Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পশ্চিমবঙ্গে ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা? সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যানের সমর্থন, শীঘ্রই বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফের পাশ-ফেল প্রথা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। শিক্ষক সংগঠনের দাবির পর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার?

পশ্চিমবঙ্গে ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা? পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণি নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা, শুরু হবে আলোচনা

West Bengal Education News: পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় ফের বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এবার সেই দাবি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রাজ্যের নতুন স্কুল সিলেবাস ও কারিকুলাম এক্সপার্ট কমিটি।

স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন একটি শিক্ষক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ও পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনা করতে চায় রাজ্য।

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেন ফিরতে পারে পাশ-ফেল প্রথা?

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ুয়াদের শিক্ষাগত দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শ্রেণির উপযোগী জ্ঞান অর্জন করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষাগত অগ্রগতির যথাযথ পর্যালোচনা না হলে পড়ুয়াদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে উচ্চশ্রেণিতে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার দাবি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের অন্য একটি অংশের মতে, শুধুমাত্র পরীক্ষায় পাশ বা ফেল নির্ধারণ করলেই শিক্ষার মান উন্নত হবে না। তার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, উন্নত পাঠ্যপুস্তক এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থাও জরুরি।

কী বলছেন সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান?

রাজ্যের নতুন স্কুল সিলেবাস ও কারিকুলাম এক্সপার্ট কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, স্কুলশিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিভিন্ন মহল থেকে পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব এলে কমিটি তা বিবেচনা করতে পারে।

প্রয়োজনীয় আলোচনা এবং পর্যালোচনার পর শিক্ষাদপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে কমিটির সমর্থন বা সুপারিশের অর্থ এই নয় যে নতুন নিয়ম ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিক্ষক সংগঠনের দাবি

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সরব রয়েছে।

সম্প্রতি একটি শিক্ষক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি একই দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করতে হলে মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

তাদের মতে, কোনও শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট শ্রেণির মৌলিক বিষয়গুলি যথাযথভাবে না শিখে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠে গেলে ভবিষ্যতে পড়াশোনার চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।

২০১৮ সালে কী পরিবর্তন আনা হয়েছিল শিক্ষার অধিকার আইনে?

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের একই শ্রেণিতে আটকে না রাখার নীতি গুরুত্ব পেয়েছিল।

এই ব্যবস্থাকে সাধারণভাবে ‘নো ডিটেনশন পলিসি’ বলা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সংসদে শিক্ষার অধিকার আইন সংশোধনের বিল পাস হয়। সংশোধিত ব্যবস্থায় পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে নিয়মিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে সব রাজ্যে একইভাবে পাশ-ফেল ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যগুলিকে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

ফলে পশ্চিমবঙ্গেও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পরীক্ষায় ফেল করলে কি আবার সুযোগ পাবে পড়ুয়ারা?

পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।

সংশোধিত শিক্ষার অধিকার আইনের কাঠামো অনুযায়ী, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় কোনও শিক্ষার্থী নির্ধারিত মান অর্জন করতে না পারলে তাকে পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রথম পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত শিক্ষাগত সহায়তা দিতে হবে।

এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

পুনঃপরীক্ষাতেও নির্ধারিত মান অর্জন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তাকে একই শ্রেণিতে রাখার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

তবে পশ্চিমবঙ্গে এই পদ্ধতি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়।

দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের গুরুত্ব

শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক সময় কোনও শিক্ষার্থী গণিত, বাংলা, ইংরেজি বা অন্যান্য বিষয়ে দুর্বল হতে পারে। এর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে না পারা, বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশের অভাব, বিষয়বস্তু বুঝতে সমস্যা কিংবা পর্যাপ্ত শিক্ষাগত সহায়তা না পাওয়া—সবই শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই কারণে পুনঃপরীক্ষার আগে বিশেষ সহায়তামূলক ক্লাস বা রেমেডিয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ক্লাসগুলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলি চিহ্নিত করে আলাদাভাবে শেখানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই ধরনের সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমানো সম্ভব।

অতীতে পশ্চিমবঙ্গে পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল?

পশ্চিমবঙ্গে পাশ-ফেল প্রথার ইতিহাস দীর্ঘদিনের।

১৯৮২ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নো ডিটেনশন নীতির আইনি ভিত্তি তৈরি হয়।

এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখা, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমানো এবং প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে থাকে।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা, গণিতের মৌলিক ধারণা এবং শ্রেণি অনুযায়ী শিক্ষাগত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কিছু শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ।

এই প্রেক্ষাপটেই পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি বারবার সামনে এসেছে।

অল বেঙ্গল সেভ এডুকেশন কমিটির বক্তব্য

অল বেঙ্গল সেভ এডুকেশন কমিটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণকান্তি নস্কর পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবির পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন।

তাঁর অভিযোগ, বর্তমান মূল্যায়ন ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশ্রেণিতে পৌঁছলেও মৌলিক বিষয়গুলিতে যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

news image
আরও খবর

তিনি বিভিন্ন শিক্ষাগত সমীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে পড়ুয়াদের পড়ার ক্ষমতা এবং সাধারণ গণিতের দক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার প্রকৃত মান যাচাইয়ের জন্য কার্যকর পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিভিন্ন স্তরে প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা সংক্রান্ত অভিযোগগুলি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সমীক্ষা, সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের তথ্য বিবেচনা করা জরুরি।

পাশ-ফেল ফিরলে শিক্ষার্থীদের কী সুবিধা হতে পারে?

পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সমর্থকদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

প্রথমত, নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে কতটা দক্ষতা অর্জন করেছে, তা মূল্যায়ন করা সহজ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, কোনও শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বল হলে দ্রুত সেই সমস্যা চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তৃতীয়ত, বিদ্যালয়গুলিতে পাঠদান এবং মূল্যায়নের মধ্যে আরও সমন্বয় আনার সুযোগ থাকতে পারে।

চতুর্থত, অভিভাবকেরাও সন্তানের শিক্ষাগত অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

তবে এই সম্ভাব্য সুবিধাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষক সহায়তা এবং শিক্ষা পরিকাঠামোর উপর।

পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে

পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে যেমন যুক্তি রয়েছে, তেমনই এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করেন, অল্প বয়সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার অভিজ্ঞতা কিছু শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শিক্ষাগত সহায়তা না থাকলে সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়াও একই শ্রেণিতে পুনরায় পড়তে হলে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারাতে পারে।

তাই পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হলে তার সঙ্গে মানসিক সহায়তা, শিক্ষাগত পরামর্শ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিচার না করে তাদের সামগ্রিক শিক্ষাগত উন্নতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

নতুন সিলেবাস কমিটির ভূমিকা কী?

পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনার জন্য নতুন সিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটি গঠন করেছে।

এই কমিটির কাজ হল প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ তৈরি করা।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকাশিত সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সীমিত পরিবর্তন এবং ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বৃহত্তর পাঠ্যক্রম সংস্কারের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও এই বৃহত্তর শিক্ষাসংস্কার আলোচনার অংশ হতে পারে।

তবে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন এবং পাশ-ফেল ব্যবস্থা চালু করা দুটি পৃথক সিদ্ধান্ত। একটির পরিকল্পনা থাকলেই অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতামত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও বড় পরিবর্তন আনার আগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে শিক্ষকদের।

অন্যদিকে, অভিভাবকেরা সন্তানদের পড়াশোনার চাপ, শেখার সমস্যা এবং মানসিক অবস্থার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিতে পারেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ন পদ্ধতির সম্ভাব্য সুফল ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করতে পারেন।

এই সমস্ত মতামত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কার্যকর নীতি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

২০২৭ নাকি ২০২৮—কবে চালু হতে পারে নতুন নিয়ম?

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা ঠিক কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

রাজ্যের বৃহত্তর পাঠ্যক্রম সংস্কারের পরিকল্পনায় ২০২৮ শিক্ষাবর্ষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে পাশ-ফেল ব্যবস্থা সেই সময়েই কার্যকর হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

শিক্ষাদপ্তরের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ফলে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার আলোচনা শুধু পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিক্ষার্থীদের শেখার মান, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের প্রত্যাশা।

পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তার ব্যবস্থা কতটা নিশ্চিত করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

একই সঙ্গে পরীক্ষার চাপ বাড়ানো ছাড়াই কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করা যায়, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা প্রয়োজন।

শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ—এই দুই উদ্দেশ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যানের সমর্থন এবং শিক্ষাদপ্তরের আলোচনার সম্ভাবনা এই বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। সব পক্ষের মতামত এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখন দেখার, রাজ্য সরকার পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কি না এবং নিলে কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে তা কার্যকর হয়।

পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত, পরীক্ষার নিয়ম এবং শিক্ষাদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট জানতে সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

Preview image