আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার হবে দু দেশের মধ্যে চুক্তি। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় পা দিয়েছে ইরানের ফুটবল দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলই শেষ কথা। কিন্তু কখনও কখনও মাঠের বাইরের ঘটনাবলি এতটাই বড় হয়ে ওঠে যে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে দলের প্রস্তুতি, মানসিক অবস্থা এবং সামগ্রিক পরিবেশের উপর। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ঠিক এমনই এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ইরান ফুটবল দল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভিসা জটিলতা, শিবির বদলের বাধ্যবাধকতা এবং সমর্থকদের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সবকিছুর মধ্যেই নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল।
মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ইরান। সেই ম্যাচের আগে দলের কোচ আমির ঘালেনোয়েই এবং তারকা ফুটবলার মেহদি তারেমি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা শুধুমাত্র ফুটবল নিয়েই ভাবতে চান। মাঠের বাইরের পরিস্থিতি যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, তাঁদের লক্ষ্য একটাই জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলির মধ্যে অন্যতম আমেরিকা। দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বহু দশকের পুরনো। সেই ইতিহাসের প্রভাব এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশ্বকাপের আগে ইরান দলের শিবির আয়োজন নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, আমেরিকার মাটিতেই প্রস্তুতি শিবির করবে ইরান। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মেক্সিকোতে শিবির করতে বাধ্য হয় তারা। এর ফলে দলের অনুশীলন সূচি এবং প্রস্তুতিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাও ইরান দলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বেশ কয়েকজন ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফের প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে সময় লেগেছে। যার ফলে অন্যান্য দলের তুলনায় অনেক পরে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করতে পেরেছে ইরান।
আমেরিকায় পৌঁছেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কোচ আমির ঘালেনোয়েই। তিনি স্বীকার করেন যে ভিসা সমস্যার কারণে দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। তাঁর কথায়, ভিসা পেতে অনেক দেরি হয়েছে। ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পরে আমরা পূর্ণ দল নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে পেরেছি। শিবিরের জায়গাও বদলাতে হয়েছে। এতে ফুটবলারদের উপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
তবে সেই সঙ্গে তিনি এটাও পরিষ্কার করে দেন যে এখন আর অতীতের সমস্যা নিয়ে ভাবতে চান না। তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ মাঠের খেলায়। তিনি বলেন, আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি। আমরা জিততে এসেছি। মাঠের বাইরে কী ঘটছে, তা নিয়ে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমাদের সমস্ত মনোযোগ ফুটবলের উপর।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আরেকটি বিতর্ক সামনে আসে। ইরানের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের জন্য বরাদ্দ কিছু টিকিট বাতিল করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের একাংশের মধ্যে।
এই ক্ষোভ থেকেই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
তবে এই সমস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও দলের ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই বলে জানিয়েছেন আমির। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে অভ্যস্ত ইরানের ফুটবলাররা। তিনি বলেন, আমরা অতীতে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। এই দল চাপ সামলাতে জানে। আমরা জানি কীভাবে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হয়।
আমিরের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নিজের দলের মানসিক দৃঢ়তার উপর ভরসা রাখছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে গেলে শুধু ফুটবল দক্ষতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গাতেই ইরান নিজেদের শক্তিশালী বলে মনে করছে।
দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মেহদি তারেমিও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, শুধু ইরান নয়, আরও অনেক দেশ নানা ধরনের প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। ফলে নিজেদের আলাদা করে দেখার কোনও কারণ নেই।
তারেমি বলেন, এমন নয় যে শুধু ইরান সমস্যায় পড়েছে। আরও অনেক দেশ নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছে। আমরা জানি পরিস্থিতি সহজ নয়। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলতে এলে চাপ থাকবেই। সেই চাপ নিয়েই খেলতে হবে।
বিশ্ব ফুটবলে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়ার অন্যতম ধারাবাহিক দল। বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা বহুবার অংশগ্রহণ করেছে এবং নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পৌঁছনোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবুও প্রতিবারই কঠিন প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে তারা।
এইবারের বিশ্বকাপে ইরানের লক্ষ্য আরও বড়। দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফ বিশ্বাস করেন, সঠিক ছন্দ পেলে তারা যে কোনও দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।
নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচের ফলাফল অনেক সময় পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। জয় পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে, পরবর্তী ম্যাচগুলির আগে চাপও কমবে। অন্যদিকে খারাপ ফল হলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সেই কারণেই প্রথম ম্যাচকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান। কোচ আমির জানিয়েছেন, প্রস্তুতির সময় কম পাওয়া সত্ত্বেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়েছে। ফুটবলাররা ফিট রয়েছেন এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।
রাজনীতি ও ফুটবলের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমরা ফুটবলের মানুষ। ফুটবলকে ফুটবল হিসেবেই দেখতে চাই।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে মাঠের লড়াইকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখতে চান তাঁরা। যদিও বাস্তবে তা সবসময় সম্ভব হয় না, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে।
এরই মধ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবর নতুন মাত্রা যোগ করেছে পরিস্থিতিতে। শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ঘোষণা সামনে আসার পর অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান দলের উপর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হতে পারে।
বিশেষ করে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। আগে আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ইরান দলকে দেশ ছাড়তে হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দলকে বারবার যাতায়াত করতে হত, যা প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারত।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্রীড়া মহল, সমর্থক এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এখন সেই দিকেই নজর রাখছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহুবার রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবলই সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। ইরানও আশা করছে, মাঠের বাইরের বিতর্ক ভুলে তারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারবে।
নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে সেই পরীক্ষার শুরু। ভিসা জটিলতা, শিবির পরিবর্তন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভ সব বাধা পেরিয়ে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চাইছে ইরান। কোচ আমির ঘালেনোয়েই এবং তাঁর ফুটবলারদের বিশ্বাস, কঠিন পরিস্থিতি যতই থাকুক, মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলেই সাফল্য আসবে।
এখন দেখার, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে ফুটবলীয় সাফল্যের গল্প লিখতে পারে কি না ইরান।
বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরা ফুটবল দলগুলির মহারণ। চার বছর অপেক্ষার পর শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দেশ নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চায়। কিন্তু কখনও কখনও মাঠের বাইরের ঘটনাবলি এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, তা সরাসরি দলের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ইরান ফুটবল দল।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে আমেরিকার মাটিতে পৌঁছে গিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। কিন্তু এই ম্যাচের আগে ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভিসা জটিলতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সমর্থকদের সম্ভাব্য বিক্ষোভ।
দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধের ইতিহাস বহু বছরের। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরানের জন্য শুরু থেকেই নানা বাধার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
বিশ্বকাপের আগে ইরান দলের প্রস্তুতি শিবির নিয়েও একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথমে আমেরিকাতেই শিবির করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয় ইরান ফুটবল ফেডারেশন। শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোতে শিবির আয়োজন করা হয়। এর ফলে দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় একাধিক পরিবর্তন আনতে হয়।
শুধু শিবির বদল নয়, ভিসা সমস্যাও ইরানের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দলের একাধিক সদস্য নির্ধারিত সময়ে ভিসা না পাওয়ায় প্রস্তুতির সূচিতে ব্যাঘাত ঘটে। অন্যান্য দল যখন পূর্ণ শক্তিতে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে, তখন ইরানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা কাটার জন্য।
আমেরিকায় পৌঁছনোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়েই। তিনি জানান, ভিসা পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে এবং সেই কারণে তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আমির বলেন, ভিসা পেতে অনেক দেরি হয়েছে। ফলে অন্যান্য দলের তুলনায় আমরা অনেক পরে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করতে পেরেছি। শিবিরের জায়গাও বদলাতে হয়েছে। এতে ফুটবলারদের উপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এখন আর অতীতের সমস্যার দিকে তাকিয়ে থাকতে চান না। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে শুধু ফুটবল নিয়েই ভাবা উচিত। রাজনৈতিক বিতর্ক বা প্রশাসনিক বাধা নিয়ে মাথা ঘামালে মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।
আমির বলেন, আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি। আমরা এখানে জিততে এসেছি। মাঠের বাইরে কী ঘটছে, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমাদের সমস্ত মনোযোগ ফুটবলের উপর।
ইরান দলের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ সমর্থকদের অসন্তোষ। অভিযোগ উঠেছে, ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ কিছু টিকিট বাতিল করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের একাংশের মধ্যে।
সেই ক্ষোভ থেকেই নিউ জিল্যান্ড ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সমর্থক সংগঠন ইতিমধ্যেই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল। রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভের কারণে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
তবে এসবের মধ্যেও দলের আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন কোচ আমির। তাঁর মতে, ইরানের ফুটবলাররা কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে অভ্যস্ত। অতীতেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁরা সফলভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
আমির বলেন, আমরা কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে জানি। এই দল চাপ সামলাতে পারে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে খেলতে গেলে মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার মেহদি তারেমিও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র ইরান নয়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আরও অনেক দেশ নানা প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
তারেমি বলেন, এমন নয় যে শুধু ইরানের সমস্যা হয়েছে। আরও অনেক দেশ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। আমরা জানি পরিস্থিতি সহজ নয়। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলতে এলে চাপ থাকবেই। সেই চাপ নিয়েই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।
বিশ্ব ফুটবলে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। নিয়মিতভাবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে লড়াই করার নজির রয়েছে তাদের। যদিও এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পৌঁছনোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তবুও প্রতিবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছে তারা।
এইবারের বিশ্বকাপেও ইরানের লক্ষ্য শুধুমাত্র অংশগ্রহণ নয়, বরং আরও এগিয়ে যাওয়া। দলের অভিজ্ঞতা, রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং আক্রমণভাগের দক্ষতার উপর ভরসা করছেন কোচ ও সমর্থকেরা।
নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় পেলে দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচগুলির আগে চাপও কমবে। অন্যদিকে খারাপ ফল করলে গ্রুপ পর্ব থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সেই কারণেই প্রথম ম্যাচকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান। কোচ আমির জানিয়েছেন সময় কম পাওয়া সত্ত্বেও ফুটবলাররা প্রস্তুত এবং ম্যাচের জন্য তৈরি।
রাজনীতি ও ফুটবলের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই আমির আবারও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমরা ফুটবলের মানুষ। ফুটবলকে ফুটবল হিসেবেই দেখতে চাই।
এদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবর পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।