Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সচিনের রেকর্ডে ভাগ বসালেন জ্যানসেন দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ODI-তে গড়লেন ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে নজির গড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো জ্যানসেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে ODI ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরের এক পুরনো রেকর্ডেও ভাগ বসালেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডার মার্কো জ্যানসেন আবারও নজর কাড়লেন তাঁর দুরন্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে। বল হাতে আগুনে গতি, ব্যাট হাতে ঝোড়ো রান এবং ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ ক্যাচ—এক ম্যাচেই তিন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ODI ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল এক তালিকায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন এই প্রোটিয়া ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডারবানে আয়োজিত ম্যাচে জ্যানসেনের পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

ম্যাচে ব্যাট হাতে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন মার্কো জ্যানসেন। লোয়ার অর্ডারে নেমে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। শুধু ব্যাটিংয়েই থেমে থাকেননি তিনি। ফিল্ডিংয়ের সময় চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি বল হাতে একটি উইকেটও সংগ্রহ করেন। অর্থাৎ একই ম্যাচে অন্তত ৫০ রান, চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট—এই তিনটি কৃতিত্ব একসঙ্গে অর্জন করেন জ্যানসেন।

এই পারফরম্যান্সের ফলেই ODI ক্রিকেটের একটি বিশেষ ও বিরল তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলরাউন্ডার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই তালিকায় তাঁর আগে ছিলেন মাত্র চারজন ক্রিকেটার। সেই চারজনের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর। ফলে জ্যানসেনের এই কীর্তি আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।

সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন মার্কো জ্যানসেন

ODI ক্রিকেটে একই ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান, অন্তত চারটি ক্যাচ এবং অন্তত একটি উইকেট নেওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে খুব কম ক্রিকেটারই এক ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগে এমন পরিসংখ্যান তৈরি করতে পেরেছেন।

১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথম এই বিশেষ কীর্তি গড়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সগুলির মধ্যে সেটিও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ইউনিস খান, মাইকেল ক্লার্ক এবং মার্নাস লাবুশেন এই বিরল তালিকায় নিজেদের নাম যুক্ত করেন।

এ বার সেই তালিকায় পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নিলেন মার্কো জ্যানসেন। ফলে সচিন তেন্ডুলকরকে ছুঁয়ে ODI ক্রিকেটের এই বিশেষ পরিসংখ্যানে নাম লেখালেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা অলরাউন্ডার।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স

ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মার্কো জ্যানসেনের পারফরম্যান্স ছিল তিন বিভাগেই কার্যকর। ব্যাট হাতে তাঁর ৭৫ রান দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে এমন ইনিংস দলের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করে।

আধুনিক ODI ক্রিকেটে লোয়ার অর্ডারের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দ্রুত রান করার প্রত্যাশা থাকে। জ্যানসেনও সেই দায়িত্ব পালন করেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে। তাঁর ৭৫ রানের ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, দলের মোট স্কোরের ক্ষেত্রেও তা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

এর পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে চারটি ক্যাচ নেওয়া তাঁর পারফরম্যান্সকে আরও সম্পূর্ণ করে তোলে। ক্রিকেটে ক্যাচ ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। চারটি ক্যাচ নেওয়ার মাধ্যমে জ্যানসেন প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের আউট করার ক্ষেত্রে সরাসরি অবদান রেখেছেন।

বল হাতেও তিনি সাফল্য পান। একটি উইকেট নেওয়ার ফলে তাঁর ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যান দাঁড়ায়—৭৫ রান, চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট। আর এই সংখ্যাগুলিই তাঁকে ODI ক্রিকেটের বিরল রেকর্ডের তালিকায় পৌঁছে দিয়েছে।

কেন এই রেকর্ড এত বিশেষ?

ক্রিকেটে একই ম্যাচে ব্যাট হাতে ৫০ রান করা এবং বোলিংয়ে উইকেট নেওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। আবার ভালো ফিল্ডাররা একটি ম্যাচে একাধিক ক্যাচও নিতে পারেন। কিন্তু একই ম্যাচে ৫০+ রান, চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট—এই তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।

একজন ক্রিকেটারকে এখানে ব্যাটিংয়ে সফল হতে হয়, বোলিংয়ে উইকেট নিতে হয় এবং ফিল্ডিংয়েও একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। ফলে এই ধরনের পারফরম্যান্স একজন ক্রিকেটারের অলরাউন্ড দক্ষতার পরিচয় দেয়।

মার্কো জ্যানসেনের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটিই দেখা গিয়েছে। ব্যাটিংয়ে ৭৫ রান করার পর তিনি ফিল্ডিংয়ে চারটি ক্যাচ নেন এবং বোলিংয়ে একটি উইকেট সংগ্রহ করেন। ফলে একই ম্যাচে তাঁর অবদান তিনটি বিভাগেই ছড়িয়ে পড়ে।

সচিন থেকে জ্যানসেন—বিরল তালিকার যাত্রা

এই বিশেষ রেকর্ডের ইতিহাসে প্রথম নামটি সচিন তেন্ডুলকরের। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। সচিনের ক্রিকেটজীবনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং এবং ফিল্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। সেই সময় তাঁর এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল।

এরপর ইউনিস খান এই তালিকায় যোগ দেন। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউনিস তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও যথেষ্ট কার্যকর ছিলেন।

তালিকায় পরবর্তী নাম মাইকেল ক্লার্কের। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়কও এক ম্যাচে ব্যাট, বল এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগে এমন উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন।

এরপর মার্নাস লাবুশেন এই বিরল তালিকায় জায়গা করে নেন। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত ক্রিকেটার লাবুশেনের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো জ্যানসেনের নাম।

news image
আরও খবর

অর্থাৎ সচিন তেন্ডুলকর, ইউনিস খান, মাইকেল ক্লার্ক এবং মার্নাস লাবুশেনের পর পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে এই বিশেষ কীর্তি অর্জন করলেন জ্যানসেন।

মার্কো জ্যানসেনের অলরাউন্ড দক্ষতা

মার্কো জ্যানসেনকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে দেখা হয়। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে বাঁহাতি পেস বোলিং এবং লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান করার ক্ষমতা। তাঁর উচ্চতা এবং বোলিং অ্যাকশনের কারণে ব্যাটারদের বিরুদ্ধে বাড়তি বাউন্স তৈরি করার সক্ষমতাও রয়েছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দেখিয়েছে যে শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট এবং ফিল্ডিংয়েও তিনি ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেন।

৭৫ রানের ইনিংসের সঙ্গে চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট—এই পরিসংখ্যান একজন ক্রিকেটারের বহুমুখী দক্ষতারই উদাহরণ। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে চারটি ক্যাচ নেওয়া তাঁর পারফরম্যান্সকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।

ODI ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব

একদিনের ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েছে। একজন ক্রিকেটার যদি ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের পাশাপাশি ভালো ফিল্ডিং করতে পারেন, তাহলে দলের ভারসাম্য অনেকটাই বাড়ে।

মার্কো জ্যানসেনের মতো ক্রিকেটাররা এই কারণে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিয়মিত ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে নেমে দ্রুত রান করার সুযোগ পান এবং একই সঙ্গে নতুন বল বা মাঝের ওভারে বোলিং করার দায়িত্বও পালন করতে পারেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই বহুমুখী ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একই ম্যাচে তিন বিভাগে অবদান রেখে তিনি শুধু নিজের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেননি, ODI ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের পাতাতেও নিজের নাম যুক্ত করেছেন।

ক্রিকেটপ্রেমীদের নজরে নতুন রেকর্ড

মার্কো জ্যানসেনের এই পারফরম্যান্স সামাজিক মাধ্যম এবং ক্রিকেট মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে একই বিরল তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হওয়ায় এই কীর্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সচিনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের সঙ্গে একই পরিসংখ্যানগত তালিকায় জায়গা পাওয়া যে কোনও ক্রিকেটারের জন্যই উল্লেখযোগ্য ঘটনা। যদিও দুই ক্রিকেটারের যুগ, ভূমিকা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদা, তবুও একটি নির্দিষ্ট ODI পরিসংখ্যানে একই তালিকায় থাকা জ্যানসেনের কৃতিত্বকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে জ্যানসেনের গুরুত্ব

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে মার্কো জ্যানসেনকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের একজন হিসেবে দেখা হয়। তাঁর বয়স তুলনামূলকভাবে কম হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই তিনি নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

বিশেষ করে লম্বা গড়ন, বাঁহাতি পেস এবং ব্যাট হাতে বড় শট খেলার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি তিনি তিন বিভাগেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৭৫ রান, চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট তাঁর অলরাউন্ড ক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

রেকর্ডের তালিকায় পঞ্চম নাম

সব মিলিয়ে মার্কো জ্যানসেনের এই পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল বিরল ODI রেকর্ড। একই ম্যাচে অন্তত ৫০ রান, চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট নেওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় আগে ছিলেন চারজন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরও রয়েছেন।

১৯৯৮ সালে সচিনের হাত ধরে যে বিশেষ তালিকার সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে ইউনিস খান, মাইকেল ক্লার্ক এবং মার্নাস লাবুশেন সেখানে জায়গা করে নেন। এবার পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে সেই তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন মার্কো জ্যানসেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ৭৫ রানের ইনিংস, চারটি ক্যাচ এবং একটি উইকেট তাই শুধু একটি ম্যাচের পরিসংখ্যান নয়; এটি ODI ক্রিকেটের একটি বিরল পরিসংখ্যানগত কীর্তির অংশ হয়ে গেল।

ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডারের মূল্য শুধু রান বা উইকেট দিয়ে বিচার করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ নেওয়া, প্রতিপক্ষের ব্যাটারকে আউট করা এবং দলের প্রয়োজনের সময় রান করা—এই তিনটি ভূমিকা একসঙ্গে পালন করাই একজন সম্পূর্ণ ক্রিকেটারের পরিচয়। ডারবানের ম্যাচে মার্কো জ্যানসেন ঠিক সেই ধরনের পারফরম্যান্সই উপহার দিয়েছেন।

তাঁর এই কীর্তির মাধ্যমে ODI ক্রিকেটের বিশেষ রেকর্ডের তালিকায় নতুন একটি নাম যুক্ত হল। সচিন তেন্ডুলকর, ইউনিস খান, মাইকেল ক্লার্ক এবং মার্নাস লাবুশেনের পর এবার সেই তালিকায় মার্কো জ্যানসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ অলরাউন্ডারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Preview image