Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফ্রান্সে ‘শামোন্ডা ভাইরাসে’ মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, কী কী উপসর্গ দেখা যায়?

ফ্রান্সে ‘শামোন্ডা ভাইরাসে’ মৃত্যুর খবর ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি।

ফ্রান্সে শামোন্ডা ভাইরাসের প্রথম মানব সংক্রমণ, মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ

পশুর শরীর থেকে মানুষের দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়ে পশু-পাখির শরীরে থাকা জীবাণু মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এ বার ইউরোপে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে শামোন্ডা ভাইরাস (Shamonda Virus)। এত দিন মূলত গবাদি পশুর মধ্যে শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাস প্রথমবারের মতো মানবদেহে শনাক্ত হয়েছে ফ্রান্সে। এই সংক্রমণের খবর সামনে আসার পর থেকেই ভাইরাসটির সম্ভাব্য ঝুঁকি, সংক্রমণের পথ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রথম মানব সংক্রমণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। অক্টোবরের শুরুতে তাঁর মৃত্যু হয়। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC) এবং ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোগীর মৃত্যু এবং ভাইরাসের সংক্রমণ একই ঘটনায় পাওয়া গেলেও মৃত্যুর জন্য ভাইরাসটি কতটা দায়ী, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ভাইরাসটির ব্যাপক বিস্তারের আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে। ফলে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

শামোন্ডা ভাইরাস আসলে কী?

শামোন্ডা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস। এটি Orthobunyavirus গণের অন্তর্গত এবং Peribunyaviridae পরিবারের সদস্য। ভাইরাসটি প্রথম ১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ায় গবাদি পশুর শরীর থেকে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশেও এর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

শামোন্ডা ভাইরাস মূলত পশুদের মধ্যে সংক্রমণের জন্য পরিচিত। গবাদি পশুর মধ্যে বিশেষ করে গরুর সংক্রমণের খবর বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাণীর শরীরেও এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

পশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটির সংক্রমণে জ্বর, ডায়রিয়া, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং প্রজননজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী পশুর ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা ভ্রূণের বিকাশে সমস্যার মতো জটিলতাও রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে এই লক্ষণগুলি অন্য রোগের ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করা যায় না। পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা জরুরি।

এত দিন পর্যন্ত মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়নি। ফ্রান্সের ঘটনাটি সেই কারণেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভাইরাসটির সম্ভাব্য মানব সংক্রমণ সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে একটি মানব সংক্রমণের ঘটনা থেকে ভাইরাসটি সহজে মানুষে ছড়াতে পারে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

কীভাবে ছড়ায় শামোন্ডা ভাইরাস?

বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH)-এর তথ্য অনুযায়ী, শামোন্ডা ভাইরাস মূলত Culicoides গণের অতি ক্ষুদ্র কামড়ানো উড়ন্ত পোকা বা biting midge-এর মাধ্যমে পশুদের মধ্যে ছড়ায়। এগুলি সাধারণ মশার থেকে আলাদা ধরনের ক্ষুদ্র পোকা। সংক্রমিত পোকা কোনও পশুকে কামড়ালে ভাইরাসটি তার শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে গবাদি পশুর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার খবর সামনে আসে। ফ্রান্স-সহ একাধিক ইউরোপীয় দেশে পশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঘটনা নজরে আসে। এর পরই মানুষের শরীরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় ভাইরাসটির সম্ভাব্য সংক্রমণপথ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, পূর্ব ফ্রান্সে থাকার সময় সংক্রমিত কোনও ক্ষুদ্র পোকা কামড়ানোর মাধ্যমে ওই ব্যক্তি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সংক্রমণের সঠিক উৎস এবং কীভাবে ভাইরাসটি তাঁর শরীরে প্রবেশ করেছিল, তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

এখানে মনে রাখা জরুরি, কোনও ভাইরাস পশুদের মধ্যে ছড়ালেই সেটি মানুষের মধ্যে সহজে ছড়িয়ে পড়বে, এমন নয়। প্রতিটি ভাইরাসের সংক্রমণপদ্ধতি, মানুষের শরীরে প্রবেশের ক্ষমতা এবং মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ানোর সম্ভাবনা আলাদা। শামোন্ডা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলি নিয়ে গবেষণা চলছে।

শামোন্ডা ভাইরাসের উপসর্গ কী কী?

মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে এখনও পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ফ্রান্সের ঘটনাটি প্রথম নথিভুক্ত মানব সংক্রমণ হওয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সাধারণ উপসর্গের নির্ভরযোগ্য তালিকা এখনও তৈরি হয়নি। ফলে জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথার মতো সাধারণ লক্ষণকে শামোন্ডা ভাইরাসের নিশ্চিত উপসর্গ হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তাঁর চিকিৎসার সময় স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতা দেখা যায়। পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে মস্তিষ্কের জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। তবে একটি মাত্র মানব সংক্রমণের ঘটনা থেকে অন্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কী ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

সাধারণভাবে, কোনও ব্যক্তির নতুন বা অজানা সংক্রমণের সন্দেহ হলে তাঁর উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস, সংস্পর্শের তথ্য এবং পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিচার করা হয়। বিশেষত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি ও জটিলতা আলাদা হতে পারে।

তাই শামোন্ডা ভাইরাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও লক্ষণ দেখা দিলেই এই রোগ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবার অস্বাভাবিক স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দিলে সেগুলিকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই সঠিক পদক্ষেপ।

মস্তিষ্কের জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির সম্পর্ক কতটা?

ফ্রান্সের ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে একটি হল আক্রান্ত ব্যক্তির স্নায়বিক জটিলতা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোগীর চিকিৎসার সময় মস্তিষ্কের সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে শামোন্ডা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

ফরাসি গবেষণা ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক মূল্যায়নে এই জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। তবে সংক্রমণ, আগে থেকে থাকা গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর মধ্যে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক বোঝার জন্য বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল ও পরীক্ষাগারভিত্তিক তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোনও রোগীর শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়া মানেই তাঁর সমস্ত উপসর্গ বা মৃত্যুর একমাত্র কারণ সেটি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। রোগীর পূর্ববর্তী অসুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অন্যান্য সংক্রমণ এবং চিকিৎসার তথ্যও বিবেচনা করতে হয়।

news image
আরও খবর

এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে আরও কোনও মানব সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেলে ভাইরাসটির প্রকৃত প্রভাব এবং সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক শামোন্ডা ভাইরাস?

শামোন্ডা ভাইরাসের প্রথম মানব সংক্রমণের খবর উদ্বেগ তৈরি করলেও বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি চিহ্নিত করেনি ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। ভাইরাসটি মূলত সংক্রমিত ক্ষুদ্র পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে পশুদের মধ্যে ছড়ায় বলে জানা যায়। ফ্রান্সের রোগীর ক্ষেত্রেও পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে আগে শনাক্ত না হওয়ায় এর মানব সংক্রমণ সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত। তাই ভবিষ্যতে সংক্রমণের ধরন বা ঝুঁকি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলে বর্তমান মূল্যায়ন পরিবর্তিত হতে পারে।

এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার বদলে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসরণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অযাচাইকৃত দাবি, গুজব বা অতিরঞ্জিত তথ্যের উপর নির্ভর করা উচিত নয়।

কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

শামোন্ডা ভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কোনও প্রতিরোধমূলক টিকা বা চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে ক্ষুদ্র কামড়ানো পোকামাকড়ের সংস্পর্শ কমানোর সাধারণ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

১. গবাদি পশুর খামার বা পোকামাকড় বেশি রয়েছে এমন এলাকায় গেলে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরুন।

২. স্থানীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত পোকামাকড় প্রতিরোধক ব্যবহার করতে পারেন।

৩. বাড়ি বা খামারের আশপাশে পোকামাকড়ের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিন।

৪. গবাদি পশুর শরীরে জ্বর, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. নিজে গুরুতর অসুস্থ হলে বা নতুন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না।

এই সতর্কতাগুলি সাধারণ সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলিকে শামোন্ডা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিশ্চিত সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ইউরোপীয় স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি কেন নজর রাখছে?

ফ্রান্সে প্রথম মানব সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC), ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তের লক্ষ্য হল সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা, ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে কীভাবে প্রবেশ করেছে তা বোঝা এবং অন্য কোনও সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা।

একই সঙ্গে পশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাজও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাইরাসটির পরিচিত সংক্রমণচক্র মূলত গবাদি পশু এবং কামড়ানো ক্ষুদ্র পোকামাকড়কে কেন্দ্র করে। পশু, মানুষ ও পরিবেশ—এই তিনটি ক্ষেত্রের তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করলে ভাইরাসটির বিস্তার সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া সম্ভব।

এই ধরনের নজরদারি নতুন বা বিরল সংক্রমণ শনাক্ত করতে এবং সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দ্রুত মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।

শেষ কথা

ফ্রান্সে শামোন্ডা ভাইরাসের প্রথম মানব সংক্রমণ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা। আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। অক্টোবরের শুরুতে তাঁর মৃত্যু হলেও ভাইরাসটির ভূমিকা এবং সংক্রমণের সঠিক উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে।

এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণের কোনও প্রমাণ নেই এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি চিহ্নিত করেনি। একই সঙ্গে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের উপসর্গ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সঠিক তথ্য, সতর্কতা এবং স্বাস্থ্য সংস্থার পরবর্তী নির্দেশিকার উপর নজর রাখা। নতুন কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে ভাইরাসটির ঝুঁকি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র: ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC), বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) এবং ফ্রান্সের জাতীয় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান Inserm-এর প্রকাশিত তথ্য।

Preview image