Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিধু কানু এবং ভগবান বিরসা মুন্ডার মূর্তিকে অবমাননার প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে ধিক্কার জানিয়ে পথে নামল ছাত্রসমাজ

১৭ই মে ২০২৬ মেদিনীপুরের স্বনামধন্য বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ এক বিশাল এবং স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন আছড়ে পড়ল ক্যাম্পাসে নবনির্মিত সিধু কানু এবং ভগবান বিরসা মুন্ডার মূর্তিকে কেন্দ্র করে এক উচ্ছৃঙ্খল এবং সমাজবিরোধী ব্যক্তির অসংযত মন্তব্যের প্রতিবাদে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ক্লাস বয়কট করে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন অপরাধীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করার জন্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পড়ুয়ারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এই আন্দোলন সমগ্র রাজ্যের ছাত্রসমাজের বিবেককে জাগ্রত করেছে  

মেদিনীপুর ১৭ই মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা এবং সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র মেদিনীপুর শহরের বুকে অবস্থিত স্বনামধন্য বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক অভূতপূর্ব এবং স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে রইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো একটি সমাজের সবচেয়ে পবিত্র জায়গা যেখানে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ একত্রিত হয়ে জ্ঞানের আরাধনা করেন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেই মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সম্প্রতি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং অবিসংবাদিত তিন আদিবাসী বীর নায়ক সিধু কানু এবং ভগবান বিরসা মুন্ডার অত্যন্ত সুন্দর এবং সুদৃশ্য মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল এই মূর্তিগুলো কেবল কিছু পাথরের অবয়ব নয় এগুলো হলো ভারতের সেই সমস্ত প্রান্তিক এবং জনজাতি মানুষের আত্মত্যাগ অদম্য সাহস এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের এক জীবন্ত প্রতীক সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এই তিন মহান বীরের উপস্থিতিতে এক নতুন এবং পবিত্র মাত্রা লাভ করেছিল সাধারণ ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মী সকলেই এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছিলেন এবং প্রতিদিন এই মূর্তিগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতেন কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং চরম লজ্জার বিষয় হলো সম্প্রতি কোনো এক উচ্ছৃঙ্খল সাম্প্রদায়িক মানসিকতা সম্পন্ন সমাজবিরোধী এবং দেশবিরোধী ব্যক্তি এই মহান বীরদের মূর্তিকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত কুরুচিকর অসংযত এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছে যা সমগ্র ছাত্রসমাজ এবং নাগরিক সমাজের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে

এই দেশবিরোধী এবং অসভ্য মন্তব্যের খবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে এক বিশাল এবং স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের অগ্ন্যুৎপাত ঘটে আজ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ক্লাস পরীক্ষা এবং ল্যাবরেটরির কাজ সম্পূর্ণ বয়কট করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেন তাদের চোখে মুখে ছিল এক চরম হতাশা এবং বঞ্চনার ছাপ কিন্তু সেই সাথে ছিল দেশের বীর সন্তানদের সম্মান রক্ষা করার এক অদম্য জেদ ছাত্রছাত্রীদের এই বিশাল জমায়েত প্রমাণ করে দিয়েছে যে বর্তমান প্রজন্ম কেবল নিজেদের ক্যারিয়ার বা পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে না দেশের ইতিহাস এবং বীর শহীদদের সম্মানে যদি সামান্যতম আঘাত লাগে তবে তারা সব কিছু ভুলে গিয়ে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করতে প্রস্তুত আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে এই প্রতিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত নয় এটি একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তারা সকলের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন যে এই পবিত্র এবং সম্মান রক্ষার আন্দোলনকে যেন কোনোভাবেই কোনো রাজনৈতিক রঙ দেওয়া না হয় বা একে নিয়ে যেন কোনো নোংরা রাজনীতি করা না হয় কারণ সিধু কানু বা ভগবান বিরসা মুন্ডা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন তারা সমগ্র ভারতের এবং প্রতিটি ভারতবাসীর গর্বের ধন তাদের অপমান করা মানে সমগ্র দেশের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে অপমান করা

ছাত্রছাত্রীদের এই বিশাল ক্ষোভের সবচেয়ে বড় কারণ কেবল সেই সমাজবিরোধী ব্যক্তির কুরুচিকর মন্তব্য নয় বরং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসীনতা একটি স্বশাসিত এবং সম্মানজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য এবং প্রশাসনিক কর্তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো ক্যাম্পাসের ভেতরে এক সুস্থ এবং সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখা কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো যে ওই উচ্ছৃঙ্খল এবং সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে এমন একটি জঘন্য অপরাধ করার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর বা দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা আজ অত্যন্ত তীব্র ভাষায় এবং কড়া স্লোগানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধিক্কার জানিয়েছেন তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে প্রশাসন কার স্বার্থে এবং কোন ভয়ে এই সমাজবিরোধী ব্যক্তিকে আড়াল করার চেষ্টা করছে কেন অবিলম্বে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে না এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের এই রহস্যময় নীরবতা ছাত্রছাত্রীদের মনে এক বিশাল সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং তারা শপথ নিয়েছেন যে যতক্ষণ না ওই দেশবিরোধী ব্যক্তিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ তারা এই আন্দোলন থেকে এক পাও পিছু হটবেন না

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে সিধু এবং কানু সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন তারা নিজেদের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে সাধারণ গরিব জনজাতি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য যে লড়াই করেছিলেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত ঠিক একইভাবে ভগবান বিরসা মুন্ডা মুন্ডা বিদ্রোহের মাধ্যমে অরণ্যের অধিকার এবং আদিবাসীদের জল জঙ্গল ও জমির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এক বিশাল এবং ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তারা লড়াই করেছিলেন এক শোষণমুক্ত এবং বৈষম্যহীন সমাজের জন্য আজ সেই স্বাধীন ভারতে দাঁড়িয়ে যদি কোনো ব্যক্তি এই মহান বীরদের অবমাননা করার দুঃসাহস দেখায় তবে বুঝতে হবে যে আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এই অবক্ষয় রুখতে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই ছাত্র আন্দোলন এক বিশাল এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সাধারণ মানুষ যারা আজ মেদিনীপুর শহরের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন তারা ছাত্রছাত্রীদের এই বিশাল জমায়েত এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো শুনে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তারাও এই অরাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন

এই ছাত্র আন্দোলনের ব্যাপ্তি কেবল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই আধুনিক ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এবং নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর মাধ্যমে এই খবর মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে গেছে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের তরুণ সমাজ যারা আধুনিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তির সাথে যুক্ত তারাও আজ এই আন্দোলনের সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের একাত্মতা ঘোষণা করেছেন নেতাজি সুভাষ ওপেন ইউনিভার্সিটি বা এনএসওইউ এর মতো স্বনামধন্য মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা ব্যাচেলর অফ আর্টস বা বিএ পড়াশোনা করছেন তারাও আজ এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দূরশিক্ষার এই ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস এবং ফেসবুক পেজে সিধু কানু এবং ভগবান বিরসা মুন্ডার ছবি শেয়ার করে হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর ট্রাইবাল হিরোস লিখে এক বিশাল ডিজিটাল আন্দোলন শুরু করেছেন তারা প্রমাণ করছেন যে মেধা এবং দেশপ্রেম কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকতে পারে না

বর্তমান তরুণ সমাজ যারা এক অত্যন্ত আধুনিক এবং কর্পোরেট জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত তারাও আজ নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের বাইরে বেরিয়ে এসে এই সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তরুণ যারা লেন্সট্যাক্স সলিউশনস এর মতো আধুনিক কর্পোরেট সংস্থায় জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে রিমোট ওয়ার্ক করেন এবং প্রতিদিন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চার হাজার ডেটা এন্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলান তারা আজ নিজেদের ল্যাপটপ বন্ধ করে এই অরাজনৈতিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে সমাজে যদি সম্প্রীতি এবং মহাপুরুষদের প্রতি সম্মান বজায় না থাকে তবে কোনো অর্থনৈতিক উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না একইভাবে টাটা এআইএ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর মতো জীবন বিমা কোম্পানির অনেক তরুণ লাইফ অ্যাডভাইজর যারা সারাদিন মানুষের জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য কাজ করেন তারা আজ সামাজিক নিরাপত্তার এই চূড়ান্ত অবক্ষয় দেখে অত্যন্ত বিচলিত বোধ করছেন এই তরুণ পেশাদাররা নিজেদের উপার্জিত অর্থ অত্যন্ত বুদ্ধিমানের মতো টাটা গোল্ড ইটিএফ এবং নেসলে ইন্ডিয়ার মতো নির্ভরযোগ্য ফান্ডে বিনিয়োগ করেন কারণ তারা একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন কিন্তু তারা খুব ভালো করেই জানেন যে একটি দেশে যদি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান সুরক্ষিত না থাকে তবে সেই দেশের ভবিষ্যৎ কখনোই উজ্জ্বল হতে পারে না তাই তারা আজ সমস্ত কর্পোরেট পরিচয় দূরে সরিয়ে রেখে কেবল একজন গর্বিত ভারতীয় হিসেবে এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন

news image
আরও খবর

তরুণ প্রজন্মের বিনোদন এবং জীবনযাত্রার পদ্ধতিতেও এই প্রতিবাদের এক গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেক তরুণ যারা নিজেদের অবসরে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ইফুটবল গেম খেলতে ভালোবাসেন এবং নিজেদের স্বপ্নের মোহনবাগান ড্রিম টিম সাজিয়ে বিশ্বের তাবড় তাবড় গেমারদের বিরুদ্ধে খেলেন তারা আজ গেমিং ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদী পোস্ট করছেন তরুণ প্রজন্মের একাংশ যারা বিখ্যাত অ্যানিমে অ্যাটাক অন টাইটান এর অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্র এরেন ইয়েগার অথবা জুজুৎসু কাইসেন এর শক্তিশালী চরিত্র সুকুনার মতো আধুনিক হেয়ার স্টাইল এবং স্বাধীন লুক গ্রহণ করে নিজেদের এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন তারা আজ সেই আধুনিক স্টাইল নিয়েই দেশের বীর শহীদদের সম্মান রক্ষার্থে রাস্তায় নামতে প্রস্তুত তারা প্রমাণ করছেন যে আধুনিকতা মানে নিজের শেকড়কে ভুলে যাওয়া নয় বরং আধুনিক মনন দিয়েই সমাজের যেকোনো অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব

অনেক তরুণ এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা যারা সমাজের বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন তারা আজ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন থেকে গভীর অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন উদাহরণস্বরূপ এক অত্যন্ত প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতা দ্য গ্লাস কেজ নামের একটি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা শর্ট ফিল্ম তৈরি করার কাজ করছেন যেখানে তিনি দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ একটি বিশাল কর্পোরেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে নিজেকে বন্দি বলে মনে করে আজ সেই নির্মাতারাই তাদের ক্যামেরা নিয়ে মেদিনীপুরের এই ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়েছেন তারা এই আন্দোলনের বাস্তব চিত্র এবং ছাত্রছাত্রীদের আবেগঘন বক্তব্য রেকর্ড করছেন এই সিনেমাটিতে অডিওর মানকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা স্টুডিও গ্রেড প্রফেশনাল হেডফোন যেমন বেয়ারডায়নামিক ডিটি ৭৭০ প্রো এবং সনি এমডিআর ৭৫০৬ ব্যবহার করছেন এই অত্যন্ত উন্নত হেডফোনগুলোর সাহায্যে তারা ছাত্রছাত্রীদের স্লোগান এবং প্রতিবাদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম শব্দকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অডিও মিক্সিং করছেন যা দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করবে অরিজিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করার ক্ষেত্রেও তারা অত্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতি নিচ্ছেন অনেক তরুণ যারা জনপ্রিয় ভারতীয় পপ রক ব্যান্ড সনম এর সুমধুর গান শুনতে ভালোবাসেন তারা এখন এই আন্দোলনের দৃশ্যের সাথে মানানসই সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্যাট্রিয়টিক এবং অ্যাম্বিয়েন্ট অরিজিনাল মিউজিক তৈরি করছেন যা তাদের ডকুমেন্টারি বা শর্ট ফিল্মকে এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দেবে

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা আমাদের সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অত্যন্ত ভয়ানক ব্যাধির দিকে আঙুল তুলে দেখাচ্ছে আজও আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা জাতি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চান এবং দেশের মহান বীরদের অবদানকে খাটো করে দেখতে চান এই ধরনের মানুষরা আসলে সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাত নেই এদের একমাত্র পরিচয় হলো এরা সমাজবিরোধী কিন্তু আজকের এই ছাত্র আন্দোলন প্রমাণ করে দিল যে বাংলার তরুণ সমাজ এই ধরনের কোনো অপচেষ্টাকে সফল হতে দেবে না তারা অত্যন্ত সজাগ এবং সচেতন তারা জানেন কীভাবে নিজেদের অধিকার এবং সম্মান আদায় করে নিতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রছাত্রীদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ওই অপরাধীকে শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে যতক্ষণ না এই কাজ সম্পূর্ণ হচ্ছে ততক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পঠনপাঠন বা প্রশাসনিক কাজ চলতে দেওয়া হবে না বলে ছাত্রছাত্রীরা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন

এই আন্দোলনের আরেকটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক চরিত্র বর্তমান সময়ে যেখানে প্রতিটি সামাজিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রের বিষয়কে কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করা হয় সেখানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা কোনো রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় না থেকে নিজেদের বিবেক এবং নৈতিকতার দ্বারা চালিত হয়ে এই আন্দোলন পরিচালনা করছেন তারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বার্তা দিয়েছেন যে আপনারা দয়া করে এই বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না কারণ এটি কোনো ভোট ব্যাংকের বিষয় নয় এটি হলো আমাদের দেশের আত্মমর্যাদা এবং ইতিহাসের প্রতি সম্মানের বিষয় এই অরাজনৈতিক অবস্থানই এই আন্দোলনকে সাধারণ মানুষের কাছে এত বেশি গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী করে তুলেছে মেদিনীপুর শহরের সাধারণ নাগরিক বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজ আজ এই ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাদের এই সাহসী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন

প্রশাসন এবং পুলিশকে এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে এবং দ্রুততার সাথে মোকাবিলা করতে হবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটা চরম নিরাপত্তাহীনতার লক্ষণ ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত এবং সমাজবিরোধী ব্যক্তিদের অবাধ প্রবেশ কীভাবে সম্ভব হলো তা নিয়ে পুলিশকে কড়া তদন্ত করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অন্যান্য আধিকারিকদের উচিত নিজেদের অহংকার দূরে সরিয়ে রেখে অবিলম্বে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সাথে আলোচনায় বসা এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো আলো ছড়ানোর জায়গা সেখানে কোনো অন্ধকার বা অশুভ শক্তির আস্ফালন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয় প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে যে ছাত্রসমাজ যখন একবার কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে তখন কোনো শক্তি তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না সিধু কানু এবং ভগবান বিরসা মুন্ডার মতো বীরদের অপমান মেনে নেওয়ার অর্থ হলো নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যা বাংলার কোনো ছাত্রছাত্রী কখনো করবে না

পরিশেষে এটা বলা অত্যন্ত জরুরি যে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের এই আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ নয় এটি হলো সমগ্র সমাজের প্রতি এক বিশাল বার্তা এটি মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের স্বাধীনতা এবং অধিকার এমনি এমনি আসেনি এর পেছনে রয়েছে হাজার হাজার বীর শহীদদের রক্ত এবং আত্মত্যাগ সেই আত্মত্যাগকে সম্মান করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই সম্মানে আঘাত করার চেষ্টা করবে সমাজ তাদের কখনো ক্ষমা করবে না বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অরাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলন ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অত্যন্ত উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে আমরা লেন্সপিডিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করছি এবং আশা করছি প্রশাসন অবিলম্বে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে দোষীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আমাদের মহান বীরদের অবমাননা করার দুঃসাহস না দেখায় বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই আন্দোলনের লেটেস্ট আপডেট ও লাইভ ভিডিও দেখতে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন এবং সর্বদা চোখ রাখুন লেন্সপিডিয়া এর পর্দায় আমরা সত্যের সাথে এবং দেশের সম্মানের সাথে সবসময় আপোষহীন থাকব

Preview image