কল্যাণী আরটিও ও রানাঘাট পুলিশ জেলার চাকদহ ট্রাফিক গার্ডের যৌথ অভিযানে এনএইচ ১২ জুড়ে টোটো ও ই-রিক্সার বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হল একাধিক গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পাশাপাশি চালকদের ফাইন ও সতর্ক করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত জাতীয় সড়ক এনএইচ ১২-তে অবৈধভাবে টোটো ও ই-রিক্সার চলাচল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল একাধিক অভিযোগ। জাতীয় সড়কে ধীরগতির এই যানবাহনের কারণে যেমন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল, তেমনই বাড়ছিল দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। অবশেষে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। কল্যাণী আরটিও এবং রানাঘাট পুলিশ জেলার চাকদহ ট্রাফিক গার্ডের যৌথ উদ্যোগে এনএইচ ১২ জুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হয় টোটো ও ই-রিক্সার বিরুদ্ধে।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাকদহ ট্রাফিক গার্ডের ওসি অলোক ভট্টাচার্য সহ ট্রাফিক বিভাগের একাধিক পুলিশ আধিকারিক এবং কল্যাণী আরটিও-র আধিকারিকরা। সকাল থেকেই এনএইচ ১২-র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকিং শুরু হয়। জাতীয় সড়কে চলাচলকারী টোটো ও ই-রিক্সাগুলিকে থামিয়ে তাদের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। যেসব গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছিল না কিংবা বেআইনিভাবে জাতীয় সড়কে চলাচল করছিল, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে অন্তত ছয়টিরও বেশি টোটো ও ই-রিক্সা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু চালককে জরিমানাও করা হয়েছে। ট্রাফিক আধিকারিকদের বক্তব্য, এনএইচ ১২-তে টোটো বা ই-রিক্সার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বহু চালক আইন অমান্য করে জাতীয় সড়কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এর ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কে ভারী যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক, লরি ও পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল অত্যন্ত বেশি। সেই রাস্তার উপর হঠাৎ ধীরগতির টোটো বা ই-রিক্সা উঠে পড়ায় অনেক সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এর জেরে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, যান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে জাতীয় সড়কের উপর টোটোর উপস্থিতি অন্যান্য যানবাহনের গতি কমিয়ে দিচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন কড়া মনোভাব গ্রহণ করে। অভিযানের সময় টোটো চালকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে এনএইচ ১২-তে টোটো বা ই-রিক্সা নিয়ে উঠলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আধিকারিকরা জানান, শুধু আইন ভঙ্গই নয়, জাতীয় সড়কে টোটো চালানো যাত্রীদের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। কারণ দ্রুতগতির গাড়ির মাঝে এই ধরনের ছোট যানবাহন অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
অভিযান চলাকালীন বহু টোটো চালককে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এনএইচ ১২ জুড়ে অভিযান শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেক চালক জাতীয় সড়ক এড়িয়ে গ্রামের রাস্তা বা ছোট রাস্তায় চলে যান। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং নিয়ম ভাঙলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাকদহ ট্রাফিক গার্ড ও আরটিও আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ধরপাকড় নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। দুর্ঘটনা কমানো এবং জাতীয় সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তারা আরও জানান, জাতীয় সড়কে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অনুমোদিত যানবাহন চলাচল করতে পারবে। বেআইনিভাবে টোটো বা ই-রিক্সা চললে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে।
অন্যদিকে, এই অভিযানে সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেক যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল কমলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া, অফিসযাত্রী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত তাঁদের।
তবে টোটো চালকদের একাংশের দাবি, জীবিকার প্রয়োজনে অনেক সময় জাতীয় সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হন তাঁরা। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় সড়কে এই ধরনের যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে চালকদের।
এনএইচ ১২-তে বেআইনি টোটো ও ই-রিক্সা চলাচল রুখতে বড়সড় অভিযানে নামল প্রশাসন। কল্যাণী আরটিও এবং রানাঘাট পুলিশ জেলার চাকদহ ট্রাফিক গার্ডের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় সড়ক জুড়ে চালানো হল ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান। দীর্ঘদিন ধরেই এনএইচ ১২-তে টোটো ও ই-রিক্সার অবাধ চলাচল নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসনের তরফে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একাধিক টোটো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, পাশাপাশি বহু চালককে জরিমানা করা হয়েছে এবং কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকদহ ট্রাফিক গার্ডের ওসি অলোক ভট্টাচার্য সহ ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ আধিকারিক এবং কল্যাণী আরটিও-র আধিকারিকরা এদিন যৌথভাবে এনএইচ ১২-র বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং শুরু করেন। সকাল থেকেই জাতীয় সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টোটো ও ই-রিক্সা থামিয়ে তাদের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। যেসব গাড়ির বৈধ নথি ছিল না অথবা বেআইনিভাবে জাতীয় সড়কে চলাচল করছিল, সেগুলির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এনএইচ ১২-তে টোটো ও ই-রিক্সার চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ জাতীয় সড়কে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, লরি ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ধীরগতির টোটো চললে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, আচমকা টোটো সামনে চলে আসায় ভারী যানবাহনের চালকদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়েছে। ফলে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। শুধু দুর্ঘটনাই নয়, যানজট ও যান চলাচলেও ব্যাপক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
অভিযানের সময় পুলিশ আধিকারিকরা টোটো চালকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চলবে এবং নিয়ম ভাঙলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু গাড়ি বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা নয়, প্রয়োজনে আইনি মামলাও দায়ের করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিনের অভিযানে অন্তত ছয়টিরও বেশি টোটো ও ই-রিক্সা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বহু চালকের কাছ থেকে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জাতীয় সড়ক জুড়ে টোটো চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক চালক তড়িঘড়ি বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে শুরু করেন। কেউ কেউ জাতীয় সড়ক এড়িয়ে গ্রামের রাস্তা বা ছোট রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেন।
পুলিশ ও আরটিও আধিকারিকদের বক্তব্য, এই ধরনের অভিযান শুধুমাত্র ধরপাকড়ের জন্য নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক টোটো চালক এখনো জাতীয় সড়কে চলাচলের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন নন। দ্রুতগতির গাড়ির মধ্যে টোটো বা ই-রিক্সা চললে শুধু চালক নয়, যাত্রীদের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, এনএইচ ১২-তে টোটোর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। এর ফলে বহু সময় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল এবং রাস্তার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে অফিস টাইমে এবং ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছিল। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, টোটো চালকরা নিয়ম না মেনে যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছেন কিংবা হঠাৎ লেন পরিবর্তন করছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছিল।
সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলেও সুবিধা হবে। যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে।
তবে অন্যদিকে টোটো চালকদের একাংশের দাবি, জীবিকার স্বার্থেই অনেক সময় তাঁদের জাতীয় সড়কে উঠতে হয়। ছোট রাস্তা দিয়ে সবসময় যাতায়াত সম্ভব হয় না বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও জাতীয় সড়কে নিরাপত্তার প্রশ্নকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তাই বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে টোটো চালকদের।
বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, এই কড়া অভিযানের পরে এনএইচ ১২-তে টোটো ও ই-রিক্সার চলাচল কতটা কমে। প্রশাসনের নজর এখন সেই দিকেই। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে জাতীয় সড়কে বেআইনি টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে প্রশাসন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে জীবিকার প্রশ্ন— দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। তবে নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা রোধের স্বার্থে জাতীয় সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধু অভিযান চালালেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি টোটো চালকদের জন্য বিকল্প রুট নির্ধারণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক নিয়ম সম্পর্কে প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে চালকেরা ভুল সিদ্ধান্ত নেন। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও চালকদেরও সচেতন হওয়া জরুরি।
এছাড়াও এনএইচ ১২-র মতো ব্যস্ত জাতীয় সড়কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলছেন অনেকে। সিসিটিভি নজরদারি, নিয়মিত ট্রাফিক চেকিং এবং কঠোর জরিমানার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চলবে এবং কোনোভাবেই জাতীয় সড়কে বেআইনি টোটো চলাচল বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। ফলে আগামী দিনে এনএইচ ১২-তে আরও কড়া নজরদারি দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই অভিযান ঘিরে বর্তমানে চাকদহ, কল্যাণী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর প্রশাসন সঠিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলে এবং জাতীয় সড়কে টোটো ও ই-রিক্সার বেআইনি চলাচল কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে।