Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোয় বৃষ্টির ভ্রুকুটি! নিম্নচাপের জেরে ষষ্ঠী থেকে দশমী কেমন থাকবে আবহাওয়া?

পুজোর দিনগুলিতে ধীরে ধীরে কমতে পারে তাপমাত্রা। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে স্বস্তি মিলবে কি না, নজর আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসে।

পুজোর মুখে বাংলায় নিম্নচাপের ভ্রূকূটি, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস! কেমন থাকবে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া?

দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা, কোথায় ঘুরতে যাওয়া হবে, কোন মণ্ডপে কখন পৌঁছনো হবে—সব কিছু নিয়েই ব্যস্ত সাধারণ মানুষ। কিন্তু উৎসবের মরশুমে সেই পরিকল্পনায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে আবহাওয়ার পরিবর্তন। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পুজোর আগে আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তারা।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আন্দামান সাগরেও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। তবে প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য নিম্নচাপটির অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে থাকতে পারে। ফলে নিম্নচাপ তৈরি হলেই যে বাংলায় ব্যাপক বৃষ্টি হবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এর অবস্থান, গতিপথ, শক্তি এবং পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের উপর নির্ভর করবে বাংলায় বৃষ্টির পরিমাণ।

দক্ষিণবঙ্গে কবে থেকে বৃষ্টি?

সপ্তাহের প্রথম দিকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার মূলত বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকবে। তবে বিকেলের দিকে আকাশ আংশিক মেঘলা হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টিও হতে পারে।

বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

তবে এই বৃষ্টির পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে এখনই অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিম্নচাপের প্রভাব এবং স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বদলাতে পারে। তাই পুজোর কেনাকাটা, বাইরে বেরোনো কিংবা ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করার আগে সর্বশেষ আবহাওয়ার বুলেটিন দেখে নেওয়া ভালো।

কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?

পুজোর আগে কলকাতার আবহাওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল রয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। বিশেষ করে যাঁরা সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে বেরোনোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে বৃষ্টির পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ও বুধবার কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কলকাতায় মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ফলে শহরের রাস্তায় যাতায়াত, বাজার করা কিংবা বাইরে দীর্ঘ সময় কাটানোর পরিকল্পনায় আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

তবে কলকাতার প্রতিটি এলাকায় একই সময়ে বৃষ্টি হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির ক্ষেত্রে এক এলাকায় বৃষ্টি হলেও অন্য এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তাই কোনও নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি হবে কি না, তা জানতে স্থানীয় পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা জরুরি।

সপ্তাহান্তে পরিস্থিতির আবার পরিবর্তন হতে পারে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। তবে পুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়া সম্পূর্ণ বৃষ্টিমুক্ত থাকবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পরবর্তী পূর্বাভাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

হাওড়া ও হুগলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা

কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলি জেলার আবহাওয়ার দিকেও নজর রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে এই দুই জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

পুজোর আগে এই দুই জেলার বিভিন্ন বাজার, শপিং এলাকা এবং পুজো মণ্ডপে মানুষের ভিড় বাড়তে পারে। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় থাকতে হবে, তাঁদের সঙ্গে ছাতা বা রেইনকোট রাখলে সুবিধা হতে পারে।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে এই দুই জেলার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে পুজোর বাজার, মণ্ডপ পরিদর্শন কিংবা দূরের কোনও জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বৃষ্টির সম্ভাবনাকে মাথায় রাখা উচিত।

তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস মানেই সারাদিন ধরে বৃষ্টি হবে, এমন নয়। বৃষ্টির সময়, স্থায়িত্ব এবং এলাকার উপর এর প্রভাব আলাদা হতে পারে। সেই কারণে জেলার সামগ্রিক পূর্বাভাসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় আপডেটও দেখে নেওয়া ভালো।

পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির পূর্বাভাস

পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

পুজোর আগে দুই মেদিনীপুরে যাঁরা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে খোলা জায়গায় ঘোরাঘুরি বা দীর্ঘ পথযাত্রার ক্ষেত্রে বৃষ্টির পরিস্থিতি যাত্রার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে নিম্নচাপের অবস্থান ও গতিপথের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাসও বদলাতে পারে। তাই এই মুহূর্তে পাওয়া তথ্যকে সম্ভাব্য পূর্বাভাস হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

ঝাড়গ্রামেও কি বৃষ্টি হবে?

দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পূর্বাভাসে ঝাড়গ্রাম জেলার নামও রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে জেলার কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পুজোর আগে ঝাড়গ্রাম বা আশপাশের এলাকায় যাঁরা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের যাত্রার আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে খোলা জায়গায় ঘোরাঘুরি, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া কিংবা সন্ধ্যার পর বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে সতর্ক থাকা ভালো।

উত্তরবঙ্গে কি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে?

দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কিছুটা আলাদা। সপ্তাহের প্রথম দিকে, অর্থাৎ সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তবে সপ্তাহের শেষ দিকে আবহাওয়ায় সামান্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের সর্বত্র ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকলেও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই দার্জিলিং, কালিম্পং বা ডুয়ার্সে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে সর্বশেষ আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়া ভালো।

বাংলা থেকে কি বর্ষা বিদায়ের পালা শুরু?

পুজোর মুখে আবহাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বর্ষা বিদায়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিনের মধ্যে বাংলা থেকে বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাঁচির উপর দিয়ে বর্ষা বিদায়ের রেখা অবস্থান করছে বলে জানানো হয়েছে।

news image
আরও খবর

তবে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত, বাতাসের গতিপথ এবং স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির কারণে বর্ষা বিদায়ের সময়েও কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।

এখানেই রয়েছে পুজোর আবহাওয়ার মূল অনিশ্চয়তা। একদিকে বাংলা থেকে বর্ষা বিদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্ষা বিদায়ের খবর শুনেই যে পুজোর আগে আর বৃষ্টি হবে না, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

বর্ষা বিদায়ের সময় এবং নিম্নচাপের প্রভাব আলাদা বিষয়। নিম্নচাপের গতিপথ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে থাকলেও তার প্রভাবে বাংলার কোনও এলাকায় মেঘলা আকাশ বা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে কি না, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর।

নিম্নচাপ তৈরি হলেই কি বাংলায় ভারী বৃষ্টি হবে?

নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার খবর সামনে এলেই অনেকের মনে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বুঝতে হলে নিম্নচাপের অবস্থান, শক্তি এবং গতিপথ—এই তিনটি বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলেও সেটি কোন দিকে এগোচ্ছে, কতটা শক্তিশালী হচ্ছে এবং তার সঙ্গে বাতাসের প্রবাহ কেমন রয়েছে, তার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নিম্নচাপটির অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

তাই বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও শুধুমাত্র নিম্নচাপের খবরের ভিত্তিতে ভারী বৃষ্টি বা দুর্যোগের আশঙ্কা করা ঠিক নয়। আপাতত দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাসের উপর নজর রাখা প্রয়োজন।

পরবর্তী সময়ে নিম্নচাপের গতিপথ বা শক্তিতে পরিবর্তন হলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আসতে পারে। সেই কারণে পুজোর আগে নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

ধীরে ধীরে কমতে পারে তাপমাত্রা

বৃষ্টির পূর্বাভাসের পাশাপাশি তাপমাত্রার দিকেও নজর রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দিনে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে পারে। বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গরম ও আর্দ্রতার অনুভূতিতেও বদল আসতে পারে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৩ থেকে ৯৭ শতাংশ।

আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকলে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। অন্যদিকে বৃষ্টির পরে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে আগামী দিনে তাপমাত্রা কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতির উপর।

পুজোর সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকবে কি না, তা জানতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাতাসের গতি এবং আর্দ্রতার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

পুজোর কেনাকাটা ও ঠাকুর দেখার পরিকল্পনায় কী মাথায় রাখবেন?

দুর্গাপুজোর আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, নতুন পোশাক সংগ্রহ এবং মণ্ডপে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেকেরই থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।

প্রথমত, বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নিন। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে সেই অনুযায়ী সময় ঠিক করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে ব্যাগে ছোট ছাতা বা রেইনকোট রাখা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলে খোলা জায়গায় থাকা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত।

তৃতীয়ত, যাঁরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করবেন, তাঁদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট জেলার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া প্রয়োজন। কলকাতায় বৃষ্টি হচ্ছে মানেই একই সময়ে মেদিনীপুর বা উত্তর ২৪ পরগনাতেও বৃষ্টি হবে, এমন নয়।

চতুর্থত, পুজোর দিনগুলির আবহাওয়া নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। নিম্নচাপের গতিপথ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি বদলালে পূর্বাভাসও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনের পূর্বাভাস প্রকাশিত হলে তা দেখে পরিকল্পনা করা ভালো।

পুজোর আবহাওয়া নিয়ে শেষ কথা

সব মিলিয়ে পুজোর মুখে বাংলার আবহাওয়ায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা, আন্দামান সাগরে ঘূর্ণাবর্তের আশঙ্কা এবং বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয় এখন আবহাওয়ার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।

সপ্তাহের প্রথম দিকে দক্ষিণবঙ্গে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আবহাওয়া ফের শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পুজোর প্রতিটি দিন কেমন কাটবে, বিশেষ করে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে। নিম্নচাপের গতিপথ, বৃষ্টির পরিমাণ এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের উপর নির্ভর করবে উৎসবের মরশুমে বাংলার আবহাওয়া কতটা স্বস্তিদায়ক থাকবে।

প্রকাশিত পূর্বাভাসের সারাংশ: মঙ্গলবার নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি, উত্তরবঙ্গে সপ্তাহের প্রথম দিকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া এবং রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমার ইঙ্গিত রয়েছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ সরকারি বুলেটিন দেখে পুজোর পরিকল্পনা করুন।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সম্পাদিত ও SEO-উপযোগী করে লেখা হয়েছে। প্রকাশের আগে তারিখ, বার এবং পুজোর নির্দিষ্ট দিনের পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনের সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন।

Preview image