Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

স্বাস্থ্যকর ভেবে খান, কিন্তু ফ্যাটি লিভারে ক্ষতি করতে পারে এই ৫ ব্রেকফাস্ট

‘স্বাস্থ্যকর’ মনে হলেও সকালের কিছু খাবার ফ্যাটি লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রোজের ব্রেকফাস্টে কী খাচ্ছেন, তাই নিয়ে থাকুন সতর্ক।

স্বাস্থ্যকর ভেবে খান, কিন্তু ফ্যাটি লিভারে ক্ষতি করতে পারে এই ৫ ব্রেকফাস্ট
Health & Fitness

প্রাতরাশ দিনের প্রথম খাবার। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করতে এই খাবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে শুধু পেট ভরানোর জন্য প্রাতরাশ খাওয়া যথেষ্ট নয়। কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন এবং সেই খাবারে কার্বোহাইড্রেট, চিনি, ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিনের ভারসাম্য কেমন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে সকালের খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা বর্তমানে বেশ পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। জীবনযাত্রায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, ওজন বেড়ে যাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং খাদ্যাভ্যাসের নানা ভুলের সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে শুধু ওষুধের দিকে নজর না দিয়ে দৈনন্দিন খাবার ও জীবনযাত্রার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে দিনের শুরুতেই কী খাচ্ছেন, তা নিয়ে সচেতন হওয়া উপকারী।

অনেক সময় কিছু খাবারকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ‘স্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করি। কিন্তু খাবারটি কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে কী কী উপাদান যোগ করা হচ্ছে এবং কতটা পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে—তার উপর খাবারের সামগ্রিক পুষ্টিগুণ অনেকটাই নির্ভর করে। কোনও একটি খাবারকে সম্পূর্ণ ‘খারাপ’ বা ‘ভাল’ বলে চিহ্নিত করার পরিবর্তে পুরো খাবারের ভারসাম্য এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নয়াদিল্লির পুষ্টিবিদ শিল্পা চাওলা সমাজমাধ্যমে ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে প্রাতরাশের কয়েকটি পরিচিত খাবার নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়ার সময় পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে তা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নাও হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে উপমা, পোহা বা অন্যান্য পরিচিত ভারতীয় প্রাতরাশ একেবারেই খাওয়া যাবে না। বরং কীভাবে খাবারটি তৈরি করছেন, তার সঙ্গে সব্জি, বাদাম বা অন্য পুষ্টিকর উপাদান যোগ করছেন কি না এবং মোট কতটা পরিমাণ খাচ্ছেন—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

উপমা কেন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার?

সুজির উপমা ভারতীয় পরিবারের অন্যতম পরিচিত প্রাতরাশ। সহজে রান্না করা যায়, খেতেও সুস্বাদু এবং অনেকের কাছেই এটি হালকা খাবার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সুজি মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস। তাই শুধুমাত্র বেশি পরিমাণে সুজি দিয়ে তৈরি উপমা খেলে খাবারে কার্বোহাইড্রেটের অনুপাত বেশি হয়ে যেতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে খাবারের মোট ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপমা খেলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি রান্নার সময় বিভিন্ন ধরনের সব্জি যোগ করলে খাবারে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বাড়ে। গাজর, বিনস, মটরশুঁটি, ক্যাপসিকাম বা অন্যান্য সব্জি ব্যবহার করে উপমাকে আরও পুষ্টিকর করা যায়।

এ ছাড়াও পরিমাণ অনুযায়ী বাদাম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করা যেতে পারে। তবে বাদামও ক্যালোরি-সমৃদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। অর্থাৎ উপমা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরিবর্তে তার উপকরণ, পরিমাণ এবং সামগ্রিক খাবারের ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পোহা কি ফ্যাটি লিভারে খাওয়া যায়?

পোহা বা চিঁড়ে দিয়ে তৈরি প্রাতরাশও বহু মানুষের প্রতিদিনের খাবারের অংশ। পোহা দ্রুত তৈরি করা যায় এবং এর সঙ্গে বিভিন্ন সব্জি, বাদাম ও অন্যান্য উপকরণ যোগ করা সম্ভব। কিন্তু শুধু চিঁড়ে দিয়ে তৈরি পোহা নিয়মিত খেলে খাবারের পুষ্টিগত ভারসাম্য কম হতে পারে।

বিশেষ করে যদি পোহায় পর্যাপ্ত সব্জি বা অন্য ফাইবারসমৃদ্ধ উপাদান না থাকে, তা হলে খাবারটি মূলত কার্বোহাইড্রেট-নির্ভর হয়ে যেতে পারে। তাই পোহা তৈরি করার সময় সব্জির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিনাবাদাম বা অন্য উপযোগী উপাদান যোগ করলে খাবারের পুষ্টিমান বাড়তে পারে।

এখানেও মূল বিষয় হল পরিমাণ এবং ভারসাম্য। ফ্যাটি লিভার থাকলে পোহা একেবারেই খাওয়া যাবে না—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং কীভাবে পোহা তৈরি করা হচ্ছে এবং দিনের বাকি খাবারে কী রয়েছে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

শুধু কার্বোহাইড্রেট নয়, প্রাতরাশে ভারসাম্য জরুরি

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে প্রাতরাশ বেছে নেওয়ার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খাবারের সামগ্রিক ভারসাম্য। শুধু পেট ভরানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট-নির্ভর খাবার খেলে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিতৃপ্তি নাও আসতে পারে। তাই ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাতরাশে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস রাখা যেতে পারে।

সব্জি, ডাল, ডিম, দই, বাদাম বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার উপযুক্ত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে কারও ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের তালিকা পরিবর্তন করা দরকার।

ফ্যাটি লিভারে চিনি ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কেন চিন্তার বিষয়?

প্রাতরাশে অনেকেই চা বা কফির সঙ্গে বিস্কুট, মিষ্টি সিরিয়াল, প্যাকেটজাত খাবার বা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয় গ্রহণ করেন। এই ধরনের খাবারে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি গ্রহণ সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই ফ্যাটি লিভার থাকলে সকালের খাবারে চিনি-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত রাখার পরিবর্তে কম চিনি ও বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। প্যাকেটজাত খাবার কিনলে লেবেলে মোট চিনি, যোগ করা চিনি, ফ্যাট এবং মোট ক্যালোরির পরিমাণ দেখে নেওয়াও উপকারী।

news image
আরও খবর

প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা

আজকের ব্যস্ত জীবনে প্যাকেটজাত বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রাতরাশের সহজ সমাধান মনে হতে পারে। কিন্তু সব ধরনের প্যাকেটজাত খাবার সমান নয়। কিছু খাবারে অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ক্যালোরি থাকতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস যতটা সম্ভব ভারসাম্যপূর্ণ ও পুষ্টিকর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর নির্ভর না করে তাজা সব্জি, সম্পূর্ণ শস্য, ডাল, প্রোটিনের উৎস এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর ফ্যাটকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

প্রাতরাশে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করবেন?

একটি স্বাস্থ্যকর প্রাতরাশের ক্ষেত্রে শুধু একটি খাবারের দিকে না তাকিয়ে পুরো প্লেটটি বিবেচনা করা ভালো। যেমন, শুধু সুজি দিয়ে উপমা না বানিয়ে তাতে বিভিন্ন সব্জি যোগ করা যেতে পারে। শুধু চিঁড়ে দিয়ে পোহা না বানিয়ে তাতে সব্জি এবং উপযুক্ত পরিমাণে বাদাম যোগ করা যেতে পারে।

একইভাবে প্রাতরাশের সঙ্গে প্রোটিনের একটি উৎস থাকলে খাবারের সামগ্রিক ভারসাম্য উন্নত হতে পারে। ডিম, দই, ডাল বা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী অন্য প্রোটিনের উৎস বেছে নেওয়া যেতে পারে।

ফ্যাটি লিভার থাকলে শুধু প্রাতরাশ বদলালেই হবে না

একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—শুধু প্রাতরাশের একটি খাবার বাদ দিলেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা সমাধান হবে না। সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস, মোট ক্যালোরি গ্রহণ, শারীরিক সক্রিয়তা, ওজন, ঘুম এবং অন্যান্য জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে পুরো খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সকালের খাবার স্বাস্থ্যকর হলেও দুপুর ও রাতে অতিরিক্ত ক্যালোরি, মিষ্টি, ভাজাভুজি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

খাবারের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ

অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবারও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু খাবারটি ‘স্বাস্থ্যকর’ কি না, তা দেখলেই হবে না; কতটা পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

উপমা বা পোহা খাওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নিজের বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ কেন জরুরি?

ফ্যাটি লিভার একটি বিস্তৃত শব্দ। এর কারণ এবং তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ওজন ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা অন্য বিপাকীয় সমস্যার ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন হতে পারে।

তাই শুধুমাত্র কোনও সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট বা সাধারণ খাদ্যতালিকার উপর নির্ভর করে নিজের চিকিৎসা বা খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ফ্যাটি লিভার থাকলে প্রাতরাশে উপমা বা পোহা একেবারেই নিষিদ্ধ—এমন নয়। বরং খাবারের পরিমাণ, উপকরণ, রান্নার পদ্ধতি এবং পুরো দিনের খাদ্যতালিকার ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুজি বা চিঁড়ে-ভিত্তিক খাবারে পর্যাপ্ত সব্জি ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান যোগ করা যেতে পারে এবং অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমানো যেতে পারে।

সকালের খাবারকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে তাই একটি সহজ নীতি মনে রাখা যেতে পারে—শুধু কার্বোহাইড্রেটের উপর নির্ভর না করে খাবারে ফাইবার, প্রোটিন এবং উপযুক্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভারসাম্য রাখুন। একই সঙ্গে খাবারের পরিমাণ এবং দিনের বাকি খাবারের দিকেও নজর দিন।

ফ্যাটি লিভার নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট খাদ্য পরিবর্তন করার আগে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ একজনের জন্য উপযুক্ত খাবার অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে একইভাবে উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্য ও পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। ফ্যাটি লিভার বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা তৈরির আগে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

Preview image