সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে অনুরাগীদের মন খারাপ হলেও, কোন ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল তাগিদে এই পথ বেছে নিলেন অরিজিৎ—নিজেই জানালেন গায়ক।
রিয়্যালিটি শো থেকে যাত্রা শুরু করে আজ ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর—অরিজিৎ সিং। তাঁর গাওয়া প্রতিটি গান যেন শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় মুহূর্তের মধ্যেই। হিন্দি থেকে বাংলা, তামিল থেকে তেলুগু—প্রায় সব ভাষার সিনেমায় তাঁর কণ্ঠ জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছে। সেই অরিজিৎই এবার সিনেমার প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন। তাঁর এই পোস্টে মন ভেঙেছে অনুরাগীদের। অনেকেই ভাবছেন, এত জনপ্রিয়তা, সাফল্য ও অর্থের শীর্ষে দাঁড়িয়েও কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য গায়ক নিজেই দিয়েছেন।
নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডলে অরিজিৎ লিখেছেন, “এমন একটা সিদ্ধান্ত নেব, অনেক দিন ধরেই ভেবেছিলাম। অবশেষে সাহস জোগাড় করতে পেরে ঘোষণা করলাম। সোজা ভাবে বলতে গেলে, আমার খুব সহজেই একঘেয়েমি চলে আসে। যে কারণে আমি আমার গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট প্রায়ই বদলে বদলে মঞ্চে পারফর্ম করি। সেই কারণেই আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি, নতুন ধরনের সঙ্গীতের খোঁজে নামছি।”
তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—গান তিনি ছাড়ছেন না। বরং নতুন সুর, নতুন শিল্পী এবং ভিন্ন ধারার সঙ্গীতের অন্বেষণে নিজেকে আরও একবার নতুন করে আবিষ্কার করতে চাইছেন তিনি। চলতি বছরে তাঁর আগেই রেকর্ড করা বেশ কয়েকটি নতুন গান মুক্তি পাবে বলেও জানিয়েছেন অরিজিৎ।
রিয়্যালিটি শো থেকে সংগীতের শীর্ষে: অরিজিতের সফর
অরিজিতের সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ থেকে। তখন কেউই ভাবেননি, এই তরুণ গায়ক একদিন ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ হয়ে উঠবেন। কয়েক বছর অবশ্য তাঁকে পর্দার আড়ালেই থাকতে হয়েছিল। সেই সময় তিনি সুরকার প্রীতম চক্রবর্তীর কাছে কাজ শিখছিলেন, সঙ্গীতের খুঁটিনাটি রপ্ত করছিলেন।
সেই কঠিন সময়ই সম্ভবত তাঁকে আরও সংবেদনশীল ও পরিণত শিল্পীতে পরিণত করেছে। ধীরে ধীরে তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে এক ধরনের আবেগঘন সরলতা, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে আলাদা করে দাগ কাটে। এরপর হিন্দি, বাংলা-সহ একাধিক ভাষায় তাঁর গাওয়া গান জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছতে শুরু করে।
‘তুম হি হো’, ‘চন্না মেরেয়া’, ‘আগার তুম সাথ হো’, ‘জেরাসা’, ‘ফির লে আয়া দিল’, ‘রায়তা ফাঁইল গয়া’, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’—এমন অসংখ্য গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। শুধু সিনেমার গান নয়, তাঁর লাইভ পারফরম্যান্সও আলাদা করে প্রশংসিত। মঞ্চে তিনি নিজের গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট বদলে বদলে পরিবেশন করেন, যাতে প্রতিটি অনুষ্ঠান আলাদা স্বাদ পায়।
‘ধুরন্ধর’ থেকে ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’: সাম্প্রতিক সাফল্য
সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অরিজিতের গাওয়া ‘গহেরা হুয়া’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একই ভাবে বাংলা ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-তে তাঁর গাওয়া ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা’ গানটিও শ্রোতাদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
এই গানগুলির সাফল্য দেখিয়ে দেয়, তিনি এখনও সংগীতের শিখরে রয়েছেন। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েই সিনেমার প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে।
তবে অরিজিৎ বরাবরই নিজের শর্তে কাজ করে এসেছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহু শিল্পী তাঁর সঙ্গে গাইতে জিয়াগঞ্জে তাঁর বাড়িতে পর্যন্ত এসেছেন। তিনি কখনও গানের সংখ্যা বাড়ানোর দৌড়ে নামেননি, বরং প্রতিটি কাজকে নিজের মতো করে উপভোগ করতেই পছন্দ করেছেন।
কেন এই সিদ্ধান্ত? অরিজিতের নিজের ভাষ্যে
অরিজিৎ নিজেই জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ একঘেয়েমি ও সৃজনশীল ক্লান্তি। তাঁর কথায়, “আমার খুব সহজেই একঘেয়েমি চলে আসে। তাই আমি আমার গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট প্রায়ই বদলে বদলে মঞ্চে পারফর্ম করি। সেই কারণেই আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি, নতুন ধরনের সঙ্গীতের খোঁজে নামছি।”
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি কোনও হতাশা বা ব্যর্থতার কারণে নয়, বরং নিজের শিল্পীসত্তাকে আরও বিস্তৃত করার তাগিদেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিনেমার গান তাঁর কাছে হয়তো একসময় হয়ে উঠেছিল এক ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়া, যেখানে একই ধরনের কাঠামো, আবেগ ও গায়কী ঘুরেফিরে আসছে।
একজন সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে এই পুনরাবৃত্তি অনেক সময়ই একঘেয়েমির জন্ম দেয়। অরিজিৎ সেই জায়গা থেকেই নতুন কিছু খোঁজার পথে হাঁটতে চাইছেন।
নতুন শিল্পী ও নতুন অনুপ্রেরণার খোঁজে
অরিজিৎ আরও লিখেছেন, “আমি আসলে নতুন ধরনের গায়ক-গায়িকাদের গান শুনতে চাই। যাঁরা আমাকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।”
এই কথায় তাঁর মানসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পায়। এত বড় তারকা হয়েও তিনি নিজেকে এখনও একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখতে চান। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠ, তাঁদের ভাবনা, তাঁদের পরীক্ষানিরীক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা নিতে চান তিনি।
ভারতীয় সংগীতজগতে যেখানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের অনেক সময় নতুন ধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়, সেখানে অরিজিতের এই মনোভাব তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে। তিনি শুধু নিজেকে নয়, গোটা সংগীত জগতকেও নতুন ধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান বলে মনে করছেন অনেকে।
জনপ্রিয়তা ও অর্থ ছেড়ে দেওয়ার সাহস
একটি বাস্তব প্রশ্ন উঠছেই—এত জনপ্রিয়তা, সিনেমার প্লেব্যাক থেকে বিপুল অর্থ উপার্জনের সুযোগ—সব ছেড়ে দেওয়া কি সহজ?
অরিজিতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি বর্তমানে ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন প্লেব্যাক শিল্পীদের একজন। তাঁর কণ্ঠ মানেই গান হিট হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়—এমনটাই মনে করেন প্রযোজক ও সুরকারেরা।
এই অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে এক সাহসী সিদ্ধান্ত। তবে অরিজিতের জীবনদর্শনে বরাবরই অর্থ ও খ্যাতির চেয়ে সৃজনশীল তৃপ্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনের বদলে সাধারণ জীবন বেছে নিয়েছেন, জিয়াগঞ্জে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, সামাজিক কাজেও যুক্ত থাকেন।
এই সিদ্ধান্তও সম্ভবত সেই জীবনদর্শনেরই সম্প্রসারণ—যেখানে ব্যক্তিগত শান্তি ও সৃজনশীল স্বাধীনতা অর্থ ও খ্যাতির চেয়ে বেশি মূল্যবান।
সিনেমার গান ছাড়লেও সংগীত ছাড়ছেন না
অরিজিতের পোস্টে অনেক অনুরাগীই প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনি বুঝি গানই ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তা নয়। বরং চলতি বছরেই তাঁর আগেই রেকর্ড করা বেশ কয়েকটি নতুন গান মুক্তি পেতে পারে।
এর অর্থ, আগামী কিছুদিন সিনেমায় তাঁর নতুন গান শোনা যাবে ঠিকই, তবে ভবিষ্যতে নতুন প্লেব্যাক প্রজেক্ট তিনি নেবেন না—এই পথেই আপাতত হাঁটতে চান তিনি।
এ ছাড়া স্বাধীন সঙ্গীত, লাইভ কনসার্ট, নতুন শিল্পীদের সঙ্গে সহযোগিতা—এই সব ক্ষেত্রেই তাঁকে আরও সক্রিয় ভাবে দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
ভারতীয় সংগীতজগতে এর প্রভাব
অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার পরিবর্তন নয়—এটি গোটা ভারতীয় সংগীতজগতের জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ, তিনি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউড ও আঞ্চলিক চলচ্চিত্র সংগীতে একপ্রকার আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
অনেক ছবির সাফল্যের পিছনে তাঁর কণ্ঠের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভবিষ্যতের সিনেমাগুলিতে নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসার সুযোগ পাবে—এমনটাই মনে করছেন সুরকার ও প্রযোজকদের একাংশ।
একই সঙ্গে এটি হয়তো নতুন ধারার সংগীতচর্চাকেও উৎসাহিত করবে। স্বাধীন সঙ্গীত, ইন্ডি আর্টিস্ট, পরীক্ষামূলক সাউন্ড—এই সব ক্ষেত্র আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া: মন খারাপ, কিন্তু সম্মান
অরিজিতের এই ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমে অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগে ভরা। অনেকেই লিখেছেন, সিনেমায় তাঁর গান ছাড়া ভাবতেই পারছেন না। কেউ কেউ বলেছেন, “বলিউড মানেই অরিজিৎ”—এই সমীকরণ ভেঙে যাবে ভাবতেই মন খারাপ লাগছে।
তবে একই সঙ্গে অনেক অনুরাগীই তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন শিল্পীর নিজের ইচ্ছা ও সৃজনশীল স্বাধীনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, “আপনি যেখানে গান গাইবেন, সেখানেই আমরা আপনাকে শুনব—সিনেমা হোক বা অন্য কোনও মাধ্যম।”
এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দেয়, অরিজিতের প্রতি শ্রোতাদের আবেগ কতটা গভীর।
লাইভ পারফরম্যান্স ও স্বাধীন সঙ্গীতের দিকে ঝোঁক
অরিজিতের পোস্টে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি লাইভ পারফরম্যান্স ও স্বাধীন সঙ্গীতের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তিনি আগেই বলেছেন, মঞ্চে তিনি প্রায়ই নিজের গানের অ্যারেঞ্জমেন্ট বদলে দেন, যাতে প্রতিটি পারফরম্যান্স আলাদা অনুভূতি দেয়।
এই প্রবণতা তাঁর সৃজনশীল মানসিকতারই পরিচায়ক। সিনেমার গান যেখানে অনেক সময় নির্দিষ্ট কাঠামো ও সময়সীমার মধ্যে বাঁধা থাকে, সেখানে লাইভ ও স্বাধীন সঙ্গীতে পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগ অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত হয়তো ভারতীয় সংগীতের স্বাধীন ধারাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সাহায্য করবে।
আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
অরিজিতের সংগীতজগতে প্রভাব শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা তাঁর সঙ্গে গাইতে জিয়াগঞ্জে তাঁর বাড়িতে এসেছেন—এই তথ্যই প্রমাণ করে, তাঁর সঙ্গীতের আবেদন কতটা বিশ্বজনীন।
এই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সিনেমার প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালে তাঁর হাতে সময় ও মানসিক পরিসর থাকবে নতুন ধরনের সহযোগিতা ও পরীক্ষার জন্য।
এর ফলে ভারতীয় সংগীতের আন্তর্জাতিক পরিচিতিও আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমনটাই আশা করছেন সংগীতপ্রেমীরা।
গুরু প্রীতম ও শিক্ষানবিশ সময়ের প্রভাব
অরিজিতের ক্যারিয়ারে সুরকার প্রীতম চক্রবর্তীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিয়্যালিটি শোর পর কিছুটা সময় তিনি অন্তরালে ছিলেন, সেই সময় প্রীতমের কাছেই কাজ শিখছিলেন। সেই শিক্ষানবিশ সময়ই সম্ভবত তাঁকে সংগীতের গভীরতা ও বহুমাত্রিকতা বুঝতে সাহায্য করেছে।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি হয়তো শিখেছেন, সংগীত শুধু জনপ্রিয়তার হাতিয়ার নয়—এটি আত্মঅনুসন্ধানের মাধ্যমও হতে পারে। সিনেমার গান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তেও সেই দর্শনের ছাপ স্পষ্ট।
ভবিষ্যতে অরিজিতের পথচলা কোন দিকে?
এই মুহূর্তে অরিজিতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না দিলেও তাঁর বক্তব্য থেকে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়—
? তিনি নতুন ধরনের সঙ্গীত অনুসন্ধান করতে চান
? নতুন শিল্পীদের গান শুনে অনুপ্রাণিত হতে চান
? স্বাধীন সঙ্গীত ও লাইভ পারফরম্যান্সে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চান
? আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারেন
এই সব মিলিয়ে বলা যায়, সামনে অরিজিতের সংগীতযাত্রা আরও বহুমাত্রিক ও পরীক্ষামূলক হতে চলেছে।
শিল্পীর স্বাধীনতা বনাম বাজারের চাহিদা
অরিজিতের সিদ্ধান্ত একটি বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে আনে—একজন শিল্পীর সৃজনশীল স্বাধীনতা বনাম বাজারের চাহিদা। আজকের সংগীতশিল্পে যেখানে জনপ্রিয়তা, স্ট্রিমিং সংখ্যা ও বক্স অফিসের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, সেখানে একজন শীর্ষ শিল্পীর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া বিরল।
এটি দেখিয়ে দেয়, শিল্পীর কাছে কখনও কখনও নিজের সৃজনশীল তৃপ্তিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। অরিজিতের সিদ্ধান্ত সেই দর্শনেরই প্রতিফলন।