Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কলকাতার গড়িয়া মহাশ্মশান চত্বরে বেআইনি দখলদারদের হঠাতে বিশাল অভিযান জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিল কলকাতা পুরসভা

২১শে মে ২০২৬ কলকাতার অন্যতম পবিত্র এবং ঐতিহ্যবাহী গড়িয়া মহাশ্মশান চত্বরকে জবরদখল মুক্ত করতে আজ সকাল থেকে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভা রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে বিশাল বুলডোজার এনে শ্মশানের আশেপাশের সমস্ত বেআইনি দোকান এবং নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিবেশ থেকে শ্মশান চত্বর মুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল স্বস্তি এবং সন্তোষের জন্ম নিয়েছে  

কলকাতা ২১শে মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত জনবহুল এবং দক্ষিণ কলকাতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গড়িয়া আজ এক অভাবনীয় ঐতিহাসিক এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের সাক্ষী হয়ে রইল গড়িয়ার আদি গঙ্গার তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত পবিত্র গড়িয়া মহাশ্মশান চত্বরকে সম্পূর্ণভাবে জবরদখল মুক্ত করতে আজ সকাল থেকে এক বিশাল এবং আপোষহীন উচ্ছেদ অভিযান চালাল কলকাতা পুরসভা বা কেএমসি বিগত কয়েক দশক ধরে এই মহাশ্মশানের প্রবেশদ্বার এবং আদি গঙ্গার পাড় ঘেঁষে যে বিশাল বেআইনি দখলদারির সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল আজ মাত্র কয়েক ঘণ্টার বুলডোজারের গর্জনে তা সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ হয়ে গেল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার যে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে গড়িয়ার আজকের এই উচ্ছেদ অভিযান সেই নীতিরই এক অত্যন্ত সফল এবং কঠোর বাস্তব রূপ সাধারণ মানুষ যারা নিজেদের প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে এই শ্মশানে আসতেন এবং চরম হয়রানির শিকার হতেন তারা আজ প্রশাসনের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে রীতিমতো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন

গড়িয়া মহাশ্মশান কেবল দক্ষিণ কলকাতা নয় সমগ্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে এক অত্যন্ত পবিত্র এবং আবেগপূর্ণ স্থান প্রতিদিন শত শত শোকস্তব্ধ পরিবার নিজেদের মৃত স্বজনদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য এই মহাশ্মশানে আসেন মানুষের জীবনের শেষ যাত্রার এই স্থানটি হওয়া উচিত অত্যন্ত শান্ত কোলাহলমুক্ত এবং পবিত্র কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের মদতে এই শ্মশানের চারপাশ এক সম্পূর্ণ অরাজক এবং নরকতুল্য পরিবেশে পরিণত হয়েছিল শ্মশানের মূল গেটের সামনে থেকে শুরু করে আদি গঙ্গার পাড় পর্যন্ত সরকারি জায়গা সম্পূর্ণভাবে দখল করে নিয়েছিল অসংখ্য বেআইনি দোকানদার এবং জবরদখলকারীরা বাঁশ ত্রিপল কাঠ এবং কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল সারি সারি বেআইনি স্টল চায়ের দোকান ফাস্ট ফুডের দোকান থেকে শুরু করে নানা রকম সামগ্রী বিক্রির এই দোকানগুলো এমনভাবে শ্মশানের রাস্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল যে শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার জন্য কোনো জায়গাই অবশিষ্ট ছিল না

শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোকে নিজেদের প্রিয়জনের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে এই ঘিঞ্জি নোংরা এবং কোলাহলপূর্ণ বাজারের মধ্যে দিয়ে অত্যন্ত কষ্টে শ্মশানের ভেতরে প্রবেশ করতে হতো মৃত মানুষের প্রতি নূন্যতম সম্মান প্রদর্শনের যে পরিবেশ থাকা উচিত এই বেআইনি জবরদখলের কারণে তা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এর পাশাপাশি এই বেআইনি দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক এবং পচা জঞ্জাল আদি গঙ্গার জলে ফেলা হতো যার ফলে গঙ্গার জল অত্যন্ত দূষিত হয়ে পড়েছিল এবং নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল শ্মশানের পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত করে এই বেআইনি স্টলগুলোর আড়ালে রাতের অন্ধকারে নানারকম অসামাজিক কাজ এবং নেশার আসর বসত বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষ বারবার এই অবরুদ্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে কলকাতা পুরসভা এবং প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ভোট ব্যাংকের রাজনীতির কারণে এই জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস প্রশাসন দেখাতে পারেনি

কিন্তু রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রশাসনিক সমীকরণে এক বিশাল এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে নতুন বিজেপি সরকার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে রাজ্যের কোনো সরকারি জমি বা পবিত্র স্থান জবরদখলকারীদের হাতে অবরুদ্ধ থাকতে দেওয়া হবে না আইন সবার জন্য সমান এবং উন্নয়নের স্বার্থে জিরো টলারেন্স নীতি অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে সরকারের এই কড়া বার্তার পরই কলকাতা পুরসভা গড়িয়া মহাশ্মশান চত্বরকে সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করার এক নিশ্ছিদ্র ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে পুরসভার তরফ থেকে একাধিকবার এলাকায় মাইকিং করে প্রচার চালানো হয় বেআইনি স্টল মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয় যে তারা যেন স্বেচ্ছায় সরকারি জায়গা খালি করে দেন এবং নিজেদের মালপত্র সরিয়ে নেন কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে অনেক দখলদার এই সরকারি নির্দেশকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তারা ভেবেছিলেন যে আগের মতোই হয়তো কোনো স্থানীয় নেতার হস্তক্ষেপে তারা নিজেদের বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন

আজ বৃহস্পতিবার ভোরবেলা যখন গড়িয়ার মানুষ ভালো করে ঘুম থেকে ওঠেননি ঠিক তখনই কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং পুরসভার আধিকারিকরা গড়িয়া মহাশ্মশানের সামনে এসে উপস্থিত হন সাথে ছিল কলকাতা পুরসভার একাধিক পেলোডার এবং বিশালাকার হলুদ বুলডোজার পুলিশের র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং কমব্যাট ফোর্সের জওয়ানরা পুরো এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে কর্ডন করে ফেলেন যাতে কোনো রকম বহিরাগত মানুষ বা রাজনৈতিক নেতা এই উচ্ছেদ অভিযানে বাধা সৃষ্টি করতে না পারেন সকাল সাতটা বাজতে না বাজতেই শুরু হয় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সেই ঐতিহাসিক কাজ বুলডোজারের বিশাল থাবা মুহূর্তের মধ্যে উপড়ে ফেলতে থাকে বছরের পর বছর ধরে গজিয়ে ওঠা সেই জবরদখলের শিকড়গুলো বাঁশ কাঠ ত্রিপল এবং টিনের চালাগুলো চোখের পলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা কংক্রিটের স্টলগুলোকেও অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়

উচ্ছেদ অভিযানের এই তীব্রতা এবং বুলডোজারের গর্জন শুনে এলাকার জবরদখলকারীদের মধ্যে এক চরম আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়ি পড়ে যায় যারা একটু আগে অত্যন্ত নিশ্চিন্তে নিজেদের দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা প্রশাসনের এই রণংদেহী মূর্তি দেখে নিজেদের মালপত্র গুছিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন অনেক জবরদখলকারী পুলিশের পায়ে ধরে অনুরোধ করতে থাকেন যাতে তাদের অন্তত মালপত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি সামাল দেন তারা মালপত্র সরানোর জন্য সামান্য সময় দিলেও কোনো বেআইনি কাঠামোকে অক্ষত রাখতে রাজি হননি পুরসভার কয়েকশো সাফাই কর্মী পুলিশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে থাকেন তারা ভেঙে পড়া দোকানের ধ্বংসাবশেষ এবং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা জঞ্জাল বড় বড় ডাম্পার লরিতে তুলে শহরের বাইরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন

news image
আরও খবর

এই বিশাল উচ্ছেদ অভিযানের ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক পর গড়িয়া মহাশ্মশান চত্বর তার আসল এবং প্রশস্ত রূপ ফিরে পেয়েছে শ্মশানের সামনের রাস্তাটি যে এত চওড়া এবং আদি গঙ্গার পাড়টি যে এত উন্মুক্ত তা হয়তো বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই আগে কোনোদিন স্বচক্ষে দেখার সুযোগ পাননি অবরুদ্ধ রাস্তা পরিষ্কার হওয়ার ফলে এখন শববাহী গাড়িগুলো অত্যন্ত সহজে এবং কোনো রকম বাধা ছাড়াই শ্মশানের মূল গেট পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারছে সাধারণ মানুষ যারা আজ সকালে মৃতদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানে এসেছিলেন তারা প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ দেখে রীতিমতো মুগ্ধ এবং অত্যন্ত আনন্দিত তারা বলছেন যে মানুষের জীবনের শেষ যাত্রার এই স্থানটিকে এত সুন্দর এবং পরিষ্কার দেখে তাদের মনে এক গভীর প্রশান্তির সৃষ্টি হয়েছে মৃত আত্মারা আজ সত্যিই এক পবিত্র পরিবেশে শান্তি পাবে বলে তারা মনে করছেন

স্থানীয় বাসিন্দারা যারা নিজেদের বাড়ির সামনে বেআইনি দোকানের কারণে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হচ্ছিলেন তারা কলকাতা পুরসভার এই কড়া পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানাচ্ছেন তারা বলছেন যে দীর্ঘদিন পর তারা নিজেদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন এবং আদি গঙ্গার দূষণ বন্ধ হওয়ায় এলাকায় দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে গেছে অসামাজিক কাজের আখড়াগুলো ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিশেষ করে মহিলারা এখন অত্যন্ত নির্ভয়ে শ্মশানের আশেপাশের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন এলাকার সাধারণ নাগরিক সমাজ এবং পরিবেশ কর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে আদি গঙ্গাকে বাঁচানোর যে লড়াই করে আসছিলেন আজকের এই উচ্ছেদ অভিযান সেই লড়াইয়ের এক বিশাল বড় জয় বলে মনে করা হচ্ছে গঙ্গার পাড় জবরদখল মুক্ত হওয়ার ফলে এখন গঙ্গা সংস্কারের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে

তবে এই উন্নয়নের এবং পবিত্রতা রক্ষার খবরের পাশাপাশি রয়েছে এক চরম হতাশা এবং রুটিরুজি হারানোর গল্প উচ্ছেদ হওয়া বেআইনি স্টল মালিকদের জীবনে আজ নেমে এসেছে এক বিশাল অন্ধকার চোখের সামনে নিজেদের উপার্জনের জায়গা ভেঙে যেতে দেখে অনেক জবরদখলকারী রাস্তায় বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের এই হাহাকার এক অত্যন্ত জটিল আর্থ সামাজিক বাস্তবতাকে আমাদের সামনে তুলে ধরে আমাদের সমাজে হাজার হাজার মানুষ আছেন যারা প্রথাগত শিক্ষা বা সরকারি চাকরি পাননি তারা কোনো রকমে সামান্য কিছু পুঁজি নিয়ে এই সরকারি জায়গাগুলো দখল করে ছোট ব্যবসা করেই নিজেদের জীবন ধারণ করেন এই মানুষগুলোর করুণ পরিণতি দেখে অনেক সাধারণ নাগরিকও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন কিন্তু প্রশাসন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে রুটিরুজির দোহাই দিয়ে সরকারি জমি দখল করে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না আইন সবার জন্য সমান এবং একটি বাসযোগ্য শহর গড়তে হলে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেই হয়

কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে গড়িয়া মহাশ্মশানকে জবরদখল মুক্ত করার এই কাজ কেবল শুরু মাত্র জিরো টলারেন্স নীতির এই রূপ ধরে রাখার জন্য এখন থেকে প্রতিনিয়ত কড়া নজরদারি চালানো হবে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনোভাবেই কোনো জবরদখলকারী পুনরায় শ্মশান চত্বরে নিজেদের অস্থায়ী দোকান বসাতে না পারে এর জন্য শ্মশান চত্বরে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে এবং রাউন্ড দ্য ক্লক পাহারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে পুরসভার আগামী দিনের পরিকল্পনা হলো এই জবরদখল মুক্ত হওয়া আদি গঙ্গার পাড়কে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা সেখানে আধুনিক পেভার ব্লক বসিয়ে হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে এবং প্রচুর গাছ লাগিয়ে এক সুন্দর সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোর বসার জন্য আধুনিক এবং পরিষ্কার ওয়েটিং লাউঞ্জ পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং উন্নত শৌচালয় তৈরি করা হবে যাতে মহাশ্মশান চত্বর এক বিশ্বমানের রূপ পায়

রাজ্য সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি সমগ্র কলকাতার অন্যান্য এলাকার জবরদখলকারীদের মনেও এক বিশাল ভয়ের সঞ্চার করেছে শহরের ফুটপাত রেল স্টেশন এবং সরকারি হাসপাতালগুলোর আশেপাশে যারা বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে সরকারি জায়গা দখল করে বসে আছেন তারা বুঝতে পারছেন যে প্রশাসনের এই বুলডোজার যেকোনো দিন তাদের দরজাতেও কড়া নাড়তে পারে একটি আধুনিক উন্নত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজ্য গঠন করার জন্য প্রশাসনের এই আপোষহীন মনোভাব অত্যন্ত জরুরি সাধারণ নাগরিকদেরও উচিত এই পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান জানানো এবং কোনো অবস্থাতেই রাস্তার ধারের বেআইনি দোকান থেকে কেনাকাটা করে তাদের উৎসাহিত না করা নাগরিক এবং প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় একটি শহর সম্পূর্ণভাবে জবরদখল মুক্ত এবং সুন্দর থাকতে পারে

ডিজিটাল মিডিয়া এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে আজ সকাল থেকেই গড়িয়া মহাশ্মশানের এই উচ্ছেদ অভিযানের ছবি এবং ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে আধুনিক ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে লাইভ ব্রডকাস্ট করে সাধারণ মানুষের সামনে এই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরেছে নেটিজেনদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে এক বিশাল আলোচনা শুরু হয়েছে অনেকেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে লিখছেন যে একটি উন্নত শহর গড়তে হলে এই ধরনের কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি পবিত্র শ্মশান চত্বরকে জঞ্জালমুক্ত করার এই উদ্যোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে তরুণ প্রজন্ম যারা আধুনিক এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বাঁচতে অভ্যস্ত তারা শহরের এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন

পরিশেষে এটা অত্যন্ত গর্বের এবং স্বস্তির সাথে বলা যায় যে একুশে মে তারিখের আজকের এই উচ্ছেদ অভিযান গড়িয়া এবং সমগ্র কলকাতার ইতিহাসে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী এবং সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে মহাশ্মশানের মতো একটি পবিত্র স্থানকে জবরদখল মুক্ত করার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং সংকল্প থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা সম্ভব যে এলাকাটি একদিন জঞ্জাল ভিড় এবং অরাজকতার কারণে মানুষের বিরক্তির কারণ ছিল আজ সেই এলাকা উন্মুক্ত এবং প্রশস্ত হয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক বিশাল আনন্দের সঞ্চার করেছে মৃত মানুষের প্রতি সম্মান এবং সাধারণ পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য আজ সম্পূর্ণভাবে সুনিশ্চিত আমরা প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই এবং আশা করি আগামী দিনেও শহরকে সুন্দর এবং জবরদখল মুক্ত রাখার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই উচ্ছেদ অভিযানের লেটেস্ট গ্রাউন্ড রিপোর্ট ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন আমাদের ডিজিটাল পর্দায়

Preview image