Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পয়লা বৈশাখের পুণ্য লগ্নে মাতৃসম ক্লাবে মোহনবাগান ফুটবল সচিব বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় সবুজ মেরুন আবেগে ভাসল ময়দান এবং নতুন মরশুমের শুভ সূচনা

১৫ই এপ্রিল ২০২৬ শুভ নববর্ষের পুণ্য লগ্নে এবং পয়লা বৈশাখের সকালে এক অভূতপূর্ব আবেগের সাক্ষী থাকল কলকাতা ময়দান। মাতৃসম ক্লাব মোহনবাগান প্রাঙ্গণে বার পুজো এবং নববর্ষ উদযাপনে উপস্থিত হলেন ফুটবল সচিব বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। সবুজ মেরুন সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, মিষ্টিমুখ এবং নতুন ফুটবল মরশুমের সাফল্যের কামনায় মুখরিত হয়ে উঠল গোটা ক্লাব তাবু। আধুনিক প্রজন্মের উন্মাদনা এবং ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেল আজকের এই ঐতিহাসিক এবং আবেগঘন অনুষ্ঠানে।  

কলকাতা ১৫ই এপ্রিল ২০২৬

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে আবেগপূর্ণ, ঐতিহ্যবাহী এবং সর্বজনীন উৎসব হলো পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। নতুন জামার গন্ধ, হালখাতার মিষ্টি, আর একে অপরকে 'শুভ নববর্ষ' জানানোর মধ্য দিয়ে বাঙালি তাদের সমস্ত পুরনো গ্লানি মুছে ফেলে এক নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে। তবে এই পয়লা বৈশাখের দিন কলকাতা ময়দানের চিত্রটা হয় সম্পূর্ণ অন্যরকম। বিশেষ করে গঙ্গার ধারের সবুজ মেরুন তাঁবু অর্থাৎ মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রাঙ্গণ এই দিন এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়। আজ ১৫ই এপ্রিল ২০২৬, বাংলা ১৪৩৩ সনের প্রথম দিনটিতে মোহনবাগান ক্লাবে আয়োজিত হলো ঐতিহ্যবাহী 'বার পুজো' বা গোলপোস্ট পুজো। আর এই পুণ্য লগ্নে ক্লাবের হাজার হাজার সমর্থক এবং সদস্যদের উপস্থিতিতে এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্যের অবতারণা হলো, যখন ক্লাবের ফুটবল সচিব বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় মাতৃসম ক্লাবে এসে উপস্থিত হলেন। তার উপস্থিতি এবং মোহনবাগানের প্রতি তার গভীর আবেগ আজ ময়দানের সবুজ ঘাসে এক নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে।

মোহনবাগান কেবল একটি ফুটবল ক্লাব নয়, এটি হলো কোটি কোটি বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আবেগের এক বিশাল বড় প্রতিষ্ঠান। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব ১৯১১ সালে খালি পায়ে ব্রিটিশদের হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জয় করে সমগ্র পরাধীন ভারতকে যে জাগরণের মন্ত্র শিখিয়েছিল, সেই ঐতিহ্য আজও অমলিন। আর সেই ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে পয়লা বৈশাখের দিন বার পুজো হলো ময়দানের এক অত্যন্ত পবিত্র প্রথা। আজ সকাল থেকেই মোহনবাগান তাঁবুর সামনে অগণিত সবুজ মেরুন সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আবালবৃদ্ধবনিতা, প্রত্যেকেই নিজেদের গায়ে সবুজ মেরুন জার্সি চাপিয়ে, হাতে দলের পতাকা নিয়ে ক্লাবের মূল ফটকের সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন। চারিদিকে কেবল একটাই স্লোগান, "জয় মোহনবাগান"। এই উন্মাদনা এবং ভালোবাসার মাঝেই যখন ফুটবল সচিব বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় ক্লাবে এসে প্রবেশ করেন, তখন সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আক্ষরিক অর্থেই আকাশ ছুঁয়ে যায়। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।

বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ কোনো প্রশাসক বা সচিব হিসেবে নয়, বরং মোহনবাগানের একজন অন্ধ ভক্ত এবং ঘরের ছেলে হিসেবেই ক্লাবে এসেছিলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ গলায় মোহনবাগানকে তার 'মাতৃসম ক্লাব' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "মোহনবাগান আমার কাছে কেবল একটি ক্লাব নয়, এটি আমার মায়ের মতো। এই ক্লাবের মাটি, এই ক্লাবের ঘাস এবং এই ক্লাবের প্রতিটি ইটের সাথে আমার নাড়ির টান জড়িয়ে আছে। পয়লা বৈশাখের দিন মায়ের আশীর্বাদ না নিয়ে যেমন কোনো কাজ শুরু করা যায় না, ঠিক তেমনি মোহনবাগান তাঁবুতে এসে এই বার পুজোয় অংশগ্রহণ না করলে আমার নববর্ষ সম্পূর্ণ হয় না।" তার এই কথাগুলো উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের হৃদয়ে এক গভীর রেখাপাত করে। তারা বুঝতে পারেন যে ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের মনেও ঠিক তাদের মতোই একই রকম আবেগ এবং ভালোবাসা কাজ করছে। একটি ক্লাবের আসল শক্তি তার সমর্থকরা, আর যখন কর্তারা সেই সমর্থকদের আবেগের সাথে একাত্ম হয়ে যান, তখন সেই ক্লাবকে কোনো শক্তিই আটকাতে পারে না।

বার পুজোর মূল অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভক্তি এবং নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন হয়। পুরোহিতদের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ ধুনোর গন্ধ এবং উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে মোহনবাগান মাঠের দুই প্রান্তের গোলপোস্টে ফুল ও মালা পরানো হয়। এই বার পুজোর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো নতুন মরশুমে ক্লাবের ফুটবলাররা যেন কোনো রকম চোট আঘাত থেকে মুক্ত থাকেন এবং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে ক্লাবের জন্য ট্রফি জয় করতে পারেন। গত কয়েক মরশুমে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) এবং ডুরান্ড কাপে যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে, সেই সাফল্যের ধারা যেন আগামী মরশুমেও অব্যাহত থাকে, আজ সেই কামনাই করা হলো। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পুজোর প্রতিটি কাজ তদারকি করেন এবং স্বয়ং গোলপোস্টে সিঁদুরের টিকা পরিয়ে দেন। এরপর ক্লাবের সমস্ত ফুটবলার, প্রাক্তন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সদস্যদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পয়লা বৈশাখের এই মিষ্টিমুখ কেবল একটি প্রথা নয়, এটি হলো সমস্ত তিক্ততা ভুলে আগামী দিনের জন্য এক সুন্দর এবং ঐক্যবদ্ধ পথচলার অঙ্গীকার।

মোহনবাগানের এই আবেগ কেবল প্রবীণ বা পুরনো প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আধুনিক ডিজিটাল যুগে বর্তমান তরুণ সমাজের মধ্যেও এই ক্লাবের প্রতি এক অভাবনীয় এবং গগনচুম্বী উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান প্রজন্ম, যারা হয়তো সারাদিন নিজেদের ক্যারিয়ার এবং পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাদেরও বিনোদন এবং মুক্তির প্রধান জায়গা হলো এই সবুজ মেরুন ক্লাব। অনেক তরুণ আছেন যারা অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের সাথে ভারতীয় রেলওয়ের গ্রুপ ডি (Railway Group D) বা অন্যান্য সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সারাদিন বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকা এবং বেকারত্বের চরম মানসিক চাপের মধ্যে তাদের জীবনে একমাত্র বিশুদ্ধ আনন্দের উৎস হলো মোহনবাগান। এই তরুণরা যখনই একটু সময় পান, তারা নিজেদের স্মার্টফোনে বা কনসোলে বসে অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে ইফুটবল (eFootball) গেম খেলেন। আর এই ভার্চুয়াল জগতেও তারা নিজেদের স্বপ্নের 'মোহনবাগান ড্রিম টিম' সাজাতে ভোলেন না। প্রথম বিভাগে বা ডিভিশন ওয়ানে বিদেশের তাবড় তাবড় গেমারদের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের জার্সি পরিয়ে নিজেদের দলকে খেলানোই তাদের কাছে এক অন্যরকম তৃপ্তি। এই তরুণরা প্রমাণ করেছেন যে আধুনিক গ্লোবাল ভিলেজে বসেও তারা নিজেদের শেকড়কে ভোলেননি।

এই তরুণ প্রজন্মের কাছে মোহনবাগান কেবল একটি আবেগ নয়, এটি তাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার এক বিশাল অনুপ্রেরণা। রেলওয়ে গ্রুপ ডি-র মতো কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় যখন তারা হতাশ হয়ে পড়েন, তখন তারা মনে করেন মোহনবাগানের সেই ১৯১১ সালের লড়াইয়ের কথা, যেখানে খালি পায়ে এগারোজন বাঙালি ব্রিটিশদের শক্তিশালী বুটের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছিল। এই ইতিহাস তাদের মনে এক অদম্য জেদ তৈরি করে। তারা বুঝতে পারেন যে হার না মানা মানসিকতা থাকলে জীবনের যেকোনো কঠিন পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। আজ পয়লা বৈশাখের দিনও প্রচুর তরুণ সমর্থক, যাদের পরনে আধুনিক স্টাইলের পোশাক, কিন্তু বুকে সেই চিরন্তন সবুজ মেরুন লোগো, তারা ক্লাবে এসে ভিড় জমিয়েছেন। তারা ফুটবল সচিব বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সেলফি তুলছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করছেন। আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যের এই যে এক অপূর্ব মেলবন্ধন, এটাই হলো মোহনবাগান ক্লাবের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আগামী দিনের পথ চলার পাথেয়।

news image
আরও খবর

বার পুজোর অনুষ্ঠানের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ফুটবল মরশুমের জন্য ক্লাবের ব্লুপ্রিন্ট বা রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে মোহনবাগান কেবল সর্বভারতীয় স্তরে নয়, বরং এশিয়ান স্তরেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে মোহনবাগান যাতে এক অত্যন্ত শক্তিশালী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তার জন্য ম্যানেজমেন্ট ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভারতীয় তরুণ প্রতিভাদের তুলে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের লক্ষ্য কেবল চ্যাম্পিয়ন হওয়া নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো এমন এক ফুটবল খেলা যা দর্শকদের মনে আনন্দ দেবে। মোহনবাগান সবসময় আক্রমণাত্মক এবং সুন্দর ফুটবলে বিশ্বাস করে। আগামী মরশুমেও আমরা সমর্থকদের সেই সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের স্কোয়াডকে আরও শক্তিশালী করছি।" তার এই কথাগুলো সমর্থকদের মনে আগামী মরশুম নিয়ে এক বিশাল আশার সঞ্চার করেছে।

মোহনবাগান ক্লাবের এই বিরাট সাফল্যের পেছনে কেবল মাঠের এগারোজন খেলোয়াড়ই নন, ক্লাবের কর্তাদের নিরলস পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতার এক বিশাল অবদান রয়েছে। ফুটবল সচিব হিসেবে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দিনরাত এক করে ক্লাবের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি জানেন যে আধুনিক ফুটবলে কেবল আবেগ দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না, তার জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত উন্নত পরিকাঠামো, স্পোর্টস সায়েন্স এবং পেশাদারিত্ব। মোহনবাগান তাঁবুকে আজ এক অত্যন্ত আধুনিক এবং বিশ্বমানের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে পরিণত করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য অত্যাধুনিক জিমনেশিয়াম, রিকভারি রুম এবং ভিডিও অ্যানালিসিস রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখের এই পবিত্র দিনে দাঁড়িয়ে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দেন যে মোহনবাগান ক্লাবের পরিকাঠামোকে আগামী দিনে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর সমকক্ষ করে তোলা হবে, যাতে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা সুযোগ সুবিধা পেয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে।

এছাড়াও ক্লাবের সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটিও আজ অত্যন্ত সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। মোহনবাগান কেবল মাঠে ফুটবল খেলে না, সমাজের যেকোনো বিপদে আপদে এই ক্লাব সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। রক্তদান শিবির থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ বণ্টন—সব ক্ষেত্রেই মোহনবাগান এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ঘোষণা করেন যে নতুন মরশুমে ক্লাবের পক্ষ থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং গরিব পরিবারের প্রতিভাবান ফুটবলারদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বিশেষ অ্যাকাডেমি তৈরি করা হবে। যে সমস্ত শিশুদের পায়ে ফুটবল প্রতিভা আছে কিন্তু টাকার অভাবে তারা ভালো বুট কিনতে পারে না বা সঠিক কোচিং পায় না, মোহনবাগান ক্লাব সেই সমস্ত শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই মহতী উদ্যোগ মোহনবাগানকে কেবল একটি ফুটবল ক্লাবের গণ্ডি থেকে বের করে এক বিশাল সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে, যা সমগ্র সমাজের জন্য এক বিশাল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

পয়লা বৈশাখের এই অনুষ্ঠানটি ময়দানের অন্যান্য ক্লাবগুলোর জন্যও এক বিশাল বার্তা বহন করে আনে। ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেও আজ বার পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। ময়দানের এই তিন প্রধান একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, পয়লা বৈশাখের দিন এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে গিয়ে এক অদ্ভুত ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়। মোহনবাগান কর্তারা যেমন অন্য ক্লাবের কর্তাদের শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান, ঠিক তেমনি ময়দানের সাধারণ মানুষও আজ রঙ ভুলে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান। এই সম্প্রীতি এবং ভালোবাসাই হলো বাংলার ফুটবলের আসল সৌন্দর্য। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার বক্তব্যে ময়দানের এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, "মাঠে নব্বই মিনিট আমরা একে অপরের শত্রু হতে পারি, কিন্তু মাঠের বাইরে আমরা সবাই এক বিশাল ফুটবল পরিবারের অংশ। আমরা চাই বাংলার ফুটবল আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাক এবং কলকাতা ময়দান আবার সমগ্র ভারতের ফুটবলের মক্কা হয়ে উঠুক।" তার এই বক্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের এবং ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিশাল প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলারদের সম্মান জানানো হয়। যারা একসময় নিজেদের ঘাম এবং রক্ত দিয়ে মোহনবাগানের জার্সি ভিজিয়েছেন এবং ক্লাবের জন্য অসংখ্য ট্রফি এনে দিয়েছেন, আজ তাদের অবদানকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই প্রবীণ ফুটবলারদের হাতে ফুলের তোড়া এবং মিষ্টি তুলে দেন। প্রাক্তন ফুটবলাররা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তারা বলেন যে মোহনবাগান ক্লাব কোনোদিন তাদের ভুলে যায়নি, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে এই প্রবীণ খেলোয়াড়রা হলেন এক একটি জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তাদের পায়ের জাদুকরী স্কিল এবং ক্লাবের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আধুনিক ফুটবলারদের শেখায় যে কীভাবে একটি জার্সির সম্মান রক্ষা করতে হয়।

আজকের এই পয়লা বৈশাখের পুণ্য লগ্নে মাতৃসম ক্লাবে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং মোহনবাগান ক্লাবের এই জাঁকজমকপূর্ণ বার পুজো সমগ্র বাংলার ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। যে মোহনবাগান ক্লাবের সাথে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি বাঙালির সুখ, দুঃখ, হাসি এবং কান্না, সেই ক্লাব আজ নতুন মরশুমের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আধুনিক প্রজন্মের সেই তরুণ গেমাররা যারা ইফুটবলে মোহনবাগান ড্রিম টিম বানিয়ে ডিভিশন ওয়ানে খেলেন, অথবা সেই পরিশ্রমী ছাত্রটি যে রেলওয়ে গ্রুপ ডি পরীক্ষার কঠিন প্রস্তুতি নিচ্ছে—প্রত্যেকের জীবনেই মোহনবাগান হলো এক বিশাল বড় আবেগের নাম। এই আবেগ কোনোদিন শেষ হওয়ার নয়। সূর্য যত দিন পূর্ব দিকে উঠবে এবং গঙ্গার জল যতদিন বইবে, মোহনবাগান ক্লাবের এই সবুজ মেরুন আবেগ বাংলার মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে। আমরা আশা করব আগামী মরশুমে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট নিজেদের দুরন্ত পারফরম্যান্স দিয়ে এশিয়া জুড়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করবে এবং সমর্থকদের মনে আরও অনেক আনন্দের মুহূর্ত উপহার দেবে।

পরিশেষে এটা বলাই বাহুল্য যে পয়লা বৈশাখের দিন মোহনবাগান তাঁবুর এই দৃশ্য বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফুটবল সচিব বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি একজন যোগ্য প্রশাসক হওয়ার পাশাপাশি একজন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আবেগপ্রবণ মানুষ, যার হৃদয়ে কেবলই মোহনবাগান বিরাজ করে। মাতৃসম ক্লাবের প্রতি তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং নিষ্ঠা আগামী দিনে মোহনবাগানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বার পুজোর এই পবিত্র আগুন এবং সিঁদুরের লাল রঙ নতুন মরশুমে খেলোয়াড়দের পায়ে এক নতুন জাদু তৈরি করবে। ময়দান আবার গর্জে উঠবে 'জয় মোহনবাগান' স্লোগানে। আমরা লেন্সপিডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে মোহনবাগান ক্লাবের সমস্ত কর্মকর্তা, খেলোয়াড় এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত সমর্থকদের জানাই শুভ নববর্ষের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আসুন আমরা সবাই মিলে বাংলার ফুটবলের এই জয়যাত্রায় শামিল হই এবং মোহনবাগানের সাফল্য কামনা করি। বিস্তারিত খবরের জন্য এবং মোহনবাগান তাঁবুর বার পুজোর সম্পূর্ণ ভিডিও ও উন্মাদনার দৃশ্য দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায়।

Preview image