাহ। বাড়ির কাছে বা নিয়মিত যাতায়াতের পথে উপযুক্ত জ্বালানি পাওয়া না গেলে গাড়ির প্রযুক্তিগত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে কোথায় জ্বালানি ভরার সুযোগ রয়েছে, সেটি আগে থেকে জানা জরুরি হবে। ফলে ইথানল গাড়ির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থাও কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রকৃত খরচ। শুধু প্রতি লিটারের দাম দেখে সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এক লিটার জ্বালানিতে গাড়ি কত দূর যাচ্ছে, নিয়মিত যাতায়াতে কত জ্বালানি লাগছে এবং প্রতি কিলোমিটারে খরচ কত দাঁড়াচ্ছে সব মিলিয়ে হিসাব করতে হবে। সেই সঙ্গে গাড়ির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও ক্রেতার মোট ব্যয়ের অংশ

প্রথমেই জানতে হবে, গাড়িটি ঠিক কোন ধরনের জ্বালানিতে চলার অনুমোদন পেয়েছে। ফ্লেক্স ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ি বিভিন্ন মাত্রার পেট্রোল ইথানল মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু সব গাড়ির সক্ষমতা এক নয়। তাই কোনও নতুন মডেল বাজারে এলে নির্মাতার দেওয়া তথ্য দেখে তার জ্বালানি সংক্রান্ত নির্দেশনা বোঝা জরুরি। এর পরের প্রশ্ন জ্বালানির প্রাপ্যতা। গাড়ি ইথানলে চলতে পারলেও চালকের নিয়মিত যাতায়াতের পথে উপযুক্ত জ্বালানি না মিললে সেই সুবিধা কাজে লাগানো কঠিন হবে। বাড়ির কাছের পাম্প, কর্মস্থলে যাওয়ার রাস্তা বা দূরপাল্লার যাত্রাপথে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা গাড়ি ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতায় বড় ভূমিকা রাখবে। শুধু একটি গাড়ি বাজারে আসাই যথেষ্ট নয় তার সঙ্গে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ। খরচের হিসাবেও সতর্ক থাকা দরকার। লিটারপ্রতি জ্বালানির দাম কম হলেই প্রতি কিলোমিটারে খরচ কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এক লিটার পেট্রোল এবং এক লিটার ইথানলে গাড়ি সমান দূরত্ব যাবে এমন ধরে হিসাব করলে ভুল হতে পারে। প্রকৃত সাশ্রয় বুঝতে গাড়িটির পরীক্ষিত মাইলেজের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের মাইলেজ, স্থানীয় জ্বালানির দাম এবং প্রতি কিলোমিটারের খরচ একসঙ্গে দেখতে হবে।

 

Preview image