ফল কেনার আগে স্টিকার দেখে নিন কোড ৯ দিয়ে শুরু হওয়া ফল বেছে নিন স্টিকার না থাকলে অর্গানিক ভাববেন না সব ফল ভালোভাবে ধুয়ে নিন
এখনকার বাজারে আমরা যখন ফল কিনি, তখন প্রায় প্রতিটি ফলের গায়ে একটি স্টিকার লাগানো দেখতে পাই। কলা, আপেল, কমলালেবু, ন্যাশপাতি, তরমুজের মতো নানা ফলের গায়ে এই স্টিকার থাকতে পারে। প্রথম দিকে মনে হয়, এসব স্টিকার ফলের গুণমানের পরিচায়ক। অনেক সময় ভাবা হয়, এসব ফল হয়তো বিদেশ থেকে আমদানি করা। কিন্তু এই ধারণা কি সঠিক?
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া FSSAI বা ভারত সরকারের খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্টিকার ব্যবহৃত হয় ফলের গুণমান, দাম এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া জানিয়ে দিতে। এর মাধ্যমে জানানো হয়, ফলটি কীভাবে উৎপাদিত হয়েছে এবং কোথা থেকে এসেছে। তবে ভারতীয় বাজারে এমন কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, যার মাধ্যমে স্টিকার দিয়ে ফলের গুণমান বা উৎস চিহ্নিত করা যায়। এর পরিবর্তে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই স্টিকারগুলো প্রমাণের চেষ্টা করে যে ফলটি অন্য ফলের তুলনায় ভালো অথবা সেই ফলটির খুঁত ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরো জানাচ্ছেন যে, শুধু ভারতেই নয়, বিদেশেও অনেক সময় স্টিকার দিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। একটি স্টিকার, যেটি খাবারের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, ব্যবহার করা হলে সেটা আরও প্রলোভনমূলক হয়ে ওঠে, কিন্তু অনেক সময় এটির পেছনে কিছু বিপজ্জনক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অনেকসময় ফলের গায়ে ব্যবহৃত স্টিকার এবং আঠা বিশেষ রাসায়নিক থেকে তৈরি হয়, যা ফল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন FDA জানিয়েছে যে, ব্যবহৃত স্টিকার এবং আঠা খাদ্যোপযোগী হলেও, ফলটি খাওয়ার আগে স্টিকারটি তুলে ফেলা এবং ফলটি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
এছাড়া, যদি কোনও ফলের গায়ে ৫ সংখ্যার কোড থাকে, যেটি ৯ দিয়ে শুরু হয়, তবে এটি এক ধরনের সনদ যে ফলটি জৈব উৎপাদিত। এর মানে, এই ফলটির মধ্যে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি, যা এটিকে একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করে।
তবে বাজারে অনেক ধরনের ফল পাওয়া যায়, যেগুলোর গায়ে স্টিকার থাকে কিন্তু তার মানে এটি জৈব নয়। এসব স্টিকার মূলত পণ্যটির গুণগত মান বা দেশী বিদেশী উৎসের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অনেক ভোক্তা এর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে বিদেশি ফলকেই সেরা মনে করেন, যদিও ফলটি আসলে স্থানীয় হতে পারে বা এর গুণমানে তেমন কোনও পার্থক্য নেই।
এভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বাজারে ফলের স্টিকার এক গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে থাকে, কিন্তু এর গুণমান বা উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সব সময় সঠিক তথ্য দেয় না। আমাদের উচিত এসব স্টিকার দেখে বিভ্রান্ত না হওয়া এবং সব ফলকে ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া, এমনকি যখন স্টিকার থাকে না তখনও ফলের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা।
ফলের স্টিকার বাজারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে অনেক সময় এটি ভোক্তাদের বিভ্রান্তও করতে পারে। স্টিকার থেকে আমরা ফলের উৎপাদন প্রক্রিয়া, দেশীয় বা বিদেশী হওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে ফলের গুণমান সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই স্টিকারগুলোর মাধ্যমে কখনও কখনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না এবং এটি ফলের আসল গুণমান বা উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
বিভিন্ন দেশে ফলের গায়ে স্টিকার লাগানোর উদ্দেশ্য এবং কার্যকারিতা অনেকটাই ভিন্ন হতে পারে। কিছু দেশে, স্টিকারটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ শনাক্তকরণ কোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ফলের উৎপাদন স্থল, ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তার তথ্য প্রদানে সাহায্য করে। এই স্টিকারগুলি ভোক্তা এবং উৎপাদকদের জন্য একটি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করে এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে, এসব স্টিকার ব্যবহার করে অনেক সময় ফলের গুণমান বা উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে স্টিকারগুলি শুধুমাত্র ফলের আড়ালে লুকানো খুঁতগুলো ঢাকার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ফলের গায়ে স্টিকার লেগে থাকতে পারে যেগুলি তাদের তাজত্ব বা গুণমানের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করে না। বরং, এসব স্টিকার ফলের অস্বাভাবিকতা বা খুঁত সঠিকভাবে আবরণ করতে পারে, যেমন কিছু ফলের ভিতরে ফাঙ্গাসের উপস্থিতি বা তাজা না থাকা।
ফলের স্টিকারগুলি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষত যখন তা বিদেশি ফলের সাথে সম্পর্কিত। অনেক ভোক্তা মনে করেন যে যেসব ফলের গায়ে স্টিকার থাকে, তা হয়তো বিদেশ থেকে এসেছে এবং তাই গুণগত মানে ভালো। কিন্তু বাস্তবতা হল, সব ফলের গায়ে স্টিকার থাকা মানে যে তা বিদেশি, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলও অনেক সময় স্টিকারযুক্ত হয়ে থাকে, যা শুধুমাত্র পণ্যটির বাজারজাতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে কিছু ফলের গায়ে ব্যবহৃত স্টিকার এবং আঠার মধ্যে রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই রাসায়নিকগুলির কারণে অনেক সময় ফলের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে এবং এগুলোর শরীরে প্রবাহিত হওয়া বিপদজনক হতে পারে। যদিও মার্কিন খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন FDA বলছে যে এসব স্টিকার এবং আঠা খাদ্যোপযোগী, তবে ফল খাওয়ার আগে স্টিকারটি তুলে ফেলা এবং ফল ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
এমনকি যখন ফলের গায়ে স্টিকার থাকে না, তবুও তার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। এটি অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন যে কোনো ফল, স্টিকার থাকা বা না থাকা সত্ত্বেও, কিছু রাসায়নিক পদার্থ বা কীটনাশক দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষত, ফলগুলো যখন বাজারে আসে, তখন সেগুলো সাধারণত কীটনাশক ও রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয় যাতে সেগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়। তাই, ফলের গায়ে স্টিকার থাকুক বা না থাকুক, সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলির গবেষণায় দেখা গেছে যে ফলের উপর কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশকের উপস্থিতি বেশিরভাগ সময়ই চোখে পড়েনা এবং এগুলি পরোক্ষভাবে আমাদের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সুতরাং, যত্ন সহকারে ফল পরিষ্কার করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত যেহেতু বাজারে অনেক ধরনের ফল আসছে, যার গায়ে স্টিকার নেই, সেক্ষেত্রে ফলের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এছাড়া, যখন ৫ সংখ্যার কোডের মাধ্যমে ফলের জৈব বা অর্গানিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়, তখন ভোক্তারা নিশ্চিত হতে পারেন যে ওই ফলের মধ্যে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। এই ধরনের ফলগুলো নিরাপদ হতে পারে, তবে তার জন্যও ফলটি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। ৯ দিয়ে শুরু হওয়া কোডটি সাধারণত সেই ফলের জৈব বা অর্গানিক হওয়ার সনদ প্রদান করে, কিন্তু এই স্টিকারটি দেখলেই সব ফলকে অর্গানিক মনে করা উচিত নয়।
ভোক্তাদের উচিত বাজারে কেনা সব ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া, বিশেষত যেগুলোর গায়ে স্টিকার নেই। কারণ, স্টিকার থাকলেই সব ফল নিরাপদ, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই, বাজারে কেনা কোনো ফলই যেন নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সে জন্য সঠিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিকভাবে ফল ধুয়ে খেলে, তা আমাদের শরীরকে পুষ্টি ও শক্তি প্রদান করবে, এবং আমরা স্বাস্থ্যসম্মত জীবনের পথে একধাপ এগিয়ে যেতে পারব।
অতএব, ফলের গায়ে স্টিকার থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখন আর সঠিক গুণমানের নিশ্চয়তা প্রদান করে না। ফলের গুণমান এবং নিরাপত্তার জন্য ভোক্তাদের উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সঠিক পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি মেনে চলা।