Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গলসিতে তুঙ্গে ভোট লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি আসন যুদ্ধ

গলসির সভা থেকে অনুব্রত মণ্ডলের দাবি  ২৪০ র বেশি আসনে জিতে ফের সরকার গড়বে তৃণমূল  পাল্টা বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্রের দাবি  ২০০ র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।

গলসির রাজনৈতিক ময়দান এখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে জোরদার লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। গলসির পারাজ এলাকায় অনুষ্ঠিত এক বড় জনসভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে বড় বার্তা দিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এবারও ২৪০-র বেশি আসন জিতে সরকার গড়বে তৃণমূল কংগ্রেস। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অন্যদিকে বিজেপিও পাল্টা দাবি তুলে জানিয়েছে, ২০০-র বেশি আসন জিতে এবার বাংলায় সরকার গড়বে তারাই। ফলে গলসির ভোটমঞ্চে শুরু হয়েছে আসন সংখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা।

গতকাল সন্ধ্যায় গলসির পারাজে তৃণমূল প্রার্থী অলোক কুমার মাঝির সমর্থনে বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সভার আয়োজন করেন জেলা সংখ্যালঘু শাখার সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী অলোক কুমার মাঝি, গলসি-১ ব্লকের যুব সভাপতি রহমত মোল্লা, সহ-সভাপতি দোলন দত্ত, অনুপ চ্যাটার্জি, তাপস সোম সহ একাধিক নেতা-কর্মী ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক। সভা ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয় এবং প্রচুর মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা যায়।

মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল রাজ্য সরকারের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে সাধারণ মানুষের জন্য একের পর এক জনমুখী প্রকল্প চালু হয়েছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী, স্বাস্থ্যসাথী, ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা, কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প—এসবের সুফল সাধারণ মানুষ পেয়েছেন। তাই বাংলার মানুষ আবারও তৃণমূলের উপর আস্থা রাখবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস।

অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্যে স্পষ্ট আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, বিরোধীরা যতই সমালোচনা করুক, উন্নয়নের প্রশ্নে তৃণমূলের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। রাজ্যের মানুষ জানেন কে কাজ করেছে আর কে শুধু বড় বড় কথা বলেছে। তাই এবারও ২৪০-র গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর এই মন্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

সভা থেকে বিজেপিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে এবং বাংলার উন্নয়ন আটকানোর চেষ্টা করে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এই রাজনীতি ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন এবং নির্বাচনে তার জবাব দেবেন।

অন্যদিকে, অনুব্রত মণ্ডলের এই দাবি একেবারেই মানতে নারাজ বিজেপি শিবির। বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র পাল্টা দাবি করে বলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনে দুর্নীতি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে মানুষ বিজেপির পক্ষেই রায় দেবেন। তাঁর মতে, ২০০-র বেশি আসন পেয়ে এবার বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি।

রাজু পাত্র আরও বলেন, বাংলার মানুষ এখন বিকল্প শক্তি হিসেবে বিজেপিকেই দেখছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন এবং উন্নয়নের স্বার্থে এবার নতুন সরকার গড়তে চাইছেন ভোটাররা। তিনি তৃণমূলের ২৪০ আসনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ বলেও কটাক্ষ করেন।

গলসি এলাকায় এই পাল্টাপাল্টি দাবি এখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে তৃণমূল নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখে ভোট চাইছে, অন্যদিকে বিজেপি পরিবর্তনের ডাক তুলে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ফলে গলসি বিধানসভা কেন্দ্র এখন দুই প্রধান দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসনে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গলসিতে এবারের লড়াই বেশ জমজমাট হতে চলেছে। গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক, সংখ্যালঘু ভোট, যুব সমাজের সমর্থন এবং উন্নয়নের ইস্যু—সব মিলিয়ে এখানে ফলাফল কোন দিকে যাবে তা এখনই বলা কঠিন। দুই পক্ষই নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তাই প্রচারে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কেউই।

তৃণমূলের পক্ষে অলোক কুমার মাঝিকে নিয়ে প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় সংগঠন মজবুত করতে বুথস্তরে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও রাজু পাত্রকে সামনে রেখে প্রচার বাড়াচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সভা, বাড়ি বাড়ি প্রচার, কর্মী বৈঠক—সব মিলিয়ে গলসিতে ভোটের লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

আরও খবর

গলসির সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতাদের বড় বড় দাবি, আসন সংখ্যা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য কিংবা জয়ের পূর্বাভাস—এসব নতুন কোনও বিষয় নয়। প্রতি নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে। ভোটারদের মন জয় করতে সভা-মিছিল, প্রচার অভিযান, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা—সবই চলে সমানতালে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যকে এখন অনেকেই নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত মানুষ কাকে সমর্থন করবেন, তার প্রকৃত উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের দিনই। কারণ জনসভায় ভিড়, স্লোগান, রাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা নেতাদের আত্মবিশ্বাস—এসব সবসময় ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয় না। নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় কে ক্ষমতায় আসবে, কোন দল এগিয়ে থাকবে, আর কারা পিছিয়ে পড়বে। সেই কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যত বড় দাবিই করা হোক না কেন, ফলাফল না বেরোনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এই মুহূর্তে গলসির রাজনৈতিক মাঠ যথেষ্ট গরম। এলাকাজুড়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট। দুই পক্ষই নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং আসন সংখ্যা নিয়েও বড় বড় দাবি তুলছে। তৃণমূলের তরফে ২৪০-র বেশি আসন জিতে ফের সরকার গড়ার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও জানাচ্ছে, ২০০-র বেশি আসন পেয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসবে তারাই। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, গলসি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও চর্চিত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে শুধু স্থানীয় প্রার্থী বা এলাকার সমস্যা নয়, রাজ্য রাজনীতির বড় লড়াইয়ের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের উন্নয়ন বনাম বিজেপির পরিবর্তনের ডাক—এই দুই স্লোগান এখন ভোটযুদ্ধের মূল কেন্দ্রে রয়েছে। ফলে গলসির ভোটের ফলাফলও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই গলসির রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এলাকাজুড়ে এখন প্রচারের জোরদার লড়াই শুরু হয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপি—দুই পক্ষই নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে মরিয়া। জনসভা, পথসভা, বাড়ি বাড়ি প্রচার, মিছিল, কর্মী বৈঠক এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার—সব ক্ষেত্রেই এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। ভোট যত ঘনিয়ে আসবে, ততই এই প্রচারের ঝাঁজ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণও এখন নির্বাচনী লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে। একদিকে তৃণমূল তাদের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ, সামাজিক প্রকল্প এবং জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের হিসাব তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যা, দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছে, আর সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও।

গলসির মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বুথস্তরে সংগঠন শক্ত করা এখন সব দলের কাছেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নির্বাচনে শুধু বড় সভা করলেই হয় না, ভোটের দিন বুথে বুথে সংগঠনের শক্তিই অনেক সময় ফল নির্ধারণ করে। তাই দলীয় কর্মীদের সক্রিয় রাখা, ভোটার তালিকা যাচাই, প্রত্যেক বাড়িতে যোগাযোগ করা এবং স্থানীয় সমস্যা শুনে তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার কাজ চলছে জোরকদমে। তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই বুথভিত্তিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও চলছে জোর প্রতিযোগিতা। যুব ভোটার, মহিলা ভোটার, কৃষক, শ্রমিক, সংখ্যালঘু ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে লক্ষ্য করে আলাদা আলাদা বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পকে সামনে রাখছে, অন্যদিকে বিজেপি পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে। প্রত্যেক ভোটার গোষ্ঠীকে নিজেদের দিকে টানতেই এখন মরিয়া দুই দল।

সব মিলিয়ে গলসিতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের আগে কে কত দাবি করছে, কে কতটা আত্মবিশ্বাসী—তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। এখন দেখার, শেষ হাসি কে হাসে—তৃণমূল না বিজেপি। ভোটের ফলই দেবে সেই চূড়ান্ত উত্তর।

 

Preview image