Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রোনাল্ডোকে ছাড়াই পর্তুগালের দাপুটে জয়, ‘উত্তরসূরি’দের ঝলকে বাজিমাত

পর্তুগাল ফুটবলে ঝড়-ঝাপটা চললেও তার কোনও আঁচ পড়ল না মাঠে। রোনাল্ডোকে ছাড়াই দাপুটে পারফরম্যান্সে সহজ জয় তুলে নিল পর্তুগাল।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে পর্তুগাল ফুটবলে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই মাঠে নেমে দাপুটে জয় তুলে নিল পর্তুগাল। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলের ব্যবধানে জিতে নিজেদের শক্তি এবং গভীরতার প্রমাণ দিল ব্রুনো ফার্নান্ডেজের দল। রোনাল্ডোর মতো বিশ্বমানের তারকার অনুপস্থিতি নিয়ে ম্যাচের আগে যত আলোচনা ছিল, মাঠে নামার পর তার বড় কোনও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেল না। বরং পর্তুগালের আক্রমণভাগকে বেশ সংগঠিত, গতিশীল এবং ছন্দময় দেখিয়েছে।

রোনাল্ডোকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগাল জাতীয় দলের অন্দরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ডেনমার্কের বিরুদ্ধে এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচে একাধিক ফুটবলার নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। গঞ্জালো রামোস, ভিতিনিহা, জোয়াও ফেলিক্স এবং জোয়াও কানসেলোর পারফরম্যান্স ম্যাচে পর্তুগালের দাপট বাড়িয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে ব্রুনো ফার্নান্ডেজও দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ডেনমার্কের রক্ষণভাগের উপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করতে থাকে পর্তুগিজরা। সেই চাপের ফলও খুব বেশি সময় অপেক্ষা করায়নি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। প্রথম গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।

তবে ডেনমার্কও সহজে হাল ছাড়েনি। পর্তুগালের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে পাল্টা আক্রমণ তৈরি করে ড্যানিশ দল। ম্যাচের ২৩ মিনিটের মাথায় মিকেল ডামসগার্ডের গোলে সমতা ফেরে। ফলে ম্যাচ আবার নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সমতা ফেরার পরও পর্তুগালের আক্রমণের গতি কমেনি।

এর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ফের এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ২৫ মিনিটে গঞ্জালো রামোস গোল করে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে দায়িত্ব পাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে রামোসের পারফরম্যান্স তাই বিশেষভাবে নজর কাড়ে। জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে তিনি নিজের জায়গা আরও শক্ত করার বার্তা দিয়েছেন।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। পর্তুগাল নিজেদের পাসিং এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা দেখায়। অন্যদিকে ডেনমার্কও বারবার পর্তুগালের রক্ষণভাগকে পরীক্ষা করতে থাকে। ফলে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর আবারও ম্যাচে সমতা ফেরায় ডেনমার্ক। দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটের মাথায় রাসমুস হইলুন্দের গোলে স্কোরলাইন হয় ২-২। এই সময়ে ম্যাচটি যে কোনও দিকেই যেতে পারত। দুই দলই জয় পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে পর্তুগাল আবার নিজেদের আক্রমণকে আরও ধারালো করে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি করার ক্ষেত্রে ভিতিনিহার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ভিতিনিহার গোলে আবারও এগিয়ে যায় পর্তুগাল। স্কোরলাইন হয় ৩-২।

এরপর ডেনমার্ক সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও পর্তুগালের রক্ষণভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। ম্যাচের শেষ দিকে পর্তুগালের হয়ে চতুর্থ গোল করেন জোয়াও ফেলিক্স। তাঁর গোলের পর ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

এই জয়ের ফলে পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলেই ম্যাচের পারফরম্যান্স থেকে বোঝা যায়। বিশেষ করে রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতে দলের অন্যান্য তারকারা যেভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন, সেটিই ম্যাচটির অন্যতম আলোচনার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের আক্রমণভাগে রোনাল্ডোকে কেন্দ্র করে খেলা গড়ে উঠেছে। ফলে তিনি না থাকলে দল কতটা কার্যকর থাকে, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে অবশ্য পর্তুগালের আক্রমণভাগে একাধিক বিকল্প দেখা গিয়েছে। গঞ্জালো রামোস গোল করেছেন। জোয়াও ফেলিক্স ম্যাচের শেষ দিকে গোল করেছেন। ভিতিনিহা মাঝমাঠ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কানসেলোও গোলের তালিকায় নাম তুলেছেন। অর্থাৎ একজন ফুটবলারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে একাধিক খেলোয়াড়ের মাধ্যমে আক্রমণ তৈরি করার ক্ষমতা দেখিয়েছে পর্তুগাল।

ম্যাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অধিনায়কত্ব। রোনাল্ডো মাঠে না থাকায় ব্রুনো ফার্নান্ডেজ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে ব্রুনো নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দল কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটিও আগামী দিনে নজরে থাকবে।

এর পাশাপাশি ৭ নম্বর জার্সিকে ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। রোনাল্ডোর সঙ্গে পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সির সম্পর্ক বহু বছরের। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর পরিচয়ের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে এই নম্বর। তাই এই জার্সি অন্য কোনও খেলোয়াড়ের হাতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে ফুটবলমহলে আলোচনা তৈরি হয়।

তবে কোনও ম্যাচে জার্সি নম্বর পরিবর্তন বা অন্য খেলোয়াড়কে ৭ নম্বর জার্সি দেওয়া মানেই রোনাল্ডোর জাতীয় দল থেকে স্থায়ী বিদায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, পর্তুগালের ভবিষ্যৎ দল এবং কোচের পরিকল্পনা নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটিই আসল বিষয়।

news image
আরও খবর

রোনাল্ডো পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য গোল, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্স এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে তাঁর উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতি—দুই ক্ষেত্রেই পর্তুগালকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সামনে এখন নিজেদের জায়গা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। রাফায়েল লিয়াও, গঞ্জালো রামোস, জোয়াও ফেলিক্স, ভিতিনিহা এবং অন্যান্য তরুণ তারকারা নিয়মিতভাবে নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন।

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচটি সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। কারণ রোনাল্ডোর মতো অভিজ্ঞ তারকা অনুপস্থিত থাকলেও দল গোল করেছে চারটি এবং আক্রমণে একাধিক খেলোয়াড় নিজেদের প্রভাব দেখিয়েছেন। তবে একটি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও ঠিক হবে না।

পর্তুগালের জন্য সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচগুলিতে দলের পারফরম্যান্স, রোনাল্ডোর অবস্থান এবং কোচের দল নির্বাচন—সবকিছুই নজরে থাকবে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে রোনাল্ডোর বয়স ৪১ বছরে পৌঁছনোর পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও স্বাভাবিক। তবে তিনি কবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেবেন বা আদৌ কখন অবসর নেবেন, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পর্তুগাল ফুটবল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

এই পরিস্থিতিতে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ জয় পর্তুগালের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। কারণ দলটি শুধু জিতেইনি, বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও একাধিকবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের দখলে নিয়েছে। দুইবার সমতা ফেরার পরও পর্তুগাল আবার গোল করে এগিয়ে গিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কোচের পরিকল্পনা। রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগ কীভাবে সাজানো হবে, কে নিয়মিত স্ট্রাইকারের দায়িত্ব নেবেন এবং ভবিষ্যতে অধিনায়কত্ব কার হাতে থাকবে—এসব প্রশ্নের উত্তর ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে।

ব্রুনো ফার্নান্ডেজের নেতৃত্বও তাই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে নিজের নেতৃত্বের ক্ষমতা দেখানো ব্রুনো জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগালের নতুন প্রজন্ম কতটা ধারাবাহিক হতে পারে, সেটি আগামী ম্যাচগুলিতে বোঝা যাবে।

একইসঙ্গে রাফায়েল লিয়াওকে ঘিরেও প্রত্যাশা রয়েছে। গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে সরাসরি প্রভাব তৈরি করার ক্ষমতার জন্য তিনি পর্তুগালের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। ৭ নম্বর জার্সি তাঁকে দেওয়া হলে সেটি আরও বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। তবে জার্সি নম্বরের পরিবর্তনকে সরাসরি রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সঙ্গে যুক্ত করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর।

সব মিলিয়ে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ৪-২ জয় একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের গল্প। একদিকে রোনাল্ডোকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের পারফরম্যান্স—দুই দিক থেকেই ম্যাচটি আলোচনায় এসেছে।

পর্তুগাল দেখিয়ে দিয়েছে, একজন তারকার অনুপস্থিতিতেও দলের মধ্যে একাধিক ম্যাচ-উইনার রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রোনাল্ডোর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গিয়েছে। বরং অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রতিভার সমন্বয় কীভাবে পর্তুগালের ভবিষ্যৎ দলকে তৈরি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ফুটবলপ্রেমীদের নজর তাই এখন পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচগুলির দিকে। রোনাল্ডো আবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরবেন কি না, ৭ নম্বর জার্সি কার গায়ে থাকবে, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ কতদিন অধিনায়কত্ব করবেন এবং গঞ্জালো রামোস, জোয়াও ফেলিক্স, ভিতিনিহা ও রাফায়েল লিয়াওরা কতটা ধারাবাহিক হতে পারেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর সময়ের সঙ্গে সামনে আসবে।

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ জয় অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—পর্তুগালের দলে প্রতিভার অভাব নেই। রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, নতুন প্রজন্ম নিজেদের জায়গা তৈরি করার জন্য প্রস্তুত। এখন সেই পারফরম্যান্স কতটা ধারাবাহিক হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

রোনাল্ডো-পরবর্তী পর্তুগাল কি নতুন যুগে প্রবেশ করছে? নাকি এটি শুধুই একটি ম্যাচের ফল? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ৪-২ জয় পর্তুগালের বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতা এবং নতুন তারকাদের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।

Preview image