Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মেয়ের লালনপালনে চিনা দর্শনের ছোঁয়া আলিয়া রণবীরের সিদ্ধান্তে চমক!

এ যুগের নতুন বাবা-মায়েরা যাঁরা সন্তানকে মানুষ করার পাশাপাশি নিজেরাও বাবা মা হিসাবে রোজ নতুন জিনিস শিখছেন  তাঁরা নানা জনের কাছ থেকে নানা ধরনের উপদেশ শুনতে থাকেন।

বলিউডের ঝলমলে আলোয় সন্তান মানুষ করা মোটেই সহজ কাজ নয়। ক্যামেরা, জনসমক্ষে উপস্থিতি, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঢেউ—সব কিছুর মাঝখানে থেকেও অনেক তারকা মা তাঁদের সন্তানের জন্য আলাদা পথ বেছে নিয়েছেন। কেউ প্রকাশ্যে সন্তানকে বড় করছেন, কেউ সম্পূর্ণ আড়ালে রেখে। এই বহুমাত্রিক উদাহরণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আলাদা করে নজর কাড়ছেন আলিয়া ভট্ট। স্বামী রণবীর কপূর-এর সঙ্গে কন্যা রাহাকে বড় করার ক্ষেত্রে তিনি বেছে নিয়েছেন এক বিশেষ দর্শন—চিনের প্রাচীন তাওবাদী ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত এক পথ।


বলিউডের মায়েরা: ভিন্ন ভিন্ন পথ

সন্তান পালনের ক্ষেত্রে বলিউডে একক কোনও ছক নেই। যেমন করিনা কপূর খান তাঁর দুই পুত্রকে ক্যামেরা থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেননি। বরং জনসমক্ষে সন্তানদের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে অনুষ্কা শর্মা সন্তানদের ব্যক্তিগত পরিসরকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁদের মুখ প্রকাশ্যে আনতে চাননি।

আবার দীপিকা পাড়ুকোন মাতৃত্বের সঙ্গে কাজের ভারসাম্য রাখতে ‘নির্দিষ্ট ওয়ার্ক আওয়ার’-এর দাবি তুলেছেন। ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন কাজের দায় কমিয়ে মেয়ের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, সমালোচনা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন।

এই বহুরূপী বাস্তবতার মধ্যে আলিয়ার পথটি আলাদা—কারণ এটি কোনও ট্রেন্ড-নির্ভর বা কেবল আধুনিক ‘প্যারেন্টিং স্টাইল’ নয়, বরং হাজার বছরের প্রাচীন এক দর্শনের আধুনিক প্রয়োগ।


মাতৃত্বে নতুন দিশা: তাও দর্শনের ছোঁয়া

২০২২ সালের নভেম্বরে কন্যা রাহার জন্মের পর আলিয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন—মেয়ের আগমনে তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে অগ্রাধিকার রাহা। এই পরিবর্তনের পথে তাঁকে সাহায্য করেছে একটি বই—The Parent’s Tao Te Ching

এই বইটি রচিত উইলিয়াম মার্টিনের দ্বারা, যা অনুপ্রাণিত প্রাচীন চিনা গ্রন্থ Tao Te Ching থেকে। তাওবাদ (Taoism) মূলত জীবনকে স্বাভাবিক ছন্দে বয়ে যেতে দেওয়ার দর্শন। এতে জোর দেওয়া হয় ‘উই-ওয়ে’ বা ‘অকর্মে কর্ম’—অর্থাৎ জোর করে কিছু না করা, বরং স্বাভাবিকভাবে ঘটতে দেওয়া।

প্যারেন্টিং প্রসঙ্গে এই দর্শন বলছে—

  • সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে তাকে বোঝা জরুরি

  • অতিরিক্ত নিয়মে বেঁধে ফেলা নয়, বরং স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া

  • নির্দেশ দেওয়ার বদলে পথ দেখানো

  • শাসনের বদলে শোনা

আলিয়া জানিয়েছেন, মা হিসেবে তিনি এই ভাবনাকেই গ্রহণ করেছেন।


‘পারফেক্ট’ সন্তান নয়, সচেতন সন্তান

আজকের দিনে প্যারেন্টিং প্রায় এক প্রতিযোগিতার নাম। কে আগে কথা বলল, কে আগে হাঁটল, কে বেশি বুদ্ধিমান—এই তুলনার দুনিয়ায় বাবা-মায়েরা প্রায়ই অজান্তেই সন্তানের উপর প্রত্যাশার চাপ চাপিয়ে দেন।

তাও দর্শন শেখায়, ‘পারফেকশন’ একটি মায়া। সন্তান ভুল করবে—সেই ভুল থেকেই সে শিখবে। বাবা-মায়ের ভূমিকা হল ভুল আটকানো নয়, বরং ভুলের অর্থ বোঝাতে পাশে থাকা।

আলিয়ার কথায়, সন্তানের লালনপালনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘সংযোগ’—connection। অর্থাৎ সন্তানের সঙ্গে মানসিকভাবে জুড়ে থাকা। সে কী চাইছে, কী অনুভব করছে, কী বলতে চাইছে—সেটা বোঝার চেষ্টা করা।

এই দর্শনে বকাবকি কম, শুনে নেওয়া বেশি। শাসনের বদলে সহচর হওয়া। নির্দেশের বদলে সহানুভূতি।


ট্রেন্ড বনাম দর্শন

সামাজিক মাধ্যমের যুগে প্যারেন্টিং এক বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। অ্যালগরিদম-চালিত পরামর্শ, ‘পারফেক্ট মম’ ভিডিও, বিশেষজ্ঞের টিপস—সব মিলিয়ে সদ্য বাবা-মায়েরা প্রায়ই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

এক দিন বলা হয় ‘জেন্টল প্যারেন্টিং’ সেরা, পরের দিন ‘স্ট্রিক্ট রুটিন’। কেউ বলেন স্ক্রিন টাইম একেবারে নয়, কেউ বলেন নিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম। এত মতের ভিড়ে নিজস্ব বোধ হারিয়ে ফেলাই স্বাভাবিক।

আলিয়া সেই ভিড়ে ভেসে যাননি। তিনি একটি দর্শনের ভিত তৈরি করেছেন, যা সময়ের সঙ্গে বদলায় না। তাওবাদ শেখায়—অতিরিক্ত পরিকল্পনা নয়, বর্তমান মুহূর্তে থাকা।

এই দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল—সন্তানকে নিজের অসম্পূর্ণ স্বপ্নপূরণের মাধ্যম না বানানো। বরং তাকে তার নিজস্ব সত্তা নিয়ে বড় হতে দেওয়া।


সেলিব্রিটি জীবনের চ্যালেঞ্জ

তারকা পরিবারে জন্মানো সন্তানের সামনে এক ভিন্ন বাস্তবতা থাকে। ক্যামেরা, গসিপ, জনমত—সব কিছুই তার জীবনের অংশ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে স্বাভাবিক পরিবেশে বড় করা কঠিন।

আলিয়া ও রণবীর চেষ্টা করছেন রাহাকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক শৈশব দিতে। প্রকাশ্যে আনা হোক বা না হোক, মূল লক্ষ্য—রাহার মানসিক নিরাপত্তা।

তাও দর্শন এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ এটি শেখায়—বাইরের কোলাহলের চেয়ে ভেতরের শান্তি জরুরি। সন্তান যদি ঘরের ভেতরে নিরাপদ ও ভালোবাসার পরিবেশ পায়, বাইরের চাপ তাকে ততটা প্রভাবিত করতে পারে না।


আধুনিক প্যারেন্টিং-এ তাওবাদ কেন প্রাসঙ্গিক?

১. কম প্রতিযোগিতা, বেশি গ্রহণযোগ্যতা
২. নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযোগিতা
৩. চাপ নয়, সহানুভূতি
৪. ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানের গুরুত্ব

news image
আরও খবর

এই চারটি স্তম্ভ আধুনিক মানসিক স্বাস্থ্যচর্চার সঙ্গেও মিলে যায়। শিশু মনোবিজ্ঞানীরাও বলছেন—সন্তানের সঙ্গে আবেগগত সংযোগই তার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি।

তাও দর্শনের মূল বক্তব্য—“যা স্বাভাবিক, সেটাই সঠিক।” সন্তানকে তার স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে উঠতে দিলে তার ভেতরের শক্তি নিজেই বিকশিত হয়।


 

মাতৃত্বকে দীর্ঘদিন ধরেই ত্যাগ, দায়িত্ব আর নিঃস্বার্থ ভালবাসার সঙ্গে জুড়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই ধারণা বদলাচ্ছে। আধুনিক মায়েরা বুঝতে শিখেছেন—মাতৃত্ব মানে নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলা নয়; বরং নিজেকে আরও গভীরভাবে আবিষ্কার করা। এই নতুন ভাবনার অন্যতম উদাহরণ হয়ে উঠেছেন আলিয়া ভট্ট। কন্যা রাহার জন্মের পর তাঁর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাপনে স্পষ্ট—তিনি মাতৃত্বকে দেখছেন এক সচেতন যাত্রা হিসেবে।

এই যাত্রায় যেমন রয়েছে সন্তানের প্রতি অগাধ ভালবাসা, তেমনই রয়েছে আত্ম-অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া। কারণ, একজন মা যখন সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করেন, তখন অনিবার্যভাবেই তাঁকে নিজের শৈশব, নিজের ভয়, নিজের অপূর্ণতা আর নিজের শেখাগুলোর মুখোমুখি হতে হয়। সন্তানকে কীভাবে বড় করবেন, তার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে মা বুঝতে পারেন—তিনি নিজে কেমন মানুষ হতে চান।

আলিয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই। তিনি যে চিনা তাওবাদী দর্শন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন, তা মূলত জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহকে গ্রহণ করার শিক্ষা দেয়। প্রাচীন গ্রন্থ Tao Te Ching-এ বলা হয়েছে—অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিশ্বাসই প্রকৃত শক্তি। সন্তান পালনের ক্ষেত্রেও এই দর্শন প্রযোজ্য। সন্তানকে ‘গড়ে তোলার’ চেষ্টায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে তাকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া—এটাই মূল ভাবনা।


আত্ম-অনুসন্ধান: ভালো প্যারেন্ট হওয়ার প্রথম ধাপ

অনেক সময় বাবা-মায়েরা সন্তানের ভুল দেখলে বিরক্ত হন, হতাশ হন। কিন্তু সেই প্রতিক্রিয়ার পিছনে থাকে নিজের ভেতরের অমীমাংসিত আবেগ। হয়তো ছোটবেলায় তাঁরা নিজে খুব শাসনের মধ্যে বড় হয়েছেন, হয়তো নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতা অজান্তেই সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে।

আলিয়া যে দর্শন বেছে নিয়েছেন, তা শেখায়—প্রথমে নিজেকে বোঝো। নিজের অস্থিরতা, নিজের ভয়, নিজের প্রত্যাশা চিনে নাও। তবেই সন্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া সম্ভব। মাতৃত্ব তখন আর কেবল দায়িত্ব নয়; এটি এক গভীর আত্মিক যাত্রা।

এই আত্ম-অনুসন্ধান মাকে আরও ধৈর্যশীল করে তোলে। সন্তানের কান্না, রাগ, একগুঁয়েমি—সব কিছু তখন আর সমস্যা বলে মনে হয় না; বরং তা হয়ে ওঠে বোঝার সুযোগ।


‘সেরা মা’ হওয়ার চাপ থেকে মুক্তি

সমাজমাধ্যমের যুগে ‘পারফেক্ট মাদারহুড’ যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতা। কে কীভাবে সন্তানকে বড় করছে, কী খাওয়াচ্ছে, কোন স্কুলে দিচ্ছে—সবকিছু নিয়েই তুলনা। তারকা হলে সেই তুলনা আরও তীব্র।

কিন্তু আলিয়া-রণবীর যে পথ নিয়েছেন, তা এই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। রণবীর কপূর-এর সঙ্গে আলিয়ার লক্ষ্য একটাই—রাহার সঙ্গে একটি সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে তোলা। এখানে ‘ইমেজ’ নয়, ‘ইমোশন’ গুরুত্বপূর্ণ।

এই দর্শন শেখায়—সন্তানকে বড় করা মানে তাকে নিজের মতো করে তৈরি করা নয়। বরং তার ভেতরে যে সম্ভাবনা আছে, তা ফুটে ওঠার জায়গা তৈরি করা। সন্তান নিজের মতো করে প্রশ্ন করবে, ভাববে, ভুল করবে। সেই ভুলের মধ্যে দিয়েই সে শিখবে।


শাসনের বদলে শোনা

তাওবাদী প্যারেন্টিংয়ের অন্যতম ভিত্তি হল ‘শোনা’। সন্তান যখন কথা বলে, তখন শুধু শব্দ নয়—তার আবেগ, তার ভয়, তার কৌতূহলও শোনা জরুরি।

অনেক সময় বাবা-মায়েরা ব্যস্ততায় সন্তানের প্রশ্ন এড়িয়ে যান। কিন্তু একটি ছোট প্রশ্নের পিছনে থাকতে পারে বড় কোনও অনুভূতি। সেই অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া মানেই সন্তানের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা।

আলিয়ার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—তিনি রাহার সঙ্গে সেই সংযোগটিকেই প্রাধান্য দিতে চান। সন্তান যদি অনুভব করে যে মা-বাবা তার কথা শুনছেন, তাকে বিচার করছেন না, তখন সে নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারে।


সম্ভাবনার বিকাশ: নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযাত্রা

একটি শিশুর ভেতরে অসংখ্য সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। কেউ শিল্পী হবে, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটবে। কিন্তু যদি ছোটবেলা থেকেই তাকে নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা হয়, সেই স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাও দর্শন বলে—জোর করে গাছকে টেনে বড় করা যায় না; বরং তার শিকড়ে জল দিতে হয়। প্যারেন্টিংয়েও তাই। নিয়ম থাকবে, কিন্তু তা হবে পথনির্দেশের জন্য; দমিয়ে রাখার জন্য নয়।

রাহা বড় হয়ে কী হবে, তা সময়ই বলবে। কিন্তু আজ যে পরিবেশে তাকে বড় করা হচ্ছে—যেখানে ভালোবাসা, শ্রবণ আর বিশ্বাসের জায়গা আছে—তা তাকে আত্মবিশ্বাসী ও সংবেদনশীল মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।


বলিউডের আলো আর ব্যক্তিগত শান্তি

বলিউডের জীবন সবসময় আলোয় মোড়া। প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। সেই পরিবেশে থেকেও আলিয়া যে সরলতার পথ বেছে নিয়েছেন, তা এক দৃষ্টান্ত।

ঝলমলে দুনিয়ায় থেকেও ব্যক্তিগত জীবনে শান্তির জায়গা তৈরি করা সহজ নয়। কিন্তু তাও দর্শনের মূল শিক্ষা—বাইরের কোলাহলের মাঝেও ভেতরের স্থিরতা ধরে রাখা। সন্তান সেই স্থিরতার অংশ হলে তার বেড়ে ওঠা আরও সুস্থ হয়।


উপসংহার: ভালোবাসার সহজ পথ

শেষ পর্যন্ত প্যারেন্টিং কোনও নিখুঁত বিজ্ঞান নয়। কোনও বই, কোনও তত্ত্ব শতভাগ সঠিক উত্তর দিতে পারে না। কিন্তু ভালোবাসা, ধৈর্য আর বোঝাপড়ার সমন্বয়েই তৈরি হয় সঠিক পথ।

আলিয়া-রণবীর হয়তো সেই পথেই হাঁটছেন—যেখানে শাসনের চেয়ে শোনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বিশ্বাস বড়, আর ট্রেন্ডের চেয়ে সম্পর্ক গভীর।

মাতৃত্ব তখন আর কেবল দায়িত্বের তালিকা নয়; এটি হয়ে ওঠে এক সৃজনশীল, আত্মিক ও মানবিক যাত্রা। সেই যাত্রায় মা যেমন সন্তানকে বড় করেন, তেমনই সন্তানও মাকে নতুন করে মানুষ করে তোলে।

এই সহজ, সংবেদনশীল পথই হয়তো আগামী দিনের প্যারেন্টিংয়ের নতুন সংজ্ঞা।

Preview image