Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ওজন কমানো থেকে নিয়মিত শরীরচর্চা, নিজের ফিটনেস যাত্রা নিয়ে মুখ খুললেন সায়ন্তিকা

দুর্গাপুজোর আগে নিজের ওজন কমানো ও ফিট থাকার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। শরীরচর্চার রুটিন বজায় রাখা এবং সুস্থ থাকার পথে তাঁর ব্যক্তিগত যাত্রার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুজোর প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও ফিটনেসে কী ভাবে নজর রাখছেন অভিনেত্রী, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন। তবে ওজন কমানোর লক্ষ্য ও ব্যায়ামের ধরন ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়া উচিত। সায়ন্তিকার অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা দিতে পারে, কিন্তু নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে রুটিন বেছে নেওয়াই জরুরি।

ওজন কমানো থেকে নিয়মিত শরীরচর্চা, নিজের ফিটনেস যাত্রা নিয়ে মুখ খুললেন সায়ন্তিকা

পুজোর আগে সাজপোশাকের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের শরীরের দিকেও নতুন করে নজর দিয়েছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওজন কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পুরনো অভ্যাসে ফেরার চেষ্টা—তাঁর ফিটনেস যাত্রায় রয়েছে এই সব কিছুরই জায়গা। তবে সায়ন্তিকার কাছে বিষয়টি কেবল রোগা দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শরীর ভাল রাখা এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরে পাওয়ার কথাই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন।

সম্পাদনা নোট: পাঠানো সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনটি সরাসরি খোলা যায়নি। নিচের লেখায় সায়ন্তিকার নামে যে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলি তাঁর জুলাই ২০২৬-এর প্রকাশিত সাক্ষাৎকার থেকে যাচাই করা। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নতুন কোনও বক্তব্য থাকলে সেটি এই লেখায় যোগ করা হয়নি।


অভিনয়, নাচ এবং পরে রাজনৈতিক দায়িত্ব—জীবনের বিভিন্ন পর্বে সায়ন্তিকার দিনের ছন্দ বদলেছে। ব্যস্ততার সঙ্গে বদলেছে খাওয়ার সময়, নিজের জন্য বরাদ্দ সময় এবং শরীরচর্চার সুযোগও। জুলাইয়ে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কাজের সময়ে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সকালে ওঠা বা জিমে যাওয়ার অভ্যাস পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, তবু দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ার প্রভাব তিনি শরীরে অনুভব করেছিলেন।


অভিনয়, নাচ এবং পরে রাজনৈতিক দায়িত্ব—জীবনের বিভিন্ন পর্বে সায়ন্তিকার দিনের ছন্দ বদলেছে। ব্যস্ততার সঙ্গে বদলেছে খাওয়ার সময়, নিজের জন্য বরাদ্দ সময় এবং শরীরচর্চার সুযোগও। জুলাইয়ে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক কাজের সময়ে নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সকালে ওঠা বা জিমে যাওয়ার অভ্যাস পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, তবু দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ার প্রভাব তিনি শরীরে অনুভব করেছিলেন।
 

এই জায়গাতেই তাঁর অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে পরিচিত মনে হতে পারে। কেউ সকালে হাঁটেন, কিন্তু কাজের চাপে নিয়মিত খাবার খেতে পারেন না। কেউ জিমে যান, অথচ ঘুমের সময় ঠিক থাকে না। আবার কারও দিনের পর দিন নিজের পছন্দের কোনও শারীরিক কাজ করার সুযোগ হয় না। শরীরের যত্ন অনেকগুলি অভ্যাসের সমষ্টি; একটি অভ্যাস বজায় থাকলেই বাকি সব অনিয়মের প্রভাব মুছে যায় না।

ওজনের চেয়ে সুস্থ থাকাকে গুরুত্ব

সায়ন্তিকার সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে স্পষ্ট যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হল সুস্থ থাকার ইচ্ছা। তিনি বলেছেন, রোগা বা মোটা হওয়াই তাঁর কাছে প্রধান প্রশ্ন নয়; অসুস্থ বোধ করাটাই বেশি চিন্তার। ওজন বেড়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন, আবার পরবর্তী সময়ে অনেকটা ওজন কমার কথাও বলেছেন। কিন্তু ঠিক কত কিলোগ্রাম কমেছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। ফলে তাঁর ওজন কমা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রচার করার ভিত্তি নেই।
 

পুজোর আগে ওজন কমানোর আলোচনায় প্রায়ই সংখ্যা সামনে চলে আসে। কত দিনে কত কিলোগ্রাম কমল, কোন পোশাক আগের চেয়ে ভাল মানাল, ছবিতে চেহারা কেমন দেখাচ্ছে—এই প্রশ্নগুলিই বেশি শোনা যায়। অথচ একজন মানুষের নিজের শরীর সম্পর্কে অনুভূতি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা সেই সংখ্যার মধ্যে ধরা পড়ে না।

সায়ন্তিকার বক্তব্যকে তাই দ্রুত ওজন কমানোর কোনও নিয়ম হিসাবে দেখা উচিত নয়। এটি একজন মানুষের নিজের বদলে যাওয়া রুটিন বুঝে আবার তার উপর কাজ শুরু করার অভিজ্ঞতা। তাঁর মতো পরিচিত মুখ নিজের শরীরের ভিতরের অস্বস্তির কথা বললে আলোচনাটি বাইরের চেহারার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কারও ওজন বদলালে তার কারণ এক রকম হয় না। খাবারের ধরন, শরীরচর্চা, ঘুম, কাজের চাপ বা অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা—অনেক কিছুই জড়িত থাকতে পারে। তাই পরিচিত কারও পরিবর্তন দেখে নিজের জন্য একই লক্ষ্য বা একই সময়সীমা স্থির করা যুক্তিসঙ্গত নয়। নিজের শরীর নিয়ে উদ্বেগ থাকলে উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই ভাল।

নাচে ফেরা কেন গুরুত্বপূর্ণ

সায়ন্তিকার পরিচয়ের সঙ্গে নাচ বহু দিন ধরেই যুক্ত। জুলাইয়ের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নাচ তাঁর জীবনের পুরনো অংশ। মাঝের ব্যস্ততায় সেই অভ্যাসে সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পরে সমাজমাধ্যমে তাঁর নাচের ভিডিয়োও দেখা যায়। এই ফেরা শুধু শরীরচর্চার রুটিন বদলানোর ঘটনা নয়; নিজের পছন্দের কাজে আবার সময় দেওয়ার কথাও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
নিয়মিত শারীরিক কাজের জন্য প্রত্যেককে একই ধরনের ব্যায়াম বেছে নিতে হবে, এমন নয়। কেউ হাঁটতে পছন্দ করেন, কেউ সাঁতার কাটেন, কেউ নাচেন। পছন্দের কাজ হলে সেটির জন্য সময় বের করার আগ্রহও বাড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় হাঁটা ও নাচের মতো কাজকেও শারীরিক সক্রিয়তার উদাহরণ হিসাবে ধরা হয়েছে।
 

তবে নাচ বা অন্য কোনও সক্রিয় কাজের অভ্যাস দীর্ঘ বিরতির পরে আবার শুরু করলে নিজের বর্তমান সক্ষমতা বুঝে এগোনো জরুরি। আগে অনেকক্ষণ অনুশীলন করতেন বলেই প্রথম দিন থেকে একই মাত্রায় শুরু করতে হবে, এমন নয়। অস্বস্তি হলে বিরতি নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষক বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল।

সায়ন্তিকার নাচে ফেরার গল্পের আরও একটি দিক রয়েছে। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্তিগত শোকের কথাও জানিয়েছেন। তাঁর একটি পোষ্য মারা যাওয়ার ঘটনা তাঁকে মানসিক ভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে তিনি বলেছেন। জীবনের এমন সময় শরীরচর্চা বা প্রিয় কাজে মন ফেরানো কঠিন হতে পারে। তাই কোনও মানুষের অনিয়মকে শুধু ‘ইচ্ছাশক্তির অভাব’ বলে বিচার করা তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ছোট করে দেখা।
 

খাবারের সময় গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

সায়ন্তিকা জানিয়েছেন, তিনি রাতের খাবার সন্ধে সাড়ে সাতটার মধ্যে খাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাড়িতে তৈরি ভাত বা রুটি খাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক দায়িত্বের সময়ে এলোমেলো হয়ে যাওয়া খাবারের সময়কে আবার গুছিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। এই তথ্য তাঁর ব্যক্তিগত রুটিন সম্পর্কে; সবার জন্য একই সময়ে রাতের খাবার খাওয়া বাধ্যতামূলক, এমন কোনও সিদ্ধান্ত এর থেকে টানা যায় না।
 

প্রত্যেকের কাজের সময় ও পারিবারিক পরিস্থিতি আলাদা। কারও কাজ সন্ধ্যায় শেষ হয়, কেউ রাতে কাজ করেন, কেউ আবার ভোরে বেরিয়ে পড়েন। তাই অন্য কারও খাবারের সময় হুবহু নকল করার চেয়ে নিজের দিনের সঙ্গে মানানসই একটি নিয়ম খুঁজে নেওয়া বেশি বাস্তবসম্মত। দীর্ঘ মেয়াদে সেটি বজায় রাখা যাবে কি না, সেটিও ভাবতে হবে।

বাড়ির খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া সায়ন্তিকার নিজের সিদ্ধান্ত। কিন্তু ‘বাড়ির খাবার’ বললেই সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে অথবা বাইরের খাবার সব সময় খারাপ—এমন সরল সিদ্ধান্তেও পৌঁছোনো যায় না। কী খাওয়া হচ্ছে, কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং ব্যক্তির প্রয়োজন কী—এসবের উপর খাদ্যাভ্যাস নির্ভর করে।

উৎসবের আগে অনেকেই খাবার হঠাৎ অনেক কমিয়ে দেন। কয়েক দিন পরে পছন্দের পোশাক পরবেন বলে কোনও একটি খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া বা না খেয়ে থাকা শুরু করেন। দ্রুত ফলের প্রত্যাশা থাকলেও এমন পদ্ধতি নিজের শরীরের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলছে কি না, তা জানা জরুরি। সিডিসির স্বাস্থ্যকর ওজন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কাজ, পর্যাপ্ত ঘুম ও চাপ সামলানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
 

news image
আরও খবর

একা জিম করলেই কি ফিটনেসের লক্ষ্য পূরণ হয়

সায়ন্তিকার অভিজ্ঞতার একটি তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হল, জিমে যাওয়ার অভ্যাস থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের শরীরে অনিয়মের প্রভাব অনুভব করেছিলেন। এতে জিমের গুরুত্ব কমে যায় না। বরং বোঝা যায়, ব্যায়ামের বাইরেও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কারও সপ্তাহে কয়েক দিন ব্যায়াম করা সম্ভব হলেও কাজের চাপের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হতে পারে। আবার কারও হাঁটাহাঁটি হয় অনেক, কিন্তু শক্তি বাড়ানোর কোনও কাজ করা হয় না। শারীরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক রয়েছে। সেই কারণে সবার জন্য একই ব্যায়ামসূচি উপযুক্ত হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ থেকে ৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক সক্রিয়তা অথবা তার সমতুল্য বেশি মাত্রার সক্রিয়তার সুপারিশ করে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন পেশিশক্তি বাড়ানোর কাজের কথাও বলে। এটি সাধারণ জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা; কোনও ব্যক্তির অসুখ, বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলে তাঁর প্রয়োজন আলাদা হতে পারে।
 

যিনি অনেক দিন ব্যায়াম করেননি, তাঁর কাছে এই সংখ্যা প্রথমে বড় মনে হতে পারে। শুরুটা ছোট হতে পারে—নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা, চলাফেরার সুযোগ বাড়ানো বা পছন্দের সক্রিয় কাজে ফেরা। এক দিন খুব বেশি করে পরের কয়েক দিন বন্ধ রাখার চেয়ে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলার কথা ভাবা বেশি কার্যকর।

পুজোর আগে কেন বাড়ে ‘ফিট’ দেখানোর চাপ

দুর্গাপুজো সামনে এলেই নতুন পোশাক, ছবি তোলা এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা শুরু হয়। অনেকের মনে তখন নিজের চেহারা নিয়ে বাড়তি ভাবনাও আসে। সমাজমাধ্যমে অন্যদের ছবি বা ভিডিয়ো দেখে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে। পরিচিত অভিনেত্রীর ওজন কমার খবর এই আলোচনাকে নতুন করে সামনে আনে।

কিন্তু কাউকে দেখে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একই পরিবর্তন আনার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। কারও জীবনের পরিস্থিতি, শরীর এবং স্বাস্থ্য ইতিহাস অন্য কারও মতো নয়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ধীরে ও নিয়মিত ওজন কমানো দ্রুত ওজন কমানোর তুলনায় তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে বেশি সহায়ক হতে পারে। অবাস্তব সময়সীমা ঠিক করলে হতাশাও বাড়তে পারে।
 

পুজোয় ভাল লাগার জন্য শরীরের যত্ন নিতে চাইলে সেটিকে শাস্তি বানানোর প্রয়োজন নেই। খাবার নিয়ে অপরাধবোধ, নিজের শরীরের প্রতি বিরূপ মন্তব্য বা কয়েক দিনের মধ্যে চেহারা পাল্টানোর চাপ আনন্দ কমিয়ে দিতে পারে। উৎসবে অনেকটা হাঁটতে হবে, রাতে দেরি হতে পারে এবং রোজকার রুটিন বদলাতে পারে। তাই শরীরকে ক্লান্ত করে কোনও লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করার বদলে নিজের প্রয়োজন বোঝা বেশি জরুরি।

সায়ন্তিকার অভিজ্ঞতায়ও বাহ্যিক পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরের ভিতরের অস্বস্তির কথা এসেছে। সেই অংশটি উপেক্ষা করে শুধু তাঁর চেহারা নিয়ে আলোচনা করলে পুরো বক্তব্য ধরা পড়বে না।

নিজের জন্য সময় বার করার অভ্যাস

ব্যস্ততা ফিটনেসের পথে একটি বাস্তব বাধা। কাজ, যাতায়াত, পরিবার এবং অন্য দায়িত্ব সামলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। সায়ন্তিকার কথায়ও দায়িত্বের চাপ এবং নিজের যত্নের মধ্যে এই টানাপড়েন উঠে এসেছে।

তাই শুরুতে বড় কোনও পরিকল্পনার বদলে নিজের দিনটি দেখা দরকার। কোন সময়ে খাবারের বিরতি নেওয়া সম্ভব, কখন কিছুটা হাঁটা যায়, সপ্তাহে কত দিন পছন্দের শারীরিক কাজের জন্য সময় রাখা যায়—এগুলি ব্যক্তিভেদে বদলাবে। এমন রুটিনই বেশি কাজে আসে, যা বাস্তবে পালন করা সম্ভব।

নিয়ম ভাঙলে আবার শুরু করার সুযোগও রাখতে হবে। এক দিন ব্যায়াম বাদ পড়লেই পুরো পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায় না। পুজোর কয়েক দিন অন্য ভাবে কাটলেও পরে পরিচিত ছন্দে ফেরা যায়। সায়ন্তিকার ক্ষেত্রে বদলে যাওয়া সময়সূচিকে আবার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টাটিই তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শরীরের পাশাপাশি মানসিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। মন খারাপ বা শোকের সময় আগের মতো কোনও কাজে আগ্রহ না পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এমন অবস্থায় নিজের উপর আরও চাপ তৈরি না করে প্রয়োজন হলে কাছের মানুষের সাহায্য বা পেশাদার সহায়তা চাওয়া যেতে পারে।

সায়ন্তিকার গল্প থেকে পাঠকের জন্য কী থাকল

সায়ন্তিকা নিজের ওজন কমার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন, কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট ‘ওজন কমানোর ফর্মুলা’ দেননি। তিনি নাচে ফেরা, নিজের খাবারের সময় গুছিয়ে আনা, বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়া এবং সুস্থ বোধ করার চেষ্টার কথা বলেছেন। তাঁর নামে কোনও বিশেষ ডায়েট, দৈনিক ব্যায়ামের সময়সীমা বা কত কিলোগ্রাম ওজন কমেছে—এ ধরনের তথ্য যোগ করা ঠিক হবে না, যতক্ষণ না তার নির্ভরযোগ্য উৎস পাওয়া যাচ্ছে।
 

পাঠকের জন্য তাঁর অভিজ্ঞতার সবচেয়ে ব্যবহারিক দিক সম্ভবত নিয়মে ফেরার সিদ্ধান্ত। জীবনের কোনও পর্বে সময়ের অভাবে শরীরের যত্ন কমে গেলে পরে আবার শুরু করা যায়। নিজের পছন্দের কাজকে সেই রুটিনের অংশ করা যায়। একই সঙ্গে শরীরের অস্বস্তিকে গুরুত্ব দেওয়া যায়।

ওজন কমানো কারও লক্ষ্য হতে পারে, আবার কারও লক্ষ্য হতে পারে আগের চেয়ে বেশি শক্তি পাওয়া, ভাল ঘুম, নিয়মিত চলাফেরা বা দৈনন্দিন কাজে কম ক্লান্ত হওয়া। লক্ষ্য আলাদা হলে পথও আলাদা হবে। তাই সায়ন্তিকার অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া সম্ভব হলেও নিজের জন্য রুটিন ঠিক করতে নিজের স্বাস্থ্য ও পরিস্থিতিই আগে দেখতে হবে।

পুজোর প্রস্তুতির মধ্যেও সায়ন্তিকার এই ফিটনেস যাত্রা একটি সহজ কথা মনে করিয়ে দেয়—নিজের যত্নের জন্য আবার সময় বার করা সম্ভব। সেই যাত্রার সাফল্য শুধু আয়নায় বদল দেখা দিয়ে মাপা যায় না; শরীরের কথা শুনে টিকে থাকার মতো অভ্যাস গড়ে তোলাও তার অংশ।

Preview image