চলতি মরসুমে ২২টি উইকেট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মুকেশ কুমার। সৌরভ, লক্ষ্মী ও শামির পরামর্শ নিয়ে নিউ জ়িল্যান্ড সফরে নামছেন বাংলার এই পেসার। ভারতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে বিদেশের মাটিতে নিজেকে প্রমাণ করাই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বাংলার জোরে বোলার মুকেশ কুমার আবারও ভারতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। চোট, অফ ফর্ম এবং দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন তিনি। চলতি মরসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে নিউ জ়িল্যান্ড সফরের জন্য ভারতীয় ‘এ’ দলে জায়গা পেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সেরা বোলিং উপহার দেওয়া এবং জাতীয় দলে ফেরার দাবিকে আরও জোরালো করা।
ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমানে জোরে বোলারদের মধ্যে জায়গা পাওয়ার লড়াই অত্যন্ত কঠিন। জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ, আকাশদীপ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ এবং আর্শদীপ সিংহের মতো বোলারেরা রয়েছেন জাতীয় দলের পরিসরে। পাশাপাশি আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফরম্যান্স করে উঠে আসছেন একাধিক তরুণ পেসার। এই পরিস্থিতিতে মুকেশ কুমারের কাছে নিউ জ়িল্যান্ড সফর নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তিন বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সফরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল মুকেশ কুমারের। টেস্ট, এক দিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলার এই পেসার। এক সময় ভারতীয় দলে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু চোট এবং ফর্মের ওঠানামার কারণে ধীরে ধীরে জাতীয় দলের বাইরে চলে যেতে হয় তাঁকে।
তবে হাল ছাড়েননি মুকেশ। ধারাবাহিক অনুশীলন, ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ এবং নিজের বোলিংয়ের উন্নতির দিকে নজর রেখে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ফিরে আসার জন্য আলাদা করে কোনও জাদুকাঠির প্রয়োজন হয়নি। নিয়মিত চেষ্টা এবং নিজের কাজের প্রতি মনোযোগই তাঁকে আবার নির্বাচকদের নজরে এনেছে।
আগামী দিনে ভারতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তাঁকে আরও ধারাবাহিক হতে হবে। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের ছন্দ ধরে রাখার উপর জোর দিচ্ছেন মুকেশ।
চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত ২২টি উইকেট পেয়েছেন মুকেশ কুমার। এর মধ্যে ২১টি উইকেট এসেছে ভারতে ব্যবহৃত এসজি বলে। অন্য দিকে, ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে সাসেক্সের বিরুদ্ধে একটি উইকেট পেয়েছেন তিনি। এই পরিসংখ্যান তাঁর বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং বিভিন্ন পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে।
দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ১২টি উইকেট নিয়েছিলেন মুকেশ। তার পর ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এরপর ইরানি কাপে অবশিষ্ট ভারতীয় দলের হয়ে আটটি উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। পর পর প্রতিযোগিতায় ভাল পারফরম্যান্সের সুবাদে আবারও জাতীয় নির্বাচকদের ভাবনায় উঠে এসেছেন বাংলার এই জোরে বোলার।
দলীপ ট্রফি এবং ইরানি কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় ভাল পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ফিটনেস এবং বোলিংয়ের ছন্দ ফিরে পাওয়াও তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।
ভারত থেকে নিউ জ়িল্যান্ডে গিয়ে বল করা সহজ নয়। পরিবেশ, আবহাওয়া, পিচের চরিত্র এবং বলের আচরণ—সব কিছুতেই পার্থক্য থাকতে পারে। ভারতে এসজি বলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও নিউ জ়িল্যান্ডে অন্য ধরনের বল এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে মুকেশকে।
তবে বিদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাসের অন্যতম কারণ। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তাই নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন বাংলার এই পেসার।
মুকেশের বোলিংয়ের অন্যতম শক্তি হল বলের সিমের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা। সুইংয়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে সঠিক জায়গায় বল ফেলে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে চান তিনি। এসজি, ডিউক বা কোকাবুরা—যে বলই ব্যবহার করুন না কেন, সিমের অবস্থান ঠিক রাখার চেষ্টা করেন মুকেশ।
নিউ জ়িল্যান্ড সফরে এই দক্ষতা কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার। সেখানকার পরিস্থিতিতে লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে পারলে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে ভাল পারফরম্যান্স করার সুযোগ থাকবে তাঁর সামনে।
নিউ জ়িল্যান্ড সফরের আগে বাংলার ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের পরামর্শ নিচ্ছেন মুকেশ কুমার। বোলিং নিয়ে নিয়মিত কথা হয় রণদেব বসুর সঙ্গে। বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান তিনি।
এ ছাড়া মহম্মদ শামির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন মুকেশ। নিউ জ়িল্যান্ডে বোলিং করার অভিজ্ঞতা থেকে শামি তাঁকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। বিদেশের পরিবেশে কী ভাবে বল করতে হবে, কোন বিষয়গুলির উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, সে সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন বাংলার এই পেসার। নিউ জ়িল্যান্ডের পরিবেশ এবং সেখানকার ক্রিকেটের পরিস্থিতি সম্পর্কে সৌরভের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়ার আশা করছেন তিনি।
অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের এই পরামর্শ মুকেশের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি জাতীয় দলে ফেরার জন্য প্রস্তুত।
জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে নিজের প্রস্তুতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন মুকেশ কুমার। তাঁর মতে, একজন জোরে বোলারের ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য ফিটনেস, সঠিক লাইন-লেংথ এবং বলের গতি—এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. ফিটনেস বজায় রাখা: দীর্ঘ মরসুমে ঘরোয়া ক্রিকেট, আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি সামলাতে গেলে শরীরকে প্রস্তুত রাখতে হয়। নিয়মিত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে চান মুকেশ। চোটের ঝুঁকি কমাতে শরীরের সংকেত বুঝে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
২. লাইন ও লেংথে নিয়ন্ত্রণ: মুকেশের বোলিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সঠিক জায়গায় বল ফেলা। নেট অনুশীলনে লাইন এবং লেংথের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করতে হলে ধারাবাহিক ভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলতে হয়। বিদেশের মাটিতে এই দক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
৩. বলের গতি বাড়ানো: নিজের বোলিংয়ে সামান্য হলেও গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন মুকেশ। শুধু গতি নয়, সঠিক লাইন-লেংথ এবং সিমের অবস্থানের সঙ্গে গতির সমন্বয় তৈরি করতে চান তিনি। এতে ব্যাটারদের সময় কমে যেতে পারে এবং উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
এই তিনটি বিষয়কে নিয়মিত অনুশীলনের অংশ করে নিয়েছেন বাংলার পেসার। দলীপ ট্রফি এবং ইরানি কাপ খেলার সময়ও নিজের প্রস্তুতিতে এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেছিলেন তিনি।
জোরে বোলারদের কেরিয়ারে চোট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মুকেশ কুমারও এর ব্যতিক্রম নন। চোট এবং পুনর্বাসনের কারণে বেশ কিছু দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। নিয়মিত ম্যাচ খেলতে না পারায় বোলিংয়ের ছন্দেও প্রভাব পড়েছিল।
গত মরসুমে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হজারে ট্রফিতে সীমিত সংখ্যক ম্যাচ খেলেছিলেন। ফলে নিয়মিত ক্রিকেটের মধ্যে থাকার সুযোগ কমে গিয়েছিল।
এ বার পরিস্থিতি বদলেছে। দলীপ ট্রফি, ইরানি কাপ এবং কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। মুকেশের মতে, তাঁর মতো বোলারের ক্ষেত্রে নিয়মিত ম্যাচ খেলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে যত বেশি ম্যাচ খেলা যায়, তত বেশি বোলিংয়ের ছন্দ ফিরে পাওয়া সম্ভব।
শুধু অনুশীলন নয়, ম্যাচের চাপের মধ্যে নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে আরও প্রস্তুত করে তুলতে চান তিনি।
চোট কাটিয়ে ফেরার পর নিজের বোলিংয়ের কিছু জায়গায় পরিবর্তন করেছেন মুকেশ। তাঁর কথায়, বল ছাড়ার সময় কব্জির অবস্থান আগের তুলনায় আরও ভাল হয়েছে। এর ফলে সিমের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
মুকেশ মূলত সিম বোলিংয়ের উপর নির্ভর করেন। বলের সিম সঠিক অবস্থানে রেখে পিচে ফেলতে পারলে ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলা যায়। সব সময় সুইং পাওয়ার উপর নির্ভর না করে নিজের শক্তির জায়গাকে কাজে লাগাতে চান তিনি।
দলীপ ট্রফির প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশা অনুযায়ী বল করতে পারেননি মুকেশ। তবে ইনিংসের শেষ দিকে ছন্দ ফিরে পান। পরের ইনিংসে সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে নিজের ভুল বুঝে নেওয়া এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিংয়ে পরিবর্তন আনার গুরুত্ব আরও ভাল ভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি।
নিউ জ়িল্যান্ড সফরেও এই মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রথম দিকে প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে নিজের বোলিংয়ে পরিবর্তন আনতে হবে তাঁকে।
চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা যে কোনও খেলোয়াড়ের জন্যই হতাশার। সতীর্থদের দেশের হয়ে খেলতে দেখা, অথচ নিজে মাঠে নামতে না পারা মানসিক ভাবে কঠিন হতে পারে। মুকেশও সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন।
তবে এই সময় পরিবার তাঁর পাশে থেকেছে। মায়ের পাশাপাশি স্ত্রীও তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের সমর্থন তাঁকে হতাশা কাটিয়ে আবার মাঠে ফেরার প্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলার পেসার।
একজন পেশাদার ক্রিকেটারের কাছে শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক শান্তিও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ঘুম, সঠিক খাওয়াদাওয়া এবং সুস্থ জীবনযাপনকে নিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখেন মুকেশ।
বিশেষ করে পুনর্বাসনের সময় ট্রেনার এবং ফিজিয়োর নির্দেশ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। চোটকে খেলার অংশ হিসেবে মেনে নিয়ে ধৈর্য ধরে মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।
আধুনিক ক্রিকেটে একজন পেসারকে সারা বছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলতে হয়। ঘরোয়া ক্রিকেট, আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মধ্যে ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন। মুকেশের মতে, জোরে বোলারদের শরীর সব সময় শতকরা ১০০ ভাগ ঠিক রাখা সহজ নয়। মাঝেমধ্যে সামান্য ব্যথা বা অস্বস্তি থাকতেই পারে।
তবে শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা উচিত নয়। কোনও অংশ শক্ত হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি অনুভব করলে কোচ, সাপোর্ট স্টাফ কিংবা ফিজিয়োকে জানানো প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়াও জরুরি।
নিজের শরীরের সহনশীলতার সীমা বুঝে চললে বড় চোটের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। প্রয়োজন হলে একটি ম্যাচ থেকে বিশ্রাম চেয়ে নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেন না মুকেশ। বরং দীর্ঘ সময় ক্রিকেট খেলার জন্য শরীরের যত্ন নেওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
মুকেশ কুমারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ভারতীয় দলে ফেরার পথ তৈরি করা। জাতীয় দলে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের গুরুত্ব বাড়ছে। শুধু এক বা দু’টি ভাল ম্যাচ নয়, দীর্ঘ সময় ধরে নিজের দক্ষতা ধরে রাখতে হবে তাঁকে।
নিউ জ়িল্যান্ড সফর তাঁর জন্য সেই পরীক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিদেশের পরিবেশে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা, সিমের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, নির্ভুল লাইন-লেংথ এবং ফিটনেস—সব কিছুর সমন্বয় ঘটাতে পারলে নিজের দাবিকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন বাংলার এই পেসার।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্ল এবং মহম্মদ শামির পরামর্শ তাঁর প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। তবে শেষ পর্যন্ত উইকেট নেওয়া, রান নিয়ন্ত্রণ করা এবং দলের প্রয়োজনে ধারাবাহিক বোলিং করাই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
চোট এবং অফ ফর্মের বাধা পেরিয়ে আবার জাতীয় দলের আলোচনায় উঠে এসেছেন মুকেশ। এখন তাঁর লক্ষ্য নিজের সেরাটা দেওয়া এবং নির্বাচকদের সামনে নতুন করে যোগ্যতার প্রমাণ রাখা। নিউ জ়িল্যান্ড সফরে সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন বাংলার এই পেসার, ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে সেদিকেই।