দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, সাজগোজ আর জমিয়ে কেনাকাটা। তবে টেলিপাড়ার জনপ্রিয় নায়িকাদের শপিংয়ের ধরন কিন্তু একেবারেই একরকম নয়। কেউ সময় বাঁচাতে অনলাইন শপিংয়ের উপর ভরসা রাখেন, আবার কেউ এখনও মা-বাবার পছন্দকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। কারও কার্ট ভর্তি থাকে নতুন ট্রেন্ডের পোশাকে, তো কেউ পরিবারের সঙ্গে বাজার ঘুরেই পুজোর কেনাকাটা সম্পূর্ণ করতে ভালোবাসেন। ব্যস্ত শুটিংয়ের ফাঁকেও পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে তাঁদের উৎসাহে কোনও খামতি নেই। নতুন শাড়ি, গয়না, মেকআপ থেকে শুরু করে উৎসবের বিশেষ পরিকল্পনা সবকিছু নিয়েই রয়েছে আলাদা আলাদা গল্প। পুজোর আগে সেই সব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পছন্দ-অপছন্দ এবং কেনাকাটার মজার মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন টেলিপাড়ার একঝাঁক জনপ্রিয় নায়িকা। তাঁদের এই গল্পে উঠে এসেছে আধুনিক অনলাইন শপিংয়ের সুবিধা যেমন, তেমনই পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটার আবেগঘন স্মৃতিও।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে নতুন জামাকাপড়, সাজগোজ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরিবারকে নিয়ে ঘোরাঘুরি আর প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা। পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় কেনাকাটার প্রস্তুতি। কারও তালিকায় থাকে শাড়ি, কারও ওয়েস্টার্ন পোশাক, কেউ আবার গয়না, জুতো, ব্যাগ আর মেকআপের জিনিসপত্র নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর টেলিপাড়ার তারকারা? তাঁদের পুজোর বাজারের গল্পও কম মজার নয়। শুটিং, অনুষ্ঠান, ফটোশুট আর প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও পুজোর কেনাকাটার জন্য সময় বের করার চেষ্টা করেন অনেকেই।
তবে প্রত্যেকের শপিংয়ের ধরন এক নয়। বর্তমান সময়ে অনলাইন শপিং যেমন অনেকের জীবন সহজ করে দিয়েছে, তেমনই অনেকের কাছে এখনও দোকানে গিয়ে নিজের হাতে পোশাক দেখে কেনার আনন্দটাই আসল। আর তার সঙ্গে যদি থাকে মা-বাবার পছন্দ, তাহলে পুজোর কেনাকাটার আনন্দ যেন আরও বেড়ে যায়।
টেলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্তের পুজোর শপিংয়ের গল্পে যেমন রয়েছে নিজের হাতে পোশাক বেছে নেওয়ার অভ্যাস, তেমনই রয়েছে মা-বাবার জন্য কেনাকাটার বিশেষ জায়গা। অন্যদিকে সুস্মিতা দে-র মতো ব্যস্ত অভিনেত্রীদের পুজোর সময় কাজের ব্যস্ততাও থাকে তুঙ্গে। ২০২৬-এর পুজোর আবহে সুস্মিতা ইতিমধ্যেই মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে দেবীর রূপে দর্শকদের সামনে আসতে চলেছেন।
পুজোর আগে শপিংয়ের কথা উঠলেই স্বস্তিকা দত্তের একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট—অনলাইনের বদলে নিজের হাতে দেখে কেনাকাটা করতে তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। কয়েক বছর আগে পুজোর কেনাকাটা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, অনলাইনে কেনাকাটা করলেও সেটি খুব ভেবেচিন্তে করতে হয়। অনেক কিছু দেখে, বুঝে তারপর অর্ডার করতে হয়। কারণ ছবি দেখে পছন্দ হলেও হাতে আসার পর অনেক সময় জিনিস প্রত্যাশার মতো হয় না।
তাঁর কাছে তাই দোকানে গিয়ে কাপড়ের মেটিরিয়াল দেখা, রং বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজনে দরদাম করার মধ্যেই রয়েছে আসল শপিংয়ের মজা। শুধু মোবাইলে কয়েকটি ছবি দেখে পছন্দ করে অর্ডার করে দেওয়াকে তিনি সেই অর্থে সম্পূর্ণ কেনাকাটা বলে মনে করেন না। পুজোর বাজারে দোকানে দোকানে ঘোরা, নানা ধরনের পোশাক দেখা এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী জিনিস বেছে নেওয়ার অভিজ্ঞতাই তাঁর কাছে বেশি আকর্ষণীয়।
আর এখানেই স্বস্তিকার শপিংয়ের সঙ্গে অনেক বাঙালির পুরনো পুজোর স্মৃতি মিলে যায়। পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে বাজারে বেরিয়ে পড়া, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘোরা, পোশাক পছন্দ করতে দীর্ঘ সময় নেওয়া—এসবই তো বাঙালির পুজোর প্রস্তুতির পরিচিত ছবি।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে স্বস্তিকার জীবন। ছোটবেলায় পুজোর নতুন জামার প্রতি যে উত্তেজনা ছিল, এখন তা কিছুটা কমেছে। কারণ অভিনেত্রী হিসেবে সারা বছরই নানা অনুষ্ঠানের জন্য নতুন পোশাক পরতে হয়। বিভিন্ন কাজ, শুটিং এবং ইভেন্টের জন্য পোশাকের প্রয়োজন হওয়ায় পুজোর সময় আলাদা করে নতুন জামা কেনার সেই পুরনো উন্মাদনা আর নেই।
তারপরও পুজো এলেই সাজগোজের ইচ্ছেটা ফিরে আসে। স্বস্তিকা জানিয়েছেন, সাধারণত পুজোর সময় শাড়ি পরতেই তাঁর বেশি ভালো লাগে। সারা বছর খুব বেশি সাজগোজ না করলেও উৎসবের দিনগুলোতে নিজের মতো করে সাজতে ভালোবাসেন তিনি। মেকআপও করেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী।
শুধু পোশাক নয়, গয়নার ক্ষেত্রেও তাঁর পছন্দ বেশ আলাদা। রুপোর গয়না এবং ট্যান গোল্ড তাঁর পছন্দের তালিকায় থাকে। কোথাও গিয়ে কোনও গয়না পছন্দ হলে কিনে রাখেন, পরে বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করেন। গড়িয়াহাট ও ধর্মতলার মতো জায়গায় ঘুরে গয়না কেনার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
অর্থাৎ স্বস্তিকার কাছে পুজোর শপিং মানে শুধু দামি ব্র্যান্ডের দোকানে গিয়ে কেনাকাটা নয়। ফুটপাথের দোকানেও যদি পছন্দের কিছু পাওয়া যায়, তাহলে সেখান থেকেও কেনার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। এই জায়গাটাই তাঁর শপিংয়ের গল্পকে আরও বাঙালিয়ানা করে তোলে।
আর মা-বাবার জন্য কেনাকাটার কথাও তাঁর পুজোর বাজারের গল্পে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। নিজের জন্য কেনাকাটা না হলেও পরিবারের জন্য কিছু কিনে দেওয়ার আনন্দ আলাদা। পুজোর আগে তিনি মায়ের জন্য শাড়ি এবং বাবার জন্য পোশাক কেনার কথাও জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ নিজের পুজোর সাজের চেয়েও পরিবারের মানুষদের খুশি করার আনন্দ তাঁর কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এখানেই হয়তো পুজোর কেনাকাটার আসল গল্পটা লুকিয়ে থাকে। নিজের জন্য নতুন পোশাক কেনার আনন্দ যেমন রয়েছে, তেমনই মা-বাবার জন্য কিছু পছন্দ করে কেনার মধ্যেও থাকে এক ধরনের আবেগ। ছোটবেলায় মা-বাবাই হয়তো সন্তানের জন্য নতুন জামা কিনে দিতেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই সম্পর্কের জায়গাটা কিছুটা বদলে যায়। তখন সন্তানও বাবা-মায়ের জন্য কিছু কিনে তাঁদের চমকে দিতে চায়।
স্বস্তিকার পুজোর পরিকল্পনাতেও পরিবারের গুরুত্ব স্পষ্ট। ছোটবেলায় মা, বাবা, দাদু ও পরিবারের সঙ্গে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় পুজো কাটানোর স্মৃতি তাঁর কাছে এখনও বিশেষ। এখন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হওয়ার কারণে পুজোর ভিড়ে আগের মতো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব হয় না। দর্শকরা তাঁকে দেখলেই ছবি তুলতে চান, ফলে ছোটবেলার মতো প্যান্ডেল হপিংয়ের স্বাধীনতা আর নেই।
তবুও পুজোর কয়েকটা দিন পরিবারকে সময় দেওয়ার চেষ্টা থাকে। ব্যস্ততার মধ্যে একদিন মা-বাবার সঙ্গে বেরোনো, একদিন নিজের মতো করে সময় কাটানো এবং অন্যদিন বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এই ব্যস্ত জীবনযাত্রার মধ্যেও পরিবারের জন্য আলাদা সময় রাখার বিষয়টি তাই তাঁর পুজোর গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে সুস্মিতা দে-র পুজোও এখন কাজের ব্যস্ততার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। ২০২৬-এর মহালয়ায় তাঁকে মা কালীর রূপে দেখা যাবে। তাঁর সেই লুক ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। গলায় জবার মালা, কপালে ত্রিনয়ন এবং বিশেষ সাজে সুস্মিতার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অভিনেত্রীর কেরিয়ারেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালে তাঁর ওটিটি অভিষেকের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে টেলিভিশনের পাশাপাশি নতুন মাধ্যমে কাজের ব্যস্ততাও তাঁর জীবনে যুক্ত হয়েছে।
এই ধরনের ব্যস্ততার মধ্যে পুজোর কেনাকাটা যে আগের মতো সহজ নয়, তা টেলিপাড়ার বহু তারকার ক্ষেত্রেই দেখা যায়। শুটিংয়ের সময়সূচি, অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, ফটোশুট, ব্র্যান্ডের কাজ—সব মিলিয়ে উৎসবের আগে কয়েকটা দিন যেন আরও দ্রুত কেটে যায়। ফলে অনেকেই শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করেন অথবা পরিবারের সদস্যদের উপর কিছুটা দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
আজকের দিনে অনলাইন শপিং অবশ্য সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান করেছে। মোবাইল ফোন খুললেই হাজার হাজার পোশাক চোখের সামনে চলে আসে। বাড়িতে বসেই শাড়ি, কুর্তি, ওয়েস্টার্ন পোশাক, জুতো, ব্যাগ, গয়না থেকে শুরু করে মেকআপ—সবই অর্ডার করা সম্ভব। পুজোর আগে বিভিন্ন অফার থাকায় অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতাও বাড়ে।
কিন্তু স্বস্তিকার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অনলাইন যতই সহজ হোক, নিজের হাতে জিনিস দেখে কেনার আনন্দের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। দোকানে গিয়ে কাপড়ের গুণমান বোঝা, রং নিজের চোখে দেখা কিংবা পোশাকটি শরীরে কেমন লাগবে তা কল্পনা করা—এই অভিজ্ঞতাগুলো অনলাইনে পাওয়া কঠিন।
বিশেষ করে শাড়ির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে একটি শাড়ির রং যেমন দেখায়, বাস্তবে সেটি অনেক সময় আলাদা হতে পারে। কাপড়ের মসৃণতা, কাজের সূক্ষ্মতা বা রঙের আসল টোন বোঝার জন্য অনেকেই এখনও দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। স্বস্তিকার মতো তারকার কাছেও এই অভিজ্ঞতার আলাদা মূল্য রয়েছে।
তবে অনলাইন শপিংয়ের সুবিধা তিনিও অস্বীকার করেন না। ছাড় বা অফারের সুযোগ পাওয়া যায়। সময়ও বাঁচে। তাই একেবারে অনলাইন থেকে কেনাকাটা করেন না, এমন নয়। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেটি মূল পছন্দ নয়। অর্থাৎ প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করলেও পুরনো দিনের বাজার ঘোরার আনন্দকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে চান না তিনি।
পুজোর শপিংয়ের এই দুই দিকই এখন বাঙালির জীবনে পাশাপাশি চলছে। একদিকে অনলাইন কার্ট, অন্যদিকে গড়িয়াহাটের ভিড়। একদিকে মোবাইলের স্ক্রিনে নতুন শাড়ির ছবি, অন্যদিকে দোকানে দাঁড়িয়ে হাতে কাপড় নিয়ে দেখা। একদিকে কয়েক ক্লিকে অর্ডার, অন্যদিকে মা-বাবার সঙ্গে বাজারে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোরাঘুরি।
টেলিপাড়ার নায়িকাদের জীবনেও তাই এই পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। জনপ্রিয়তা এবং ব্যস্ততা তাঁদের পুজোর অনেক অভ্যাস বদলে দিয়েছে। ছোটবেলার মতো ইচ্ছেমতো প্যান্ডেলে ঘোরা বা সারাদিন বাজারে কাটানো এখন সম্ভব হয় না। তবুও পুজোর আবেগ একই রয়েছে।
স্বস্তিকা দত্তের ক্ষেত্রে যেমন দেখা যায়, কাজের চাপ যতই থাকুক, পরিবার এবং নিজের পছন্দের পোশাকের প্রতি টান এখনও রয়েছে। অন্যদিকে সুস্মিতা দে-র মতো অভিনেত্রীরা পুজোর আবহেই নতুন নতুন চরিত্র ও সাজে দর্শকদের সামনে আসছেন। মহালয়ার মতো বিশেষ অনুষ্ঠানে দেবীর রূপে তাঁদের উপস্থিতি উৎসবের সঙ্গে তারকাদের সম্পর্ক আরও গভীর করে।
আর পুজোর শপিংয়ের গল্পে সবচেয়ে মজার জায়গাটি হয়তো মা-বাবার ভূমিকা। ছোটবেলায় তাঁরা সন্তানের জন্য পোশাক বেছে দিতেন। কোন রং ভালো লাগবে, কোন জামাটা বেশি সুন্দর, কোন শাড়িটা কিনলে ভালো হবে—সবকিছুতেই থাকত তাঁদের মতামত। বড় হওয়ার পরেও সেই অভ্যাস পুরোপুরি চলে যায় না। বরং অনেকের কাছেই মা-বাবার পছন্দের পোশাক এখনও বিশেষ।
তাই শিরোনামে ‘কারও ভরসা অনলাইন, কারও ভরসা মা-বাবা’—এই দুই দিক আসলে বর্তমান প্রজন্মের পুজোর কেনাকাটারই দুই ছবি। তারকাদের ক্ষেত্রেও সেই একই গল্প। পার্থক্য শুধু তাঁদের ব্যস্ততা একটু বেশি, আর তাঁদের পুজোর সাজ দেখতে দর্শকদের আগ্রহও একটু বেশি।
পুজোর বাজারে কে কত টাকা খরচ করলেন, কোন ব্র্যান্ডের পোশাক পরলেন—এসবের বাইরেও থাকে আরও বড় গল্প। কে পরিবারের জন্য কী কিনলেন, কে নিজের জন্য কী বেছে নিলেন, কে বাজারে ঘুরে কেনাকাটা করতে ভালোবাসেন, কে অনলাইনে অর্ডার করে সময় বাঁচান—এসব ছোট ছোট অভ্যাসই তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের একটা অন্য ছবি তুলে ধরে।
স্বস্তিকা দত্তের ক্ষেত্রে সেই ছবি বেশ সহজ-সরল। দোকানে গিয়ে নিজের হাতে পোশাক দেখা, রং বেছে নেওয়া, দরদাম করা এবং পছন্দের গয়না সংগ্রহ করা—সব মিলিয়ে তাঁর শপিংয়ে রয়েছে পুরনো কলকাতার বাজারের গন্ধ। আর একই সঙ্গে কাজের ব্যস্ততার কারণে পুজোর নতুন পোশাক কেনার সময় না পাওয়ার বাস্তবতাও রয়েছে।
সুস্মিতা দে-র ক্ষেত্রেও পুজোর সময় কাজের ব্যস্ততা বিশেষভাবে চোখে পড়ে। দেবীর বিভিন্ন রূপে পর্দায় হাজির হওয়া, নতুন কাজ এবং ধারাবাহিকের ব্যস্ততার মধ্যেও উৎসবের আবহে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, পুজোর শপিং আসলে শুধুই কেনাকাটা নয়। এটি স্মৃতি, পরিবার, বন্ধুত্ব এবং উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি আবেগ। কারও কাছে নতুন শাড়ি কেনা মানে পুজোর প্রস্তুতি, কারও কাছে মায়ের জন্য একটি শাড়ি কেনা মানে ভালোবাসা, আবার কারও কাছে অনলাইনে পছন্দের পোশাক অর্ডার করাই আধুনিক পুজোর আনন্দ।
টেলিপাড়ার নায়িকাদের ক্ষেত্রেও সেই গল্প খুব একটা আলাদা নয়। আলো, ক্যামেরা আর ব্যস্ত শুটিংয়ের বাইরে তাঁরাও পরিবারের মানুষ। তাঁরাও পুজোর আগে পোশাক নিয়ে ভাবেন, গয়না মিলিয়ে রাখেন, সময় পেলে বাজারে যান, কখনও অনলাইনে কেনাকাটা করেন, আবার কখনও মা-বাবার পছন্দের উপর ভরসা করেন।
দুর্গাপুজো তাই শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই এক। কারও হাতে শপিং ব্যাগ, কারও হাতে মোবাইল ফোন; কেউ গড়িয়াহাটের ভিড়ে, কেউ বাড়ির সোফায় বসে অনলাইন কার্ট সাজাচ্ছেন। কিন্তু নতুন পোশাকের গন্ধ, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ আর পুজোর চার-পাঁচ দিনের অপেক্ষা—এই অনুভূতিটাই সবাইকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করায়।
আর সেই জায়গাতেই সুস্মিতা দে ও স্বস্তিকা দত্তের মতো টেলিপাড়ার জনপ্রিয় নায়িকাদের পুজোর গল্প হয়ে ওঠে আরও কাছের। পর্দায় তাঁরা যতই তারকা হন, পুজোর বাজারে তাঁদেরও থাকে পছন্দ-অপছন্দ, ব্যস্ততা, পরিবারের আবদার এবং কেনাকাটার নিজস্ব গল্প। সেই গল্পেই মিশে থাকে বাঙালির চিরচেনা পুজোর আনন্দ।