Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাজনীতি তে যোগ দিলেন জিতু এবং দুর্নিবার বিগ বসের ঘরে তোলপাড় অশান্তি

বিগ বসের ঘরে জিতু ও দুর্নিবারের রাজনীতিতে যোগ দেওয়াকে ঘিরে শুরু নতুন আলোচনা প্রতিযোগীদের মধ্যে মতবিরোধ ও অশান্তির আবহে জমে উঠেছে ঘরের নাটক এই পরিস্থিতি সম্পর্কের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়েই দর্শকদের কৌতূহল

বিগ বস বাংলার ঘরে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ের আবহ। নতুন টাস্কে মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেতা জিতু কমল ও গায়ক দুর্নিবার সাহা। ঘরের মধ্যেই দল প্রতীক এবং প্রচারকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। জিতুর দলের প্রতীক হরিণ অন্যদিকে দুর্নিবারের দল লড়ছে পাখি প্রতীক নিয়ে। তাঁদের ‘রাজনীতি’তে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আসলে অনুষ্ঠানের এই নির্বাচনী টাস্কের অংশ। 

দুই দলের প্রচারে যোগ দিয়েছেন অন্য প্রতিযোগীরাও। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিতুর সমর্থনে দেখা গিয়েছে মনামী ঘোষ, রাজবীর দে ও নন্দিনী দত্তকে। অন্যদিকে দুর্নিবারের দলের হয়ে প্রচারে নেমেছেন ঝিলম ও সোনামণি সাহা। ফলে ঘরের পরিচিত সম্পর্কগুলি এবার দলীয় প্রতিযোগিতার নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি। স্লোগান এবং পাল্টা প্রচারে জমে উঠেছে টাস্ক।  তবে প্রচারের মধ্যেই উত্তেজনা বাড়ে দুর্নিবার ও রাজবীরের বচসাকে কেন্দ্র করে। এই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রচার চলাকালীন রাজবীরকে গুন্ডা বলে সম্বোধন করেন দুর্নিবার। এরপর ক্ষুব্ধ রাজবীর প্রতিপক্ষের পতাকা ও পোস্টার নষ্ট করতে শুরু করেন বলে প্রকাশিত ভিডিয়োর বিবরণে জানানো হয়েছে। কথার লড়াই থেকে টাস্কের সরঞ্জাম নষ্ট করার ঘটনায় ঘরের অশান্তি আরও বাড়ে।  এই ধরনের দলীয় টাস্কে প্রতিযোগীদের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকে। নিজের দলের হয়ে প্রচার করার পাশাপাশি অন্য সদস্যদের সঙ্গে বোঝাপড়া বজায় রাখাও প্রয়োজন। প্রতিপক্ষের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব হচ্ছে, সেটিও খেলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে। এই টাস্কের ঘটনাগুলি সেই প্রশ্নই সামনে আনছে।

ঘরের সম্পর্কের উপর এই বিরোধের স্থায়ী প্রভাব পড়বে কি না তা এখনই নিশ্চিত বলা যায় না। টাস্কের সময়কার প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরবর্তী সময়ে মিটেও যেতে পারে। আবার কোনও মন্তব্য বা আচরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ক্ষোভ পরের টাস্কে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলি সম্ভাব্য বিশ্লেষণ পরবর্তী পর্বের ফলাফল নয়। জিতু ও দুর্নিবারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তাই শুধু প্রচারের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। দল পরিচালনা সমর্থন আদায় এবং চাপের মধ্যে আচরণ সবই আলোচনায় উঠে আসছে। দুই পক্ষের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবে এবং অশান্তির পরে সদস্যরা কীভাবে একসঙ্গে থাকবেন, তার উত্তর মিলবে অনুষ্ঠানের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে। বিগ বস বাংলার ঘরে জিতু ও দুর্নিবারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রতিযোগিতা সম্পর্কের সমীকরণকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দলীয় প্রচার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কে কার পাশে থাকছেন, কে কীভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন এবং বিরোধের সময়ে কার আচরণ কেমন হচ্ছে এসবই এখন এই লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে টাস্কের মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধ ঘরের সম্পর্কের উপর স্থায়ী প্রভাব ফেলবে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। একই ঘরে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সদস্যদের কখনও একসঙ্গে কাজ করতে হয়, আবার কখনও একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। ফলে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া এবং খেলার প্রয়োজন সব সময় একই পথে চলে না। কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলেও একটি নির্দিষ্ট টাস্কে তাঁকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে হতে পারে। আবার যাঁর সঙ্গে আগে মতবিরোধ হয়েছে, পরবর্তী টাস্কে তাঁর সহযোগিতার প্রয়োজনও হতে পারে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের দলের হয়ে লড়াই করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

জিতু ও দুর্নিবারের নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সমর্থন প্রয়োজন, কিন্তু সমর্থন ধরে রাখতে শুধু জোরালো প্রচার যথেষ্ট কি না, সেটিও ভাবার বিষয়। দলের সদস্যদের কথা শোনা তাঁদের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং বিরোধের সময়ে পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা নেতৃত্বের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি অন্যদের আস্থা অর্জন করাও এই ধরনের প্রতিযোগিতায় প্রয়োজন। টাস্কের উত্তেজনায় বলা কোনও কথা কখনও খেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। একজন যে মন্তব্যকে সাধারণ পাল্টা প্রচার হিসেবে দেখছেন, অন্যজন সেটিকে অসম্মান হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। সেই জায়গা থেকেই ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু কেউ নিজের অবস্থানে অনড় থাকলে বিরোধ মেটানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই কারণে টাস্ক শেষ হওয়ার পরের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতার সময়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সদস্যরা পরে কতটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন, সেটি তাঁদের সম্পর্ক বোঝার একটি দিক। কেউ আলোচনা করে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করতে পারেন, কেউ আবার কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। তবে জিতু, দুর্নিবার বা অন্য সদস্যরা পরবর্তী সময়ে কোন পথ বেছে নেবেন, তা আগাম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। দলীয় প্রতিযোগিতা সহযোগিতার পরীক্ষাও নেয়। একই দলের সদস্যদের মত সব বিষয়ে এক নাও হতে পারে। প্রচারের ধরন, সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষকে জবাব দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে দলের ভিতরেও ভিন্নমত তৈরি হতে পারে। সেই মতপার্থক্য সামলে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে দলের বোঝাপড়া শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে সদস্যদের বক্তব্য গুরুত্ব না পেলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

news image
আরও খবর

চাপের মধ্যে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টিও এখানে প্রাসঙ্গিক। প্রতিপক্ষের মন্তব্যের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার ইচ্ছা এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ নয়। মুহূর্তের উত্তেজনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে সহযোগিতাকে জটিল করতে পারে। আবার বিরোধের মধ্যেও সংযতভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারলে আলোচনার পথ খোলা থাকতে পারে। এগুলি টাস্কের পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ কোনও প্রতিযোগীর ভবিষ্যৎ আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। জিতু ও দুর্নিবারকে ঘিরে এই নির্বাচনী লড়াই তাই একাধিক প্রশ্ন সামনে আনছে। দলের সমর্থন কতটা দৃঢ় থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া বজায় রাখা সম্ভব হবে কি অশান্তির পরে সদস্যরা কি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারবেন এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে তাঁদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আচরণের উপর। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী টাস্কের ফলাফল একটি দিক মাত্র। তার পাশাপাশি এই অভিজ্ঞতা থেকে ঘরের সদস্যরা কীভাবে এগিয়ে যান, সেটিও দেখার বিষয়। বর্তমান বিরোধ সাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে মিলিয়ে যেতে পারে, আবার পরবর্তী খেলায় তার রেশ থেকে যেতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে কারা এগিয়ে থাকবেন এবং সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে যাবে তা স্পষ্ট হবে বিগ বস বাংলার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে।

বিগ বস বাংলার নির্বাচনী টাস্কে জিতু ও দুর্নিবারকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবেগ নিয়ন্ত্রণ, দলীয় বোঝাপড়া এবং সম্পর্ক বজায় রাখার প্রশ্ন সামনে আনছে। প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রাখা যতটা প্রয়োজন, ততটাই প্রয়োজন দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। প্রতিপক্ষের কোনও মন্তব্যের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে গিয়ে সেই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে এই লড়াইয়ে প্রচারের পাশাপাশি পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় কোনও মন্তব্য একজনের কাছে সাধারণ পাল্টা বক্তব্য মনে হলেও অন্যজনের কাছে তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে মনে হতে পারে। এখানেই বিরোধের জটিলতা বাড়ে। বক্তব্যের উদ্দেশ্য এবং সেটি গ্রহণ করার অভিজ্ঞতা এক না হলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। সেই মুহূর্তে নিজের কথা আরও জোর দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা কখনও আলোচনাকে এগিয়ে নেয়, আবার কখনও দু’পক্ষের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।

দলের হয়ে লড়াই করার সময় একজন সদস্যের প্রতিক্রিয়া শুধু তাঁর নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব সতীর্থদের উপরও পড়তে পারে। কেউ উত্তেজিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে দলের অন্য সদস্যদের সেই পরিস্থিতি সামলাতে হতে পারে। আবার কেউ শান্তভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলে সতীর্থদেরও আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত আবেগ এবং দলের প্রয়োজনের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা এই ধরনের টাস্কের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

 

Preview image