ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ়ে ব্যাট হাতে একাধিক মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির সামনে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি তাঁদের পারফরম্যান্স ভারতের সিরিজ়ের ফলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ় ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। দু’জনেই ভারতের ঘোষিত ওয়ানডে দলে রয়েছেন। তিন ম্যাচের সিরিজ়ে তাঁদের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে নতুন মাইলফলক যোগ করার সুযোগও রয়েছে। সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচ ২৭ সেপ্টেম্বর তিরুবনন্তপুরমে। পরের দুটি ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি এবং ৩ অক্টোবর নিউ চণ্ডীগড়ে। সীমিত সংখ্যক ম্যাচের এই সিরিজ়ে প্রতিটি ইনিংসের গুরুত্ব বেশি। একটি শতরান কিংবা কয়েকটি ধারাবাহিক ভাল ইনিংস যেমন ব্যক্তিগত রেকর্ডের হিসাব বদলে দিতে পারে তেমনই ম্যাচের ফল নির্ধারণেও বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে রোহিতের বড় ইনিংস গড়ার ক্ষমতা বহুবার ভারতের শক্তি হয়ে উঠেছে। শুরুতে সময় নিয়ে পিচ ও বোলিং বুঝে নেওয়ার পর দ্রুত রান তোলার দক্ষতা তাঁকে বিপজ্জনক ব্যাটার করে তোলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তিনি ছন্দে থাকলে ভারতের শুরুটা মজবুত হতে পারে। সেই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রান ও অন্যান্য ব্যাটিং পরিসংখ্যানেও নতুন সংযোজনের সম্ভাবনা থাকবে। অন্য দিকে বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ের অন্যতম শক্তি হল পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস সাজানো। লক্ষ্য তাড়া করার সময় হোক বা আগে ব্যাট করে বড় রান তোলার পরিকল্পনা দীর্ঘ সময় ক্রিজ়ে থেকে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। এই সিরিজ়ে বড় রান পেলে ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি ভারতের মাঝের ওভারগুলিতে স্থিরতাও দিতে পারবেন তিনি। তবে রেকর্ডের সম্ভাবনা আর রেকর্ড গড়ে ফেলা এক বিষয় নয়। সেটি নির্ভর করবে দু’জনের মাঠে নামা, ব্যাট করার সুযোগ এবং ম্যাচে তাঁদের পারফরম্যান্সের উপর। তাই সিরিজ় শুরুর আগে নির্দিষ্ট কীর্তি নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে মূল আকর্ষণ থাকবে রোহিত ও কোহলি কী ভাবে দলের প্রয়োজনে ব্যাট করেন এবং তাঁদের ইনিংস ভারতের সাফল্যে কতটা অবদান রাখে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ়ে বিরাট কোহলির ব্যাটিংয়ের দিকে বিশেষ নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস সাজানোর ক্ষমতা তাঁর অন্যতম বড় শক্তি। দ্রুত উইকেট পড়লে তিনি সময় নিয়ে জুটি গড়তে পারেন; আবার প্রয়োজন হলে রান তোলার গতিও বাড়াতে পারেন। লক্ষ্য তাড়া করার সময় এই অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রোহিত শর্মা শুরুতে বড় ইনিংস খেলতে পারলে ভারতের ব্যাটিংয়ের ভিত শক্ত হবে। অন্য দিকে কোহলি মাঝের ওভারগুলিতে ক্রিজ়ে থেকে ইনিংস এগিয়ে নিতে পারলে পরের ব্যাটারদের কাজ সহজ হবে। দু’জন একসঙ্গে ভাল খেললে বড় রান তোলা কিংবা কঠিন লক্ষ্য তাড়া করা দুই ক্ষেত্রেই ভারত সুবিধা পেতে পারে। এই সিরিজ়ে ব্যক্তিগত রেকর্ডের সম্ভাবনাও রোহিত ও কোহলিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে তাঁদের রান, শতরান এবং অন্যান্য ব্যাটিং পরিসংখ্যানের দিকে নজর থাকবে। তবে কোনও মাইলফলক আগে থেকে নিশ্চিত নয়। কে কতক্ষণ ব্যাট করার সুযোগ পাবেন ম্যাচের পরিস্থিতি কী হবে এবং প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের মোকাবিলা কী ভাবে করবেন সব কিছুর উপরেই রেকর্ডের হিসাব নির্ভর করবে। কোহলির ক্ষেত্রে বড় ইনিংস মানেই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। তিনি দীর্ঘ সময় ক্রিজ়ে থাকলে ভারতের ব্যাটিংয়ে স্থিরতা আসে। একজন ব্যাটার এক প্রান্ত ধরে রাখলে অন্য প্রান্ত থেকে সতীর্থরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেন। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলিতে উইকেট বাঁচিয়ে রান তোলার ভারসাম্য বজায় রাখা ওয়ানডে ম্যাচের ফল গড়ে দিতে পারে। রোহিতের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনার হিসাবে তাঁর শুরু ভারতের ইনিংসের গতি ঠিক করে দিতে পারে। শুরুতে সতর্ক থেকে পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। ফলে এই সিরিজ়ে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ভূমিকা আলাদা হলেও লক্ষ্য একটাই দলের জয়ে অবদান রাখা। রেকর্ডের আলোচনা নিঃসন্দেহে সিরিজ়ের উত্তেজনা বাড়াবে। কিন্তু মাঠে ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী রোহিত ও কোহলি কী ভাবে নিজেদের ইনিংস গড়েন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ব্যাট থেকে বড় রান এলে নতুন মাইলফলকের পাশাপাশি ভারতের সিরিজ় জয়ের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে ভারতের ব্যাটিংয়ের দিকে নজর থাকবেই। তার মধ্যেও ক্রিকেটপ্রেমীদের বিশেষ আগ্রহ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে ঘিরে। দু’জনেই ভারতের ওয়ান ডে দলে রয়েছেন। তিন ম্যাচের এই সিরিজ়ে তাঁদের সামনে রয়েছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ। তবে কতগুলি রেকর্ড সত্যিই গড়া যাবে তা নির্ভর করবে তাঁদের ব্যাট করার সুযোগ এবং মাঠের পারফরম্যান্সের উপর। রোহিত ও কোহলি দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় ওয়ান ডে ব্যাটিংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁদের খেলার ধরন আলাদা, আর সেই কারণেই একই দলে তাঁদের উপস্থিতি ব্যাটিংয়ে ভারসাম্য আনে। রোহিত ইনিংসের শুরুতে উইকেটে দাঁড়িয়ে গেলে বড় স্কোরের ভিত তৈরি করতে পারেন। কোহলি মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি ধরে রাখতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইনিংস এগিয়ে নিতে দক্ষ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সিরিজ়েও ভারতের জন্য এই দুই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রোহিতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে তাঁর শুরু করার ধরনে। নতুন বলের বিরুদ্ধে তিনি কত দ্রুত ছন্দ খুঁজে পান, সেটি ভারতের ইনিংসের গতিপথ ঠিক করতে পারে। শুরুতে বোলারদের সামলে নিয়ে পরে শটের পরিধি বাড়ানো তাঁর ব্যাটিংয়ের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। একবার বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ পেলে তিনি দ্রুত দলের রান অনেকটা এগিয়ে দিতে পারেন। তেমন কোনও ইনিংস এলে ব্যক্তিগত রান অর্ধশতরান বা শতরানের তালিকাতেও তাঁর অবস্থান আরও শক্ত হবে। অন্য দিকে কোহলির সামনে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে নিজের সফল ওয়ান ডে রেকর্ড আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অতীতেও তিনি একাধিক বড় ইনিংস খেলেছেন। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময় পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা তাঁর বড় শক্তি। কখন ঝুঁকি নিতে হবে আর কখন এক দুই রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে হবে সে সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে পারেন তিনি। তাই সিরিজ়ে কোহলি দীর্ঘ সময় ক্রিজ়ে থাকলে ভারত যেমন উপকৃত হবে, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও নতুন মাইলফলক যোগ হতে পারে। দুই ব্যাটার একসঙ্গে ক্রিজ়ে থাকলে আগ্রহ আরও বাড়ে। রোহিতের আক্রমণাত্মক শট এবং কোহলির ধারাবাহিক রান সংগ্রহ প্রতিপক্ষকে আলাদা পরিকল্পনা নিতে বাধ্য করতে পারে। শুরুর ধাক্কা সামলানো হোক বা বড় রানের ভিত গড়া ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের জুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওয়ান ডে ক্রিকেটে একটি বড় জুটি অনেক সময় পুরো ম্যাচের গতিই বদলে দেয়।
তবে রেকর্ডের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সময় একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। সিরিজ়টি মাত্র তিন ম্যাচের। কোনও ম্যাচে ভারত অল্প রান তাড়া করলে দুই ব্যাটারেরই বড় ইনিংস খেলার সুযোগ নাও আসতে পারে। আবার শুরুতেই উইকেট পড়লে তাঁদের দায়িত্ব বদলে যাবে। ফলে সিরিজ় শুরুর আগে কোনও নির্দিষ্ট রেকর্ড নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের পরিকল্পনাও এই লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোহিতের বিরুদ্ধে তাঁরা নতুন বলে চাপ তৈরি করতে চাইবেন। কোহলিকে আটকাতে মাঝের ওভারগুলিতে রান নেওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা থাকতে পারে। এই পরিকল্পনার জবাবে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার কীভাবে নিজেদের খেলা সাজান, সেটিই সিরিজ়ের অন্যতম আকর্ষণ। ভারতের লক্ষ্য অবশ্যই ম্যাচ ও সিরিজ় জেতা। সেই লক্ষ্যে রোহিতের দ্রুত বা বড় শুরু এবং কোহলির দায়িত্বশীল ইনিংস দলের কাজে এলে ব্যক্তিগত মাইলফলক আরও অর্থবহ হবে। রেকর্ডের দিকে নজর থাকবে, কিন্তু মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে তাঁদের রান ম্যাচের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলছে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ়ে রোহিত ও কোহলিকে ঘিরে প্রত্যাশা স্বাভাবিক। নতুন কোনও কীর্তি তৈরি হলে সেটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ। তার আগে দেখার বিষয় তিন ম্যাচে তাঁরা কতটা ব্যাট করার সুযোগ পান প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা কীভাবে সামলান এবং ভারতের জয়ে কতটা অবদান রাখেন।