Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফর্মে ফিরতেই শ্রেয়স আয়ারের প্রশংসায় গাভাসকর, টি-২০-তে ব্যাটারের মানসিকতার বদলই মুগ্ধ করেছে কিংবদন্তিকে

জুনে ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত ছন্দে ছিলেন না শ্রেয়স আয়ার। মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি পার করেছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে নিজের ব্যাটিংয়ে ফের ধার দেখাচ্ছেন আয়ার। তাঁর ব্যাটিং ও মানসিকতার প্রশংসা করেছেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকর। তাঁর মতে, চাপের পরিস্থিতিতে শ্রেয়সের ইতিবাচক ক্রিকেটই নজর কেড়েছে।

ভারতীয় ক্রিকেটে শ্রেয়স আয়ার এমন একজন ব্যাটার, যাঁর উপর প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি। মাঝের ওভারে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা, স্পিনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং চাপের মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার দক্ষতার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে বিবেচিত তিনি। কিন্তু একটা সময় সেই শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটেই যেন বড় রানের দেখা মিলছিল না।

জুনে ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর তাঁর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছিল। অধিনায়কত্বের চাপের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারছিলেন না তিনি। পরিসংখ্যানও সেই কথাই বলছিল। মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন শ্রেয়স।

তবে ক্রিকেটে যেমন খারাপ সময় আসে, তেমনই আসে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। আর সেই প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিতই এখন দিচ্ছেন শ্রেয়স আয়ার। তাঁর ব্যাটিংয়ে আগের সেই আত্মবিশ্বাস, শটের বৈচিত্র্য এবং পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়ার দক্ষতা আবারও নজরে পড়ছে। আর সেই পরিবর্তনই নজর কেড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকরের।

শ্রেয়সের প্রশংসায় গাভাসকর

শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটিং নিয়ে প্রশংসা করতে গিয়ে গাভাসকর মূলত তাঁর মানসিকতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার ক্ষমতার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ব্যাটার শুধু রান করলেই যে সফল, তা নয়—কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের খেলা বদলে ফেলছেন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রেয়সের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনটাই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। যখন দ্রুত রান প্রয়োজন, তখন আক্রমণাত্মক শট খেলতে পারেন তিনি। আবার দল যদি চাপে থাকে, তখন পরিস্থিতি সামলে ইনিংস গড়ার ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর।

এই দুই ধরনের ব্যাটিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারাই একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটারের বড় গুণ। শ্রেয়স সেই জায়গাতেই নিজের দক্ষতা দেখাতে চাইছেন।

অধিনায়কত্বের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের চাপ

ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়া যে কোনও ক্রিকেটারের জন্যই বড় দায়িত্ব। অধিনায়ককে শুধু নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবলেই হয় না। দলের একাদশ নির্বাচন, বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানো, ম্যাচের পরিস্থিতি পড়া এবং সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছু সামলাতে হয়।

তার সঙ্গে যদি ব্যাট হাতে বড় রান না আসে, তাহলে চাপ আরও বাড়তে পারে।

শ্রেয়স আয়ারের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর প্রতিটি ইনিংস আরও বেশি করে আলোচনায় এসেছে। একটি ম্যাচে কম রান করলেই প্রশ্ন উঠেছে ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে। ফলে তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল শুধু রান করা নয়, সেই চাপকে সামলে নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলা।

এখন সেই জায়গাতেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন গাভাসকর।

মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি

জুনের পর শ্রেয়সের ব্যাটে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একজন টপ বা মিডল অর্ডার ব্যাটারের কাছ থেকে নিয়মিত বড় রান প্রত্যাশা করা হয়। বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেটে ৩০-৪০ রানের দ্রুত ইনিংসও অনেক সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

কিন্তু শ্রেয়সের ক্ষেত্রে বড় স্কোরের সংখ্যা কম থাকায় তাঁর ফর্ম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল।

মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি পার করা সেই সময়ের ব্যাটিং পরিসংখ্যানকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে কোনও ক্রিকেটারের বর্তমান অবস্থাকে বিচার করা যায় না। তাঁর ইনিংসগুলির প্রভাব, ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের প্রয়োজনও বিবেচনা করা জরুরি।

এই কারণেই তাঁর সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফর্মে ফেরার সবচেয়ে বড় লক্ষণ কী?

একজন ব্যাটার যখন ফর্মে ফেরেন, তখন শুধু স্কোরবোর্ডে রান দেখা যায় না। তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়।

শট খেলার সময় আত্মবিশ্বাস, বলের গতি ও স্পিনের বিরুদ্ধে পা ব্যবহার, ফিল্ডিং অনুযায়ী শট নির্বাচন এবং সিঙ্গল-ডাবল নিয়ে স্ট্রাইক ঘোরানোর ক্ষমতা—সবকিছুতেই তার প্রভাব পড়ে।

শ্রেয়সের ক্ষেত্রেও সেই আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি আগের তুলনায় পরিস্থিতিকে আরও ভালোভাবে পড়ে খেলছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণ করছেন, আবার উইকেটের গুরুত্ব বুঝে ঝুঁকি কমাচ্ছেন।

এই পরিণত ব্যাটিং পদ্ধতিই তাঁকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

টি-২০ ক্রিকেটে শ্রেয়সের গুরুত্ব

টি-২০ ক্রিকেটে মাঝের ওভারের ব্যাটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান ওঠার পর মাঝের ওভারে দলের রানরেট ধরে রাখা এবং শেষ দিকে বড় শটের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন।

এই জায়গায় শ্রেয়সের মতো ব্যাটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন।

স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক শট খেলার ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে পেসারদের বিরুদ্ধেও গতি ব্যবহার করে রান করার দক্ষতা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়।

অধিনায়ক হিসেবে সেই ক্রিকেটার নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের ব্যাটিং পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

গাভাসকরের প্রশংসার গুরুত্ব

সুনীল গাভাসকর ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি। ব্যাটিং নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ক্রিকেটমহলে বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাই তাঁর কাছ থেকে শ্রেয়স আয়ারের প্রশংসা পাওয়া নিঃসন্দেহে ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে যখন কোনও ক্রিকেটার খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যান, তখন বাইরের সমালোচনার চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে একজন প্রাক্তন কিংবদন্তির ইতিবাচক মূল্যায়ন ক্রিকেটারের মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত শ্রেয়সকে নিজের ব্যাট দিয়েই সেই প্রশংসার মর্যাদা দিতে হবে।

রানই শেষ কথা নয়

ক্রিকেটে রান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু টি-২০ ক্রিকেটে সবসময় বড় রান করাই একমাত্র সাফল্যের মাপকাঠি নয়।

একজন ব্যাটার ২৫ বলে ৪০ রান করে দলের জয়ের ভিত তৈরি করতে পারেন। আবার অন্য ম্যাচে ৫০ বলে ৭০ রান করেও দলকে সমস্যায় ফেলতে পারেন, যদি সেই ইনিংস ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই না হয়।

তাই শ্রেয়সের ব্যাটিং মূল্যায়ন করার সময় তাঁর স্ট্রাইক রেট, ইনিংসের সময়, ম্যাচের পরিস্থিতি এবং দলের প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনা করা প্রয়োজন।

গাভাসকরের প্রশংসাতেও সেই ক্রিকেটীয় পরিণতিই গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অধিনায়ক শ্রেয়সের সামনে বড় দায়িত্ব

ভারতের টি-২০ দলের নেতৃত্ব পাওয়া শ্রেয়সের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অধিনায়কত্বের সঙ্গে নিজের ব্যাটিংকে সামঞ্জস্য করা সহজ নয়।

অনেক সময় অধিনায়করা দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসেন। আবার কখনও দলের প্রয়োজন মেটাতে বেশি ঝুঁকি নেন।

শ্রেয়সকে তাই নিজের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অধিনায়কত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

news image
আরও খবর

একজন অধিনায়ক যদি সামনে থেকে রান করেন, তাহলে দলের অন্য ক্রিকেটারদের উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে শ্রেয়সের ফর্ম শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় নয়, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের সঙ্গেও যুক্ত।

চাপের ম্যাচে পারফরম্যান্স

বড় দলের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে চাপের ম্যাচে পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ম্যাচে রান করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতাই একজন ক্রিকেটারের মর্যাদা বাড়ায়।

শ্রেয়স অতীতে চাপের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর বর্তমান ব্যাটিংয়েও কাজে লাগতে পারে।

বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেটে কয়েকটি বলের মধ্যেই ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যায়। তাই চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা

ফর্ম খারাপ থাকলে একজন ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় মানসিকভাবে। পরপর কয়েকটি ম্যাচে রান না এলে নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রাখা কঠিন।

তার সঙ্গে যদি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থাকে, তাহলে চাপ আরও বেড়ে যায়।

শ্রেয়স সেই সময়টা পার করে এখন আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে সেই মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

একজন ক্রিকেটার কখনওই প্রতিটি ম্যাচে রান করবেন না। কিন্তু ব্যর্থতার পর কীভাবে ফিরে আসছেন, সেটিই তাঁর চরিত্রের পরিচয় দেয়।

ভারতীয় দলের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের টি-২০ ক্রিকেটে ব্যাটিং লাইনআপে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। একাধিক তরুণ এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

এই পরিস্থিতিতে শ্রেয়সের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দলের মিডল অর্ডারে একজন অভিজ্ঞ এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটারের প্রয়োজন রয়েছে।

শ্রেয়স যদি ধারাবাহিকভাবে রান করতে পারেন, তাহলে দলের ব্যাটিং অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ব্যাটার হিসেবে ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগলে ভারতীয় টি-২০ দলের জন্য সেটি বড় সম্পদ হতে পারে।

টেকনিকের পাশাপাশি শট নির্বাচন

শ্রেয়সের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর শট খেলার ক্ষমতা। কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ঝুঁকিও থাকে।

টি-২০ ক্রিকেটে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারানোর সম্ভাবনা সবসময় থাকে। একজন পরিণত ব্যাটারকে তাই বুঝতে হয় কখন আক্রমণ করতে হবে এবং কখন ঝুঁকি কমাতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে শ্রেয়স সেই ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা করছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে তাঁর রানও নিয়মিত বাড়তে পারে।

তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও উদাহরণ

শ্রেয়সের প্রত্যাবর্তন তরুণ ক্রিকেটারদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। ক্রিকেটে ফর্ম সবসময় একরকম থাকে না। কোনও সময় রান আসবে, কোনও সময় আসবে না।

কিন্তু খারাপ সময়ের মধ্যে নিজের খেলার উপর বিশ্বাস রাখা এবং নিজের দুর্বলতাগুলি নিয়ে কাজ করা একজন ক্রিকেটারের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রেয়সের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও যখন এমন সময় আসে, তখন তা তরুণদের জন্য বাস্তব শিক্ষা হয়ে ওঠে।

গাভাসকরের মন্তব্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে?

একজন ক্রিকেটার যখন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের কাছ থেকে প্রশংসা পান, তখন সেটি অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

তবে শ্রেয়স জানেন, প্রশংসা যতই আসুক, মাঠে তার প্রমাণ দিতে হবে। আগামী ম্যাচগুলিতে তাঁর ব্যাটিংই ঠিক করবে তিনি সত্যিই পুরনো ছন্দে ফিরেছেন কি না।

ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ম্যাচে রান করতে পারলে সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না।

সামনে কঠিন পরীক্ষা

ভারতের হয়ে খেলা মানেই প্রতিটি ম্যাচে প্রত্যাশা। বিশেষ করে অধিনায়ক হলে সেই প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।

শ্রেয়সের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই ছন্দ ধরে রাখা। একটি বা দুটি ভালো ইনিংসের পর আবার ব্যর্থ হলে পুরনো প্রশ্ন ফিরে আসতে পারে।

তাই ধারাবাহিকতা তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু বড় স্কোর নয়, ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস দিয়েও দলের প্রয়োজন মেটাতে হবে তাঁকে।

গাভাসকরের প্রশংসা কি নতুন অধ্যায়ের শুরু?

শ্রেয়স আয়ারের জন্য গাভাসকরের প্রশংসা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা। তবে এটিকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলা যাবে কি না, তার উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ম্যাচগুলিতে।

একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে ফর্মের ওঠানামা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ওঠানামার মধ্যেও যে ক্রিকেটার নিজেকে নতুন করে তৈরি করতে পারেন, তিনিই দীর্ঘদিন সফল হন।

শ্রেয়সের ক্ষেত্রেও এখন দেখার বিষয়, সাম্প্রতিক উন্নতি তিনি কতটা ধারাবাহিকতায় পরিণত করতে পারেন।

সব মিলিয়ে, জুনে টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও শ্রেয়স আয়ার এখন ফের নিজের জায়গা শক্ত করার পথে। মাত্র দু’বার পঞ্চাশ পার করার পর তাঁর ব্যাটিং নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আর সেই পরিবর্তনই নজর কেড়েছে সুনীল গাভাসকরের। ভারতের টি-২০ ক্রিকেটে শ্রেয়সের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের গুরুত্ব যথেষ্ট। তাই তাঁর ফর্মে ফেরা শুধু ব্যক্তিগত স্বস্তির বিষয় নয়, দলের জন্যও বড় খবর।

এখন অপেক্ষা আরও কিছু ম্যাচের। শ্রেয়স কি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারবেন? উত্তর দেবে তাঁর ব্যাট।

Preview image