বাংলা সংবাদ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার কমার আশঙ্কা-র কারণে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে ভারতের বাজারেও সোনার দর ঊর্ধ্বগতি দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা কিছু সময় চলতে পারে, কিন্তু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হঠকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামের যে উত্থান চোখে পড়ছে, তা শুধু ভারতের বাজারেই নয়, গোটা বিশ্ব জুড়েই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এক সময় যে সোনা ছিল শুধুমাত্র গয়না বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক, আজ তা পরিণত হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতিগত সিদ্ধান্ত মিলিয়ে সোনার বাজারে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী সকলের মনেই একটাই প্রশ্ন—সোনার দাম এত দ্রুত কেন বাড়ছে এবং এই ঊর্ধ্বগতি ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে।
বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একের পর এক সঙ্কট আঘাত হেনেছে বিভিন্ন দেশের উপর। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে পারেনি। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব। এই সমস্ত অনিশ্চয়তার আবহে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ে, তখনই সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। কারণ সোনাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়, যার মূল্য হঠাৎ করে শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
মুদ্রাস্ফীতিও সোনার দাম বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। বিভিন্ন দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে, যার ফলে টাকার প্রকৃত মূল্য কমছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ এমন বিনিয়োগ খুঁজছে, যা মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থেকে তাদের সঞ্চয়কে রক্ষা করতে পারে। সোনা সেই কাজটাই করে। যখন মুদ্রার মূল্য পড়ে যায়, তখন সোনার দাম সাধারণত বাড়ে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, সোনায় টাকা রাখলে ভবিষ্যতে তার প্রকৃত মূল্য কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার নিয়ে নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সুদের হার কমলে ব্যাংকে টাকা রেখে যে সুদ পাওয়া যায়, তা তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তখন বিনিয়োগকারীরা বিকল্প হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেন। আবার অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিজেরাও বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে, যাতে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হয়। এই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতাও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ভারতের বাজারে সোনার গুরুত্ব একটু আলাদা। এখানে সোনা শুধুমাত্র বিনিয়োগ নয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। বিয়ে, উৎসব বা শুভ অনুষ্ঠানে সোনা কেনা দীর্ঘদিনের প্রথা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত ভারতের বাজারেও পড়ে। আমদানি নির্ভরতার কারণে ডলারের দামের ওঠানামাও সোনার দামে প্রভাব ফেলে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমলে সোনা আমদানি করতে বেশি টাকা খরচ হয়, যার ফলে দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শেয়ার বাজারের অস্থিরতা। কখনও হঠাৎ বড় পতন, কখনও আবার অপ্রত্যাশিত উত্থান বিনিয়োগকারীদের দ্বিধায় ফেলছে। যারা ঝুঁকি নিতে চান না, তারা শেয়ার বাজার থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে সোনার মতো স্থিতিশীল বিনিয়োগে টাকা ঢালছেন। এর ফলেও সোনার চাহিদা বাড়ছে এবং দাম উপরের দিকে যাচ্ছে।
তবে শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের চাহিদাই নয়, সরবরাহ দিকের কিছু সমস্যাও সোনার দামে প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খনন শিল্প নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। পরিবেশগত বিধিনিষেধ, খনন খরচ বৃদ্ধি এবং নতুন খনি আবিষ্কারের অভাবের কারণে সোনার উৎপাদন খুব দ্রুত বাড়ছে না। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই তুলনায় সীমিত থাকায় দামের উপর চাপ পড়ছে।
অনেকে মনে করছেন, এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা আরও কিছুদিন চলতে পারে। বিশেষ করে যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকে এবং বড় দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত না মেলে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার সতর্ক করছেন যে, সোনার দাম সবসময় সরলরেখায় বাড়ে না। মাঝেমধ্যে সংশোধন আসা স্বাভাবিক। অর্থাৎ কিছু সময়ের জন্য দাম স্থির থাকতে পারে বা সামান্য কমতেও পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য প্রশ্নটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, এই পরিস্থিতিতে সোনা কেনা ঠিক হবে কি না। অনেকেই মনে করেন, দাম যখন এতটাই চড়া, তখন কিনলে ভবিষ্যতে লোকসানের ঝুঁকি থাকতে পারে। আবার অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে, অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করার যুক্তিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বলেন, সমস্ত টাকা একসঙ্গে সোনায় ঢালার বদলে বিনিয়োগের ঝুড়ি বৈচিত্র্যময় রাখা ভালো।
ডিজিটাল গোল্ড, গোল্ড ইটিএফ এবং সোনার বন্ডের মতো নতুন বিনিয়োগ মাধ্যমও এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন সোনা কেনা সহজ হয়েছে, তেমনই গয়না রাখার ঝামেলা বা নিরাপত্তার চিন্তাও কমেছে। এই নতুন মাধ্যমগুলির চাহিদা বাড়ার ফলেও বাজারে সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
ভবিষ্যতে সোনার দাম কোথায় গিয়ে থামবে, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। কারণ তা অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনৈতিক নীতি এবং বাজারের মনোভাবের উপর। যদি বড় দেশগুলির মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সুদের হার স্থিতিশীল হয়, তাহলে সোনার দামে কিছুটা স্থিরতা দেখা যেতে পারে। কিন্তু যদি অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে, তাহলে সোনা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার দাম বৃদ্ধি কোনও একক কারণে হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে বহু জটিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণের সমন্বয়। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সচেতন থাকা এবং আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। সোনা যেমন নিরাপদ বিনিয়োগ, তেমনই বাজারের ওঠানামা বোঝা এবং নিজের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা যে আবারও বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়, তবে সেই আস্থার সঙ্গে বাস্তববোধ বজায় রাখাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামের যে উত্থান চোখে পড়ছে, তা শুধু ভারতের বাজারেই নয়, গোটা বিশ্ব জুড়েই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এক সময় যে সোনা ছিল শুধুমাত্র গয়না বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক, আজ তা পরিণত হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতিগত সিদ্ধান্ত মিলিয়ে সোনার বাজারে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী সকলের মনেই একটাই প্রশ্ন—সোনার দাম এত দ্রুত কেন বাড়ছে এবং এই ঊর্ধ্বগতি ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে।
বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একের পর এক সঙ্কট আঘাত হেনেছে বিভিন্ন দেশের উপর। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে পারেনি। তার মধ্যেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব। এই সমস্ত অনিশ্চয়তার আবহে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। ইতিহাস সাক্ষী, যখনই বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ে, তখনই সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। কারণ সোনাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়, যার মূল্য হঠাৎ করে শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
মুদ্রাস্ফীতিও সোনার দাম বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। বিভিন্ন দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে, যার ফলে টাকার প্রকৃত মূল্য কমছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ এমন বিনিয়োগ খুঁজছে, যা মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব থেকে তাদের সঞ্চয়কে রক্ষা করতে পারে। সোনা সেই কাজটাই করে। যখন মুদ্রার মূল্য পড়ে যায়, তখন সোনার দাম সাধারণত বাড়ে। ফলে বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, সোনায় টাকা রাখলে ভবিষ্যতে তার প্রকৃত মূল্য কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকা এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার নিয়ে নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সুদের হার কমলে ব্যাংকে টাকা রেখে যে সুদ পাওয়া যায়, তা তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তখন বিনিয়োগকারীরা বিকল্প হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেন। আবার অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিজেরাও বিপুল পরিমাণে সোনা কিনছে, যাতে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হয়। এই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতাও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ভারতের বাজারে সোনার গুরুত্ব একটু আলাদা। এখানে সোনা শুধুমাত্র বিনিয়োগ নয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। বিয়ে, উৎসব বা শুভ অনুষ্ঠানে সোনা কেনা দীর্ঘদিনের প্রথা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত ভারতের বাজারেও পড়ে। আমদানি নির্ভরতার কারণে ডলারের দামের ওঠানামাও সোনার দামে প্রভাব ফেলে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমলে সোনা আমদানি করতে বেশি টাকা খরচ হয়, যার ফলে দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শেয়ার বাজারের অস্থিরতা। কখনও হঠাৎ বড় পতন, কখনও আবার অপ্রত্যাশিত উত্থান বিনিয়োগকারীদের দ্বিধায় ফেলছে। যারা ঝুঁকি নিতে চান না, তারা শেয়ার বাজার থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে সোনার মতো স্থিতিশীল বিনিয়োগে টাকা ঢালছেন। এর ফলেও সোনার চাহিদা বাড়ছে এবং দাম উপরের দিকে যাচ্ছে।
তবে শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের চাহিদাই নয়, সরবরাহ দিকের কিছু সমস্যাও সোনার দামে প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খনন শিল্প নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। পরিবেশগত বিধিনিষেধ, খনন খরচ বৃদ্ধি এবং নতুন খনি আবিষ্কারের অভাবের কারণে সোনার উৎপাদন খুব দ্রুত বাড়ছে না। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই তুলনায় সীমিত থাকায় দামের উপর চাপ পড়ছে।
অনেকে মনে করছেন, এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা আরও কিছুদিন চলতে পারে। বিশেষ করে যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকে এবং বড় দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত না মেলে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ আবার সতর্ক করছেন যে, সোনার দাম সবসময় সরলরেখায় বাড়ে না। মাঝেমধ্যে সংশোধন আসা স্বাভাবিক। অর্থাৎ কিছু সময়ের জন্য দাম স্থির থাকতে পারে বা সামান্য কমতেও পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য প্রশ্নটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, এই পরিস্থিতিতে সোনা কেনা ঠিক হবে কি না। অনেকেই মনে করেন, দাম যখন এতটাই চড়া, তখন কিনলে ভবিষ্যতে লোকসানের ঝুঁকি থাকতে পারে। আবার অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে, অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করার যুক্তিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বলেন, সমস্ত টাকা একসঙ্গে সোনায় ঢালার বদলে বিনিয়োগের ঝুড়ি বৈচিত্র্যময় রাখা ভালো।
ডিজিটাল গোল্ড, গোল্ড ইটিএফ এবং সোনার বন্ডের মতো নতুন বিনিয়োগ মাধ্যমও এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন সোনা কেনা সহজ হয়েছে, তেমনই গয়না রাখার ঝামেলা বা নিরাপত্তার চিন্তাও কমেছে। এই নতুন মাধ্যমগুলির চাহিদা বাড়ার ফলেও বাজারে সোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।
ভবিষ্যতে সোনার দাম কোথায় গিয়ে থামবে, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। কারণ তা অনেকটাই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনৈতিক নীতি এবং বাজারের মনোভাবের উপর। যদি বড় দেশগুলির মধ্যে শান্তি স্থাপিত হয়, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সুদের হার স্থিতিশীল হয়, তাহলে সোনার দামে কিছুটা স্থিরতা দেখা যেতে পারে। কিন্তু যদি অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে, তাহলে সোনা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার দাম বৃদ্ধি কোনও একক কারণে হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে বহু জটিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণের সমন্বয়। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সচেতন থাকা এবং আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। সোনা যেমন নিরাপদ বিনিয়োগ, তেমনই বাজারের ওঠানামা বোঝা এবং নিজের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা যে আবারও বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়, তবে সেই আস্থার সঙ্গে বাস্তববোধ বজায় রাখাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে জরুরি।