প্রায় ৮০ শতাংশ স্তন ক্যানসারের রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার পরবর্তী সময়ে শরীরের অন্য অঙ্গেও ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তবে, সম্প্রতি একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনলে এই প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তা হল স্তন ক্যানসার। এটি পৃথিবীজুড়ে মহিলাদের মধ্যে একটি অন্যতম স্বাস্থ্য সংকট, যেটি প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং ব্যাপক হারে মহিলাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে। স্তন ক্যানসার একটি মারাত্মক রোগ, যা মহিলা শরীরের স্তন গ্রন্থিতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি এবং বিস্তারের মাধ্যমে সৃষ্ট হয়। এই রোগের প্রকৃতি এমন যে, যদি এটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে শনাক্ত এবং চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮৫টি দেশের মধ্যে ১৫৭টি দেশের স্তন ক্যানসার পরিসংখ্যান দেখিয়েছে যে, মহিলাদের মধ্যে এই ক্যানসার সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। স্তন ক্যানসার মহিলাদের জন্য একটি প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এর কারণে মহিলাদের মৃত্যুহারও অত্যন্ত উচ্চ। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা এবং পরবর্তী প্রতিকার কেমন হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে রোগের ধরন, পর্যায়, এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের উপর।
২০২২ সালের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৩ লক্ষ মহিলার স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে। এ ছাড়া, একই বছরে স্তন ক্যানসারের কারণে প্রায় ৬ লক্ষ ৭০ হাজার মহিলার মৃত্যু ঘটে। এই পরিসংখ্যানটি স্তন ক্যানসারের ভয়াবহতা এবং তার প্রভাবকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। স্তন ক্যানসার মহিলাদের জন্য শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে যে বড় একটি চাপ সৃষ্টি করে, তা কখনও কখনও সহ্য করা সম্ভব হয় না।
এছাড়া, স্তন ক্যানসারের হার বৃদ্ধি পাওয়ার এক বড় কারণ হলো, মহিলাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত না করা। অধিকাংশ মহিলাই প্রথমদিকে স্তন ক্যানসারের লক্ষণগুলি যেমন স্তনে স্ফীত বা ব্যথা, ত্বকের পরিবর্তন, বা কোনো ধরণের গোলাকার শক্ত গাঁথি লক্ষ্য করেন, কিন্তু অনেক সময় এই উপসর্গগুলোর প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেন না। ফলে, ক্যানসার প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে তা আরো নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়।
তবে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। স্তন ক্যানসারের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং হরমোন থেরাপি ব্যবহার করা হয়। সঠিক চিকিৎসা, দ্রুত চিকিৎসা শুরু এবং নিয়মিত স্ক্রীনিংয়ের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের প্রকোপ কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বর্তমানে স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক স্তরের চিকিৎসায় সাফল্য অনেক বেড়েছে, যার ফলে অনেক মহিলাই সঠিক চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই জিতেছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, স্তন ক্যানসারের নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মেমোগ্রাম, আলট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই। এই প্রযুক্তিগুলির মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের অস্তিত্ব দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব এবং এটি দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করে। তবে, ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর জন্য মহিলাদের নিয়মিত পর্যালোচনা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও স্তন ক্যানসারের কারণে মৃত্যুহার কমাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে, তবুও এটি এক মর্মান্তিক সমস্যা। বর্তমানে স্তন ক্যানসারের সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হলেও, একে ঘিরে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্ক্রীনিং এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগটি যথাসম্ভব আগেই শনাক্ত করা সম্ভব, যার ফলে এর চিকিৎসা অনেক সহজ এবং সফল হতে পারে।
একইসাথে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে নানা ধরণের সমর্থনমূলক উদ্যোগ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলোও বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলেছে। রোগীদের জন্য পরামর্শ কেন্দ্র, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রোগ্রামগুলি তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করছে। এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছে।
এইভাবে, স্তন ক্যানসার মহিলাদের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্য সংকট হলেও, চিকিৎসা এবং সচেতনতার মাধ্যমে এর বিস্তার এবং মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর লড়াই সম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্তন ক্যানসারের পরিসংখ্যান এবং রোগীর মৃত্যুর হার ভয়াবহ মাত্রায় রয়েছে, এবং এই পরিস্থিতির মধ্যে বিশেষভাবে চিন্তার বিষয় হলো, স্তন ক্যানসারের অধিকাংশ রোগীর মধ্যে ক্যানসার পরবর্তী সময়েও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। যদিও এই ক্যানসার চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের নানা পদ্ধতি রয়েছে, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি এবং এর বিস্তারকে প্রতিরোধ করার জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এই গবেষণা সংক্রান্ত খবরটি সম্প্রতি ‘নেচার ক্যানসার’ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, স্তন ক্যানসারের রোগীদের শরীরে ক্যানসার ফিরে না আসার জন্য যেই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, তা মূলত অ্যান্টি-ইস্ট্রোজেন ট্রিটমেন্টের উপর ভিত্তি করে থাকে। এর কারণ হলো, অধিকাংশ স্তন ক্যানসারই হয় ‘ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর পজিটিভ’ বা ‘ইআর পজিটিভ’, অর্থাৎ ক্যানসারের কোষগুলো ইস্ট্রোজেন হরমোনের উপস্থিতিতে বৃদ্ধি পায়।
তবে এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা রোগীদের জন্য বিরাট একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কিছু রোগীর হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে, কেউ পেশি এবং অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা অনুভব করেন, আবার কেউ হট ফ্ল্যাশ বা আচমকা প্রবল গরম লাগার মতো সমস্যা সম্মুখীন হন। এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে আরও একটি চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে, গবেষকরা জানিয়েছেন, যদি এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়, তবে ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসারের পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমানো যেতে পারে।
কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দীর্ঘ সময় ধরে এই বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন ক্যানসারের ‘ইআর পজিটিভ’ রোগীদের ক্ষেত্রে, ক্যানসারের চিকিৎসার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে এবং রোগীদের সুস্থতার হার বৃদ্ধি করতে বেশ কিছু পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে মেনোপজ হওয়ার পরে স্তন ক্যানসার হলে, রোগীকে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি অথবা রেডিয়েশন থেরাপি দেয়া হয়। এই চিকিৎসাগুলোর সঙ্গে যে অ্যান্টি-ইস্ট্রোজেন ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে ‘লেট্রোজোল’ অন্যতম।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, যদি লেট্রোজোলের সঙ্গে কৃত্রিম প্রোজেস্টেরন দেওয়া হয়, তবে ক্যানসার জাতীয় কোষের বৃদ্ধি এবং পুনরাবৃত্তি হ্রাস পেতে পারে। এক্ষেত্রে কৃত্রিম প্রোজেস্টেরন হিসেবে 'মেগেস্টেরল অ্যাসিটেট' ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগেও বিভিন্ন গবেষণায় মেগেস্টেরলের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে, এবং বর্তমানে এটি স্তন ক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসায় ছোট ডোজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, অল্প পরিমাণে মেগেস্টেরলের ডোজও রোগীদের সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে, যা ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসারের রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মেগেস্টেরলের অল্প পরিমাণে ব্যবহারের ফলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ হতে পারে এবং এটি ক্যানসার আক্রান্ত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে কমাতে সহায়ক হতে পারে। এটি স্তন ক্যানসার রোগীদের জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করবে এবং চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করবে।
নতুন এই গবেষণা এবং চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি এবং এর বিস্তার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা বর্তমানে অনেক উন্নত হলেও, ক্যানসার পুনরায় শরীরে ছড়িয়ে পড়া বা ফিরে আসার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে, স্তন ক্যানসারের ‘ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর পজিটিভ’ (ER+) ধরনের রোগীরা এই ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকেন। তবে, সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি নজর দিয়েছে যা এই ধরনের ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
নতুন গবেষণার ফলাফল অনুসারে, স্তন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের শরীরে ক্যানসার ফিরে না আসার জন্য কিছু বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে অ্যান্টি-ইস্ট্রোজেন ট্রিটমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরনের চিকিৎসায় ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা হয়, কারণ স্তন ক্যানসারের বেশিরভাগ ধরনের কোষ ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে, এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা রোগীদের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন হাড়ের ক্ষয়, পেশিতে ব্যথা, হট ফ্ল্যাশ, এবং অন্যান্য উপসর্গ।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য কিছু পরিবর্তন এনে চিকিৎসার ফলাফল আরও ভালো করা যেতে পারে। বিশেষত, লেট্রোজোল এবং কৃত্রিম প্রোজেস্টেরনসহ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির সংমিশ্রণ স্তন ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। মেগেস্টেরল অ্যাসিটেট নামক একটি কৃত্রিম প্রোজেস্টেরনও ইতিমধ্যেই অন্যান্য গবেষণায় ইতিবাচক প্রভাব দেখিয়েছে। এটি ছোট ডোজে ব্যবহার করলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে আনা সম্ভব এবং শরীরে ক্যানসারের পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে, এই চিকিৎসার সফলতা রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং তার চিকিৎসা পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল। রোগীকে সঠিক সময়ে এবং সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকরী হতে পারে। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো একক পদ্ধতি কাজ নাও করতে পারে, তাই রোগী এবং চিকিৎসক একযোগে কাজ করে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন, যাতে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া যায়।
সর্বোপরি, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা এবং এর পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে এটি রোগীর ব্যক্তিগত অবস্থা এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করবে। সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্তন ক্যানসারের পুনরায় ছড়িয়ে পড়া এবং এর প্রভাব কমানো সম্ভব হতে পারে।