Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পাজামার দড়ি টানা ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবেই গণ্য হবে এলাহাবাদ হাই কোর্টের সেই রায় খারিজ করে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, মহিলার বুকে হাত দেওয়া কিংবা পাজামার দড়ি খোলার চেষ্টা অবশ্যই ধর্ষণের চেষ্টা হিসাবে পরিগণিত হবে।

ভারতের বিচারব্যবস্থায় যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে সংবেদনশীলতা ও আইনের সঠিক ব্যাখ্যা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা আবারও স্পষ্ট করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি বিতর্কিত রায় খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও নাবালিকার বুকে হাত দেওয়া বা তার পাজামার দড়ি খোলার চেষ্টা করা নিছক ‘যৌন হেনস্থা’ নয়—এগুলি পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যের নিরিখে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসাবেও গণ্য হতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ শুধু একটি নির্দিষ্ট মামলার রায় নয়; বরং ভবিষ্যতের বিচারব্যবস্থার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

মামলার পটভূমি

ঘটনার সূত্রপাত ১১ বছরের এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, দুই যুবক তাকে একটি নির্জন কালভার্টের কাছে আটকে বুকে হাত দেয় এবং তার পাজামার দড়ি খোলার চেষ্টা করে। ঘটনাটি সামনে আসার পর নিম্ন আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার (ধর্ষণ) প্রয়োগের পাশাপাশি পকসো আইনের ১৮ নম্বর ধারা (অপরাধের চেষ্টা) যুক্ত করে মামলা চালানোর নির্দেশ দেয়।

কিন্তু ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এলাহাবাদ হাই কোর্ট একটি ভিন্ন মত দেয়। বিচারপতি রামমনোহর নারায়ণ মিশ্রের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার আওতায় পড়ে না। বরং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-বি (পোশাক খুলে ফেলার জন্য বলপ্রয়োগ) ধারা এবং পকসো আইনের ৯ ও ১০ ধারায় (গুরুতর যৌন হেনস্থা) বিচার হওয়া উচিত। হাই কোর্টের মতে, ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণ করতে হলে দেখাতে হবে যে ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। শুধু প্রস্তুতি ও প্রকৃত চেষ্টার মধ্যে আইনগত পার্থক্য রয়েছে বলেও জানায় তারা।

এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নারী অধিকার কর্মী, আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের একাংশ মনে করেন, এই ব্যাখ্যা যৌন অপরাধের প্রকৃতি ও বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এতে অপরাধীদের প্রতি নরম মনোভাবের ইঙ্গিত রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ

বিতর্কের জেরে বিষয়টি পৌঁছে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ‘উই দ্য উইমেন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি সংগঠন হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করে। নির্যাতিতার মা-ও আলাদা ভাবে আবেদন জানান। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে।

মঙ্গলবার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়—কোনও নাবালিকার বুকে হাত দেওয়া এবং তার পোশাক খোলার চেষ্টা করা কেবলমাত্র ‘যৌন হেনস্থা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি ঘটনাপ্রবাহ ও পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় যে অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ধর্ষণ করা, তবে তা ধর্ষণের চেষ্টার আওতায়ই পড়বে।

বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে ‘প্রস্তুতি’ এবং ‘চেষ্টা’-র মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, তা বিচার করতে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও অভিযুক্তের অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল শারীরিক মিলন সম্পূর্ণ না হওয়া মানেই যে তা ধর্ষণের চেষ্টা নয়—এমন ব্যাখ্যা আইনসম্মত নয়।

সংবেদনশীলতার অভাবের প্রশ্ন

এর আগেই, গত মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি.আর. গবই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল যে, হাই কোর্টের রায়ে “সম্পূর্ণ ভাবে সংবেদনশীলতার অভাব” রয়েছে। যৌন অপরাধ, বিশেষত নাবালিকার ক্ষেত্রে, বিচারব্যবস্থার প্রত্যেক স্তরে আরও বেশি মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

এবারের চূড়ান্ত রায়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আরও এক ধাপ এগিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলকে—বিচারক, সরকারি আইনজীবী, তদন্তকারী সংস্থা—যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছে।

আইনি বিশ্লেষণ: ‘প্রস্তুতি’ বনাম ‘চেষ্টা’

ভারতীয় ফৌজদারি আইনে অপরাধের ‘প্রস্তুতি’ (preparation) এবং ‘চেষ্টা’ (attempt)-এর মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি মানে অপরাধ ঘটানোর আগে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া—যেমন অস্ত্র জোগাড় করা। কিন্তু চেষ্টা তখনই ধরা হয়, যখন অভিযুক্ত সরাসরি অপরাধ সম্পাদনের দিকে এগোতে শুরু করে।

এই মামলায় প্রশ্ন ছিল—নাবালিকার বুকে হাত দেওয়া এবং পাজামার দড়ি খোলার চেষ্টা কি ধর্ষণের দিকে সরাসরি অগ্রসর হওয়া হিসেবে গণ্য হবে? হাই কোর্ট বলেছিল, তা নয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ঘটনাস্থল, পরিস্থিতি, বয়স, শক্তির অসাম্য এবং অভিযুক্তের আচরণ—সব মিলিয়ে যদি স্পষ্ট হয় যে উদ্দেশ্য ছিল যৌন সঙ্গম করা, তবে সেটি ধর্ষণের চেষ্টাই।

এই ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে তদন্তকারী সংস্থা এবং নিম্ন আদালতগুলিও স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাবে।

পকসো আইনের প্রাসঙ্গিকতা

পকসো (Protection of Children from Sexual Offences) আইন বিশেষ ভাবে শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করার জন্য প্রণীত। এই আইনে ‘অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’ এবং ‘অ্যাটেম্পট টু কমিট অফেন্স’-এর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় পকসো আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ—যেখানে শিশুর সুরক্ষা সর্বাগ্রে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় প্রমাণ করে যে আদালত শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নিতে চাইছে। যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে ‘ন্যূনতম ক্ষতি’ বা ‘অসম্পূর্ণ অপরাধ’ বলে হালকা ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেল।

সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব

এই রায়ের সামাজিক তাৎপর্যও কম নয়। দীর্ঘদিন ধরেই যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা, মানসিক আঘাত এবং সামাজিক লজ্জার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। অনেক সময় দেখা গেছে, অপরাধের ‘পরিমাণ’ বিচার করতে গিয়ে ভুক্তভোগীর কষ্টকে খাটো করে দেখা হয়েছে।

news image
আরও খবর

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে—যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে শরীরের উপর আক্রমণ, পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা বা স্পর্শ—সবই অত্যন্ত গুরুতর এবং তা বৃহত্তর অপরাধের সূচনা হতে পারে। আদালতের এই অবস্থান সমাজে বার্তা দেয় যে, নারীর শরীর ও মর্যাদার প্রতি যে কোনও জোরজবরদস্তি কঠোর ভাবে দেখা হবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে বিচারকদের প্রশিক্ষণ, তদন্ত প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন এবং সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ দিতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বিচারব্যবস্থার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু হলে আইনের ব্যাখ্যায় একরূপতা আসবে এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে।

বিতর্ক থেকে শিক্ষণ

এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায় ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা দেখিয়েছে—যৌন অপরাধের আইনি ব্যাখ্যা কেবল ধারা-উপধারার প্রশ্ন নয়; এটি সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং বিচারবোধের সঙ্গেও জড়িত। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ সেই বিতর্কে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

এই রায় ভবিষ্যতে একাধিক মামলায় নজির হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলেই ধারণা। বিশেষ করে নাবালিকা নির্যাতনের ক্ষেত্রে তদন্ত ও অভিযোগ গঠনের সময় এই ব্যাখ্যা গুরুত্ব পাবে।
 

উপসংহার (বিস্তৃত)

এই মামলার রায় শুধুমাত্র একটি আইনি বিতর্কের নিষ্পত্তি নয়—এটি ভারতের বিচারব্যবস্থার মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। যৌন অপরাধ, বিশেষত নাবালিকার ক্ষেত্রে, আদালত কীভাবে ঘটনাকে দেখবে—তার একটি সুস্পষ্ট মানদণ্ড স্থাপন করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুকে হাত দেওয়া, পোশাক খোলার চেষ্টা করা—এসব আচরণকে “আংশিক” বা “অসম্পূর্ণ” অপরাধ হিসেবে খাটো করে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধে এই রায় এক দৃঢ় বার্তা।

দীর্ঘদিন ধরেই যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলিতে একটি বিতর্ক বিদ্যমান—কোন পর্যায় পর্যন্ত গেলে সেটিকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলা হবে? কেবল শারীরিক মিলন সম্পূর্ণ হলেই কি অপরাধ গুরুতর? নাকি অপরাধীর উদ্দেশ্য, পরিস্থিতি এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা বিচার্য? সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় এই প্রশ্নগুলির উত্তর স্পষ্ট করেছে। আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, ধর্ষণ কেবল একটি শারীরিক ঘটনা নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক আক্রমণ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার চরম লঙ্ঘন। সেই অপরাধের দিকে এগোনোর যে কোনও সুস্পষ্ট পদক্ষেপকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

বিশেষ করে নাবালিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। একটি শিশুর মানসিক গঠন, আত্মসম্মান এবং নিরাপত্তাবোধ—এসবের উপর যৌন আক্রমণের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। আদালতের এই অবস্থান তাই শুধু আইনের শুদ্ধ ব্যাখ্যা নয়; এটি শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে একটি নৈতিক দায়বদ্ধতারও প্রকাশ। পকসো আইনের মূল লক্ষ্যই হল শিশুকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়া। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পদক্ষেপ।

এছাড়াও, এই রায় বিচারব্যবস্থার ভেতরে আত্মসমালোচনার সুযোগও তৈরি করেছে। শীর্ষ আদালত যখন বলছে যে যৌন অপরাধের মামলায় আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন, তখন তা কেবল নিম্ন আদালতের উদ্দেশ্যে নয়—তদন্তকারী সংস্থা, সরকারি কৌঁসুলি, এমনকি সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিও এক সতর্কবার্তা। আইনের ব্যাখ্যা কখনও যেন ভুক্তভোগীর যন্ত্রণাকে অস্বীকার না করে। কোনও প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা যেন অপরাধের বাস্তব ভয়াবহতাকে আড়াল না করে।

এই রায়ের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘প্রস্তুতি’ ও ‘চেষ্টা’-র মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণে বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আইন বইয়ের ভাষা অনেক সময় নিরপেক্ষ ও শুষ্ক হতে পারে, কিন্তু বিচার করতে হয় জীবন্ত মানুষের জীবনের প্রেক্ষাপটে। আদালত সেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলিতে তদন্ত ও অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা মিলবে।

সামাজিক দিক থেকেও এই রায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। যৌন অপরাধের শিকারদের অনেক সময় সামাজিক লজ্জা, ভয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতায় ন্যায় পেতে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়। যখন সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে এ ধরনের আচরণ কঠোর ভাবে দেখা হবে, তখন তা ভুক্তভোগীদের জন্য একটি মানসিক আশ্বাসও বটে। এটি সমাজকে জানায়—নারীর শরীর বা শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।

এই রায় একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সংস্কারের পথও খুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রমাণ করে যে আদালত কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তিতে থেমে থাকতে চায় না; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের দিকেও নজর দিচ্ছে। বিচারকদের প্রশিক্ষণ, সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ—এসব নিশ্চিত হলে বিচারব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

সবশেষে বলা যায়, এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে—যৌন সহিংসতার যে কোনও রূপ, তা যতই প্রাথমিক স্তরের হোক না কেন, তাকে হালকা করে দেখা যাবে না। নারীর মর্যাদা, শিশুর সুরক্ষা এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে আইনের অবস্থান দ্ব্যর্থহীন হতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট সেই দ্ব্যর্থহীন অবস্থানই নিয়েছে।

ন্যায়বিচার কেবল অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজকে একটি নৈতিক দিশা দেখায়। এই রায় সেই দিশাই দেখাল—যেখানে আইন মানবিকতার সঙ্গে মিলিত হয়ে দুর্বল ও নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতের বিচারপ্রক্রিয়ায় এই অবস্থান পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে বলেই প্রত্যাশা।

Preview image