Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পাখির চোখে পাহাড়ি জলপ্রপাতের রূপ রোপওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে দৃশ্যটি হবে আরও মনোমুগ্ধকর

পর্যটনের প্রসারে রোপওয়ে তৈরির ভাবনা শৈল শহরে। সুউচ্চ জলপ্রপাতের আকর্ষণ আছেই, শৈলশহর ছবির মতো সুন্দর। হাতে দিন ৪-৫ সময় থাকলেই ঘুরে নেওয়া যায়। কোথায় সেই জায়গা, কী ভাবে সাজাবেন ভ্রমণসূচি?

এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য এবং একটি উজ্জ্বল প্রকল্পের গল্প। এখানে মিজ়োরামের ভানতাং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য এবং সেখানে নতুন রোপওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

মিজ়োরাম, ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি অন্যতম সুন্দর রাজ্য, প্রকৃতি এবং পাহাড়ি সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এই রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় স্থান হল সেরছিপ জেলার থেনজ়াওল শহরের ভানতাং জলপ্রপাত, যা এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এই জলপ্রপাতটি রাজ্যের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত হিসেবে পরিচিত, যার উচ্চতা ৭৫০ মিটার, এবং এটি বর্ষাকালে একটি দর্শনীয় দৃশ্য তৈরি করে।

তবে, অনেক পর্যটক যারা এদিকে আসেন, তারা জলপ্রপাতটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতেন না। তাদের কাছে এটিকে দেখার জন্য একাধিক সুযোগ থাকলেও, উচ্চতা এবং প্রবাহের কারণে এটি অনেকের জন্য সহজলভ্য ছিল না। তবে, মিজ়োরাম সরকার এখন এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটকদের সুবিধা দিতে উদ্যোগী হয়েছে। ভানতাং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে একটি নতুন রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ এবং সহজ উপায়ে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখার সুযোগ দেবে।

রোপওয়ের এই প্রকল্পটির জন্য ৩৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেসমেন্ট (এসএএসসিআই)-এর আওতায় হবে। এই প্রকল্পটি মিজ়োরামের পর্যটন শিল্পের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

কিভাবে ঘুরবেন?

মিজ়োরামের ভানতাং জলপ্রপাত দেখতে যেতে হলে, পর্যটকদের আইজ়ল শহর থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করতে হবে। আইজ়ল পৌঁছাতে বিমান ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ। কলকাতা থেকে আইজ়ল যাওয়ার সরাসরি বিমান রয়েছে, যা মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের পথ। আইজ়ল পৌঁছানোর পর, পর্যটকরা শহর এবং এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলি ভ্রমণ করতে পারেন। সলোমন মন্দির, রেইক, থেনজ়ল, মুইফাং পাহাড় এবং ডিয়ার পার্ক এ অঞ্চলগুলোর কিছু আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান।

থেনজ়ল এবং ভানতাং জলপ্রপাত

থেনজ়ল শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ভানতাং জলপ্রপাত অবস্থিত। জলপ্রপাতটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের অনেক সময় হাতে রেখে ভ্রমণ করতে হবে। এটি খুবই নির্জন এবং পাহাড়ি উপত্যকার মাঝখানে অবস্থিত। ভানতাং জলপ্রপাতের আশপাশে আরও কিছু ছোট জলপ্রপাতও রয়েছে, যেমন তুইরিহিয়াউ জলপ্রপাত, যা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

রেইক এবং সলোমন মন্দির

রেইক শহর থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সুন্দর পাহাড়ি জায়গা। এখানে পায়ে হেঁটে পাহাড়ের উপরে পৌঁছানোর পথ রয়েছে এবং এই পথের মাঝে কিছু ঝর্ণাও দেখা যায়। সলোমন মন্দির মিজ়োরামের আইজ়ল শহরের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান, যা ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পাহাড়ি উপত্যকাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।

মিজ়োরাম ভ্রমণের পরামর্শ

মিজ়োরামে প্রবেশ করতে হলে পর্যটকদের ইনারলাইন পাসের প্রয়োজন হবে, যা অনলাইনে আবেদন করে পাওয়া যায়। মিজ়োরামের প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় জীবনের অভিজ্ঞতা নিতে হলে, পর্যটকদের এই রাজ্যের গ্রামগুলিও দেখতে যেতে হবে, যেখানে মিজ়োরামের ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া দেখা যাবে।

এটি একটি অসাধারণ প্রকল্প যা শুধু মিজ়োরামের পর্যটন শিল্পকেই নয়, বরং পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতকেও একটি নতুন পরিচিতি এনে দিতে পারে। 

এটা একটি সুন্দর এবং তথ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিবন্ধ, যা মিজোরামের ভানতাং জলপ্রপাত এবং তার আশেপাশে পর্যটনস্থলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে ভানতাং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য, সেরছিপ জেলার থেনজ়াওল শহরের রোপওয়ে প্রকল্প, পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ গাইড এবং আরও অনেক কিছু। এখানে আসা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে।

ভানতাং জলপ্রপাত ৭৫০ মিটার উঁচু থেকে নেমে আসছে, যা বর্ষাকালে এক দুর্দান্ত দৃশ্য সৃষ্টি করে। মিজোরামের সেরছিপ জেলার এই জলপ্রপাত দেখতে প্রতিদিন বহু পর্যটক আসে, এবং এখন মিজোরাম সরকার রোপওয়ে তৈরি করে সেখানে পৌঁছানোর জন্য একটি নতুন সুবিধা দিচ্ছে। এই রোপওয়ে নির্মাণের জন্য অনুমোদন পেয়েছে এবং ৩৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি খুব শীঘ্রই শুরু হবে।

ভানতাং জলপ্রপাতটির সৌন্দর্য দেখা আর পাখির চোখ দিয়ে তা দেখতে পারার মধ্যে রয়েছে এক বিশাল তফাৎ। পর্যটকদের এই অসাধারণ দৃশ্য দেখার সুযোগ দিতে মিজোরাম সরকার রোপওয়ে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পর্যটন উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

এর পাশাপাশি, মিজোরামের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন আইজ়ল শহরের সলোমন মন্দির, রেইক, এবং থেনজ়ল শহরের আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। থেনজ়লে গিয়ে ভানতাং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখা, ডিয়ার পার্ক, মিজোরামের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এবং স্থানীয় গ্রামগুলি পরিদর্শন করতে পারবেন পর্যটকরা।

মিজোরামের ভ্রমণের জন্য যে পথে যেতে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে কলকাতা থেকে আইজ়ল যেতে সরাসরি বিমান রয়েছে, কিন্তু ট্রেনের মাধ্যমে যেতে হলে শিলচর থেকে আইজ়ল পৌঁছাতে হবে। আইজ়ল শহরে পৌঁছে, পর্যটকরা শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান যেমন সলোমন মন্দির, রেইক পরিদর্শন করতে পারবেন এবং এরপর থেনজ়ল ও ভানতাং জলপ্রপাত দেখতে যাবেন।

এছাড়া, মিজোরামের ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং বয়নশিল্প সম্পর্কে জানতেও পর্যটকরা গ্রামগুলোতে যেতে পারেন। একদিনের ভ্রমণে মিজোরাম সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা লাভ করা সম্ভব।

মিজোরামের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি একে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থলে পরিণত করছে। পর্যটকরা যদি সেখানে বেড়াতে যান, তবে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা লাভ করবেন, যা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নয়, বরং মানবিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গভীরতারও সাক্ষী।

এটি এক বিশাল ভ্রমণ গাইড, যা মিজোরাম এবং তার প্রকৃতির প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ ও ইচ্ছাকে আরও বৃদ্ধি করবে। 

ভানতাং জলপ্রপাত এবং মিজ়োরামের পর্যটন সম্ভাবনা

news image
আরও খবর

মিজ়োরাম, ভারতের উত্তর-পূর্বের একটি রাজ্য, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঘন অরণ্য, এবং অসাধারণ জলপ্রপাতগুলির জন্য বিখ্যাত। রাজ্যের অন্যতম দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে ভানতাং জলপ্রপাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই জলপ্রপাতটির সৌন্দর্য এবং তার বিশেষত্ব, যা ৭৫০ মিটার উচ্চতা থেকে নেমে আসে, তা অদেখা সৌন্দর্যের এক নিদর্শন। মিজ়োরামের সেরছিপ জেলার থেনজ়াওল শহরে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি দেশের ১৩তম উচ্চতম জলপ্রপাত হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে এর জলধারা আরও বেশি দৃশ্যমান এবং পর্যটকদের কাছে এক অপরূপ দৃশ্য হিসেবে পরিচিত।

এখন, মিজ়োরাম সরকারের উদ্যোগে ভানতাং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি রোপওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এই রোপওয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য সহজে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ হবে। সরকারের এই প্রকল্পটি স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট (এসএএসসিআই)-এর আওতায় ৩৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বাজেটে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি মিজ়োরামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং পর্যটনের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভানতাং জলপ্রপাত দেখতে মিজ়োরামের সেরছিপ জেলার থেনজ়াওল শহরে আসা পর্যটকরা উপভোগ করতে পারবেন পাহাড়ের শীর্ষ থেকে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য। জলপ্রপাতের কাছ থেকে এর উৎসমুখ না দেখা গেলেও, পাখির চোখে দেখে তা অনেকটাই ভিন্ন। জলপ্রপাতের পাশ দিয়ে গড়ে উঠছে নতুন পর্যটন সুবিধা এবং রোপওয়ে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সাহায্য করবে। মিজ়োরামের এই অঞ্চলটি এখন এক নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়।

ভানতাং জলপ্রপাতের দর্শনীয়তা এবং মিজ়োরামের অন্যান্য পর্যটন স্থানগুলি সম্পর্কে জানতে চাইলে, পর্যটকদের জন্য একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যেতে পারে। মিজ়োরামের রাজধানী আইজ়ল থেকে মাত্র ৯২ কিলোমিটার দূরে ভানতাং জলপ্রপাত অবস্থিত। কলকাতা থেকে সরাসরি বিমানে আইজ়ল পৌঁছানো সম্ভব এবং এটি মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় নেয়। মিজ়োরাম সফরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনারলাইন পাসটি অনলাইনে আবেদন করে পাওয়া যায়, যা রাজ্যের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার জন্য অপরিহার্য।

আইজ়লে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন দর্শনীয় 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Preview image