ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন এক দিনের সিরিজ় ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন বিরাট কোহলির দিকে। ব্যাট হাতে নামলেই তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে একাধিক ব্যক্তিগত মাইলফলক। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরকে একটি বিশেষ পরিসংখ্যানে টপকে যাওয়ার সুযোগ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন কোহলি। এবার ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ে তাঁর ব্যাট থেকে বড় ইনিংস এলে নতুন নজির তৈরি হতে পারে। এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির ধারাবাহিকতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যাটারে পরিণত করেছে। রান তাড়া করার ক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা, চাপের মুহূর্তে ম্যাচ জেতানো ইনিংস এবং বড় মঞ্চে পারফরম্যান্স তাঁকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই সিরিজ়েও তাঁর ব্যাটিংকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকবে প্রবল। বিশেষ করে সচিনের সঙ্গে তুলনা করা এই মাইলফলকটি কোহলির কেরিয়ারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করতে পারে।
সচিনকে টপকানোর হাতছানি! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ়েই কোহলির সামনে বিরাট মাইলফলক—ভারতীয় ক্রিকেটে এমন একটি শিরোনামই যথেষ্ট বিরাট কোহলিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করার জন্য। এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির কেরিয়ার বরাবরই রেকর্ড, মাইলফলক এবং ধারাবাহিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যাট হাতে তাঁর প্রতিটি ম্যাচেই কোনও না কোনও নতুন নজিরের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন এক দিনের সিরিজ়ও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং এই সিরিজ়ে এমন একটি ব্যক্তিগত মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কোহলি, যেখানে তাঁর সামনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম বড় নাম সচিন তেন্ডুলকর। ফলে সিরিজ় শুরুর আগেই ক্রিকেটপ্রেমীদের কৌতূহল অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটে সচিন তেন্ডুলকরের নাম একটি আলাদা আবেগের সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট হাতে তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিকতা তাঁকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে। এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর অসংখ্য রেকর্ড বহু বছর ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের গর্ব হয়ে থেকেছে। পরবর্তী প্রজন্মের বহু ব্যাটার সচিনের রেকর্ডকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেছেন। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম বিরাট কোহলি। নিজের ক্রিকেটজীবনের শুরু থেকেই সচিনকে আদর্শ হিসেবে দেখেছেন কোহলি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কোহলিই সচিনের একাধিক রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে আরও একটি বিশেষ পরিসংখ্যানে সচিনকে টপকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিরাট কোহলির এক দিনের ক্রিকেটের কেরিয়ার শুধু রান করার সংখ্যার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনও তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস তৈরি করা, রান তাড়ার সময় চাপ সামলে খেলা, প্রয়োজন অনুযায়ী গতি বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় শট খেলার দক্ষতা তাঁকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত করেছে। এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা এতটাই উল্লেখযোগ্য যে প্রতিটি সিরিজ়েই কোনও না কোনও রেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে সেই রেকর্ডের তালিকায় যুক্ত হতে পারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
কোহলির সামনে থাকা এই মাইলফলক শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার তুলনা। একদিকে সচিন তেন্ডুলকর, যিনি নব্বইয়ের দশক থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের ব্যাটিংয়ের মুখ ছিলেন, অন্যদিকে বিরাট কোহলি, যিনি পরবর্তী প্রজন্মে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুই ক্রিকেটারের সময় আলাদা, ক্রিকেটের পরিবেশ আলাদা, খেলার ধরনও আলাদা। তবুও এক দিনের ক্রিকেটে তাঁদের পরিসংখ্যান নিয়ে তুলনা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। কোহলি ইতিমধ্যেই সচিনের বহু কীর্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁকে পেরিয়েও গিয়েছেন। ফলে নতুন এই মাইলফলক সেই দীর্ঘ ক্রিকেট-গল্পেরই আর একটি অধ্যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির পারফরম্যান্স বরাবরই নজর কেড়েছে। ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের সামনে সাধারণত আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। পিচ, আবহাওয়া এবং বোলিং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা করতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা নিজেদের দিনে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারেন। তবে কোহলির অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। তাঁর ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল শুরুতে পরিস্থিতি বোঝা এবং তারপর ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া।
এক দিনের ক্রিকেটে একটি বড় ইনিংস তৈরি করার জন্য শুধু প্রতিভা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও প্রয়োজন। কোহলির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে এই মানসিক দৃঢ়তার বহু উদাহরণ রয়েছে। বড় ম্যাচ, কঠিন রান তাড়া কিংবা চাপের পরিস্থিতি—বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের ব্যাটিং দিয়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন। এই কারণেই কোনও রেকর্ডের সামনে দাঁড়ালে ক্রিকেটপ্রেমীরা তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ়েও সেই প্রত্যাশা থাকবে। বিশেষ করে সচিনকে টপকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কোহলির প্রতিটি ইনিংস আরও বেশি আলোচনায় থাকবে।
তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের বিষয়টি কোহলির ব্যাটিংয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও দেখার মতো। সাধারণত অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা রেকর্ডের কথা মাথায় না রেখে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং করেন। কোহলির ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তাঁর লক্ষ্য থাকবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেওয়া অথবা রান তাড়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবদান রাখা। সেই পথে যদি মাইলফলক এসে যায়, সেটি হবে তাঁর অসাধারণ কেরিয়ারের আরও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সচিন তেন্ডুলকরকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলেই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা শুরু হয়। তবে দুই ক্রিকেটারের কেরিয়ারকে সরাসরি একসঙ্গে বিচার করা সহজ নয়। সচিন খেলেছেন এমন এক সময়ে যখন এক দিনের ক্রিকেটের নিয়ম, ফিল্ডিং বিধি, ব্যাটিং পাওয়ারপ্লে এবং ম্যাচের সামগ্রিক কাঠামো বর্তমান সময়ের থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল। অন্যদিকে কোহলির সময়ের ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টির প্রভাব, উন্নত ফিটনেস ব্যবস্থা, আধুনিক ব্যাটিং প্রযুক্তি এবং ডেটা বিশ্লেষণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে গেলেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল দুই ক্রিকেটারের নিজ নিজ সময়ে তাঁদের অবদান।
কোহলির ক্ষেত্রে এই মাইলফলক অবশ্যই তাঁর কেরিয়ারের পরিসংখ্যানগত গুরুত্ব বাড়াবে। এক দিনের ক্রিকেটে তিনি ইতিমধ্যেই বহু রেকর্ডের মালিক। দ্রুততম সময়ে নির্দিষ্ট রানসংখ্যায় পৌঁছনো, শতরানের সংখ্যা, রান তাড়া করার সময় ধারাবাহিকতা এবং একাধিক ম্যাচে ম্যাচজয়ী ইনিং সব মিলিয়ে তাঁর ওয়ান ডে কেরিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নতুন কোনও রেকর্ড যোগ হলে সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।
ভারতীয় দলের দিক থেকেও এই সিরিজ় গুরুত্বপূর্ণ। এক দিনের ক্রিকেটে দলীয় সাফল্যের জন্য অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কোহলির মতো একজন ব্যাটার ক্রিজ়ে থাকলে দলের ড্রেসিংরুমে আলাদা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। তাঁর অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও বড় সম্পদ। পরিস্থিতি অনুযায়ী রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, বোলারদের পরিকল্পনা বুঝে শট নির্বাচন করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজ়ে থেকে ইনিংস তৈরি করার ক্ষেত্রে কোহলির অভিজ্ঞতা দলের কাজে আসতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে কোহলির ব্যাটিংয়ের দিকে নজর রাখার আর একটি কারণ হল তাঁর ধারাবাহিকতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করা সহজ নয়। প্রতিটি ম্যাচে নতুন বোলিং আক্রমণ, নতুন মাঠ, নতুন পরিস্থিতি এবং নতুন কৌশলের মুখোমুখি হতে হয়। তার সঙ্গে থাকে প্রত্যাশার চাপ। কোহলি বহু বছর ধরে এই চাপের মধ্যেই খেলেছেন। ফলে একটি মাইলফলক তাঁর সামনে থাকলেও অভিজ্ঞতার কারণে তিনি পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে যথেষ্ট পরিচিত।
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে কোহলির ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল তাঁর আগ্রাসন। তবে সেই আগ্রাসনের সঙ্গে রয়েছে শট নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ। ওয়ান ডে ক্রিকেটে প্রথম দশ ওভারে উইকেট বাঁচিয়ে রান সংগ্রহ করা, মাঝের ওভারগুলিতে স্ট্রাইক রোটেট করা এবং শেষ দিকে বাউন্ডারি বাড়ানোর যে পরিকল্পনা প্রয়োজন, কোহলি বহুবার সেই ছক অনুসরণ করে সফল হয়েছেন। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে তাঁর ইনিংসের গতি ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের ধরন বিশেষ নজরে থাকবে।
সচিনের রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি কোহলির জন্য আবেগেরও হতে পারে। কারণ কোহলি নিজেই একাধিকবার সচিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং তাঁকে নিজের প্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একজন ক্রিকেটারের কাছে নিজের আদর্শের রেকর্ড ভেঙে ফেলা নিঃসন্দেহে বিশেষ মুহূর্ত। তবে ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন ঘটনাই দেখিয়েছে যে এক প্রজন্মের কিংবদন্তিকে পরবর্তী প্রজন্মের তারকা অতিক্রম করলেও আগের প্রজন্মের গুরুত্ব কখনও কমে যায় না। বরং এতে ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হয়।
সচিনের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। একইভাবে কোহলির কেরিয়ারের অন্যতম বড় পরিচয়ও ধারাবাহিকতা। তাই দুই ক্রিকেটারের মধ্যে তুলনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। একজন ভারতীয় ক্রিকেটকে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্যাট হাতে, অন্যজন সেই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। কোহলি সচিনের কোনও একটি রেকর্ড অতিক্রম করলে সেটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখা যায় না; এটি ভারতীয় ক্রিকেটের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে দায়িত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবেও আলোচিত হয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ়ে কোহলির সামনে তাই একাধিক স্তরের চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রথমত, দলের জন্য রান করা। দ্বিতীয়ত, নিজের ছন্দ ধরে রাখা। তৃতীয়ত, মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে অতিরিক্ত চাপ সামলানো। চতুর্থত, সিরিজ়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা। এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে তাঁকে এগোতে হবে। তাঁর অভিজ্ঞতা অবশ্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির ব্যাটিংয়ের আর একটি বড় শক্তি হল ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। অনেক সময় তিনি শুরুতে খুব বেশি ঝুঁকি না নিয়ে পরে নিজের ইনিংসের গতি বাড়ান। এতে দলের রানও দ্রুত বাড়ে এবং ব্যক্তিগত বড় স্কোরের সুযোগও তৈরি হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে যদি তিনি দীর্ঘ সময় ক্রিজ়ে থাকতে পারেন, তাহলে শুধু মাইলফলকই নয়, দলের জন্য বড় স্কোর তৈরির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ভারতীয় সমর্থকদের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই থাকবে প্রবল। কোহলি যখন ব্যাট হাতে নামেন, তখন শুধু তাঁর রান নয়, তিনি কীভাবে রান করছেন সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। একটি কভার ড্রাইভ, একটি সোজা ব্যাটের শট কিংবা রান তাড়া করার সময় তাঁর হিসেবি ব্যাটিং সবকিছুই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। এর সঙ্গে যখন কোনও ঐতিহাসিক মাইলফলকের সম্ভাবনা যুক্ত হয়, তখন উত্তেজনা আরও বাড়ে।
তবে ক্রিকেটে কোনও রেকর্ড আগে থেকে নিশ্চিত নয়। মাইলফলকের জন্য যত রান প্রয়োজন, তা করতে হলে মাঠে পারফর্ম করতে হবে। প্রতিপক্ষের বোলিং, ম্যাচের পরিস্থিতি, পিচের আচরণ এবং দলের প্রয়োজন সবকিছুর উপর নির্ভর করবে কোহলি কতটা এগোতে পারেন। তাই সিরিজ় শুরুর আগে রেকর্ডের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা যতই হোক, শেষ কথা বলবে মাঠের পারফরম্যান্স।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে কোহলির সামনে থাকা মাইলফলকটি সেই কারণেই বিশেষ। এটি একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কেরিয়ার, ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস এবং সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিসংখ্যানগত তুলনার সঙ্গে যুক্ত। কোহলি যদি প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করতে পারেন, তাহলে তাঁর নামের পাশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির যোগ হবে। আর সেই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসবে সচিন ও কোহলির ক্রিকেট যাত্রার তুলনা।
ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সচিনের অবদানকে কোনও একটি রেকর্ড দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। একইভাবে কোহলির কেরিয়ারের মূল্যায়নও শুধুমাত্র সংখ্যার ভিত্তিতে করা যায় না। তাঁদের দু’জনের যুগ, ক্রিকেটের পরিবেশ এবং দলের ভূমিকা ছিল আলাদা। কিন্তু রেকর্ড ক্রিকেটের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোহলি যদি সচিনকে টপকে যান, সেই ঘটনাটি পরিসংখ্যানের দিক থেকে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।
কোহলির দীর্ঘ কেরিয়ারে এর আগেও বহুবার এমন মুহূর্ত এসেছে, যখন একটি ম্যাচ বা একটি সিরিজ় তাঁকে নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড় করিয়েছে। কখনও তিনি সফল হয়েছেন, কখনও আবার মাইলফলকের কাছাকাছি গিয়ে থেমেছেন। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য। কোনও ক্রিকেটার যত বড়ই হোন, মাঠে প্রতিটি রান নতুন করে অর্জন করতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ়েও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির গুরুত্ব শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রানের জন্য নয়, দলের ব্যাটিং কাঠামোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি পড়ার ক্ষমতা ভারতীয় দলের জন্য মূল্যবান। বিশেষ করে বড় রান তাড়া করার সময় একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার ক্রিজ়ে থাকলে দলের ব্যাটিং পরিকল্পনা অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলিতেও এই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সিরিজ় যত এগোবে, মাইলফলকের হিসাবও তত বেশি আলোচনায় আসবে। প্রথম ম্যাচেই যদি কোহলি বড় রান করেন, তাহলে পরের ম্যাচগুলিতে প্রত্যাশা আরও বাড়বে। আবার প্রথম ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়া হলে পরবর্তী ম্যাচে তাঁর দিকে নজর আরও বেশি থাকবে। অর্থাৎ সিরিজ়ের প্রতিটি ম্যাচেই তাঁর ব্যাটিং আলাদা গল্প তৈরি করতে পারে।
সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড অতিক্রম করার বিষয়টি নিয়ে সমর্থকদের আবেগ থাকলেও কোহলির কাছে মূল লক্ষ্য থাকবে নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে তিনি বহুবার দেখিয়েছেন যে ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি যদি মাইলফলক ছুঁতেও পারেন, সেটি তাঁর স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ের ফল হিসেবেই আসবে।
এই সিরিজ়কে ঘিরে আরও একটি আকর্ষণ হল ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে কোহলির উপস্থিতি। তরুণ ক্রিকেটাররা তাঁর সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর প্রস্তুতি, অনুশীলনের ধরন, ম্যাচের আগে মানসিক প্রস্তুতি এবং চাপ সামলানোর পদ্ধতি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাছে শিক্ষণীয়। ফলে কোহলির প্রতিটি ম্যাচ শুধু পরিসংখ্যানের দিক থেকে নয়, দলের অভিজ্ঞতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
একজন কিংবদন্তির রেকর্ড অতিক্রম করার সম্ভাবনা যখন সামনে আসে, তখন ক্রিকেটের ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও সামনে চলে আসে। সচিন থেকে কোহলি এই যাত্রা ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের বিবর্তনের একটি অংশ। সচিন যে জায়গায় পৌঁছেছিলেন, পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা সেই জায়গাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কোহলি সেই ধারার অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি। তাঁর নতুন মাইলফলক তাই ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে কোহলির ব্যাট থেকে বড় ইনিংস এলে ভারতীয় সমর্থকদের জন্য সেটি হবে বাড়তি আনন্দের কারণ। একদিকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান, অন্যদিকে ব্যক্তিগত রেকর্ড দুই দিক থেকেই একটি বড় ইনিংসের গুরুত্ব থাকবে। আর যদি সেই ইনিংস তাঁকে সচিনের একটি নির্দিষ্ট রেকর্ডের সামনে বা তার ওপরে নিয়ে যায়, তাহলে ম্যাচের পরিসংখ্যানের পাতায় সেটি বিশেষভাবে জায়গা করে নেবে।
সবশেষে বলা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই এক দিনের সিরিজ় বিরাট কোহলির জন্য শুধুমাত্র আর একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ় নয়। তাঁর সামনে রয়েছে ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ, রয়েছে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার দায়িত্ব এবং রয়েছে নিজের দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারের আরও একটি অধ্যায় লেখার সম্ভাবনা। সচিন তেন্ডুলকরের মতো কিংবদন্তিকে টপকে যাওয়ার সম্ভাবনা এই সিরিজ়ের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠে নামার এবং দেখার, কোহলির ব্যাট কতটা কথা বলে। প্রয়োজনীয় রান তাঁর ব্যাট থেকে এলে শুধু একটি সংখ্যা বদলাবে না, ভারতীয় ক্রিকেটের রেকর্ডবুকেও যুক্ত হবে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়। সেই কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে কোহলির প্রতিটি ইনিংসের দিকে থাকবে ক্রিকেটবিশ্বের নজর। তাঁর ব্যাট থেকে আসা প্রতিটি রান তাঁকে নিয়ে যাবে সেই কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকের আরও কাছে, আর শেষ পর্যন্ত যদি তিনি সচিনকে অতিক্রম করতে পারেন, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণময় ওয়ান ডে কেরিয়ারের আরও একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে থাকবে।