রোহিত শর্মার প্রশংসার পাশাপাশি তাঁকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সুনীল গাওস্কর অবসরের আগে হিটম্যান এর কাছে বিশেষ প্রত্যাশার কথা জানালেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিতকে নিয়ে গাওস্করের এই মন্তব্য কী তাঁর চ্যালেঞ্জের নেপথ্যে কোন ভাবনা রয়েছে তা নিয়েই কৌতূহল ক্রিকেটপ্রেমীদের
অবসরের আগে বয়সকে ছাপিয়ে যাক শতরান! রোহিতকে বিশেষ চ্যালেঞ্জ গাওস্করের রোহিত শর্মার ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেও তাঁর সামনে বিশেষ লক্ষ্য রাখলেন সুনীল গাওস্কর। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সময় হিটম্যান এর ওয়ানডে শতরানের সংখ্যা যেন তাঁর বয়সের চেয়ে বেশি হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে রোহিত শতরানের কাছাকাছি পৌঁছেও আউট হয়ে যাওয়ার পরে এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন গাওস্কর। তাঁর মন্তব্যে রোহিতের সামর্থ্যের প্রতি আস্থা এবং আরও বড় ইনিংস দেখার প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে। সেই ম্যাচে ৮৫ বলে ৯২ রান করেন রোহিত। শতরান থেকে মাত্র আট রান দূরে থেমে যায় তাঁর ইনিংস। আগের ম্যাচে শতরান করার পরে পরপর দ্বিতীয় শতরানের সুযোগ এসেছিল ভারতীয় ওপেনারের সামনে। সেটি পূর্ণ হলে ওয়ানডেতে তাঁর শতরানের সংখ্যা হতো ৩৬। তবে এই ম্যাচের পরে সংখ্যাটি ৩৫-এই থেকে যায়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহিতের বয়স এখন ৩৯ বছর। এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষিতেই গাওস্করের প্রত্যাশাটি তাৎপর্যপূর্ণ। গাওস্কর কেন এমন লক্ষ্য বেছে নিলেন, তার ব্যাখ্যায় নিজের কেরিয়ারের কথাও তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষ বছরে তিনিও চেয়েছিলেন, তাঁর টেস্ট শতরানের সংখ্যা যেন অবসরের সময়কার বয়সের সমান হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময়ে তিন বার নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়ায় ইচ্ছাটি পূরণ হয়নি। নিজের সেই অপূর্ণ প্রত্যাশার প্রসঙ্গ টেনেই রোহিতকে আরও শতরান করতে দেখতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে বয়সের চেয়ে বেশি শতরান দীর্ঘ সময় ধরে উঁচু মানের ব্যাটিং বজায় রাখার একটি বিশেষ প্রতীক। রোহিতের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ করেছেন গাওস্কর। তাঁর মতে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে রোহিত শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারতকে দ্রুত এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। সেই পদ্ধতিতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি তাড়াতাড়ি আউট হওয়ার ঝুঁকিও থাকত। এখন তাঁর খেলায় নিজের উইকেট ধরে রেখে বড় ইনিংস গড়ার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক। গাওস্করের মূল্যায়ন রোহিতের মতো ব্যাটারের কাছ থেকে শুধু দ্রুত ৩০ বা ৪০ রান নয়, নিয়মিত বড় স্কোরও প্রত্যাশিত।
এই প্রসঙ্গে দ্রুত শতরান করার গুরুত্বও বুঝিয়েছেন গাওস্কর। তাঁর মতে, রোহিত যদি ৭০ থেকে ৮০ বলের মধ্যে শতরান করেন, তবে তা দলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। কারণ, এতে একদিকে বড় ব্যক্তিগত ইনিংস তৈরি হয়, অন্যদিকে দলের রান তোলার গতিও ভালো থাকে। ফলে উইকেট ধরে রাখা এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে পারলে ভারত আরও বেশি উপকৃত হতে পারে গাওস্করের পর্যবেক্ষণের মূল ভাবনা এমনই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে রোহিতের ইনিংসের পরিস্থিতিও উল্লেখযোগ্য ছিল। শুভমন গিল এবং বিরাট কোহলি অল্প রানে ফিরে যাওয়ার পরে তিনি ভারতের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর ৯২ রানের ইনিংসে ছিল দশটি চার এবং তিনটি ছক্কা। ভারত শেষ ম্যাচে হেরে গেলেও তিন ম্যাচের সিরিজটি ২–১ ব্যবধানে জেতে। ফলে গাওস্করের শতরান নিয়ে আক্ষেপের পাশাপাশি রোহিতের ইনিংসের দলগত মূল্যও এই আলোচনায় জায়গা পায়। অবসর প্রসঙ্গে অবশ্য গাওস্করের বক্তব্যকে সতর্কভাবে বুঝতে হবে। তিনি ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পরে রোহিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়তে পারেন বলে একটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সেটিকে রোহিতের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা ঘোষিত অবসরের সময় হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। বয়সের চেয়ে বেশি ওয়ানডে শতরান করার লক্ষ্যটিও গাওস্করের ব্যক্তিগত প্রত্যাশা। এই মন্তব্যের ভিত্তিতে বলা যায় গাওস্কর রোহিতের সাম্প্রতিক ব্যাটিংয়ে আরও বড় অর্জনের সম্ভাবনা দেখছেন। শতরানের কাছে পৌঁছে থেমে যাওয়ায় তাঁর আক্ষেপ সেই উচ্চ প্রত্যাশা থেকেই এসেছে। সামনে যখনই রোহিত ভালো শুরু পাবেন, সেই ইনিংস কত দূর নিয়ে যেতে পারবেন গাওস্করের দেওয়া বিশেষ লক্ষ্য পূরণের পথে সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
রোহিত শর্মার ব্যাটিং নিয়ে সুনীল গাওস্করের মন্তব্যে উঠে এসেছে দ্রুত রান তোলা, বড় ইনিংস গড়া এবং নিজের উইকেটের গুরুত্ব বোঝার প্রসঙ্গ। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের প্রত্যাশা, রোহিত তাঁর ভালো শুরুগুলিকে আরও বেশি শতরানে পরিণত করুন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ওপেনার দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকলে দলের বড় স্কোর গড়ার সুযোগও বাড়ে। সেই কারণেই শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে রোহিতের আউট হয়ে যাওয়া গাওস্করকে হতাশ করেছে। দ্রুত শতরান করার প্রসঙ্গে গাওস্কর জানিয়েছেন, রোহিত যদি ৭০ থেকে ৮০ বলের মধ্যে শতরান পূর্ণ করেন, তা ভারতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এমন ইনিংসে ব্যক্তিগত সাফল্যের সঙ্গে দলের প্রয়োজনও পূরণ হয়। একজন ওপেনার দ্রুত রান করে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারলে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ বজায় থাকে। অন্য প্রান্তের ব্যাটারও পরিস্থিতি বুঝে নিজের ইনিংস সাজানোর সুযোগ পান। একদিনের ক্রিকেটে শুরুর ব্যাটারদের সামনে একাধিক দায়িত্ব থাকে। নতুন বল সামলানো, পাওয়ারপ্লের সুযোগ কাজে লাগানো এবং পরবর্তী ওভারগুলির জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করা সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। শুরু থেকেই আক্রমণ করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারালে সেই পরিকল্পনায় বাধা আসতে পারে। আবার অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে খেললে রান তোলার গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই জায়গাতেই রোহিতের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গাওস্করের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ব্যাটিংয়ের এই ভারসাম্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া যায়। উইকেট ধরে রাখার অর্থ প্রতিটি আক্রমণাত্মক শট এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং কোন বলে ঝুঁকি নেওয়া যাবে, কখন স্ট্রাইক বদল করতে হবে এবং কখন বোলারের ওপর চাপ বাড়ানো প্রয়োজন সেই সিদ্ধান্তগুলি সঠিকভাবে নেওয়া। ভালো শুরু পাওয়ার পরে একজন ব্যাটার যতক্ষণ ক্রিজে থাকেন, তাঁর সামনে ইনিংসকে বড় করার সুযোগ তত বেশি থাকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে রোহিতের ইনিংস সেই আলোচনার একটি প্রাসঙ্গিক উদাহরণ। শুভমন গিল এবং বিরাট কোহলি অল্প রানে ফিরে যাওয়ার পরে তিনি ভারতের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর ৯২ রানের ইনিংসে ছিল দশটি চার এবং তিনটি ছক্কা। শতরান পূর্ণ না হলেও দলের জন্য সেই রানগুলির গুরুত্ব ছিল। শুরুর ধাক্কার পরে একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের এমন ইনিংস পরবর্তী ব্যাটারদের সামনে লড়াই করার ভিত্তি তৈরি করে। মাত্র আট রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হওয়ায় আক্ষেপ থাকা স্বাভাবিক। তবে একটি ইনিংসের মূল্য নির্ধারণ করতে তার পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। দল কখন উইকেট হারিয়েছে, ব্যাটার কীভাবে চাপ সামলেছেন এবং তাঁর রান দলের ইনিংসকে কতটা এগিয়ে দিয়েছে এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। রোহিতের ব্যাটিং নিয়ে গাওস্করের প্রশংসা ও প্রত্যাশাকে তাই একসঙ্গে দেখলে মন্তব্যটির ভাবনা আরও পরিষ্কার হয়। ভারত শেষ ম্যাচে হেরে গেলেও তিন ম্যাচের সিরিজটি ২–১ ব্যবধানে জেতে। এই ফল মনে করিয়ে দেয়, ক্রিকেটে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং দলের চূড়ান্ত ফল একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একজন ব্যাটারের বড় ইনিংস দলকে সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু ম্যাচ জিততে বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে হয়। একইভাবে, ম্যাচে পরাজয় কোনো কার্যকর ব্যাটিং ইনিংসের অবদান মুছে দেয় না।
গাওস্করের দেওয়া বিশেষ লক্ষ্যটি রোহিতের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের আলোচনায় আরও একটি মাত্রা যোগ করেছে। তিনি চান, অবসরের সময় রোহিতের বয়সের চেয়ে তাঁর ওয়ানডে শতরানের সংখ্যা বেশি হোক। এই প্রত্যাশার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বড় রান করার ক্ষমতার স্বীকৃতি রয়েছে। তবে এটি গাওস্করের ব্যক্তিগত ইচ্ছা। রোহিত নিজে এই লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন এমন বক্তব্য এখানে দেওয়া হচ্ছে না। অবসরের সম্ভাবনা নিয়েও একই সতর্কতা প্রয়োজন। গাওস্কর ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পরে রোহিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়তে পারেন বলে একটি সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সেই মন্তব্যকে নিশ্চিত অবসরের ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। কোনো ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সম্ভাবনা এবং তাঁর নিজের ঘোষণার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। গাওস্করের মন্তব্য থেকে যে প্রত্যাশা স্পষ্ট হয় তা হলো রোহিতের ব্যাট থেকে আরও বড় এবং কার্যকর ইনিংস দেখা। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ভালো শুরুগুলিকে শতরানে পরিণত করতে পারলে ভারতও উপকৃত হতে পারে। আগামী ম্যাচগুলিতে রোহিত কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের ব্যাটিং সাজান এবং পাওয়া সুযোগ কাজে লাগান, তার মধ্যেই এই বিশেষ প্রত্যাশা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।