Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

উঠে বসেছেন সেলিম খান! কথা বলছেন বাড়ির লোকেদের সঙ্গে, বন্ধুর স্বাস্থ্যের খবর দিলেন জাভেদ

কেমন আছেন সেলিম? তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য দিলেন জাভেদ আখতার। বাবা ভাল আছেন। খবর, তাই আবার শুটিংয়ে ফিরেছেন সলমন খান। তাঁর আগামী ছবি ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’-এর সেটে দেখা যাচ্ছে অভিনেতাকে।ভাল আছেন সেলিম খান। এখন উঠে বসতে পারছেন ৯০ বছরের চিত্রনাট্যকার। তাঁকে দেখতে নিয়মিত তাঁর পরিবারের কেউ না কেউ লীলাবতী হাসপাতালে যাচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে তিনি কথাবার্তাও বলছেন। সংবাদমাধ্যমকে এই খবর দিলেন তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার।

সেলিম-জাভেদের নাম এক সময়ে একসঙ্গে উচ্চারিত হত। এই জুটি ১৮টি ব্লকবাস্টার হিন্দি ছবির চিত্রনাট্যকার। পরে নানা কারণে বিচ্ছেদ হয় তাঁদের। তবে পুরনো বন্ধু অসুস্থতার খবর পেতেই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাভেদ। পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে সেলিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মুখ খোলেন তিনি। জানান, চেয়ারে বসছেন তাঁর বন্ধু। খাওয়াদাওয়া করছেন। সকলের সঙ্গে কথা বলছেন। সেলিমের স্বাস্থ্যের দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। বাবা সুস্থ হয়ে উঠছেন দেখে অনেকটা নিশ্চিন্ত সলমনও। বাবার অসুস্থতার কারণে তিনি তাঁর আগামী ছবি ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’-এর শুটিং স্থগিত রেখেছিলেন। এখন আবার তাঁকে সেটে দেখা যাচ্ছে। অনুরাগীদের সঙ্গে নিজস্বীও তুলছেন অভিনেতা-প্রযোজক।১৭ ফেব্রুয়ারি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ‘শোলে’ ছবির অন্যতম বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন খ্যাতনামী থেকে সাধারণ। অনুরাগীদের আশ্বস্ত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চিকিৎসক জলিল ডি পার্কার-সহ চিকিৎসকের একটি দল নিয়মিত বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকারের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বুলেটিন প্রকাশ করছিলেন। খবর, তাতে বাধা দেন সলমন এবং ‘খান’দান। তাঁদের যুক্তি, কোনও ব্যক্তির স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। সেই সম্পর্কে জানার অধিকার কেবল তাঁর পরিবারের। পরিবারের সদস্যরা যদি প্রকাশ্যে আনতে চান, তা হলে তাঁরা সেই তথ্য সবাইকে জানাতে পারেন। এর পরেই হাসপাতালের তরফ থেকে সেলিমের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বুলেটিনপ্রকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেলিম খানের অসুস্থতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জনমানসে উদ্বেগ: এক বিশদ আলোচনা

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে কয়েকজন চিত্রনাট্যকার যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন কিংবদন্তি লেখক সেলিম খান। বিশেষ করে সত্তর ও আশির দশকে তাঁর লেখা বহু চলচ্চিত্র ভারতীয় সিনেমার ধারা বদলে দিয়েছিল। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া কালজয়ী চলচ্চিত্র “শোলে”-র চিত্রনাট্য রচনার মাধ্যমে তিনি এমন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেন, যা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। সেই কারণেই সম্প্রতি তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই গোটা চলচ্চিত্রজগৎ এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

১৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই সেলিম খানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (brain hemorrhage) হয়েছিল, যা সাধারণত অত্যন্ত জটিল এবং বিপজ্জনক একটি শারীরিক অবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এই ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে পারে, আবার সঠিক চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থতাও ফিরতে পারে। ফলে খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর অনুরাগী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের অসংখ্য তারকা তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করেন।

সেলিম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর স্বাস্থ্যের আপডেট জানার জন্য মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অসংখ্য ভক্ত উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করতে থাকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে সেলিম খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করতে শুরু করেছিল। চিকিৎসক জলিল ডি পার্কার-সহ একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন। হাসপাতালের তরফ থেকে প্রকাশিত বুলেটিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি, চিকিৎসার ধরণ এবং পরিস্থিতির সামগ্রিক বিবরণ দেওয়া হচ্ছিল। এর ফলে তাঁর অনুরাগীরা কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হচ্ছিলেন যে তিনি সঠিক চিকিৎসার অধীনে আছেন।

কিন্তু খুব শীঘ্রই এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। জানা যায়, সেলিম খানের পরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ করে তাঁর পুত্র সলমন খান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হাসপাতালকে অনুরোধ করেন যেন তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে আর কোনও বুলেটিন প্রকাশ করা না হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, কোনও ব্যক্তির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এটি এমন একটি বিষয় যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। একজন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানার অধিকার মূলত তাঁর পরিবারের সদস্যদেরই থাকে। যদি পরিবার মনে করে যে সেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত, তাহলে তারা নিজেরাই তা জনসমক্ষে আনতে পারে। কিন্তু কোনও হাসপাতাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ করা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী।

এই যুক্তির ভিত্তিতেই সেলিম খানের পরিবার হাসপাতালকে বুলেটিন প্রকাশ বন্ধ করার অনুরোধ জানায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পরিবারের এই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ বন্ধ করে দেয়।

এই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়—বিশেষ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বনাম জনস্বার্থ নিয়ে।

একদিকে, সেলিম খান শুধু একজন সাধারণ মানুষ নন; তিনি একজন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। তাঁর লেখা বহু সিনেমা ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। ফলে তাঁর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করেন, যেহেতু তিনি একজন জনমান্য ব্যক্তি, তাই তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে কিছুটা তথ্য জনসাধারণের জানার অধিকার রয়েছে।

অন্যদিকে, অন্য একটি মত বলছে যে, জনপ্রিয়তা থাকলেও একজন মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় গোপন রাখার অধিকার রাখেন। আধুনিক আইনি ব্যবস্থায় Right to Privacy বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সেলিম খানের পরিবারের সিদ্ধান্তটি অনেকের কাছেই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়। কারণ একজন অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসা এবং সুস্থতার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। অযথা সংবাদমাধ্যমের অতিরিক্ত চাপ বা জনমাধ্যমে অতিরিক্ত আলোচনা কখনও কখনও রোগী এবং তাঁর পরিবারের উপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

বলিউডে এর আগে বহুবার দেখা গেছে যে কোনও তারকার অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সেটি নিয়ে অতিরিক্ত জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে যায়। অনেক সময় ভুল তথ্য বা গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এই কারণে অনেক তারকা এবং তাঁদের পরিবার এখন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

সলমন খান নিজেও সবসময় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে অত্যন্ত সুরক্ষামূলক মনোভাব পোষণ করেন। তাঁর বাবা সেলিম খান শুধু তাঁর পরিবারের প্রধান নন, বরং তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। তাই বাবার অসুস্থতার সময় তিনি এবং তাঁর পরিবার চেয়েছিলেন বিষয়টি যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখতে।

চলচ্চিত্র জগতে সেলিম খানের অবদান নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা প্রয়োজন। তিনি এবং তাঁর সঙ্গী জাভেদ আখতার মিলে যে লেখক জুটি তৈরি করেছিলেন—যা “সেলিম-জাভেদ” নামে পরিচিত—তা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

news image
আরও খবর

তাঁদের লেখা বহু সিনেমা যেমন জঞ্জির, দিওয়ার, ডন এবং শোলে শুধু বাণিজ্যিকভাবে সফলই হয়নি, বরং ভারতীয় সমাজের নানা বাস্তবতা ও সংগ্রামকে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরেছিল।

বিশেষ করে “অ্যাংরি ইয়ং ম্যান” চরিত্রের ধারণা জনপ্রিয় করে তুলতে সেলিম-জাভেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁদের লেখার মাধ্যমেই অমিতাভ বচ্চন-এর মতো অভিনেতা নতুন ধরনের নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

এই কারণেই সেলিম খানের অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই চলচ্চিত্র জগতে এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক অভিনেতা, পরিচালক এবং শিল্পী তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।

তবে একই সঙ্গে এই ঘটনাটি আমাদের সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তুলে ধরেছে—জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবনের সীমা কোথায়?

আজকের ডিজিটাল যুগে কোনও খবরই খুব বেশি সময় গোপন থাকে না। সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং দ্রুত তথ্যপ্রবাহের কারণে যেকোনও তথ্য মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

তবুও আইন এবং নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন ব্যক্তি যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অংশ অবশ্যই ব্যক্তিগত থাকার অধিকার রাখে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেগুলি প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

সেলিম খানের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্ত এই দৃষ্টিভঙ্গিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জনপ্রিয়তা থাকা মানেই একজন ব্যক্তির সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। বরং মানুষের উচিত একজন অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি এবং সম্মান দেখানো।

আজ যখন সেলিম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তখন তাঁর অনুরাগীরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। একই সঙ্গে অনেকেই আশা করছেন যে তিনি আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁর লেখা গল্প, সংলাপ এবং চরিত্রগুলি আজও দর্শকদের মনে সমানভাবে জীবন্ত।

এই কারণেই তাঁর অসুস্থতা শুধু তাঁর পরিবারের নয়, বরং গোটা চলচ্চিত্রজগত এবং তাঁর অসংখ্য অনুরাগীর জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে—একজন মানুষের স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সম্মান করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

সেলিম খানের পরিবারের সিদ্ধান্ত সেই সম্মানেরই একটি উদাহরণ।

Preview image