Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোয় মাতবেন মিমি, বিয়ের কথা শুনেই লজ্জায় লাল নায়িকা

‘গানের ওপারে’ থেকে শুরু পরিচয়, বহু বাধা পেরিয়ে অবশেষে একসঙ্গে সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও মিমি চক্রবর্তী। পুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁদের নতুন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। ছবির প্রচার, পুজোর পরিকল্পনা থেকে বিয়ে—সব নিয়েই খোলামেলা আড্ডায় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

পুজোয় মাতবেন মিমি, বিয়ের কথা শুনেই লজ্জায় লাল নায়িকা
Celebrity News

পুজোয় মাতবেন মিমি চক্রবর্তী, সৃজিতের ছবির প্রচার শেষে উৎসবের প্রস্তুতি

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে আনন্দ, উৎসব, আড্ডা, নতুন পোশাক আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ মুহূর্ত। আর কলকাতার দুর্গাপুজোর জাঁকজমক যে অন্য রকম, তা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর কথাতেই স্পষ্ট। জলপাইগুড়িতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও কাজের সূত্রে কলকাতায় আসার পর থেকে শহরের পুজোর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। তাই পুজোর সময় নিজের শহর জলপাইগুড়িতে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে কলকাতাতেই উৎসব কাটাতে পছন্দ করেন অভিনেত্রী। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ছবির প্রচারের ব্যস্ততা শেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের শাড়ি, সাবেকি গয়না, অঞ্জলি এবং ধুনুচি নাচে মেতে ওঠার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

এ বারের পুজো অবশ্য মিমির কাছে একটু বেশি বিশেষ। কারণ, দুর্গাপুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর নতুন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। এই ছবিতে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করেছেন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিনের পরিচয় থাকলেও নানা কারণে এত দিন তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। ছবিতে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে সুমিত্রার চরিত্রে দেখা যাবে মিমিকে। ছবির প্রচার, চরিত্রের প্রস্তুতি এবং পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উঠে এসেছে তাঁর অভিনয়জীবনের নানা দিক।

অন্য দিকে, অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। ডিসেম্বর মাসে নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন মিমি চক্রবর্তী—এমন খবর ঘিরে আলোচনা চলছে। যদিও বিয়ে নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি অভিনেত্রী। বরং বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই লাজুক হাসিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলার নেই তাঁর। কেমন জীবনসঙ্গী চান, সেই প্রশ্নের উত্তরে মিমি জানিয়েছেন, তাঁর পছন্দ এমন একজন মানুষ, যিনি ভাল বন্ধু হবেন, মজার মানুষ হবেন, ঘুরতে ভালবাসবেন এবং তাঁর সন্তানদেরও খুব ভালবাসবেন।

কলকাতার দুর্গাপুজোই মিমির কাছে বিশেষ

জলপাইগুড়ির মেয়ে মিমি চক্রবর্তীর শৈশব ও বেড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গেই। কিন্তু কর্মজীবনের প্রয়োজনে কলকাতায় আসার পর শহরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। দুর্গাপুজোর সময় কলকাতার রাস্তাঘাট, আলোকসজ্জা, পাড়ার মণ্ডপ, মানুষের উৎসাহ এবং উৎসবের আবহ তাঁকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। তাই জলপাইগুড়িতে পুজো হলেও এই সময় কলকাতা ছেড়ে যেতে মন চায় না তাঁর।

মিমির কথায়, কলকাতার পুজোর মতো আড়ম্বর অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না। পাড়ায় পাড়ায় পুরনো দিনের গান বাজা, চারদিকে আলোর সাজ, মানুষের ভিড় এবং সকলের উৎসবে মেতে ওঠার দৃশ্য তাঁর মন ভাল করে দেয়। দুর্গাপুজোকে তিনি শুধু কয়েক দিনের উৎসব হিসেবে দেখেন না, বরং শহরের মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এবং নিজের মতো করে আনন্দ করার একটা সুযোগ হিসেবেও দেখেন।

তারকাদের পুজো মানেই যে শুধুই বিলাসবহুল আয়োজন বা বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, মিমির ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। নিজের আবাসনের পুজোয় অংশ নেওয়া, অঞ্জলি দেওয়া এবং পাড়ার মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোও তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। পুজোর কাজে হাত লাগানো থেকে শুরু করে সকলের হাতে ফুল তুলে দেওয়া—এই ছোট ছোট মুহূর্তের মধ্যেই উৎসবের আনন্দ খুঁজে পান অভিনেত্রী।

তাঁর কাছে পুজোর আনন্দের অন্যতম অংশ হল সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা। পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, পছন্দের খাবার খাওয়া এবং প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো—সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলিকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে চান তিনি।

শাড়ি, সাবেকি গয়না ও ধুনুচি নাচে পুজোর প্রস্তুতি

সারা বছর কাজের ব্যস্ততায় নানা ধরনের পোশাকে দেখা গেলেও দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে শাড়ি পরতে ভালবাসেন মিমি চক্রবর্তী। বিশেষ করে সাবেকি সাজ তাঁর পছন্দের। ঝলমলে শহরের পরিবেশে পছন্দের শাড়ি পরে অঞ্জলি দেওয়ার আনন্দ তাঁর কাছে আলাদা।

শুধু শাড়িই নয়, পুরনো দিনের গয়নাও অভিনেত্রীর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কখনও কখনও মায়ের গয়না পরেও সাজতে ভালবাসেন তিনি। এই ধরনের সাজের মধ্যে বাঙালিয়ানার একটা নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে, যা পুজোর আবহের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।

মিমির পুজোর পরিকল্পনায় রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া এবং ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ। পুজোর কয়েকটা দিন কাজের চাপ থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে আনন্দে মেতে উঠতে চান অভিনেত্রী। তবে এ বছর ছবির প্রচার থাকায় পুজোর আগে তাঁকে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। নতুন ছবির প্রচারের দায়িত্ব শেষ করেই উৎসবের মেজাজে ফিরতে চান তিনি।

অভিনেত্রীর এই পুজো পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়, তারকাখ্যাতি থাকলেও দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দ অনেকটাই সাধারণ বাঙালির মতো। পরিবারের স্মৃতি, মায়ের গয়না, পছন্দের শাড়ি এবং পাড়ার মানুষের সঙ্গে উৎসবে শামিল হওয়া—এই বিষয়গুলিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম কাজ মিমির

মিমি চক্রবর্তী ও সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচয় বহুদিনের। ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকের সময় থেকেই তাঁদের পরিচিতি। সেই ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্র পুপে আজও দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা নিয়ে রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচয় থাকা সত্ত্বেও পরিচালকের ছবিতে কাজ করার সুযোগ এত দিন তৈরি হয়নি।

মাঝে কাজের কথা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নানা বাধা এবং পরিস্থিতির কারণে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়নি তাঁদের। অবশেষে ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবির মাধ্যমে সেই অপেক্ষা শেষ হয়েছে। এই প্রথম সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় কাজ করলেন মিমি।

এই অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সৃজিতের সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের পরিচয়। কিন্তু একসঙ্গে কাজ করার পথে নানা বাধা ছিল। তাঁর বিশ্বাস, প্রত্যেকটি কাজেরই একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। যখন সেই সঠিক সময় আসে, তখনই সঠিক কাজটি হয়ে ওঠে। এই ছবির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

একজন অভিনেত্রীর কাছে পরিচিত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা যেমন স্বস্তির, তেমনই নতুন চ্যালেঞ্জেরও। বিশেষত, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কারণে পরিচালকের প্রত্যাশা সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার পাশাপাশি চরিত্রটিকে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাও জরুরি।

মিমির ক্ষেত্রে এই ছবির অভিজ্ঞতা আরও বিশেষ, কারণ ‘গানের ওপারে’-এর স্মৃতি এবং পুপে চরিত্রের সঙ্গে তাঁর অভিনয়জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সেই পরিচিত জগতের সূত্র ধরেই নতুন চরিত্রের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে তাঁকে।

‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এ সুমিত্রার চরিত্রে মিমি

পুজোয় মুক্তি পেতে চলা ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিতে আবীর চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করছেন মিমি চক্রবর্তী। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম সুমিত্রা। এই চরিত্রের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় তাঁকে ‘গানের ওপারে’-এর পুপে চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।

মিমির বক্তব্য অনুযায়ী, সুমিত্রার চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে পুপের আদল বা রেফারেন্সের কথা মাথায় রেখেছিলেন পরিচালক। ফলে চরিত্রটির সঙ্গে তাঁর পুরনো অভিনয়জীবনের একটা যোগ তৈরি হয়েছে। তবে কোনও চরিত্রের সঙ্গে আগের চরিত্রের মিল থাকলেও নতুন ছবিতে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে পিরিয়ড ছবিতে অভিনয় করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির প্রয়োজন অনেক বেশি। সেই সময়ের সামাজিক পরিবেশ, মানুষের আচরণ, পোশাক, কথাবার্তা এবং চরিত্রের মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। অভিনয়ের পাশাপাশি এই বিষয়গুলিও চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

মিমি জানিয়েছেন, পিরিয়ড ছবির জন্য অনেক হোমওয়ার্ক করতে হয়। একই সঙ্গে চরিত্রের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ববোধ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন ছবি শুরু হওয়ার আগে এখনও চিন্তায় তাঁর ঘুম আসে না বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এই ছবির ক্ষেত্রে সেই উদ্বেগ আরও বেশি ছিল। শুটিংয়ের দিন সেটে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট আগেই পৌঁছে যেতেন তিনি। সেটে কেউ বকা খাচ্ছেন কি না, কাজ ঠিকঠাক চলছে কি না, সেই দিকেও নজর রাখতেন।

news image
আরও খবর

অভিনেত্রীর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অভিজ্ঞতা বাড়লেও প্রতিটি নতুন কাজের আগে তাঁর মধ্যে দায়িত্ববোধ ও উদ্বেগ কাজ করে। একটি চরিত্রকে ঠিকভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি যে যথেষ্ট পরিশ্রম করেন, সেটাও স্পষ্ট।

মিমির অভিনয়ের প্রশংসায় সৃজিত

মিমির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সৃজিত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিনেত্রীর ভিতরের আগুন সুমিত্রার চরিত্রের মধ্যেও রয়েছে। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, চরিত্রটির মধ্যে যে দৃঢ়তা ও প্রাণশক্তি প্রয়োজন, তা মিমির অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

পরিচালকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং পুপে চরিত্রের স্মৃতি—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সুমিত্রার চরিত্রটি মিমির কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন চরিত্রকে পুরনো পরিচয়ের গণ্ডি থেকে বের করে নিজের মতো করে তুলে ধরাই তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

পুজোর সময় বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবিকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহ বরাবরই বেশি থাকে। উৎসবের ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করেন অনেকেই। সেই জায়গা থেকে ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিটি মিমির কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ছবির প্রচার ঘিরেও রয়েছে ব্যস্ততা।

দীর্ঘদিনের পরিচয়ের পর সৃজিতের পরিচালনায় প্রথম কাজ, আবীর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নেওয়া এবং সুমিত্রার মতো চরিত্রে অভিনয়—সব মিলিয়ে এই ছবি তাঁর অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে।

মিমির বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বললেন অভিনেত্রী?

ছবির প্রচার এবং পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি মিমি চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ডিসেম্বর মাসে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেন অভিনেত্রী। যদিও এই খবরের সত্যতা সম্পর্কে মিমি নিজে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।

বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই মিমি খানিক লাজুক হাসি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনিও নিজের বিয়ের খবর শুনছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বেড়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। তবে এখনই বিয়ের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি অভিনেত্রী।

তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ নতুন নয়। বিশেষ করে প্রিয় অভিনেত্রী বা অভিনেতার বিয়ে নিয়ে কোনও খবর সামনে এলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। মিমির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে বিয়ে নিয়ে জল্পনা থাকলেও অভিনেত্রীর নিজের বক্তব্যই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত তাঁর কথায় বিয়ের তারিখ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত নেই।

কেমন জীবনসঙ্গী চান মিমি চক্রবর্তী?

বিয়ের প্রসঙ্গে মিমিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কেমন পাত্র পছন্দ করেন, সেই কথাও উঠে আসে। অভিনেত্রীর বক্তব্য, তাঁর জীবনসঙ্গীকে অবশ্যই একজন ভাল মানুষ হতে হবে। শুধু সম্পর্কের পরিচয় নয়, তিনি চান তাঁর সঙ্গী যেন তাঁর খুব ভাল বন্ধু হন।

মিমির কাছে বন্ধুত্ব একটি সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এমন একজন মানুষকে পাশে চান, যার সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া যাবে এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে উপভোগ করা যাবে।

এ ছাড়াও তাঁর পছন্দ মজার, প্রাণবন্ত এবং ঘুরতে ভালবাসেন এমন একজন মানুষ। মিমি নিজেও ঘুরতে ভালবাসেন। তাই তাঁর জীবনসঙ্গীর মধ্যেও ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তবে তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, তাঁর সন্তানদের খুব ভালবাসতে হবে ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গীকে। অর্থাৎ, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু দু'জন মানুষের বোঝাপড়া নয়, পরিবারের প্রতি যত্ন এবং ভালবাসাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী।

এই মন্তব্যের মাধ্যমে মিমি তাঁর পছন্দের জীবনসঙ্গীর বিষয়ে কিছুটা ধারণা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কাকে বিয়ে করতে চলেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। ফলে ডিসেম্বরের বিয়ের জল্পনা এখনও জল্পনাই রয়ে গিয়েছে।

বিয়ের প্রশ্ন এড়িয়ে মিমির মজার উত্তর

বিয়ের প্রসঙ্গ যত এগিয়েছে, মিমির উত্তরেও ততই ফুটে উঠেছে তাঁর রসবোধ। বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, অন্যদের বিয়েতে খেতে যেতে তাঁর ভালই লাগে। তবে সেখানে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা বেশি রাখার অনুরোধও করেছেন তিনি।

মিমি জানিয়েছেন, তিনি মাছ-মাংস খান না। তাই বিয়েবাড়িতে নিরামিষ খাবার থাকলে তাঁর সুবিধা হয়। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে খাবারের প্রসঙ্গ তুলে কথোপকথনকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার এই ভঙ্গি সাক্ষাৎকারে মজার মুহূর্ত তৈরি করেছে।

বিয়ে কবে করবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, যখন বিয়ে হবে, তখন বিয়ে নিয়ে ভাববেন। অর্থাৎ, আপাতত বিয়ে নিয়ে কোনও ঘোষণা করার অবস্থানে নেই তিনি।

এই উত্তর থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনিশ্চিত খবরের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কোনও কারণ নেই। অভিনেত্রীর নিজের মুখে নিশ্চিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিয়ের সময় বা পরিকল্পনা সম্পর্কে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।

পুজো, নতুন ছবি ও ব্যক্তিগত জীবন—সব মিলিয়ে ব্যস্ত মিমি

মিমি চক্রবর্তীর এ বছরের পুজো তাই একাধিক কারণে বিশেষ। এক দিকে নতুন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এর প্রচার, অন্য দিকে বহুদিনের পরিচিত পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা। তার সঙ্গে কলকাতার পুজোকে ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত আনন্দ এবং বিয়ে নিয়ে চলা জল্পনা—সব মিলিয়ে অভিনেত্রীকে নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ যথেষ্ট।

তবে ছবির প্রচার শেষ হলে পুজোর আনন্দে ডুব দেওয়ার পরিকল্পনাই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পছন্দের শাড়ি, মায়ের গয়না, পাড়ার পুজোয় অঞ্জলি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং ধুনুচি নাচ—এই সব কিছুর মধ্যেই নিজের উৎসব খুঁজে নিতে চান তিনি।

দীর্ঘদিনের পরিচয়ের পর সৃজিতের পরিচালনায় কাজ করা তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করেছে। অন্য দিকে, বিয়ে নিয়ে প্রশ্নে তাঁর লাজুক হাসি ও মজার উত্তর তৈরি করেছে নতুন কৌতূহল। কিন্তু ডিসেম্বরের বিয়ের খবর নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও ঘোষণা নেই।

সব মিলিয়ে, এ বছর পুজোয় মিমি চক্রবর্তীর জীবনে কাজ ও আনন্দ—দুইয়েরই বিশেষ জায়গা রয়েছে। নতুন ছবি নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকার পাশাপাশি কলকাতার উৎসবের পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেত্রী। আর ব্যক্তিগত জীবনের প্রশ্নে আপাতত তাঁর উত্তর একটাই—বিয়ে যখন হবে, তখনই তা নিয়ে ভাববেন।

Preview image