মানের ককপিটে ওমানি কো-পাইলটের হামলার ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিলেন বিমানে থাকা এক দন্ত চিকিৎসক। তাঁর দাবি, কুঠারের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট, শেষ পর্যন্ত তিনিই ককপিটের দরজা খুলে দেন।
রক্তাক্ত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে মাঝ আকাশে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বিমানের ওমানি কো-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। অভিযোগ, কো-পাইলট তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি ঠিক কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল; কিছু প্রতিবেদনে ‘ক্রাশ অ্যাক্স’ ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও বিষয়টি তদন্তাধীন।
সবচেয়ে সংকটজনক মুহূর্তেও স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। সেই দরজা খোলার পরই যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য ব্যক্তিরা ককপিটে পৌঁছতে পারেন এবং হামলাকারী কো-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অফ-ডিউটি পাইলটরাও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে।
ঘটনার পর বিমানের যাত্রী ড. শোটা মুসায়েভের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ সেই মুহূর্তের ছবি। পেশায় দন্ত চিকিৎসক এই ইজরায়েলি যাত্রী ছিলেন বিমানের একমাত্র চিকিৎসক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ককপিটের দিকে ছুটে যান।
তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ককপিটে গিয়ে তিনি ভারতীয় পাইলটকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। মাথা ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। শোটা সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন এবং পাইলটের রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেন।
শোটা জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পাইলটের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তবে জরুরি চিকিৎসার পর স্মিত মাচ্ছারের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়। সৌদি আরবের তাবুকে বিমান অবতরণের পর চিকিৎসক দল আহত পাইলটকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি ছিল আহত অবস্থায় স্মিত মাচ্ছারের ককপিটের দরজা খুলে দেওয়া। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিট আনলক করতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পান।
এরপর কয়েকজন যাত্রী কো-পাইলটকে চেপে ধরেন এবং তাঁকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করেন। একই সময়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলানোর জন্য অন্য যাত্রীরাও এগিয়ে আসেন। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটদের সাহায্যও পাওয়া যায়।
এই পুরো ঘটনাই কয়েক মিনিটের মধ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, যেখানে যাত্রী, আহত ক্যাপ্টেন এবং অন্য প্রশিক্ষিত বিমানকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় বিমানটি ভয়াবহভাবে উচ্চতা হারাতে শুরু করেছিল। Reuters জানিয়েছে, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতা হারায় এবং দু’বার আকস্মিকভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। এই সময়ই ককপিটের ভিতরের সংঘর্ষ ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চলছিল।
AP-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। পরে পরিস্থিতি সামলে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে AP ও Reuters জানিয়েছে।
ককপিটের দরজা খোলার পর কয়েকজন যাত্রী পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দন্ত চিকিৎসক শোটা মুসায়েভ এবং আরও কয়েকজন যাত্রী। তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রথমে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে আহত পাইলটকে সাহায্য করা।
একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন যাত্রী মিলে কো-পাইলটকে চেপে ধরেন। কেউ তাঁকে ধরে রাখেন, কেউ দড়ি বা হেডফোনের তারের মতো জিনিস ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করেন।
এরই মধ্যে বিমানে থাকা অতিরিক্ত প্রশিক্ষিত পাইলটরা পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন। ফলে ককপিটের ভিতরের বিশৃঙ্খলার মধ্যেও বিমানটি নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়।
ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক শোটা মুসায়েভ জানিয়েছেন, পাইলটের মাথা ও হাতে গুরুতর ক্ষত ছিল এবং প্রচুর রক্ত বের হচ্ছিল। তাঁর রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তপাত কমানোর চেষ্টা করা হয়।
তবে পরবর্তী চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মাচ্ছারের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং সৌদি আরবে অবতরণের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। AP জানিয়েছে, তিনি পরে আবুধাবিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছিলেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ পাইলট। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এর আগে স্পাইসজেটে কাজ করেছেন এবং ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। Boeing 737 উড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বয়স ৩৯ বছর এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি যাত্রীদের কাছে নিজের পরিচয় এবং পরিবারের কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।
এই ঘটনায় স্মিত মাচ্ছারকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও ড. শোটা মুসায়েভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
তিনি নিজেই জানিয়েছেন, চিৎকার শুনে তিনি ককপিটের দিকে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছে আহত পাইলটকে দেখে চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং পাইলটের রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেন।
পাইলটকে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কো-পাইলটকে যাতে ফের আক্রমণ করার সুযোগ না দেওয়া হয়, সেদিকেও নজর রাখেন তিনি। অন্য যাত্রীদের সঙ্গে মিলে হামলাকারীকে বেঁধে রাখার ব্যবস্থাও করা হয় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঘটনার সঙ্গে ‘ক্রাশ অ্যাক্স’-এর নাম উঠে আসায় অনেকেরই প্রশ্ন—বিমানে এমন কুঠার রাখা হয় কেন?
আসলে ক্রাশ অ্যাক্স বিমানের জরুরি সরঞ্জামের একটি অংশ। বড় যাত্রীবাহী বিমানে জরুরি পরিস্থিতিতে আটকে থাকা অংশ ভাঙা, উদ্ধারকাজে সহায়তা করা বা অন্যান্য জরুরি কাজে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইউরোপীয় এভিয়েশন সেফটি এজেন্সির নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আকার ও যাত্রী ধারণক্ষমতার বিমানে অন্তত একটি crash axe বা crowbar flight crew compartment-এ রাখা হয়। যাত্রীবাহী অংশে অতিরিক্ত crash axe থাকলে সেটি যাত্রীদের দৃষ্টির বাইরে রাখার বিধানও রয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল নিয়মেও নির্দিষ্ট যাত্রীবাহী বিমানে crash axe রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ক্রাশ অ্যাক্সের মূল উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তিকে আক্রমণ করা নয়। এটি একটি emergency rescue tool। দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের কোনও অংশ আটকে গেলে বা কোনও জায়গায় পৌঁছনোর জন্য বাধা সরানোর প্রয়োজন হলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এই ঘটনায় অস্ত্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সেটি এখনও তদন্তের বিষয়। Reuters স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত নন; crash axe ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই ‘ক্রাশ অ্যাক্স দিয়েই হামলা হয়েছিল’—এটিকে আপাতত নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে তদন্তাধীন দাবি হিসেবে দেখা উচিত।
বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৯/১১ হামলার পর ব্যাপকভাবে বদলেছে। বিশেষ করে cockpit security-তে শক্তিশালী দরজা এবং নিয়ন্ত্রিত প্রবেশব্যবস্থা চালু হয়।
তবে crash axe বিমানে রাখা শুরু হয়েছে শুধু ৯/১১-এর পর—এমন সরল ব্যাখ্যা সঠিক নয়। বিভিন্ন বিমান চলাচল বিধিতে দীর্ঘদিন ধরেই crash axe বা crowbar রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমান EASA নিয়মেও flight crew compartment-এ crash axe বা crowbar রাখার বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ ৯/১১-র পর cockpit security-তে বড় পরিবর্তন এলেও crash axe-এর উপস্থিতির ইতিহাস তার চেয়ে পুরনো।
ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সাধারণত cockpit-এর দরজা এমনভাবে সুরক্ষিত থাকে যাতে বাইরের কেউ সহজে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারেন। কিন্তু এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে যে বিপদটি এসেছিল cockpit-এর ভিতর থেকেই।
Reuters জানিয়েছে, ঘটনার পর ইজরায়েল বিমানবন্দরে প্রবেশকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তকারীরা পাইলটদের background screening এবং security vetting নিয়েও প্রশ্ন খতিয়ে দেখছেন।
তবে হামলার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য মোটিভ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা বললেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে নিশ্চিত বলে ধরা ঠিক হবে না।
ফ্লাইদুবাই FZ1073-এর এই ঘটনা নিয়ে একাধিক দেশের কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। Reuters জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ইজরায়েল ও সৌদি আরবসহ অন্যান্য পক্ষও তদন্তে যুক্ত রয়েছে। হামলার সঠিক উদ্দেশ্য, অস্ত্রের ধরন এবং ঘটনাক্রমের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফলে হামলাকারী কো-পাইলটের উদ্দেশ্য, তাঁর মানসিক বা মতাদর্শগত অবস্থান কিংবা ঘটনাটির পিছনে বৃহত্তর কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির পর শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। আহত পাইলট ও কো-পাইলট দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
একদিকে আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, অন্যদিকে যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কারণ তাঁরা জানতেন না বিমানটি শেষ পর্যন্ত কোথায় অবতরণ করবে। কিন্তু কয়েকজন যাত্রী, বিমানকর্মী এবং অফ-ডিউটি পাইলটদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনার বর্ণনায় শুধুমাত্র একজনের ভূমিকা নয়, একাধিক মানুষের তৎপরতা সামনে এসেছে। আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ড. শোটা মুসায়েভ আহত পাইলটকে জরুরি চিকিৎসা দেন। অন্য যাত্রীরা হামলাকারীকে বেঁধে রাখতে সাহায্য করেন। আর অফ-ডিউটি পাইলটরা বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণের দিকে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। @theweek
এই সমন্বিত পদক্ষেপের ফলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে গড়ায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি ছিল আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খোলার সিদ্ধান্ত। Reuters এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরজা খোলার ফলে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান।
যদি যাত্রীরা ককপিটে পৌঁছতে না পারতেন, তাহলে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারত। তবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য তদন্ত শেষ হওয়ার পরই আরও পরিষ্কার হবে।
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে AP ও Reuters জানিয়েছে। বিমানের আকস্মিক উচ্চতা পতন, cockpit-এর ভিতরের সংঘর্ষ এবং পাইলটের গুরুতর আহত হওয়ার পরিস্থিতির মধ্যেও বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে।
এই কারণেই ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার এবং দ্রুত পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসা যাত্রী ও অন্যান্য পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
তবে ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তাই কে ঠিক কোন মুহূর্তে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে ধাপে ধাপে ফিরে আসে—তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তদন্তের রিপোর্টে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে প্রথমে তাবুকের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে আরও চিকিৎসার জন্য আবুধাবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে AP জানিয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ ভয়াবহ হামলার পরও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। বিমানের যাত্রীদের মধ্যে থাকা ড. শোটা মুসায়েভের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, বিমানযাত্রায় কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই ঘটনায় একজন আহত পাইলট ককপিটের দরজা খোলেন, একজন দন্ত চিকিৎসক চিকিৎসা সহায়তা দেন, যাত্রীরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন এবং প্রশিক্ষিত অতিরিক্ত পাইলটরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন হল—কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, cockpit-এর ভিতরে কীভাবে সংঘর্ষ শুরু হল, কী অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হল, ফ্লাইদুবাই FZ1073-এর ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার গুরুতর আহত হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন এবং যাত্রীরা ভিতরে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পান। বিমানের ১৭৪ যাত্রীকে নিয়ে বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে।