স্প্রিংগারের ঝোড়ো ইনিংসও দলের হার আটকাতে পারল না অর্শদীপের দুরন্ত বোলিং এবং অভিষেকের দাপুটে ব্যাটিংয়ে জয় তুলে নিল ভারত বল হাতে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন অর্শদীপ আর ব্যাট হাতে ভারতের জয়ের পথ সহজ করেন অভিষেক স্প্রিংগারের লড়াই ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দলের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের সামনে তা যথেষ্ট হয়নি
স্প্রিংগারের ব্যাটে শেষ দিকে ঝড় উঠলেও জয়ের হাসি হাসল ভারত। অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং অর্শদীপ সিংহের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের সুবাদে ইন্দোরে তৃতীয় টি২০ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারাল ভারত। ১১ অক্টোবরের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারতীয় দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ২২৩ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ হয় ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৯ রানে। ব্যাটিং সহায়ক পরিবেশে বড় রান তাড়া করার লড়াই জমে উঠলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি ক্যারিবিয়ান দল।
অভিষেকের ব্যাটে ভারতের শক্ত ভিত ভারতের ইনিংসের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। সঞ্জু স্যামসন মাত্র তিন রানে ফিরে যাওয়ার পর আক্রমণের দায়িত্ব নেন বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ছয়টি চার এবং পাঁচটি ছক্কা। শুরুতে উইকেট হারানোর চাপ কাটিয়ে তাঁর দ্রুত রান ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়। অভিষেককে সঙ্গ দেন ঈশান কিশন। ১৮ বলে তাঁর ৩৭ রান ভারতের রানের গতি বাড়ায়। দু’জনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৮.২ ওভারে ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় ১১৫ রানে। তবে এই শক্ত ভিতের পরেও ভারতীয় ইনিংস একটানা একই গতিতে এগোয়নি। তিলক বর্মা ১৬ বলে ২৮ রান করে রান আউট হন। নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং অক্ষর পটেলের ছোট কিন্তু প্রয়োজনীয় অবদান দলকে ২২৩ পর্যন্ত পৌঁছতে সাহায্য করে। অর্শদীপের আঘাতে বদলে যায় রান তাড়ার লড়াই বড় লক্ষ্য সামনে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা লড়াই ছাড়েননি। ভারতের প্রয়োজন ছিল নিয়মিত উইকেট, কারণ কয়েকটি বড় শটেই ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারত। সেই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন অর্শদীপ। প্রথম দিকেই শাই হোপকে ফেরান তিনি। পরে ইনিংসের ১৮তম ওভারে কিমো পল এবং শেরফান রাদারফোর্ডকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দেন। শেষের দিকে যখন দ্রুত রান তোলার জন্য ব্যাটারদের ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন, তখন এই দুই উইকেট ভারতের পক্ষে অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে ওঠে। অর্শদীপের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৪৪ রানে তিন উইকেট। নমন ধীরও ৩৯ রানে দুই উইকেট নিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্প্রিংগারের ঝোড়ো ইনিংসেও অধরা জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশা ক্ষীণ হয়ে আসার সময় ব্যাট হাতে চমক দেখান শামার স্প্রিংগার। মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। অক্ষর পটেলের শেষ ওভারে তিনটি ছক্কাও মারেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে হারের ব্যবধান কমলেও ভারতের সংগ্রহ টপকানো সম্ভব হয়নি। স্প্রিংগারের এই ছোট ইনিংস ম্যাচের শেষ অংশকে আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে আগের উইকেটগুলি হারানোর মূল্য দিতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। শেষ মুহূর্তের আক্রমণ রান বাড়ালেও প্রয়োজনীয় জয়ের রান এনে দিতে পারেনি। ভারতের জয়ের ভিত তৈরি হয়েছিল অভিষেকের ব্যাটে, আর সেই সংগ্রহ রক্ষার ক্ষেত্রে decisive ভূমিকা ছিল অর্শদীপের। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান বাঁহাতি পেসার। সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পর ভারতের সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হায়দরাবাদের চতুর্থ টি২০ যা অনুষ্ঠিত হবে ১৪ অক্টোবর। অন্য দিকে সিরিজে সমতা ফেরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরের ম্যাচে জিততেই হবে।
শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়েও ভারতের বিরুদ্ধে জয় পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শামার স্প্রিংগারের ঝোড়ো ব্যাটিং ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা বাড়ালেও ভারতীয় দলের সংগ্রহ টপকানোর জন্য তা যথেষ্ট হয়নি। অভিষেক শর্মার ব্যাটে তৈরি হওয়া জয়ের ভিত মজবুত করেন অর্শদীপ সিংহ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের রান তাড়ার পরিকল্পনায় ধাক্কা দেন বাঁহাতি পেসার। নমন ধীরের কার্যকর বোলিংও ভারতের জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ইন্দোরের এই ম্যাচে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেদের বড় সংগ্রহ রক্ষা করা। টি২০ ক্রিকেটে বড় রান তুললেই যে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াই তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শেষের দিকে স্প্রিংগারের আক্রমণ দেখিয়েছে, কয়েকটি বড় শট কত দ্রুত ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সেই আক্রমণের আগেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন অর্শদীপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ১৮তম ওভার হয়ে ওঠে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ওভারে কিমো পল এবং শেরফান রাদারফোর্ডকে আউট করেন অর্শদীপ। রান তাড়ার শেষ পর্যায়ে যখন প্রতিটি বলের মূল্য বেড়ে যায়, তখন একই ওভারে দুই ব্যাটারকে হারানো ক্যারিবিয়ান দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি নতুন করে ইনিংস সামলানোর চাপও এসে পড়ে তাদের উপর।
শেষের ওভারগুলিতে ব্যাটারদের লক্ষ্য থাকে যত বেশি সম্ভব বাউন্ডারি আদায় করা। প্রয়োজনীয় রান দ্রুত তুলতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার প্রবণতাও বাড়ে। সেই পরিস্থিতিতে বোলারের সাফল্য শুধু রান আটকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; উইকেট তুলে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অর্শদীপের দুই আঘাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে থাকা সুযোগ কমিয়ে দেয়। ফলে পরবর্তী ব্যাটারদের আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে হয়। অর্শদীপ ম্যাচে ৪৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য বুঝতে হলে তাঁর উইকেট নেওয়ার সময়টিও বিবেচনা করতে হয়। প্রতিপক্ষ যখন জয়ের লক্ষ্যে এগোনোর চেষ্টা করছিল, তখন তাঁর আঘাতগুলি ভারতের পক্ষে ম্যাচের ভারসাম্য বদলে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি। ভারতের বোলিংয়ে নমন ধীরের অবদানও ছিল মূল্যবান। ৩৯ রানে দুই উইকেট নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। অর্শদীপ ও নমনের মিলিত পাঁচ উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার পথে বড় বাধা তৈরি করে। নিয়মিত উইকেট হারানোর কারণে ক্যারিবিয়ান দল শেষ পর্যন্ত এমন একটি অবস্থায় পৌঁছয় যেখানে জিততে হলে অল্প বলে প্রচুর রান তুলতে হতো। এই কঠিন পরিস্থিতিতেই ব্যাট হাতে নজর কাড়েন শামার স্প্রিংগার। মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে তিনি দেখিয়ে দেন, শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে ছিল। তাঁর ছোট কিন্তু বিস্ফোরক ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের শেষ অংশকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
অক্ষর পটেলের শেষ ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন স্প্রিংগার। একের পর এক বড় শটে ভারতীয় বোলিংয়ের উপর চাপ তৈরি করেন তিনি। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানের ব্যবধান তখন এতটাই বেশি ছিল যে এই আক্রমণও ফল বদলাতে পারেনি। তাঁর ব্যাটিং ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারের ব্যবধান কমিয়েছে, তবে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারেনি। স্প্রিংগারের ইনিংস তাই এই ম্যাচের একটি উল্লেখযোগ্য লড়াই হিসেবেই থেকে গেল। শেষ দিকে রান তোলার গতি বাড়লেও আগের উইকেটগুলি হারানোর প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। রান তাড়ার লড়াইয়ে উইকেট হাতে রাখার গুরুত্ব এখানেই স্পষ্ট। শেষ কয়েকটি ওভারে বড় শট খেলার ক্ষমতা থাকলেও তার আগে প্রয়োজনীয় অবস্থান তৈরি করতে না পারলে জয় অধরাই থেকে যেতে পারে। ভারতের সাফল্যের পেছনে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। অভিষেকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে বড় সংগ্রহের ভিত দেয়। সেই রান রক্ষা করার দায়িত্বে অর্শদীপ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। নমন ধীরের উইকেটও তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করে। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পর ভারতের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হায়দরাবাদের চতুর্থ টি২০ ম্যাচ। ১৪ অক্টোবরের সেই ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে ভারত। অন্য দিকে, সিরিজে সমতা ফেরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিততেই হবে। স্প্রিংগারের শেষ মুহূর্তের লড়াই তাদের জন্য ইতিবাচক দিক হলেও পরের ম্যাচে আরও সুসংহত পারফরম্যান্স প্রয়োজন হবে।এই কঠিন পরিস্থিতিতেই ব্যাট হাতে নজর কাড়েন শামার স্প্রিংগার। মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে তিনি দেখিয়ে দেন, শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে ছিল। তাঁর ছোট কিন্তু বিস্ফোরক ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের শেষ অংশকে আকর্ষণীয় করে তোলে।