Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

২০২৬ বিশ্বকাপই কি মেসির শেষ মঞ্চ? আর্জেন্টিনা কোচের মন্তব্যে নতুন জল্পনা

২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামার সিদ্ধান্তে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন লিয়োনেল মেসি। তবে বিশ্বকাপের পরও কি তাঁকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চোটের কারণে আলাদা অনুশীলন করলেও মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত আশাবাদী আর্জেন্টিনা শিবির।

২০২৬ বিশ্বকাপই কি মেসির শেষ মঞ্চ? আর্জেন্টিনা কোচের মন্তব্যে নতুন জল্পনা
বিনোদন

বিশ্বকাপের পরই কি আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার দেখা যাবে মেসিকে? জল্পনার মাঝে বড় বার্তা স্কালোনির, চোট নিয়েও আশাবাদী শিবির

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে অন্যতম লিয়োনেল মেসি। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শুধু আর্জেন্টিনার নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তাই যখনই কোনও বড় টুর্নামেন্ট সামনে আসে, তখন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এবারের বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এক সময় মনে করা হচ্ছিল, বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে হয়তো বিশ্বকাপে দেখা নাও যেতে পারে মেসিকে। কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এখন তুঙ্গে।

তবে বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও আরেকটি প্রশ্ন এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবল মহলে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর কি মেসিকে আবারও আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে? নাকি এই বিশ্বকাপই হবে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই চোখ ছিল আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিয়োনেল স্কালোনির দিকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে তিনি নন। বরং তিনি মনে করেন, মেসি যত দিন নিজের মধ্যে খেলার ইচ্ছা অনুভব করবেন, তত দিনই আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবদান রাখতে পারবেন।

স্কালোনি বলেন, “যত দিন ইচ্ছা তত দিন খেলতে পারে মেসি। আমরা সবাই জানি ও কী ধরনের ফুটবলার। ওর মতো প্রতিভা এবং মানসিকতা খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখা যায়। তাই ও যদি ষষ্ঠ বার বিশ্বকাপে খেলতে নামে, তাতেও আমি অবাক হব না।”

এই মন্তব্যের পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেসির ভবিষ্যৎ। কারণ সাধারণত ৩৮ বছর বয়সে এসে অধিকাংশ ফুটবলার অবসরের পথে হাঁটেন। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। বয়স বাড়লেও তাঁর খেলার মান, ম্যাচের উপর প্রভাব এবং নেতৃত্বের গুণ এখনও বিশ্বমানের। ফলে তিনি চাইলে আরও কিছু বছর আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলে যেতে পারেন বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

স্কালোনি আরও জানিয়েছেন, এত সাফল্য, এত ট্রফি এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড অর্জনের পরেও মেসির মধ্যে জয়ের ক্ষুধা একটুও কমেনি। বরং প্রতিটি ম্যাচে তিনি নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। সেই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

আর্জেন্টিনা কোচের কথায়, “মেসি সব সময় সেরা থাকতে চায়। ও কখনও আত্মতুষ্টিতে ভোগে না। এত কিছু জেতার পরেও ওর মধ্যে নতুন কিছু অর্জনের ইচ্ছা রয়েছে। প্রতিটি দিন ও নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করে। এটাই ওকে বিশেষ করে তোলে।”

ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছেন। ক্লাব ফুটবল হোক বা আন্তর্জাতিক মঞ্চ, মেসি প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন। ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকাও ঈর্ষণীয়। তবু এখনও তাঁর মধ্যে একই রকম আবেগ এবং প্রতিযোগিতার মানসিকতা কাজ করে।

এ বারের বিশ্বকাপ আগের সংস্করণগুলির তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ। ফলে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা এবং ফিটনেস ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মেসির মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের উপর চাপও বাড়ে।

এই প্রসঙ্গে স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হবে না। তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া, ম্যাচে খেলানো বা অনুশীলনের মাত্রা নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই মেসির মতামতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্কালোনি বলেন, “আমরা কখনও ওর উপর কিছু চাপিয়ে দিই না। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমরা ওর সঙ্গে আলোচনা করি। আমি কী ভাবছি, সেটাও বলি। তারপর ওর মতামত শুনি। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মেসি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছে। অসংখ্য সমস্যা, চোট এবং চাপের মধ্যেও ও জাতীয় দলের হয়ে খেলেছে। তাই ওর প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের দায়িত্ব। ওর শরীর এবং মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আমরা পরিকল্পনা করি।”

news image
আরও খবর

এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, মেসি শুধুমাত্র দলের একজন খেলোয়াড় নন। তিনি আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। মাঠে তাঁর উপস্থিতি যেমন দলকে শক্তি দেয়, তেমনই ড্রেসিংরুমেও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব বড় ভূমিকা পালন করে।

তবে সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে মেসির সাম্প্রতিক শারীরিক অবস্থা। কানসাসে আর্জেন্টিনা দলের প্রথম অনুশীলনে দেখা যায়, তিনি মূল দলের সঙ্গে পুরোপুরি অনুশীলন করছেন না। বরং আলাদা করে ফিটনেস এবং পুনর্বাসনমূলক ট্রেনিংয়ে অংশ নিচ্ছেন।

জানা গিয়েছে, এখনও তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। গত ২৪ মে-র পর থেকে তিনি কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি। ফলে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার জন্য তাঁকে বিশেষ পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে।

শুধু হ্যামস্ট্রিং নয়, দীর্ঘ মৌসুমের ধকলের কারণে পেশির ক্লান্তিও রয়েছে। তাই চিকিৎসক এবং ফিজ়িয়োথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে আলাদা করে কাজ করছেন তিনি। আর্জেন্টিনা শিবির অবশ্য এই পরিস্থিতি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়।

দলের চিকিৎসক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসির চোট গুরুতর নয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাঁকে আলাদা অনুশীলন করানো হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় মাঠে নামানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।

মেসি ছাড়াও আরও কয়েকজন ফুটবলার চোটের কারণে প্রথম দিনের অনুশীলনে মূল দলের সঙ্গে ছিলেন না। তবে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল বলে খবর। ফলে টিম ম্যানেজমেন্ট আশাবাদী যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলির আগে সবাই ফিট হয়ে উঠবেন।

এদিকে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে সমর্থকদের আবেগও কম নয়। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সেখানেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অধ্যায় শেষ হবে। কিন্তু তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কোপা আমেরিকাতেও দেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তাই এবারও বিশ্বকাপের পর তাঁর অবসর নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ মেসি নিজে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেননি। স্কালোনির মন্তব্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির উপরই নির্ভর করবে।

ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড়ই নিজের শর্তে বিদায় নিতে পারেননি। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে তাঁর ইচ্ছাই শেষ কথা। তিনি যদি মনে করেন শরীর সঙ্গ দিচ্ছে এবং দেশের জন্য এখনও কিছু দেওয়ার আছে, তাহলে আরও কিছু বছর আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যেতে পারে তাঁকে।

অন্যদিকে যদি তিনি মনে করেন বিশ্বকাপই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক অভিযান, তাহলেও তাঁর কেরিয়ার ইতিমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা—জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সব বড় ট্রফিই জিতেছেন তিনি। পাশাপাশি অসংখ্য রেকর্ড এবং অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন সমর্থকদের।

বর্তমানে আর্জেন্টিনার মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপে সফল অভিযান। আর সেই লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম এখনও লিয়োনেল মেসি। চোট কাটিয়ে তিনি কত দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেন, সেটাই এখন নজরে রয়েছে ফুটবল বিশ্বের।

বিশ্বকাপের পর তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে স্কালোনির কথায় একটি বিষয় পরিষ্কার—মেসিকে নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো নেই। তিনি যত দিন খেলতে চাইবেন, তত দিনই আর্জেন্টিনা তাঁকে স্বাগত জানাবে। আর ফুটবলপ্রেমীরাও অপেক্ষা করে থাকবেন, আরও একবার মেসির জাদু দেখার জন্য। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অজানা। তবে স্কালোনির বার্তা পরিষ্কার—মেসির উপর কোনও চাপ নেই। সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষায়, কিংবদন্তির জাদু আরও কত দিন দেখা যাবে, তার উত্তর জানার জন্য।

Preview image