মহাষ্টমীর দিন কলকাতার বিভিন্ন দুর্গাপুজো মণ্ডপে একসঙ্গে ঘুরবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজকুমার রাও। সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা: দ্য সৌরভ গাঙ্গুলি স্টোরি’-তে নামভূমিকায় অভিনয় করছেন রাজকুমার।
মহাষ্টমীর কলকাতায় এবার থাকছে বিশেষ চমক। শহরের দুর্গাপুজোর আবহে একসঙ্গে দেখা যেতে পারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজকুমার রাওকে। আগামী ১৯ অক্টোবর, মহাষ্টমীর দিন, কলকাতার একাধিক দুর্গাপুজো মণ্ডপে প্যান্ডেল হপিং করবেন তাঁরা। সৌরভের সঙ্গে শহরের পুজোর আবহ উপভোগ করার পাশাপাশি তাঁর ছোটবেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কয়েকটি পুজো মণ্ডপেও যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজকুমারের।
এই সফরের পিছনে রয়েছে আরও একটি বিশেষ কারণ। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন নিয়ে তৈরি হচ্ছে বায়োপিক ‘দাদা: দ্য সৌরভ গাঙ্গুলি স্টোরি’। সেই ছবিতে সৌরভের চরিত্রে অভিনয় করছেন রাজকুমার রাও। ফলে পর্দায় সৌরভকে ফুটিয়ে তোলার আগে বাস্তব জীবনের ‘দাদা’র সঙ্গে কলকাতার পুজোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া রাজকুমারের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মহাষ্টমীর দিন দক্ষিণ কলকাতার বেশ কয়েকটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে যাবেন সৌরভ ও রাজকুমার। এর মধ্যে এমন কিছু পুজোও রয়েছে, যেগুলির সঙ্গে সৌরভের ছোটবেলার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তাঁরা পুজোর পরিবেশ উপভোগ করবেন, প্রতিমা দর্শন করবেন এবং স্থানীয় মানুষ ও পুজোর সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। ছবির দলের কয়েকজন সদস্যও তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
মহাষ্টমীর দিন কলকাতায় পুজোর উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই প্যান্ডেল হপিংয়ে বেরিয়ে পড়েন মানুষ। তার মধ্যেই সৌরভ ও রাজকুমারকে একসঙ্গে পুজো মণ্ডপে দেখা গেলে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হবে বাড়তি উন্মাদনা। ক্রিকেটপ্রেমী এবং সিনেমাপ্রেমী—দুই ধরনের দর্শকের কাছেই এই সফর আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে সৌরভের সঙ্গে রাজকুমারের এই উপস্থিতির আলাদা তাৎপর্য রয়েছে তাঁদের আসন্ন ছবির কারণে। রাজকুমার রাওকে এবার পর্দায় দেখা যাবে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত মুখ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকায়। তাই বাস্তবের সৌরভের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব, আচরণ এবং কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে আরও কাছ থেকে বোঝার সুযোগও পাচ্ছেন অভিনেতা।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কলকাতার দুর্গাপুজোর সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। কলকাতার পুজোর সঙ্গে তাঁর শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ফলে এবারের মহাষ্টমীর প্যান্ডেল পরিক্রমা শুধুমাত্র একটি প্রচারমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজকুমারের কাছে সৌরভের নিজের শহর এবং তাঁর পুজোর স্মৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগও হতে চলেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরভের ছোটবেলা থেকে যাওয়া কয়েকটি পুজো মণ্ডপে রাজকুমারকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, রাজকুমার রাওয়ের জন্যও কলকাতার দুর্গাপুজো নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করবে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের সময় শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন, মানুষের উৎসাহ দেখা এবং পুজোর পরিবেশ অনুভব করার সুযোগ পাবেন তিনি। আর সঙ্গে থাকবেন সেই মানুষটি, যাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে তাঁর পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ছবি।
‘দাদা: দ্য সৌরভ গাঙ্গুলি স্টোরি’ ছবিটি সৌরভের জীবন ও ক্রিকেটজীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে এবং রাজকুমার রাও অভিনয় করছেন মুখ্য চরিত্রে। ছবিটি ১৪ মে ২০২৭ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
এই বায়োপিককে ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম পরিচিত চরিত্র। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সময়কাল, মাঠে তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্ব, কলকাতার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক এবং ক্রিকেটজীবনের নানা ওঠাপড়া—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন একটি বড় পর্দার গল্পের জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয়। সেই চরিত্রে রাজকুমার রাওকে দেখার জন্যও অপেক্ষা করছেন দর্শকরা।
রাজকুমারকে সৌরভের চরিত্রে দেখার আগ্রহের অন্যতম কারণ হল অভিনেতার চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা। সৌরভের শরীরী ভাষা, কথা বলার ধরন, ব্যক্তিত্ব এবং মাঠের বাইরের স্বভাব পর্দায় কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারেন তিনি, তা নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল রয়েছে। সেই জায়গায় বাস্তব সৌরভের সঙ্গে পুজোর সময় একসঙ্গে ঘোরার সুযোগ রাজকুমারের প্রস্তুতিতেও কাজে লাগতে পারে।
পুজোর পরিবেশে তাঁদের এই সফর তাই একদিকে যেমন উৎসবের আকর্ষণ বাড়াবে, অন্যদিকে তেমনই ছবির প্রচারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কলকাতা সৌরভের শহর। ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যেমন গভীর, তেমনই এই শহরের মানুষের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ফলে শহরের দুর্গাপুজোর মতো বড় সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্যে বায়োপিকের ‘দাদা’কে সামনে আনার পরিকল্পনার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
মহাষ্টমীর দিন সাধারণত কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে বিপুল। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্যান্ডেল হপিং চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। পুজোর নতুন পোশাক পরে পরিবার, বন্ধু এবং আত্মীয়দের সঙ্গে মানুষ বেরিয়ে পড়েন। সেই ভিড়ের মধ্যে যদি সৌরভ ও রাজকুমার একসঙ্গে প্যান্ডেলে পৌঁছন, তাহলে তাঁদের ঘিরে মানুষের উৎসাহ যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।
সৌরভকে কলকাতার মানুষ বহু বছর ধরে ‘দাদা’ নামে চেনেন। ক্রিকেটের মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, বিদেশের মাটিতে দলের লড়াই এবং ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবদানের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ নয়। কিন্তু কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বরাবরই অন্যরকম। শহরের পুজো, পাড়ার সংস্কৃতি এবং বাঙালিয়ানার সঙ্গে সৌরভের সম্পর্কও তাই তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই কারণেই সৌরভের সঙ্গে পুজোর মণ্ডপে ঘোরা রাজকুমারের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়। বায়োপিকের চরিত্র হিসেবে যাঁকে তিনি পর্দায় তুলে ধরবেন, তাঁর শহরকে তাঁর চোখ দিয়ে দেখার একটি সুযোগও এটি। সৌরভের প্রিয় পুজো, শৈশবের স্মৃতি এবং কলকাতার উৎসবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সম্পর্কে আরও কিছু জানা যেতে পারে এই সফরের মাধ্যমে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সফরে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুজোমণ্ডপে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু মণ্ডপের সঙ্গে সৌরভের ছোটবেলার সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেখানে গিয়ে পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নিতে পারেন তিনি। রাজকুমারও সেই স্মৃতির অংশীদার হবেন।
ছবির প্রচারের দিক থেকেও মহাষ্টমীর এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসবগুলির একটি। এই সময়ে কলকাতায় রাজকুমারের উপস্থিতি এবং সৌরভের সঙ্গে তাঁর একসঙ্গে প্যান্ডেল পরিক্রমা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের নজর কাড়বে। ফলে ‘দাদা’ ছবিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় মুহূর্ত হতে পারে।
ইতিমধ্যেই ছবিটির দল কলকাতায় বড় ধরনের জনসমক্ষে উপস্থিতির পরিকল্পনা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মহাষ্টমীর এই অনুষ্ঠানকে ছবির প্রথম বড় কলকাতা-ভিত্তিক জনসংযোগ পর্ব হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে ২০২৬ সালের কলকাতার দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলির মধ্যে ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী। ফলে পুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলির একটিতেই শহরে থাকবেন রাজকুমার। কলকাতার পুজোর আবহ, মণ্ডপসজ্জা এবং মানুষের উৎসাহের সঙ্গে অভিনেতার এই সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করবে।
রাজকুমার-সৌরভের এই জুটি ঘিরে আরও একটি বিষয় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে—পর্দার ‘দাদা’ এবং বাস্তবের ‘দাদা’কে পাশাপাশি দেখার সুযোগ। একজন বাস্তব জীবনের ক্রিকেট কিংবদন্তি, অন্যজন সেই কিংবদন্তির চরিত্রে অভিনয় করছেন। ফলে তাঁদের একসঙ্গে হাঁটা, কথা বলা এবং পুজো উপভোগের ছবি ও মুহূর্তগুলি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
তবে এই সফরের মূল আকর্ষণ থাকবে পুজোই। কলকাতার মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করবেন তাঁরা। পুজোর আবহে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো এবং শহরের উৎসবকে কাছ থেকে অনুভব করাই হবে সফরের অন্যতম দিক। একইসঙ্গে সৌরভের সঙ্গে তাঁর শৈশবের পুজোর স্মৃতিগুলি রাজকুমারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মিলনেরও অন্যতম বড় উপলক্ষ। এই উৎসবে সিনেমা, ক্রিকেট এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির তারকারাও নানা ভাবে অংশ নেন। সৌরভ ও রাজকুমারের একসঙ্গে পুজো পরিক্রমা সেই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকেই আরও দৃশ্যমান করবে।
একদিকে ক্রিকেটের ‘দাদা’, অন্যদিকে সেই দাদার ভূমিকায় অভিনয় করা বলিউড অভিনেতা—মহাষ্টমীর কলকাতায় এই দুই মুখকে একসঙ্গে দেখার অপেক্ষায় থাকবেন দুই জগতেরই অনুরাগীরা। ক্রিকেটপ্রেমীরা যেমন সৌরভকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত হবেন, তেমনই রাজকুমারের ভক্তদের কাছেও এটি হয়ে উঠবে বিশেষ মুহূর্ত।
সৌরভের বায়োপিকের গল্পে কলকাতা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে, তা বলাই যায়। কারণ তাঁর ক্রিকেটজীবনের পাশাপাশি কলকাতা তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনেরও অন্যতম কেন্দ্র। পুজোর সময় তাঁর শহরের সঙ্গে রাজকুমারের এই পরিচয় তাই ছবির আবহের সঙ্গেও মানানসই।
মহাষ্টমীর দিন পুজোমণ্ডপে তাঁদের উপস্থিতি ঘিরে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জনপ্রিয় তারকাদের দেখতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকায় মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে তাঁদের সফরের বিস্তারিত সময়সূচি এবং নির্দিষ্ট মণ্ডপগুলির পূর্ণ তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে শুধু দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি মণ্ডপে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই সফরকে ঘিরে রাজকুমারের বায়োপিক প্রস্তুতির দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সৌরভের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো, তাঁর পুরনো পুজোর স্মৃতি শোনা এবং কলকাতার সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক বোঝা অভিনেতার অভিনয়ে বাস্তব চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের দুর্গাপুজোয় কলকাতার মণ্ডপে মণ্ডপে যেমন দেখা যাবে থিম, আলোকসজ্জা এবং মানুষের ভিড়, তেমনই মহাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজকুমার রাওয়ের একসঙ্গে প্যান্ডেল পরিক্রমা। বাস্তবের ‘দাদা’র সঙ্গে পর্দার ‘দাদা’কে একসঙ্গে পুজো উপভোগ করতে দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমী থেকে সিনেমাপ্রেমী—দুই পক্ষই।
১৯ অক্টোবর মহাষ্টমীর কলকাতায় তাই শুধু দেবী দর্শন নয়, নজর থাকবে আরও এক জুটির দিকে—বাস্তবের সৌরভ আর পর্দার সৌরভ, অর্থাৎ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজকুমার রাও।