পূর্ব বর্ধমানের রায়না ফাটিকা গ্রামে পানাপুকুরে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। নিহত ব্যক্তির বয়স ২৫-৩০ বছর হতে পারে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা বাকি। গ্রামে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত করছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার অন্তর্গত নাড়ুগ্ৰাম অঞ্চলের ফাটিকা গ্রামে আজ সকালে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গ্রামের পানাপুকুরে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন। গ্রামবাসীরা জানান, আজ ভোর বেলা যখন তারা তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত ছিল, তখন পুকুরের পানিতে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখেন।
এ ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং গ্রামবাসীরা দ্রুত থানায় খবর দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি যুবক একটি পুরুষের এবং তার বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে হতে পারে। তার শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে এটি এখনও সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয়নি, কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা বাকি।
পুলিশ জানায়, মৃতদেহটি পানাপুকুরের ঢাকায় রাখা ছিল, যা মূলত এলাকার জল সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। মৃতদেহটি পানির নিচে প্রায় পুরোপুরি ডুবে ছিল এবং শুধু হাতটি পুকুরের উপরে ভাসছিল। প্রথমদিকে, স্থানীয়রা ভেবেছিল যে এটি হয়তো কোনো দুর্ঘটনার ফলাফল হতে পারে, কিন্তু পরে পুলিশ এসে নিশ্চিত করে যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
নাড়ুগ্ৰাম অঞ্চলের ফাটিকা গ্রামটি একটি শান্তিপূর্ণ গ্রাম হলেও এই ধরনের ঘটনা গ্রামবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তারা আগে কখনো এমন ঘটনা দেখেনি এবং এরকম একটি ঘটনা গ্রামে ঘটায় সবাই খুব আতঙ্কিত। বিশেষ করে, মৃতদেহটি যে পানিতে ভাসছিল, তা সবাইকে আরো বেশি চিন্তিত করেছে, কারণ সেখানে সাধারণত মাছ ধরা কিংবা অন্যান্য জলভরতি কাজের জন্য কাউকে আসতে দেখা যায় না।
এখন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি, তবে পুলিশের ধারণা এটি কোনো অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের হতে পারে, যিনি কোনো কারণবশত গ্রামে আসতে পারেন বা অন্য কোনো কারণে এখানে এসেছিলেন। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং আরও তদন্ত করার জন্য এলাকায় দল পাঠিয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রামে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের লোকজন জানায় যে, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং হয়তো গ্রামবাসীদের কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে পুলিশ এসব অনুমানকে কেন্দ্র করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং খুব শিগগিরই ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, পাঠিকা গ্রামে এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটার পর, এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা দাবি করছেন, পুলিশকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের ঘটনা ঘটতে না পারে।
এ ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, এবং গ্রামবাসীরা একে অপরকে সতর্ক করে দিচ্ছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকে মর্মাহত হয়ে শোক প্রকাশ করেছে এবং কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছে কেন এমন ঘটনা ঘটল এবং এর পেছনে কি কোনো বিশেষ কারণ ছিল।
এখন, পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এখনও উদ্বেগ এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে, এবং তারা আশা করছেন যে তদন্ত দ্রুত শেষ হবে এবং ঘটনার সঠিক রহস্য উন্মোচন হবে।