Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কবিগুরু Rabindranath Tagore-কে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে আবেগঘন বার্তা প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র

বিশ্বকবি Rabindranath Tagore-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। কবিগুরুর সাহিত্য, চিন্তাধারা ও মানবতার বার্তা আজও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য ঘিরে সংস্কৃতি ও সাহিত্য মহলে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগঘন পরিবেশ।

জাতীয় খবর

ভারতীয় সাহিত্য সংস্কৃতি এবং মানবতার ইতিহাসে যাঁর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তিনি হলেন বিশ্বকবি Rabindranath Tagore। তাঁর সৃষ্টি তাঁর দর্শন এবং তাঁর মানবিক চিন্তাধারা শুধু বাংলা ভাষাভাষী মানুষকেই নয় বরং গোটা বিশ্বকে আজও সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। কবিগুরুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর এই বার্তাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাহিত্যপ্রেমী মানুষ থেকে শুরু করে সংস্কৃতিমনস্ক সমাজের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগঘন পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধুমাত্র একজন কবি ছিলেন না তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক শিক্ষাবিদ সুরকার চিত্রকর এবং মানবতাবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতীক। তাঁর সাহিত্য আজও নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম মানবিকতা এবং আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা দেয়। কবিগুরুর লেখনী ভারতীয় সমাজকে নতুন দিশা দেখিয়েছে এবং স্বাধীনতার চেতনায় এক নতুন আলো জ্বালিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম উচ্চারণ করলেই প্রথমেই মনে পড়ে যায় তাঁর অমর সৃষ্টি ‘গীতাঞ্জলি’। এই কাব্যগ্রন্থের জন্যই তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন এবং প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভারতের গৌরবকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তাঁর লেখা শুধু কবিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। উপন্যাস গল্প নাটক গান প্রবন্ধ সর্বত্রই তিনি এক অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন কবিগুরুর প্রতিটি রচনা মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি করে এবং সময়ের সীমানা অতিক্রম করে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদী চিন্তাধারার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন বর্তমান সময়েও সমাজে সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কবিগুরুর ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর লেখায় যে উদারতা এবং বিশ্বমানবতার বার্তা রয়েছে তা ভারতীয় সংস্কৃতির মূল চেতনাকে তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা ও আদর্শ শুধু ভারতের নয় বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা।

কবিগুরুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন আজও বিশ্বভারতীর মাধ্যমে শিক্ষা এবং সংস্কৃতির এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন যেখানে মানুষ শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং প্রকৃতি সংস্কৃতি এবং মানবিকতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকবে। তাঁর সেই স্বপ্ন আজও লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। বহু সাহিত্যিক শিল্পী শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিচারণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান। অনেকে বলেন যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি গোটা জাতিকে একসূত্রে বাঁধেন। তাঁর সাহিত্য এবং সংগীত আজও প্রতিটি বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বাংলা ভাষার কবি ছিলেন না তিনি ছিলেন বিশ্বমানবতার কবি। তাঁর লেখা মানুষের মনকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখায়। তাঁর ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতা আজও স্বাধীন চিন্তার প্রতীক হিসেবে সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়টিকেও বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং বলেন যে নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

রবীন্দ্রসংগীতের প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তায়। তিনি বলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান শুধু সুর নয় বরং মানুষের অনুভূতির এক গভীর প্রকাশ। আনন্দ দুঃখ প্রেম দেশপ্রেম প্রকৃতি এবং জীবনের নানা অনুভূতি তাঁর গানের মাধ্যমে অসাধারণভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ তাঁর সৃষ্টি হওয়া গোটা বাঙালি জাতির কাছে গর্বের বিষয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয় বরং বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাঁর লেখা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী হতে শেখায় এবং সমাজকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে যে মানসিক চাপ এবং বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে সেখানে রবীন্দ্রনাথের মানবিক শিক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

news image
আরও খবর

এই আবেগঘন বার্তাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্মরণসভা আয়োজন করা হয়। কবিগুরুর গান কবিতা আবৃত্তি এবং নাটকের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। শান্তিনিকেতনেও বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় যেখানে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকরা কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সংস্কৃতি মহলের একাংশের মতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁকে নিয়ে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন সম্ভব নয়। তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই শ্রদ্ধার্ঘ্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা নয় বরং জাতীয় আবেগের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত লাইন শেয়ার করে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করেন। কেউ তাঁর গান গেয়ে ভিডিও পোস্ট করেন আবার কেউ তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কবিগুরুকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই মনে করছেন এই ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে সাহায্য করবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য এবং দর্শনের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর সার্বজনীনতা। ধর্ম বর্ণ ভাষা বা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন যে বিশ্বশান্তি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য আজও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তাধারা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

বিশ্বজুড়ে আজ যখন নানা ধরনের সংঘাত এবং বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে তখন কবিগুরুর মানবতার বাণী নতুন করে মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর লেখা আমাদের শেখায় ভালোবাসা সহমর্মিতা এবং ঐক্যের মূল্য। এই কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু অতীতের স্মৃতি নন তিনি বর্তমানেরও প্রেরণা এবং ভবিষ্যতেরও পথপ্রদর্শক।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই আবেগঘন বার্তা সেই সত্যকেই আরও একবার সামনে এনে দিল। কবিগুরুর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা দেশের কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে মিশে গিয়ে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন সাহিত্যিক নন তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি ও মানবতার চিরন্তন প্রতীক।

আজও যখন বাংলার ঘরে ঘরে রবীন্দ্রসংগীত বাজে যখন স্কুলের অনুষ্ঠানে তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয় যখন প্রেম বিরহ প্রকৃতি বা দেশপ্রেমের অনুভূতিতে মানুষ তাঁর গান খুঁজে নেয় তখন বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত গভীরভাবে মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তাঁর সৃষ্টি সময়কে অতিক্রম করে যুগের পর যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য তাই শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তা নয় এটি ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান এবং বিশ্বকবির প্রতি জাতির গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ এবং মানবিক বার্তা আগামী দিনেও দেশবাসীকে পথ দেখাবে এমনটাই বিশ্বাস করছেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলের মানুষজন।

প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র এই বার্তার পর দেশজুড়ে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও বিশ্বকবি Rabindranath Tagore-কে স্মরণ করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সংগীতশিল্পী অভিনেতা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন করে রবীন্দ্রচর্চার আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে কবিগুরুর বিভিন্ন উক্তি কবিতা এবং গান ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। অনেকে মনে করছেন বর্তমান সময়ের অস্থিরতা এবং বিভাজনের রাজনীতির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক দর্শন সমাজকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে। তাঁর সাহিত্য মানুষের মধ্যে ভালোবাসা সহমর্মিতা এবং উদারতার শিক্ষা দেয় যা আজকের সমাজে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শান্তিনিকেতনসহ বাংলার বিভিন্ন জেলায় কবিগুরুর স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে যেখানে ছোট ছোট শিশুদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত এবং আবৃত্তি বিশেষ আবেগের পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু অতীতের ইতিহাস নন তিনি বর্তমান এবং ভবিষ্যতেরও প্রেরণা। তাঁর আদর্শ আগামী প্রজন্মকে আরও মানবিক এবং সংস্কৃতিমনস্ক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন দেশের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।

Preview image