Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোয় বাড়তি মেট্রো, পঞ্চমী থেকেই বিশেষ পরিষেবা; সপ্তমী-নবমী রাতভর চলবে ট্রেন

দুর্গাপুজোয় কলকাতার বাড়তি ভিড় সামলাতে পঞ্চমী থেকেই চালানো হবে অতিরিক্ত মেট্রো। যাত্রীদের সুবিধায় সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত থাকছে রাতভর মেট্রো পরিষেবাও।

কলকাতা, ৮ অক্টোবর: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুজো দেখতে বেরিয়ে পড়েন। উত্তর কলকাতা থেকে দক্ষিণ কলকাতা, সল্টলেক থেকে মধ্য কলকাতা—বড় বড় পুজোমণ্ডপ ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে পঞ্চমী থেকেই। আর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সেই ভিড় আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা কলকাতা মেট্রো। তাই পুজোর সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী সামলাতে এবার বিশেষ পরিষেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

পুজোর মরশুমে শহরের যানজট এবং রাস্তায় অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পঞ্চমী থেকেই অতিরিক্ত মেট্রো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে পুজোর শুরু থেকেই মেট্রো পরিষেবায় বাড়তি সুবিধা পাবেন শহরবাসী এবং কলকাতায় ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীরা।

প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বহু রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়, কোথাও আবার নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এই পরিস্থিতিতে গণপরিবহণের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে মেট্রো পরিষেবা দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে যানজটমুক্ত যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়। সেই কারণে পুজোর দিনগুলিতে মেট্রোয় যাত্রীর সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়।

এই বাড়তি যাত্রী চাপ সামলাতেই পঞ্চমী থেকেই অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুজোর কেনাকাটা, প্যান্ডেল হপিং এবং প্রতিমা দর্শনের জন্য যারা আগেভাগেই বেরিয়ে পড়বেন, তাঁদের জন্য এই বাড়তি পরিষেবা বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

পঞ্চমী থেকেই বাড়তি মেট্রো পরিষেবা

দুর্গাপুজোর মূল উৎসব ষষ্ঠী থেকে শুরু হলেও কলকাতায় পুজোর আমেজ অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। পঞ্চমীর দিন থেকেই শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অনেকেই ভিড় এড়াতে ষষ্ঠীর আগেই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন।

এই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার পঞ্চমী থেকেই অতিরিক্ত মেট্রো চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ পুজোর মূল ভিড় শুরু হওয়ার আগেই বাড়তি পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত যাত্রী সামলানো সহজ হবে, অন্যদিকে দর্শনার্থীরাও নিজেদের সুবিধামতো সময়ে মেট্রোয় যাতায়াত করতে পারবেন।

পুজোর সময়ে কলকাতার বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব স্টেশন থেকে জনপ্রিয় পুজো এলাকায় সহজে পৌঁছনো যায়, সেখানে ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেশি সংখ্যক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সপ্তমী থেকে নবমী রাতভর মেট্রো পরিষেবা

পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে রাত জেগে ঠাকুর দেখা। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর রাতে কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। অনেক দর্শনার্থী রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরতে থাকেন। ফলে রাতের দিকে শহরের গণপরিবহণের প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত রাতভর মেট্রো পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাতের প্যান্ডেল হপিং শেষ করে যারা বাড়ি ফিরতে চান, তাঁদের জন্য মেট্রো বড় ভরসা হতে পারে।

রাতভর মেট্রো পরিষেবা চালু থাকলে পুজোর সময়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সুবিধা আরও বাড়বে। বিশেষ করে দূরের এলাকা থেকে কলকাতার বড় পুজোগুলি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রাতের দিকে বাস বা অন্যান্য গণপরিবহণের সংখ্যা কমে গেলে মেট্রো পরিষেবা তাঁদের জন্য বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করবে।

পুজোর ভিড় সামলাতে মেট্রোর গুরুত্ব

কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শহরের অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। পুজোর কয়েক দিন কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শহরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা এবং অন্যান্য জায়গা থেকেও বহু মানুষ কলকাতায় আসেন।

পুজোর সময়ে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের চলাচল হওয়ায় সড়কপথে যানজট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর হয়ে যায়। কোথাও আবার যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রো পরিষেবা শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

মেট্রোর মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছনো যায়। ফলে পুজোর সময়ে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে মেট্রোকে বেছে নেন। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সময়ও বাঁচে।

পুজোর সময়ে মেট্রোয় বাড়ে যাত্রী চাপ

সাধারণ দিনগুলিতে অফিসযাত্রী এবং দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতকারীরা মেট্রোর প্রধান যাত্রী হলেও পুজোর সময়ে যাত্রীদের ধরন অনেকটাই বদলে যায়। পুজোর দিনগুলিতে পরিবার, বন্ধুদের দল এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষ একসঙ্গে মেট্রোয় যাতায়াত করেন।

বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মেট্রো স্টেশনগুলিতে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। জনপ্রিয় পুজো এলাকার কাছাকাছি স্টেশনগুলিতে ভিড় আরও বেশি হয়। পুজোর দিনগুলিতে অনেকেই একাধিক মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন। তাই এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে বারবার যাতায়াতও বাড়ে।

এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা চালু করা হলে যাত্রীদের চাপ কিছুটা ভাগ করে দেওয়া সম্ভব হবে। একটি ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় জমার পরিবর্তে পরবর্তী ট্রেনেও যাত্রীরা উঠতে পারবেন। ফলে যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি হবে।

রাতভর পরিষেবায় প্যান্ডেল হপিংয়ে সুবিধা

কলকাতার পুজোর অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল রাতের প্যান্ডেল হপিং। দিনের তুলনায় রাতে অনেক পুজোমণ্ডপের আলো এবং সাজসজ্জা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাই সপ্তমী থেকে নবমীর রাত পর্যন্ত বহু মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন।

অনেক পরিবার এবং বন্ধুদের দল রাত পর্যন্ত পুজো ঘোরেন। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ গণপরিবহণের পরিষেবা সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। এই পরিস্থিতিতে রাতভর মেট্রো পরিষেবা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

বিশেষ করে যারা একাধিক এলাকার পুজো দেখতে চান, তাঁদের জন্য রাতের মেট্রো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে পরিষেবা পাওয়া গেলে দর্শনার্থীরা তাড়াহুড়ো না করে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুজো ঘুরতে পারবেন।

news image
আরও খবর

শহরের যানজট কমাতেও সহায়ক হতে পারে

পুজোর সময়ে শহরের রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্যাক্সি, অ্যাপ ক্যাব, বাস এবং অন্যান্য যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। রাস্তার পাশে দর্শনার্থীদের ভিড়ও তৈরি হয়। ফলে অনেক সময় অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হলে বহু মানুষ সড়কপথের পরিবর্তে মেট্রো ব্যবহার করতে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কিছুটা কমানো সম্ভব হলে শহরের যানজটের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পুজোর সময়ে প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ থাকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপদ ও সুষ্ঠু যাতায়াত নিশ্চিত করা। গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সেই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেট্রোর বাড়তি পরিষেবা সেই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

দর্শনার্থীদের জন্য কী সুবিধা?

পঞ্চমী থেকে অতিরিক্ত মেট্রো এবং সপ্তমী থেকে নবমী রাতভর পরিষেবার ফলে পুজোর দর্শনার্থীদের বেশ কিছু সুবিধা হতে পারে। প্রথমত, মেট্রোর ফ্রিকোয়েন্সি বাড়লে দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে হবে না। দ্বিতীয়ত, রাত পর্যন্ত পরিষেবা থাকায় প্যান্ডেল হপিং শেষে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

তৃতীয়ত, সড়কপথে যানজট এড়িয়ে তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর সুযোগ থাকবে। চতুর্থত, দূরের এলাকা থেকে কলকাতার পুজো দেখতে আসা মানুষও নিজেদের যাতায়াতের পরিকল্পনায় মেট্রোকে আরও বেশি করে যুক্ত করতে পারবেন।

তবে পুজোর সময়ে মেট্রো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভিড়ের সময় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে নজরে রাখা জরুরি। স্টেশনে ওঠানামার সময় ধৈর্য ধরে চলা এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

পুজোর দিনগুলিতে যাত্রীদের সতর্কতা

পুজোর সময়ে মেট্রো স্টেশনগুলিতে বিপুল ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যাত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বেরোনো ভালো। স্টেশনে পৌঁছে তাড়াহুড়ো না করে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও বহির্গমন পথ ব্যবহার করা উচিত।

ভিড়ের মধ্যে শিশুদের হাত ধরে রাখা, মূল্যবান সামগ্রী সাবধানে রাখা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের দিকে নজর রাখা জরুরি। মেট্রো স্টেশনে কোনও সমস্যা হলে নিরাপত্তারক্ষী বা কর্তৃপক্ষের সাহায্য নেওয়া উচিত।

একইসঙ্গে মেট্রোর সময়সূচি, শেষ ট্রেনের সময় এবং পরিষেবার পরিবর্তন সম্পর্কে যাত্রার আগে তথ্য জেনে নেওয়া সুবিধাজনক। পুজোর বিশেষ পরিষেবায় সাধারণ দিনের তুলনায় সময়সূচিতে পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই যাত্রীরা মেট্রো কর্তৃপক্ষের ঘোষণাগুলি নজরে রাখলে সুবিধা হবে।

কলকাতার পুজোয় গণপরিবহণের বড় ভূমিকা

দুর্গাপুজোর সময় কলকাতাকে কার্যত একটি বড় উৎসবের শহরে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকে মানুষ কলকাতায় আসেন। শহরের প্রতিটি বড় রাস্তা, পুজোমণ্ডপ এবং দর্শনীয় এলাকায় ভিড় জমে।

এই বিশাল জনসমাগম সামলাতে পুলিশ, প্রশাসন, পুরসভা এবং পরিবহণ সংস্থাগুলিকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। মেট্রো পরিষেবা সেই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর মাধ্যমে বেশি সংখ্যক মানুষকে কম সময়ে পরিবহণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

পুজোর সময়ে মানুষ যত বেশি গণপরিবহণ ব্যবহার করবেন, সড়কে যানবাহনের চাপ ততটাই কমানো সম্ভব হতে পারে। ফলে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।

পুজোর আনন্দে নতুন স্বস্তি

দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতায় বেরোনোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়গুলির মধ্যে একটি হল যাতায়াত। কখন কোথায় যানজট হবে, কোন রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে, কোথায় গাড়ি রাখা যাবে—এই সব বিষয় নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। মেট্রো পরিষেবা সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমাতে পারে।

পঞ্চমী থেকেই অতিরিক্ত মেট্রো এবং সপ্তমী থেকে নবমী রাতভর পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত তাই পুজোর দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর। বিশেষ করে যারা রাত পর্যন্ত পুজো দেখতে চান, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কলকাতার দুর্গাপুজো যত বড় হচ্ছে, দর্শনার্থীদের সংখ্যাও তত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর চাপ। তাই পুজোর সময়ে অতিরিক্ত মেট্রো পরিষেবা এখন আর শুধুমাত্র বাড়তি সুবিধা নয়, বরং শহরের উৎসব ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, পঞ্চমী থেকেই অতিরিক্ত মেট্রো এবং সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে রাতভর পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত পুজোর সময়ে কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য মেট্রো হয়ে উঠতে পারে পুজোর রাতের অন্যতম প্রধান ভরসা।

তবে পুজোর বিশেষ পরিষেবা ব্যবহার করার আগে যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়া উচিত। কারণ পুজোর ভিড় সামলাতে স্টেশনভিত্তিক প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ, পরিষেবার সময় পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দুর্গাপুজোর কয়েকটি দিন কলকাতা কার্যত রাত জাগে। আলো, মণ্ডপ, প্রতিমা আর মানুষের ভিড়ে শহর হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। সেই উৎসবের আবহে নিরাপদ, দ্রুত এবং তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মেট্রোর এই বাড়তি পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুজোর সময়ে কলকাতার রাস্তায় বাড়তে থাকা ভিড়ের মধ্যে মেট্রোকে আরও কার্যকর গণপরিবহণ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি হবে।

অতএব, যারা এবারের দুর্গাপুজোয় কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য পঞ্চমী থেকে বাড়তি মেট্রো পরিষেবা এবং সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত রাতভর মেট্রো চলাচলের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ খবর। পুজোর আনন্দে যাতায়াতের চাপ যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ পরিষেবা এবার শহরবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে।

Preview image