Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোর নিরামিষ ভোজে শুক্তোর নতুন অবতার ‘শুক্তো বড়া’! কী ভাবে বানাবেন?

শুক্তোর চেনা স্বাদে এ বার একটু অন্যরকম চমক—মুচমুচে শুক্তো বড়া! পুজোর নিরামিষ ভোজে গরম ভাতের সঙ্গে যেমন জমবে, তেমনই বিকেলের জলখাবার হিসেবেও হতে পারে দারুণ পছন্দ। সহজ কয়েকটি উপকরণেই ঘরেই বানিয়ে ফেলুন এই নতুন স্বাদের পদ।

ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাত, পাশে গরম গরম শুক্তো—বাঙালির নিরামিষ ভোজে এই জুটির সঙ্গে পরিচয় নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। উচ্ছে, কাঁচা কলা, আলু, বেগুন, ঝিঙে, কাঁচা পেঁপে, পোস্ত, সর্ষে আর সামান্য মিষ্টির ভারসাম্যে তৈরি শুক্তো বাঙালি রান্নার একেবারে নিজস্ব স্বাদের পরিচয় বহন করে। বিশেষ করে পুজোর দিনগুলিতে নিরামিষ পাতে শুক্তোর আলাদা কদর রয়েছে।

তবে একই শুক্তো যদি একটু অন্য ভাবে পরিবেশন করা যায়, কেমন হয়? স্বাদের মূল চরিত্র খুব বেশি বদলানোর প্রয়োজন নেই। বরং পরিচিত উপকরণগুলিকেই একটু অন্য কায়দায় মিশিয়ে তৈরি করা যায় মুচমুচে শুক্তো বড়া।

নাম শুনে নতুন মনে হলেও এই পদে রয়েছে শুক্তোর চেনা স্বাদ। উচ্ছে ও অন্যান্য সবজির হালকা তেতো ভাব, পোস্ত ও সর্ষের ঘ্রাণ, নারকেলের মৃদু মিষ্টতা—সব মিলিয়ে তৈরি হবে এমন একটি মিশ্রণ, যা ভেজে নিলে বাইরের দিকটা হয়ে উঠবে মুচমুচে আর ভিতরে থাকবে নরম, সুস্বাদু পুর।

পুজোর নিরামিষ ভোজে ভাতের সঙ্গে এই বড়া পরিবেশন করা যায়। আবার বিকেলের চায়ের সময়ও এটি হতে পারে অন্য রকম জলখাবার। অতিথি এলে সাধারণ আলুর চপ বা সবজি বড়ার বদলে শুক্তো বড়া পরিবেশন করলেও নজর কাড়তে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, রান্নাটির জন্য খুব অচেনা কোনও উপকরণের প্রয়োজন নেই। বাঙালি রান্নাঘরে পরিচিত কয়েকটি সবজি ও মশলা দিয়েই তৈরি করা যায় এই পদ।

শুক্তো বড়ার স্বাদ কেমন? শুক্তো সাধারণত তেতো, নোনতা এবং সামান্য মিষ্টি স্বাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ। বিভিন্ন সবজির নিজস্ব স্বাদ এবং পোস্ত-সর্ষের মিশ্রণ এই রান্নার বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

শুক্তো বড়ার ক্ষেত্রেও সেই স্বাদের কাঠামো ধরে রাখা হয়। তবে রান্নার ধরন বদলে যাওয়ায় খাওয়ার অভিজ্ঞতাটাও আলাদা হয়।

ভাজার কারণে বড়ার বাইরের অংশে হালকা কড়কড়ে ভাব তৈরি হয়। ভিতরে থাকে সেদ্ধ সবজির নরম মিশ্রণ। উচ্ছে থাকায় সামান্য তেতো স্বাদ পাওয়া যায়, আবার নারকেল ও অল্প চিনি সেই তেতো স্বাদকে ভারসাম্য দেয়।

সর্ষে ও পোস্তের মশলা বড়াটিকে দেয় আলাদা ঘ্রাণ। গরম তেলে ভাজার পর সেই মশলার গন্ধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কী কী উপকরণ লাগবে? শুক্তো বড়া বানানোর জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। বরং শুক্তোর পরিচিত উপকরণগুলিই ব্যবহার করা হচ্ছে।

উচ্ছে: ১টি

কাঁচা কলা: ১টি

আলু: ১টি

বেগুন: অর্ধেকটি

ঝিঙে: ১টি

কাঁচা পেঁপে: অর্ধেকটি

পোস্ত: ১ টেবিল চামচ

সর্ষে: ১ চা চামচ

নারকেল কোরা: ২ টেবিল চামচ

আদা বাটা: ১ চা চামচ

নুন: প্রয়োজনমতো

চিনি: স্বাদ অনুযায়ী

ময়দা: প্রয়োজন অনুযায়ী

চালের গুঁড়ো: ১-২ টেবিল চামচ

ঘি: ১ চা চামচ

সর্ষের তেল: ভাজার জন্য প্রয়োজনমতো

এখানে ময়দা ও চালের গুঁড়ো মূলত মিশ্রণটিকে বাঁধতে সাহায্য করবে। সবজি থেকে যদি বেশি জল বেরিয়ে আসে, তাহলে ময়দা বা চালের গুঁড়োর পরিমাণ সামান্য বাড়াতে হতে পারে।

সবজি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কী খেয়াল রাখবেন?

এই রান্নার মূল আকর্ষণই হল বিভিন্ন সবজির সংমিশ্রণ। তাই সবজি খুব বেশি নরম বা অতিরিক্ত পাকা হলে ভালো ফল পাওয়া নাও যেতে পারে।

উচ্ছে যেন খুব বেশি শক্ত না হয়, আবার একেবারে নরমও না হয়। কাঁচা কলা, আলু এবং কাঁচা পেঁপে তাজা হলে মিশ্রণের স্বাদ ভালো হবে। ঝিঙে ও বেগুন কাটার পর খুব বেশি সময় রেখে না দিয়ে রান্নায় ব্যবহার করাই ভালো।

সবজিগুলি কাটার সময় খুব বড় টুকরো করবেন না। ছোট টুকরো করলে অল্প সময়ে সেদ্ধ হবে এবং পরে মেশাতেও সুবিধা হবে।

তবে খুব বেশি সেদ্ধ করাও ঠিক নয়। সবজিগুলি এমন ভাবে সেদ্ধ করতে হবে যাতে সেগুলি নরম হয়, কিন্তু চটকে একেবারে জলের মতো হয়ে না যায়।

কী ভাবে তৈরি করবেন শুক্তো বড়া? প্রথমে সব সবজি ভালো করে ধুয়ে নিন। উচ্ছে, কাঁচা কলা, আলু, বেগুন, ঝিঙে এবং কাঁচা পেঁপের খোসা প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।

একটি পাত্রে জল গরম করে সবজিগুলি অল্প সেদ্ধ করে নিতে পারেন। একসঙ্গে সব সবজি দিলে কোনটি আগে নরম হয়ে যাচ্ছে, সে দিকে নজর রাখুন। প্রয়োজনে আলাদা আলাদা করেও সেদ্ধ করা যায়।

সবজি সেদ্ধ হয়ে গেলে ছাঁকনিতে ঢেলে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিন। এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবজির মধ্যে অতিরিক্ত জল থেকে গেলে পরে বড়ার মিশ্রণ খুব নরম হয়ে যেতে পারে। তখন বড়া গড়ে তোলা কঠিন হবে এবং ভাজার সময় ভেঙেও যেতে পারে।

তাই সেদ্ধ সবজিকে কয়েক মিনিট রেখে অতিরিক্ত জল বের করে নিন।

পোস্ত ও সর্ষের মিশ্রণ এ বার আসবে রান্নার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পোস্ত এবং সর্ষে ভালো করে বেটে নিন।চাইলে পোস্ত আগে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন।

এতে বাটতে সুবিধা হবে। সর্ষে বাটার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যাতে অতিরিক্ত তেতো বা ঝাঁঝালো না হয়ে যায়।

শুক্তোর স্বাদে পোস্ত ও সর্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই উপকরণের পরিমাণ খুব বেশি হয়ে গেলে মূল সবজির স্বাদ চাপা পড়তে পারে। তাই পরিমাণ মেপে ব্যবহার করাই ভালো।

বড়ার মিশ্রণ তৈরি

একটি বড় পাত্রে জল ঝরানো সেদ্ধ সবজি নিন। হাত বা আলু মাখার যন্ত্র দিয়ে সবজিগুলি ভালো করে চটকে নিন।

তবে একেবারে মিহি পেস্ট করার প্রয়োজন নেই। সামান্য দানা বা সবজির টুকরো থাকলে বড়ার টেক্সচার আরও ভালো হতে পারে।

এর মধ্যে দিন পোস্ত ও সর্ষের বাটা। তার সঙ্গে আদা বাটা, নারকেল কোরা, নুন এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে দিন।

এ বার সব উপকরণ ভালো করে মেখে নিন।

এখানে চিনির পরিমাণ নিয়ে একটু সতর্ক থাকা দরকার। শুক্তোর স্বাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তেতো স্বাদের সঙ্গে সামান্য মিষ্টির ভারসাম্য। তাই বেশি চিনি দিলে এটি শুক্তোর স্বাভাবিক স্বাদ থেকে অনেকটাই আলাদা হয়ে যেতে পারে।

প্রয়োজনে অল্প অল্প করে চিনি দিয়ে স্বাদ পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

মিশ্রণ বাঁধার কৌশল সবজি ও মশলার মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে তাতে ময়দা এবং চালের গুঁড়ো দিতে হবে।

একসঙ্গে বেশি ময়দা বা চালের গুঁড়ো দেবেন না। অল্প অল্প করে মিশিয়ে মণ্ডের ঘনত্ব পরীক্ষা করুন।

মিশ্রণটি এমন হওয়া উচিত যাতে হাতে নিয়ে সহজে বড়ার আকার দেওয়া যায়। খুব ভেজা হলে আরও সামান্য চালের গুঁড়ো যোগ করতে পারেন।

চালের গুঁড়ো বড়ার বাইরের অংশকে ভাজার পরে কিছুটা মুচমুচে করতে সাহায্য করতে পারে। অন্য দিকে ময়দা মিশ্রণকে একসঙ্গে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

news image
আরও খবর

তবে খুব বেশি শুকনো মিশ্রণ তৈরি করবেন না। তাতে বড়া শক্ত হয়ে যেতে পারে।

বড়ার আকার কেমন হবে?

মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে হাতের তালুতে সামান্য তেল মেখে নিতে পারেন। এর পর অল্প অল্প করে মিশ্রণ নিয়ে গোল বা চ্যাপ্টা বড়ার আকার দিন।

চ্যাপ্টা বড়া করলে ভাজার সময় ভিতর পর্যন্ত ভালোভাবে গরম হয় এবং বাইরের অংশও সহজে মুচমুচে করা যায়।

বড়াগুলি খুব মোটা করবেন না। বেশি মোটা হলে বাইরে দ্রুত বাদামি হয়ে গেলেও ভিতরের অংশ যথেষ্ট গরম নাও হতে পারে।

অন্য দিকে একেবারে পাতলা করলেও ভিতরের নরম অংশের স্বাদ কমে যেতে পারে।

সর্ষের তেলে ভাজার স্বাদ

কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল যথেষ্ট গরম হলে আঁচ মাঝারি করে বড়াগুলি একে একে তেলে ছাড়ুন।

একসঙ্গে অনেকগুলি বড়া দিয়ে দেবেন না। তাতে তেলের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং বড়াগুলি তেল বেশি শুষে নিতে পারে।

মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে বড়াগুলি ভাজুন। এক পাশ বাদামি হলে আলতো করে উল্টে অন্য পাশও ভেজে নিন।

বাইরের অংশ যখন সুন্দর সোনালি এবং মুচমুচে হয়ে আসবে, তখন তেল থেকে তুলে নিন।

তেলে তোলার পর কিছুক্ষণ ছাঁকনিতে বা কাগজে রেখে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিতে পারেন।

স্বাস্থ্যসচেতন হলে কী করবেন?

যাঁরা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলেন, তাঁরা এই বড়া অল্প তেলে প্যান-ফ্রাই করে নিতে পারেন।

নন-স্টিক বা ভারী তলার প্যান ব্যবহার করে অল্প তেল দিয়ে বড়াগুলি দুই দিক থেকে ধীরে ধীরে ভেজে নেওয়া যায়।

এ ক্ষেত্রে বড়া খুব নরম হলে প্যানে দেওয়ার সময় ভেঙে যেতে পারে। তাই মিশ্রণটি একটু শক্ত করে তৈরি করা ভালো।

এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করেও পরীক্ষা করা যেতে পারে, যদিও এতে সর্ষের তেলে ভাজার মতো স্বাদ ও গন্ধ পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

শেষে এক ফোঁটা ঘি , বড়াগুলি ভাজা হয়ে গেলে একটি ছোট চমক দিতে পারেন। উপর থেকে সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিন। খুব বেশি ঘি প্রয়োজন নেই। অল্প ঘিই যথেষ্ট। গরম বড়ার উপর ঘি পড়লে তার সুগন্ধ আরও ভালো ভাবে বেরিয়ে আসে। তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। ঘি না দিলেও শুক্তো বড়ার স্বাদ ভালো থাকবে।

কীসের সঙ্গে পরিবেশন করবেন?

শুক্তো বড়ার সবচেয়ে পরিচিত সঙ্গী হতে পারে গরম ভাত। পুজোর নিরামিষ ভোজে ভাতের সঙ্গে আলাদা একটি পদ হিসেবে এটি পরিবেশন করা যায়।

শুরুতে শুক্তোর বদলে বা শুক্তোর পাশাপাশি এই বড়া রাখা যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে দু’টি পদ পরিবেশন করলে তেতো স্বাদের ভারসাম্যটি মাথায় রাখা ভালো।

শুধু দুপুরের খাবার নয়, বিকেলের জলখাবার হিসেবেও শুক্তো বড়া বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। সঙ্গে দিতে পারেন সামান্য কাসুন্দি বা পছন্দের কোনও নিরামিষ ডিপ। তবে শুক্তোর নিজস্ব স্বাদ যাতে চাপা না পড়ে, সে দিকে খেয়াল রাখুন।

চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে এটিকে হালকা নোনতা জলখাবার হিসেবেও খাওয়া যায়।

পুজোর নিরামিষ পাতে কেন জায়গা করে নিতে পারে এই পদ?

পুজোর সময়ে অনেক বাড়িতেই নিরামিষ রান্নার বিশেষ আয়োজন থাকে। লুচি, ছোলার ডাল, আলুর দম, ফুলকপি, পটল, ধোকার ডালনা—এর পাশাপাশি নতুন কোনও নিরামিষ পদ থাকলে ভোজের আয়োজন আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে।

শুক্তো বড়ার বিশেষত্ব হল এটি একই সঙ্গে পরিচিত এবং নতুন। উপকরণগুলির সঙ্গে বাঙালির পরিচয় বহু দিনের, কিন্তু পরিবেশন পদ্ধতিটি একটু আলাদা।

যাঁরা শুক্তো ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এই পদ বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। আবার যাঁরা শুক্তোর তেতো স্বাদের জন্য খুব একটা আগ্রহী নন, তাঁরাও বড়ার মুচমুচে টেক্সচারের কারণে একবার চেখে দেখতে পারেন।

মিশ্রণ ভেঙে গেলে কী করবেন?

বড়া বানানোর সময় অনেকেরই একটি সমস্যা হয়—তেলে দেওয়ার পর বড়া ভেঙে যায়।

এর প্রধান কারণ হতে পারে মিশ্রণে অতিরিক্ত জল। তাই সেদ্ধ সবজির জল ভালো করে ঝরানো অত্যন্ত জরুরি।

দ্বিতীয় কারণ হতে পারে বাঁধার উপকরণ কম থাকা। সে ক্ষেত্রে সামান্য চালের গুঁড়ো বা ময়দা যোগ করে আবার মেখে নিতে পারেন।

তবে বেশি ময়দা দিলে বড়া শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই অল্প অল্প করে যোগ করাই ভালো।

আর তেল যথেষ্ট গরম হওয়ার আগেই বড়া দিয়ে দিলে সেটিও ভেঙে যেতে পারে। তাই প্রথমে তেলের তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না দেখে তারপর বড়া ভাজুন।

স্বাদ ঠিক রাখার কয়েকটি টিপস

শুক্তো বড়ার আসল সৌন্দর্য হল স্বাদের ভারসাম্য। তাই উচ্ছে খুব বেশি হলে তেতো স্বাদ অত্যধিক হতে পারে। আবার চিনি বেশি দিলে শুক্তোর স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট হবে।

পোস্ত ও সর্ষের পরিমাণও মেপে ব্যবহার করা দরকার। নারকেল কোরা এই রান্নায় মৃদু মিষ্টি ও বাদামি ঘ্রাণ আনবে।

সবজি বেশি সেদ্ধ না করাই ভালো। সেদ্ধ করার পরে জল ভালোভাবে ঝরিয়ে নেওয়া জরুরি।

বড়া ভাজার সময় আঁচ মাঝারি রাখুন। খুব বেশি আঁচে বাইরে দ্রুত পুড়ে যেতে পারে, অথচ ভিতরটা ঠিকমতো গরম নাও হতে পারে।

আগে থেকে তৈরি করে রাখা যাবে?

অতিথি আপ্যায়ন বা পুজোর রান্নার ক্ষেত্রে সময় বাঁচাতে বড়ার মিশ্রণ কিছুটা আগে তৈরি করে রাখা যেতে পারে। তবে মিশ্রণে জলীয় অংশ বেশি থাকলে দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে সেটি আরও নরম হয়ে যেতে পারে।

তাই সবজি সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে রাখার পর মশলা মিশিয়ে বড়া গড়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনের কাছাকাছি সময়ে ভাজা ভালো।

ভাজা বড়া দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে মুচমুচে ভাব কমে যেতে পারে। তাই পরিবেশনের কিছুক্ষণ আগে ভাজলে স্বাদ সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।

বাঙালি রান্নায় পুরনো স্বাদের নতুন রূপ

বাঙালি রান্নার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল পরিচিত উপকরণকে নানা ভাবে ব্যবহার করা। একই সবজি দিয়ে কখনও তরকারি, কখনও ভাজা, কখনও বড়া বা অন্য কোনও পদ তৈরি হয়।

শুক্তো বড়াও সেই ভাবনারই একটি মজার উদাহরণ। এখানে শুক্তোর পরিচিত উপকরণগুলি থাকছে, কিন্তু রান্নার ধরন বদলে যাচ্ছে।

ফলে যারা ঐতিহ্যবাহী স্বাদের মধ্যে একটু নতুনত্ব খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এই পদটি হতে পারে ভালো বিকল্প।

পুজোর নিরামিষ ভোজে তাই এ বার শুধু শুক্তো নয়, পাতে জায়গা করে নিতে পারে শুক্তো বড়াও।

গরম ভাতের সঙ্গে প্রথম পাতে পরিবেশন করুন। অথবা বিকেলের জলখাবারের সময় চায়ের সঙ্গে তুলে দিন এক প্লেট মুচমুচে শুক্তো বড়া। উচ্ছে, কাঁচা কলা, আলু, বেগুন, ঝিঙে, কাঁচা পেঁপে, পোস্ত, সর্ষে আর নারকেলের চেনা স্বাদ—সব একসঙ্গে মিশে তৈরি করবে একেবারে অন্য রকম একটি বাঙালি পদ।

তাই এ বার পুজোর নিরামিষ ভোজে শুক্তোর স্বাদ থাকুক, তবে একটু অন্য অবতারে—মুচমুচে শুক্তো বড়ায়।

Preview image