প্রায় প্রতি বছর Met Gala র লাল গালিচায় নজর কাড়েন Priyanka Chopra তবে এ বছর তাঁর অনুপস্থিতির জল্পনায় ভক্তদের মন খারাপ Nick Jonas এর সঙ্গে পাওয়ার কাপল উপস্থিতি কি মিস হবে
বাহারি লুক, চমকপ্রদ স্টাইল এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় নজরকাড়া উপস্থিতি—এই তিনের সমন্বয় বললেই যে নামটি সহজেই সামনে আসে, তিনি হলেন Priyanka Chopra। গত কয়েক বছর ধরে Met Gala-র লাল গালিচায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল এক অনন্য ফ্যাশন মুহূর্ত। কখনও সাহসী ডিজ়াইন, কখনও আবার ক্লাসিক এলিগ্যান্স—প্রতিবারই নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
তবে ২০২৬ সালের ‘মেট গালা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, এই বছর নাকি আর লাল গালিচায় হাঁটতে দেখা যাবে না প্রিয়ঙ্কাকে। যদিও অভিনেত্রীর তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও তাঁর অনুপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ভক্তমহলে।
বিশেষ করে স্বামী Nick Jonas-এর সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই আলাদা মাত্রা যোগ করেছে এই অনুষ্ঠানে। এই পাওয়ার কাপলকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় থাকেন অনুরাগীরা। ফলে এই বছর তাঁদের না দেখা গেলে তা নিঃসন্দেহে ফ্যানদের জন্য হতাশাজনক হতে পারে।
কিন্তু কেন এই অনুপস্থিতি? ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালটি প্রিয়ঙ্কার জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত সময়। একাধিক আন্তর্জাতিক প্রোজেক্টের পাশাপাশি ভারতীয় ছবির কাজেও তিনি সমানভাবে মন দিয়েছেন। বিশেষ করে পরিচালক S. S. Rajamouli-র আসন্ন ছবি ‘বারাণসী’-র শুটিং নিয়েও ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।
শোনা যাচ্ছে, এই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের শুটিং চলছে অ্যান্টার্কটিকায়—যা সময় এবং পরিকল্পনার দিক থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ, যখন সাধারণত ‘মেট গালা’ অনুষ্ঠিত হয়, সেই সময়টি অনেক আগেই অন্য কাজের জন্য নির্ধারিত ছিল অভিনেত্রীর। এই সূচি পরিবর্তন করা নাকি প্রায় অসম্ভব।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে প্রথমবার ‘মেট গালা’-য় অংশগ্রহণ করেন প্রিয়ঙ্কা। সে বছর তাঁর পরনে ছিল Ralph Lauren-এর ডিজ়াইন করা একটি ট্রেঞ্চ কোট, যা ফ্যাশন জগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই অনুষ্ঠানে তাঁর পাশে ছিলেন নিক জোনাস, আর সেখান থেকেই তাঁদের সম্পর্কের শুরু বলে অনেকেই মনে করেন।
২০১৮ সালে বিয়ের পর থেকে Priyanka Chopra এবং Nick Jonas-এর যুগল উপস্থিতি Met Gala-র অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। শুধু রেড কার্পেটে হাঁটা নয়, বরং তাঁদের প্রতিটি উপস্থিতি যেন হয়ে উঠেছে এক একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। বিশ্বজুড়ে ফ্যাশনপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন—এই বছর প্রিয়ঙ্কা কী নতুন চমক আনবেন!
২০১৯ সালে তাঁর ‘কেজ লুক’ কার্যত ফ্যাশন দুনিয়ায় ঝড় তোলে। সাহসী হেডগিয়ার, নাটকীয় মেকআপ এবং সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের স্টাইল—সব মিলিয়ে সেই লুক আজও ‘মেট গালা’-র ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত। অনেকেই সেটিকে ‘রিস্কি’ বললেও, ফ্যাশন সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, এই ধরনের এক্সপেরিমেন্টই প্রিয়ঙ্কাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
এরপর ২০২৩ সালে আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে দেখা যায় তাঁকে। সে বার তিনি পরেছিলেন Valentino কৌতুরের তৈরি কালো স্যাটিন গাউন। ক্লাসিক কাট, পরিমিত অলঙ্করণ এবং নিখুঁত স্টাইলিং—সব মিলিয়ে সেই লুক ছিল এলিগ্যান্সের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। রেড কার্পেটে তাঁর উপস্থিতি যেন আবারও প্রমাণ করে দেয়, তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, বরং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আইকনও বটে।
এই ধারাবাহিক সাফল্য এবং চমকপ্রদ উপস্থিতির পর ২০২৬ সালের ‘মেট গালা’ ঘিরে তৈরি হওয়া অনুপস্থিতির জল্পনা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়িয়েছে। প্রতি বছর যেখানে তাঁর লুক নিয়ে আগাম আলোচনা শুরু হয়ে যায়, সেখানে হঠাৎ করে তাঁকে না দেখার সম্ভাবনা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।
তবে ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, এই অনুপস্থিতি স্থায়ী কিছু নয়। বরং এটি হতে পারে একটি পরিকল্পিত বিরতি। বর্তমানে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রোজেক্ট, হলিউড ও বলিউডের কাজ এবং বড় বাজেটের ছবির শুটিং নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা। ফলে সময় মেলানোই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ করে পরিচালক S. S. Rajamouli-র আসন্ন ছবির কাজ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক শুটিং সূচি তাঁর ক্যালেন্ডারকে প্রায় পুরোপুরি ভরিয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘মেট গালা’-র মতো একটি বড় ইভেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, যা এই মুহূর্তে সম্ভব নাও হতে পারে।
তবুও ভক্তদের আশা, এই বিরতি নিছকই সাময়িক। কারণ Priyanka Chopra মানেই অনিশ্চয়তার মধ্যেও চমকের সম্ভাবনা। তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, রেড কার্পেটে তাঁর উপস্থিতি শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং তা হয়ে ওঠে একটি সাংস্কৃতিক মুহূর্ত—যেখানে ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং গ্লোবাল স্টাইল একসঙ্গে মিশে যায়।
Met Gala-র মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রিয়ঙ্কার প্রত্যাবর্তন মানেই নতুন কিছু দেখার অপেক্ষা। কখনও সাহসী, কখনও নাটকীয়, আবার কখনও সম্পূর্ণ মিনিমাল—প্রতিটি লুকে তিনি নিজেকে ভেঙে গড়েছেন নতুনভাবে। তাই অনেকেই মনে করেন, এই বছরের অনুপস্থিতির জল্পনাও হয়তো শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যেতে পারে। কারণ তাঁর কেরিয়ারের ইতিহাসই বলে—প্রিয়ঙ্কা কখন কী করবেন, তা আগে থেকে আন্দাজ করা কঠিন।
গত কয়েক বছরে তিনি যেভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। হলিউড প্রোজেক্ট, গ্লোবাল ব্র্যান্ড, এবং বড় বাজেটের সিনেমা—সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতায় কাজ করে চলেছেন তিনি। ফলে তাঁর সময়সূচি যে কতটা ব্যস্ত, তা সহজেই অনুমেয়। এমন অবস্থায় একটি বড় ফ্যাশন ইভেন্টে অংশ নেওয়া মানেই দীর্ঘ প্রস্তুতি, স্টাইলিং, ফিটিংস, এবং প্রচুর সময়ের প্রয়োজন—যা হয়তো এই মুহূর্তে তাঁর পক্ষে ম্যানেজ করা কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে এটাও ঠিক, প্রিয়ঙ্কার অনুপস্থিতি মানেই তাঁর প্রভাব কমে যাওয়া নয়। বরং উল্টোটা—তিনি না থাকলেও তাঁকে নিয়েই আলোচনা চলতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ফ্যাশন দুনিয়া—সব জায়গাতেই উঠে আসে তাঁর পুরনো লুক, তাঁর স্টাইলিং সেন্স, এবং তাঁর সাহসী ফ্যাশন চয়েসের উদাহরণ। এই প্রভাবই প্রমাণ করে, তিনি শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নন, বরং এক আন্তর্জাতিক স্টাইল আইকন।
বিশেষ করে Nick Jonas-এর সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি বরাবরই বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাঁদের কেমিস্ট্রি, পোশাকের সমন্বয় এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তাঁরা ‘মেট গালা’-র অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। তাই এই বছর যদি তাঁদের একসঙ্গে দেখা না যায়, তবে সেটি নিঃসন্দেহে একটি বড় মিস হবে অনুরাগীদের জন্য।
তবুও আশার জায়গাটা থেকেই যায়। কারণ বিনোদন জগতে শেষ মুহূর্তের চমক নতুন কিছু নয়। অনেক সময়ই দেখা যায়, সব জল্পনা-কল্পনার পর হঠাৎ করেই তারকারা উপস্থিত হন মঞ্চে, এবং তৈরি করেন নতুন ইতিহাস। প্রিয়ঙ্কার ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, যদি সত্যিই তিনি এই বছর Met Gala থেকে বিরতি নেন, তবে সেটিকে অনেকেই তাঁর কেরিয়ারের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন। কারণ Priyanka Chopra এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছেন, যেখানে তাঁকে একই সঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রোজেক্ট, ব্র্যান্ড কমিটমেন্ট এবং বড় বাজেটের ছবির কাজ সামলাতে হচ্ছে। এই ধরনের ব্যস্ত সূচির মধ্যে সময়কে সঠিকভাবে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একজন গ্লোবাল স্টারের ক্ষেত্রে শুধু অভিনয় নয়, প্রতিটি উপস্থিতি, প্রতিটি ইভেন্ট, এমনকি প্রতিটি ফ্যাশন স্টেটমেন্টও পরিকল্পনার অংশ। ‘মেট গালা’-র মতো একটি বড় মঞ্চে অংশ নিতে গেলে শুধু উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়—তার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রস্তুতি, ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ, ফিটিংস, থিম অনুযায়ী লুক তৈরি এবং মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশন। ফলে, যখন কাজের চাপ চরমে থাকে, তখন এমন একটি ইভেন্ট থেকে বিরতি নেওয়া অনেক সময় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে।
বর্তমানে প্রিয়ঙ্কার কেরিয়ার যে গতিতে এগোচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট তিনি শুধুমাত্র বলিউড বা হলিউডের গণ্ডিতে আবদ্ধ নন—বরং তিনি নিজেকে এক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই অবস্থানে পৌঁছানোর পর অনেক সময়ই শিল্পীদের অগ্রাধিকার বদলাতে হয়। বড় প্রোজেক্ট, চ্যালেঞ্জিং চরিত্র এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তখন সামনে চলে আসে, আর কিছু গ্ল্যামারাস উপস্থিতি সাময়িকভাবে পিছনে সরে যায়।
তবে এই সম্ভাব্য অনুপস্থিতি নিয়ে যতই আলোচনা হোক না কেন, প্রিয়ঙ্কার প্রভাব যে এতটুকুও কমবে না, তা বলাই যায়। বরং তিনি না থাকলেও তাঁর পুরনো লুক, তাঁর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট এবং তাঁর উপস্থিতির স্মৃতি আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসবে। অনেক সময় কোনও তারকার অনুপস্থিতিই তাঁকে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে—এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশেষ করে Nick Jonas-এর সঙ্গে তাঁর যুগল উপস্থিতি বরাবরই ‘মেট গালা’-র অন্যতম আকর্ষণ। তাঁদের স্টাইল কো-অর্ডিনেশন, রেড কার্পেটে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দতা—সব মিলিয়ে তাঁরা একটি আইকনিক জুটি হিসেবে পরিচিত। ফলে, এই বছর যদি তাঁদের একসঙ্গে দেখা না যায়, তবে সেটি ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে নিঃসন্দেহে বড় একটি শূন্যতা তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই—২০২৬ সালের ‘মেট গালা’-য় কি দেখা যাবে Priyanka Chopra-কে? নাকি তাঁর অনুপস্থিতিই হয়ে উঠবে বছরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়? এই মুহূর্তে এর কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—তিনি থাকুন বা না-ই থাকুন, Met Gala-এর মতো মঞ্চে তাঁর প্রভাব এতটাই গভীর যে, তাঁকে ঘিরে আগ্রহ, কৌতূহল এবং আলোচনা কোনওভাবেই কমবে না। বরং তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা আরও বাড়বে, আর সেই প্রত্যাশাই ভবিষ্যতে তাঁর উপস্থিতিকে আরও বড় করে তুলবে।